নারী বনাম সংসার

সংসার শব্দের আভিধানিক অর্থ- জগৎ, পৃথিবী!
অথচ প্রচলিত অর্থে আমরা সংসার বলতে বুঝি- একটা পরিবার।
তারমানে কী? একটা পরিবার মানেই গোটা একটা জগৎ!
বাস্তবিক অর্থেও কিন্তু তাই। পরিবারই হচ্ছে জগতের আদিম প্রতিষ্ঠান। তবে আজকের আলোচনাটা “সংসার” শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ নিয়ে নয়। আলোচনা করবো ভিন্ন একটা বিষয় নিয়ে। তবে পাঠকদের জন্য সুখবর হচ্ছে- আলোচ্য বিষয় সম্পর্কে যেহেতু লেখকের জ্ঞান সীমিত তাই পোস্টটি হবে নাতিদীর্ঘ… আশা করবো কমেন্টে এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য ও তা থেকে একটা ভালো সমাধান পাওয়া যাবে…

আমরা একটা কথা শুনেছি- “সংসার সুখের হয় রমনীর গুণে!”

সংসার শব্দের আভিধানিক অর্থ- জগৎ, পৃথিবী!
অথচ প্রচলিত অর্থে আমরা সংসার বলতে বুঝি- একটা পরিবার।
তারমানে কী? একটা পরিবার মানেই গোটা একটা জগৎ!
বাস্তবিক অর্থেও কিন্তু তাই। পরিবারই হচ্ছে জগতের আদিম প্রতিষ্ঠান। তবে আজকের আলোচনাটা “সংসার” শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ নিয়ে নয়। আলোচনা করবো ভিন্ন একটা বিষয় নিয়ে। তবে পাঠকদের জন্য সুখবর হচ্ছে- আলোচ্য বিষয় সম্পর্কে যেহেতু লেখকের জ্ঞান সীমিত তাই পোস্টটি হবে নাতিদীর্ঘ… আশা করবো কমেন্টে এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য ও তা থেকে একটা ভালো সমাধান পাওয়া যাবে…

আমরা একটা কথা শুনেছি- “সংসার সুখের হয় রমনীর গুণে!”
তার মানে দাঁড়ায়- সংসার (যার মানে কিনা পৃথিবী!) সেটা সুখের হবে না কষ্টের হবে তা নির্ভর করে ঐ সংসার-এর রমনী/নারীটা কেমন তার ওপর! আসুন কথাটার পোস্টমর্টেম করা যাক।
একজন পুরুষের কাছে সংসারের চাহিদাটা কী?
গড়পরতা একটা ছেলের এইম ইন লাইফ-এর মাঝেই মোটামুটি সেটা উঠে আসে। একটা ছেলে শিশু ছোট বেলা থেকে বেড়ে ওঠে একটা লক্ষ্য নিয়ে- তা হলো পড়ালেখায় ভালো একটা রেজাল্ট যার ওপর ভিত্তি করে ভালো একটা ক্যারিয়ার। বলাই বাহুল্য আমাদের সমাজে ভালো ক্যারিয়ার হচ্ছে গাল ভরে বলনসই একটা পদমর্যাদা আর একটা স্মার্ট সেলারী! যে ইনকাম দিয়ে ঐ ছেলেটা তার বাবা-মা, বৌ-বাচ্চার ভরণ পোষন করতে সক্ষম। পারলে প্রতিবেশী-আত্মীয়-স্বজন-দেশ-দশের জন্য কিছু করলো, না পারলেও খুব একটা ক্ষতি নেই। স্ত্রী সন্তানের জৈবিক ও আর্থিক চাহিদা পুরণে সক্ষম একজন পুরুষকে নিঃসন্দেহে সংসারে একজন সফল পুরুষ বলা যায়।

কিন্তু একটা নারীর বেলায়? একজন নারীর কাছে সংসারের দাবীটা কিন্তু নানামুখি!
প্রথমেই ধরা যাক তার এইম ইন লাইফ। আদৌ কি মেয়েদের কোন এইম ইন লাইফ থাকে? ছেলেদের মত অনেক মেয়েরাই পড়ালেখা করে, গ্রেজুয়েড হয়… কিন্তু তারপর? একটা ছেলে যেভাবে শুধু বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে পারলেই হয়, মেয়েদের বেলায় কিন্তু তা নয়! তাকে স্বপ্ন পূরণ করতে হয় একজন স্বামীর, স্বামীর বাবা-মা অর্থাৎ শ্বশুর শ্বাশুরীরও। কারণ বিয়ের পর সে কি করবে তা অনেকাংশেই নির্ভর করে শ্বশুর বাড়ির লোকজনের ইচ্ছার ওপর! আমি পুরুষতান্ত্রিক সমাজের কুফল ব্যাখ্যা করতে চাচ্ছি না, এটা আসলেই একটা ভালো সমস্যা।
কারণ, একজন পুরুষ হিসেবে আমি যদি আশা করি- আমার স্ত্রী হবে পুরোদস্তুর গৃহিণী। যে আমার বৃদ্ধ বাবা-মায়ের সেবা করবে, ঘর-সংসার সামলাবে। সারাদিন খেটে আমি যখন বাড়ি ফিরবো তখন আমাকে একগ্লাস সরবত এনে দেবে। গায়ের জামা-জুতা খুলে নিয়ে গুছিয়ে রাখবে। সকালে অফিসে যাবার সময় সে আমার টিফিনের বাটি গুছিয়ে দেবে আর টাইয়ের নটটা ঠিক করে দেবে… এই প্রত্যাশা অন্যায় আবদার হবে কি?
খুব সম্ভবতঃ না! বরং এমন একটা সংসারের স্বপ্ন হয়তো প্রতিটি পুরুষই দেখে! যতই সাম্যের বুলি আওরানো পুরুষরা নারী স্বাধীনতার মধুর বানী শোনাক না কেন, বাস্তবতা হচ্ছে তিনি নিজেও কল্পনা করতে পারেন না- তার স্ত্রী অফিসে যাচ্ছে, আর তিনি নাস্তা বানিয়ে সন্তানের স্কুল ব্যাগে ভরে দিয়ে তাকে স্কুলে নিয়ে যাচ্ছেন!
আমাদের বাবা-মাও সেটা মেনে নেবে না! তারাও তাদের ছেলের বৌ হিসেবে একটা শিক্ষিত অথচ আদর্শ গৃহিণীই খুঁজে বেড়ায়!
এখন কথা হচ্ছে- একটা শিক্ষিত মেয়ের তাহলে সমাজ গঠনে অবদান রাখার জায়গা কোথায়? অথচ রাষ্ট্র তাকে শিক্ষিত করার পেছনে অনেক খরচ করেছে। তার প্রতিদান দেশ বা রাষ্ট্র কিভাবে পাবে? সমাজও তো তার কাছে সেবা পাবার দাবী রাখে!
আমি অনেক নারীকে দেখেছি- বিয়ের পর চাকরি করছেন। (হয়তো শ্বশুর বাড়ির লোকজন মনক্ষুণঃ হলেও মেনে নিয়েছে). কিন্তু সন্তান হবার পর তা আর চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। সন্তান মানুষ করার স্বার্থেই তাকে ঘরমুখো হতে হচ্ছে! অনেকেই হয়তো বলবেন- কর্মজীবি মহিলাদের সন্তানরা কি সব অমানুষ হয়ে যাচ্ছে?
হয়তো না। কিন্তু এটা তো সত্য যে, কর্মজীবি মায়েদের সন্তানেরা তার মাকে সেভাবে পায় না যেভাবে একজন গৃহিণীর সন্তান তাকে পায়!
তাহলে সংসারের আরেক সদস্য অর্থাৎ সন্তানের দাবী পূরণ হলো কই?

আমার সার্বিক আলোচনার সারমর্ম হচ্ছে- একজন পুরুষের প্রতি সংসারের প্রতিটি সদস্য (বাবা-মা, স্ত্রী, সন্তান, সমাজ)-এর চাহিদাগুলো মোটামুটি এক কেন্দ্রিক। কাজেই সহজেই সেগুলো একজন পুরুষ পুরণ করতে পারে।
কিন্তু একজন নারীর প্রতি স্বভাবতই সংসারের এক একজন সদস্য (বাবা-মা, স্বামী, সন্তান, সমাজ)-এর চাহিদা বা দাবীগুলো নানা মুখি এবং একটা আরেকটার সাথে রিতিমত সাংঘর্ষিক! একজন নারীর পক্ষে তাহলে কিভাবে সম্ভব একা একটা সংসারকে পুরোপুরি ‘সুখি’ করে ‘গুণবতী রমনী’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা?

– সফিক এহসান
(১০ জুন ২০১৩ইং)

২৩ thoughts on “নারী বনাম সংসার

  1. ১) ‘যতই সাম্যের বুলি আওরানো
    ১) ‘যতই সাম্যের বুলি আওরানো পুরুষরা নারী স্বাধীনতার মধুর বানী শোনাক না কেন, বাস্তবতা হচ্ছে তিনি নিজেও কল্পনা করতে পারেন না- তার স্ত্রী অফিসে যাচ্ছে, আর তিনি নাস্তা বানিয়ে সন্তানের স্কুল ব্যাগে ভরে দিয়ে তাকে স্কুলে নিয়ে যাচ্ছেন!”– খুবই অসংলগ্ন একটা যুক্তি! নারী কর্মস্থলে যাবে এর অর্থ কখনই এই নয় যে পুরুষ নাস্তা বানিয়ে সন্তানের স্কুল ব্যাগে ভরে দিয়ে তাকে স্কুলে নিয়ে যাবে… না বুঝে লিখেছেন আমি বিশ্বাস করি না!! আপনি অনেক ভাল গল্প লিখেন এমন ভুল করার কথা না। আপনি বরাবরই নারীর অধিকারকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আঘাত করছেন বলে আমার মনে হচ্ছে… (আপনার গল্পেও এই সুর বিদ্যমান)

    ২) “স্ত্রী সন্তানের জৈবিক ও আর্থিক চাহিদা পুরণে সক্ষম একজন পুরুষকে নিঃসন্দেহে সংসারে একজন সফল পুরুষ বলা যায়।”– খুবা বাজারি একটা সংজ্ঞার আশ্রয় নিলেন! আর শব্দটা সফল মানুষ হওয়া উচিৎ।। অন্যদিকে সফল পুরুষের যে সংজ্ঞা দিলেন তাতে স্ত্রী-সন্তানকে গবাদি পশু মনে হচ্ছে। সন্তানকে দুনিয়াতে আনতে যেমন মা-বাবা দুজনেরই সম্মতি ছিল তাই লালন-পালনও দুজনের মতে হওয়া উচিৎ।।

    ৩) ‘আদৌ কি মেয়েদের কোন এইম ইন লাইফ থাকে?’– কথাটা খুবই বেদনাদায়ক। আর বর্তমান সমাজের অবস্থা এতটা ভয়ংকর না। আপনার কথায় নারী নির্যাতনকারীদের উৎসাহিত করলেও অবাক হব না! আজকের ৭০% এইচএসসি পড়ুয়া মেয়ের ভাল জীবনাদর্শ থাকে এমন কি অনেক ক্ষেত্রে ছেলেদের থেকে সুসংহত…

    আপনার কাছে আমার দেয়া পয়েন্টগুলো কিছুটা অপ্রাসঙ্গিক মনে হতে পারে, কিন্তু আপনার লিখা নারীর অধিকার চাইনা এমন পুরুষের দৃষ্টিকোন থেকে লিখা!

    আপনি দাস প্রথা আছে ধরে নিয়ে দাসপ্রথার সমাধান করতে পারবেন না!

    আর ধরে নেয়ার অর্থই আপনি এর বৈধতা দিলেন! দুঃখিত দ্বিমত পোষণের জন্যে…

    1. ধন্যবাদ তারিক ভাই, আমি আসলে
      ধন্যবাদ তারিক ভাই, আমি আসলে এরকম মন্তব্যই আশা করেছিলাম। কারন বিষয়টা নিয়ে আমি ডিসকাস করতে চাই।
      প্রথমেই আপনার অভিযোগ স্বীকার করে নিচ্ছি। কারণ, আমি নিজেকে কতটা নিরপেক্ষ ভাবি তাতে কিছুই এসে যায় না যদি না আমার বক্তব্যে তা প্রকাশ পায়।

      ১নং দিয়েই শুরু করা যাক- আমি কখনোই নারী অধিকারের বিপক্ষে নই। কিন্তু বরাবরই একটা সমস্যা আমাকে বিচলত করেছে, আর তা হলো সমাজের পক্ষে কি আদৌ নারীকে পূর্ণাংগভাবে পুরুষের সমান অধিকার দেয়া সম্ভব? (এটাকে প্লীজ “পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গী” আখ্যা দিবেন না। আমি সমাধান পাইনি বলেই এমনটা বলছি…) আমার কথাটার মোটিভ ছিল- তাহলে কর্মজীবি নারীর সন্তানের নাস্তা-টিফিন ও তাকে স্কুলে দেয়া-নেয়া করার ব্যবস্থাটা কি হবে?

      দ্বিতীয়তঃ “সফল পুরুষ” শব্দটা আমি কোন সজ্ঞা হিসেবে ব্যবহার করিনি। মূলতঃ আমি বোঝাতে চেয়েছি সমাজে এইটুকু দায়িত্ব পালন করতে পারলেই পুরুষকে “পাস মার্ক” দিয়ে দেয়া হয়! যেখানে নারীকে “পাস মার্ক” পেতে আরো অনেক কাঠ-খড় পোড়াতে হয়… স্ত্রী-সন্তানকে গবাদী পশুর সাথে তুলনা করার কোন কারণই নেই!
      এটা তো সত্যি- বাবা ছাড়াও একটা শিশুর মোটামুটি বিকাশ সম্ভব কিন্তু মা ছাড়া সেই সম্ভাবনা অনেক কম! আপনি যাতে আমার কথাটা পজেটিভলি ব্যাখ্যা করেন এজন্য একটা উদাহরন দিতে পারি- আমার বাবা আমার জন্মের আগ থেকেই প্রবাসী। আমার শৈশব ও কৈশর বিকাশে আর্থিক ব্যাপারটা ছাড়া বাবার কোন ভুমিকা নেই বললেই চলে! মা একাই সব করেছেন…
      তবু কেউ কিন্তু আমার বাবাকে ‘দায়িত্বহীন’ বলে না যেটা বলা হতো আমাকে ‘মানুষ’ করতে না পারলে আমার মাকে!

      তৃতীয়তঃ মেয়েদের এইম ইন লাইফ থাকে না বলতে আমি কখনোই এটা বোঝাতে চাইনি যে মেয়েরা স্বপ্ন দেখে না বা তাদের মেধা নেই! এক্ষেত্রেও একটা উদহারণ দেই-
      আমার এক কাজিন (আপু) এবার মাস্টার্স শেষ করে বি,সি,এস পরীক্ষা দিলো। খুব ভাল ছাত্রী এবং সম্ভবতঃ বি,সি,এসে-ও টিকে যাবে! আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম তারপর কি করবেন?
      উনি জবাব দিয়েছিলেন- বাবা-মা বিয়ের কথা ভাবছেন!
      আমি ওনার সাথে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেও নির্দিষ্ট কোন ভবিষ্যত পরিকল্পনা বের করতে পারিনি! আমার কাছে মনে হয়েছে উনি আদৌ জানেন না উনি কি করবেন? সরকারী বা বেসরকারী চাকরী? ব্যবসা নাকি সংসার?
      এটাকি ওনার জ্ঞানের বা AIM-এর সীমাবদ্ধতা? নাকি সামাজিক চাহিদা পুরনের দুষ্টুচক্র? উনি ওনার বাবা-মা না নিজেকে খুশি করবেন এই প্রশ্নের উত্তর খুজতে গিয়ে ভিষণ কনফিউজড!

      সর্বপরি আমি একটা সমাধান চাইছি- যেখানে একটা নারীর সব অধিকার প্রতিষ্ঠা হয়, তার ইচ্ছাকে সম্মান দেয়া যায়, অথচ ‘সংসার’-এর ‘সুখ’ বিন্দুমাত্র বিনষ্ট হয় না…
      আছে কি তেমন কোন সমাধান?

      1. প্রথমতঃ আমার আপন চাচাতো
        প্রথমতঃ আমার আপন চাচাতো ভাই-ভাবি দুজনেই ডঃ তাদের এক মেয়ে এখন ডাক্তারি পড়ছে আর ছেলেটিও এখন ইন্টারমিডিয়েট পড়ছে ভাল কলেজে! আমার আপন ভাইয়ের স্ত্রীও কলেজের শিক্ষক। তাদের বাচ্চারাও যথাক্রমে ভিকারুন্নেসা ও শিশু শ্রেণীতে পড়ছে কৃতিত্বের সাথে। এইটা কোন সমস্যায় না, প্রত্যেকটি এমন পরিবার নিজেদের মত করে সমাধান বের করে নেয় – নিবে!
        হিমালয়ে গেলে মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে তাই বলে হিমালয় জয়ের চেষ্টা বন্ধ থাকে না…
        দ্বিতীয়তঃ প্রথম ব্যাখ্যায় কিছুটা সমাধান আছে। বাকীটাও যতকাল তৎ বিবেচনার মত করে সমাধান হবে। তাই বলে নারীকে আর বন্ধী করে রাখার অবকাশ নেই।
        তৃতীয়তঃ বহুবছরের ট্র্যাডিশন ভেঙ্গে আজ নারীকে এমন সংগ্রামী পদক্ষেপ নিতে নৈতিক বা সামাজিক বাধা দেয় বলেই আপনার সেই বোনের মত নারীরা অতটা দৃঢ় সংকল্পের হতে পারে না। আশা করি চলমান সমাজ পরিবর্তনের প্রক্রিয়ায় এর সমাধান হবে। আমার কথা হছে দাস প্রথাকে কীভাবে নিরুৎসাহিত করা যায় তার প্রত্যেকটি উপায় নিয়ে আমরা লিখব।। আমি একটা পোস্ট দিয়েছিলাম এই মর্মে যে শিক্ষা মহান দায়িত্ববোধ নিয়ে আসে। আসলে শুধু শিক্ষা না শিল্পবোধ ও জ্ঞান সবই মহান দায়িত্ববোধ নিয়ে আসে অন্তত আমি মনেকরি। তাই যা লিখব তা যেন অন্তত কারো অধিকারে বা কোন ধর্ম-বর্ণ-গোত্র-বংশ নির্বিশেষে কারো অনুভূতিতে আঘাত না করে তার দিকে লক্ষ্য রাখা উচিৎ…

        দেখেন নারীর অধিকার মানে কোন অবস্থাতেই পুরুষের অধিকার খর্ব করা নয়। নারী কর্মযজ্ঞে যোগ দেয়ার অর্থ কখনই পুরুষের গৃহস্থলী কাজ করা বা বাচ্চাকে স্কুলে নিয়ে যাওয়া নয়। আপনি এমন ভাব প্রকাশ করে ঠিক করেন নি…

        1. আপনি হয় আমার “ভাব” বুঝতে
          আপনি হয় আমার “ভাব” বুঝতে পারেন নি… অথবা বুঝেও তর্কের খাতিরে তর্ক করছেন!

          আমি সামগ্রিকভাবে সমস্যাটা তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। উদহারন হাজারটা দেয়া যাবে যে পরিবারের বাবা-মা দু’জনেই কর্মজীবি অথচ সন্তানগুলোও বেশ ভালোই “মানুষ” হয়েছে।
          আমি শুধু সন্তান মানুষকেই কিন্তু একমাত্র বাধা হিসেবে উল্লেখ করিনি। এক্ষেত্রে শ্বশুর-শ্বাশুরিকে সেবা করা বা সঙ্গ দেয়ার ব্যাপারটাও কিন্তু ছিল! আমি শুধু এটাই বোঝাতে চেয়েছিলাম যে একজন নারীর কাছে সমাজের দাবী এতো বহুমুখী এবং সংখ্যায় এতোটাই বেশী যে- সবাইকে খুশি/সুখি করা অনেকটাই অসম্ভব। কাজেই কেউ যদি পেরে থাকেন- নিঃসন্দেহে তার প্রতি :salute: এবং হ্যাটস অফ!
          কিন্তু আদৌ কি সেটা সম্ভব হয়?

          1. তর্কের খাতিরে তর্ক করছেন!
            এই

            তর্কের খাতিরে তর্ক করছেন!

            এই কথা যে কত সহস্রবার আমাকে শুনতে হয়েছে…
            :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি:
            মানুষ কেন নিজেকে আগে প্রশ্ন করে না, বুঝে না!!
            আপনার এমন :salute: পাওয়ার মত মানুষ আছে বলেই আজও ভাল কিছু আশা করি……

  2. আমরা আসলে একটা প্রি-সেটেড
    আমরা আসলে একটা প্রি-সেটেড মাইন্ড নিয়ে বড় হই যে, ছেলেরা রোজগার করবে, আর মেয়েরা ঘর সামলাবে। এমনকি চাকরিজীবী হলেও কোন মেয়ের ঘর সামলানোর দায় থেকে রেহাই নেই। অফিস ফেরত একজন পুরুষ গা এলিয়ে দেয়, আর একজন নারীকে হাড়ি পাতিল ঠেলতে রান্নাঘরে ঢুকতে হয়। এই প্রি-সেটেড মাইন্ড যতদিন না বদলাবে ততদিন এই অবস্থার কোন পরিবর্তন হবে না। ঘরে বাইরে সবখানে নারী পুরুষের সমান অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

    1. আতিক ভাই সহজে সুন্দর কথা
      আতিক ভাই সহজে সুন্দর কথা বলেছেন… সহমত!! . :ফুল: :ফুল: :ফুল:
      আমি আপনার কথাগুলোর ব্যাখ্যা আর তার সামাজিক প্রেক্ষাপট বর্ণনা করতে ছেয়েছিলাম মাত্র..

    2. এটা কে না জানে? কিন্তু কেন
      এটা কে না জানে? কিন্তু কেন আমাদের এই “প্রি-সেটেড মাইন্ড” বদলাচ্ছে না? এটা বের করাই ছিল আমার এই পোশটের মূল উদ্দেশ্য…

      যাহোক সবার জন্য একটা পাইকারী কমেন্ট করা হয়েছে নিচে… পড়ে মন্তব্য করার অনুরোধ রইলো…

  3. এটাই তো রমনীর গুন যে সবার
    এটাই তো রমনীর গুন যে সবার চাহিদা পূর্ন করতে পারবে সেই তো গূনবতী রমনী এটা তার গুণ

    1. তাই বুঝি? সেটা কি আদৌ
      তাই বুঝি? সেটা কি আদৌ সম্ভব?

      সবার চাহিদা কি স্বয়ং বিধাতাই পূর্ণ করতে পারে???
      :ভাবতেছি:

        1. সেটাই। কিন্তু একজন নারীর কাছে
          সেটাই। কিন্তু একজন নারীর কাছে সমাজের চাহিদাগুলো সব সময় মঙ্গলকর বা উচিৎ-অনুচিৎ বিচার করে হয় না…

          কাজেই প্রচলিত শব্দের “গুণবতী রমনী” অন্তত এই আধুনিক সমাজে হওয়া দুষ্কর!
          এটাই বলতে চেয়েছি কেবল…

  4. আসলে আমরা সমাজিক প্রাণীরা
    আসলে আমরা সমাজিক প্রাণীরা এখনো কিছু অসামাজিক বিশ্বাস চেতনা লালন করছি । অনেক পুরানো দৃষ্টিভঙ্গির আদলে নারী সম্পর্কিত ধারনা টা অসামাজিক হলেও সমাজ সেটা সামাজিকতার অঙ্গ বলে মনে করে ।
    দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন এমন সমাজ এ আদৌ কি সম্ভব !!!!!!!!! only future knows !!!! :অপেক্ষায়আছি:

    1. অপেক্ষায় তো সবাই আছি! কিন্তু
      অপেক্ষায় তো সবাই আছি! কিন্তু শুধু অপেক্ষায় থাকলেই কি হবে?

      যাহোক সবার জন্য একটা পাইকারী কমেন্ট করা হয়েছে নিচে… পড়ে মন্তব্য করার অনুরোধ রইলো…

  5. একজন পুরুষ হিসেবে আমি যদি আশা

    একজন পুরুষ হিসেবে আমি যদি আশা করি- আমার স্ত্রী হবে পুরোদস্তুর গৃহিণী। যে আমার বৃদ্ধ বাবা-মায়ের সেবা করবে, ঘর-সংসার সামলাবে। সারাদিন খেটে আমি যখন বাড়ি ফিরবো তখন আমাকে একগ্লাস সরবত এনে দেবে। গায়ের জামা-জুতা খুলে নিয়ে গুছিয়ে রাখবে। সকালে অফিসে যাবার সময় সে আমার টিফিনের বাটি গুছিয়ে দেবে আর টাইয়ের নটটা ঠিক করে দেবে… এই প্রত্যাশা অন্যায় আবদার হবে কি?

    না খুব অন্যায় আবদার না। স্বামী যখন আমার কাছ থেকে কিছু আবদার করবে তেমনি আমিও তাঁর কাছ থেকে চাইতে পারি অফিসে যাওয়ার সময় শাড়িতে পিন লাগিয়ে দিবে। জিনিশ সব ঠিকঠাক নিয়েছি কিনা জানতে চাইবে। অফিসে আমার খোঁজখবর নিবে। বাসায় আসতে দেরি হলে অযথা রাগ বা সন্দেহ না করে জানতে চাইবে কাজ বেশি ছিল কিনা। সকালবেলা সন্তানকে রেডি করানোর দায়িত্ব শুধু আমার ঘাড়ে না দিয়ে সেও কিছু ভাগ নিবে। আর শ্বশুর শাশুড়ির সেবার কথা বললে আমি বলব, বিয়ের আগে চাকরি করে আমি যেমন ভাবে আমার বাবামার দেখা শুনা করেছি, বিয়ের পর সেভাবে শ্বশুর শাশুড়ির দেখা শুনা করবো। হ্যাঁ, মাঝে মাঝে ব্যতিক্রম হতে পারে, কিন্তু ব্যতিক্রমটাই যেন নিয়ম না হয়ে উঠে।
    আমাদের সমাজ পুরুষতান্ত্রিক । এখানে ১০০ জনের মধ্যে ৯০ জনই ভাবে বউ চাকরি করলেও ঘরের সব কাজ করবে। কিন্তু বাকি ১০ জন কিন্তু অন্যরকম চিন্তা করে। সংখ্যা নগণ্য। কিন্তু কোন পরিবর্তন খুব দ্রুত স্থায়ী হয়ে যাবে, তা চিন্তা করলে হবে না। আজ ১০ জন তো কাল ২০ জন, এভাবেই পরিবর্তন আসছে। আসবে।
    আর একতরফা আলোচনা করেছেন বলে মনে হল। পুরুষ কি চায়, তা স্পষ্টও, নারীর চাওয়া স্পষ্ট করেন নি। সমাজ নারীর জন্য কি ঠিক করে রেখেছে তাই বললেন, যদি সমাজের বন্দোবস্তের সাথে এক মত হন, তবে আর আলোচনা করবেন কী!
    নারীর জ্ঞান, মেধা, ক্ষমতা, পারদর্শিতা, সৃজনশীলতার কথা বলুন। সমাজ যা নির্ধারণ করেই দিয়েছে তা আর নতুন করে বলার তো কিছু নেই, কিভাবে একে পরিবর্তন করা যায় সেটাই প্রধান বিষয়।

    1. সুন্দর!! আমিও শফিক ভাইকে এইটা
      সুন্দর!! আমিও শফিক ভাইকে এইটা বুঝাইতে চাইলাম!!
      তার পোস্টে নারী বিদ্বেষ বা নারী অধিকারের দাবীর উল্টা স্রোতের আভাস পাওয়া যায়..

    2. আপনার সাথে একমত হওয়া সত্যেও
      আপনার সাথে একমত হওয়া সত্যেও কেন এমন পোস্ট দেই তার ব্যাখ্যা দেবার জন্য নিচে একটা পাইকারী কমেন্ট করা হয়েছে… পড়ে মন্তব্য করার অনুরোধ রইলো…

      [বিঃদ্রঃ আপনার দাবী আমার অন্য পোস্টগুলোতে পূরণ করার চেষ্টা ইতিপূর্বে করেছি, ভবিষ্যতেও করবো… আমাকে বিপক্ষ দল ভাবার কারণ নেই। তবু মাঝে মাঝে স্রোতের বিপরীতে দাড় টানি! তার কারণ নিন্মে আলোচিত… 😉 ]

    3. চমৎকার বলেছেন অবাস্তব
      চমৎকার বলেছেন অবাস্তব স্বপ্নচারী। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:
      আলোচনা কিছুটা পূর্নতা পেলো আপনার মতামতে।

  6. সবার মন্তব্য অনেক মনোযোগ দিয়ে
    সবার মন্তব্য অনেক মনোযোগ দিয়ে পড়লাম। আসলে তর্ক থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার উঠে আসে যদি সবার মাঝে ‘রিসিভিং মাইন্ড’ থাকে।
    পোস্টের শুরুতেই আমি এজন্য স্বীকার করে নিয়েছি যে- আমার জ্ঞান খুবই সীমিত এবং কমেন্টের আলোচনা থেকে আমরা একটা ভালো সমাধানের পথ খুজে নিতে চাই…
    প্রত্যেকের মন্তব্যে আলাদা প্রতিত্তোর দেয়া যেত। কিন্তু সেটা সময় সাপেক্ষ- তাই এক জায়গায় দিচ্ছি। দয়াকরে কেউ এটাকে ‘কাউন্টার স্পীচ’ হিসেবে বিবেচনা না করলে খুশি হবো। কারণ আমি আবারও বলে নিচ্ছি- আমি মোটেও নারী বিদ্বেষী নই। বরং বহু বছর ধরে চেষ্টা করা সত্যেও কেন নারীকে ‘পুর্ণাংগ অধিকার’ দেয়া যাচ্ছে না তার টেকনিক্যাল ফল্টটা যদি এই আলোচনায় আমরা খুঁজে বের করতে পারি- তাহলেই বরং একটা ভালো কিছু হয়!

    সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে আমি কিছু ব্যাপার তুলে ধরতে চাই…
    তারিক ভাই, আমি আসলে সমাজের গতানুগতিক দিকটা তুলে ধরি এবং এর পক্ষে (হয়তো শোনায়) কথা বলি যাতে আপনারা সেটাকে পাল্টা যুক্তি দিয়ে খন্ডন করতে পারেন। আমরা সবাই একমত যে নারীকে মুক্তি দেয়া দরকার। কিন্তু সমমনা এই আমরা এটা একমত হয়ে বসে থাকলে কোন লাভ নেই যদি সমাজের বাকিরা না বদলায়। তারচেয়ে আমরা যদি সমাজের বাকিদের মানসিকতাটা ধরতে পারি এবং তাদের মানসিকতা উনুযায়ি একটা সমাধানে আসতে পারি তাহলে মনে হয় এটা আরো বেশী গ্রহণযোগ্যতা পাবে- নয় কি?
    (আমার ভাষ্য ও ধরন বোঝাতে পেরেছি আশা করি… 🙂 )

    আতিক, মোশফেক এবং স্বপ্নচারী… আমি আপনাদের সাথে একমত। তবে একটা ব্যাপার কি- একটা সমাজের ধ্যান ধারনা কোন কারণ ছাড়াই বা এমনি এমনি গড়ে ওঠে না। বিবর্তনবাদের ভাষায় যে জিনিসের বিবর্তনীয় কোন উপোযোগীতা নেই সেটা প্রকৃতিতে বেশীদিন টিকে থাকে না… এমনিতেই তা নিঃশেষ হয়ে যাবে। আমরা সমাজের এমন অনেক সনাতনী (এবং অবশ্যই ভুল) ধারনাকে নিঃশেষ হতে দেখেছি যেগুলোর কোন উপযোগীতা ছিল না, বরং তা ছিল ক্ষতিকারক। আমরা উল্লেখ করতে পারি বিধবা বিবাহ বা সতীদাহ প্রথার কথা। প্রাচিন অনেক ভুল চিকিৎসা পদ্ধতি বা আরো অনেক কুসংস্কার কিন্তু ঠিকই দূর হয়ে গেছে! তাহলে প্রশ্ন হলো- এখনও কেন সমাজ থেকে নারী-পুরুষ বৈষম্যটা দূর করা যাচ্ছে না? এটা কি শুধুই পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গী, অশিক্ষা বা মূল্যবোধের অভাব নাকি আরো কিছু?
    আসুন এব্যাপারে কিছু বৈজ্ঞানিক তথ্য জানা যাক যা হয়তো আমাদেরকে এই বিষয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে আরো সহায়ক হবে।

    ***(এব্যাপারে আমি প্রখ্যাত ব্লগার ও বিজ্ঞান বিষয়ে লেখক অভিজিৎ রায়-এর লেখা কিছু ব্লগ/বই থেকে কিছু কিছু অংশ তুলে দিচ্ছি। একটু বড় হলেও কষ্ট করে পড়লে অনেক মজার তথ্য জানা যাবে…)
    আধুনিক বিজ্ঞান আমাদের জানিয়েছে আমাদের এই আধুনিক খুলির ভেতর এখনও বাস করে একটা আদিম যুগের মস্তিষ্ক! বিবর্তনের কারনেই এটা হয়েছে। প্রকৃতিগত ভাবেই একটা সময় পুরুষরা ছিল শিকারী ও মেয়েরা ছিল ফলমূল সংগ্রহক। ফলে আদিম যুগ থেকেই কিছু ব্যাপার পুরুষ এবং নারীর মানসজগতে স্থায়ীভাবে গেঁথে আছে। যেমন প্রকৃতিগত কারণেই ছেলেরা মেয়েদের তুলনায় বেশী প্রতিযোগীতামূলক। আবার ছেলেরা কোন একটা ‘বিশেষ’ কাজে দক্ষ হয় অপর দিকে মেয়েরা একসাথে বেশ কয়েকটা কাজ (মাল্টিটাস্ক) সামলে নিতে দক্ষ! স্বাভাবিক ভাবেই দেখা যায় ছেলেরা স্থাপত্যবিদ্যা, গনিত বা প্রকৌশলবিদ্যায় আর মেয়েরা শিক্ষকতা, নার্সিং, ডাক্তারী বা সমাজবিদ্যায় দক্ষ! এগুলো কিন্তু বৈজ্ঞানিক ভাবেই ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তবেও এটাও বলা হয়েছে যে- আমাদের মস্তিষ্কের গঠন এমন বালেই যে এটা বদলানো যাবে না এমন নয়!”

    এখন কথা হলো- আমি এপ্রসংগটা কেন আনলাম। এজন্যই যে, সমাজের অন্যান্য ধ্যান ধারনা গুলো যত সহজে চাইলেই দূর করা যাচ্ছে, প্রকৃতিগত কারনেই কিছু কিছু কাজ চাইলেই পুরুষ বা নারী একে অপরেরটা দক্ষতার সাথে করতে পারছে না! তবে দীর্ঘ দিন ধরে চর্চা করলে এক সময় এর পরিবর্তনও যে সম্ভব তাও কিন্তু বিবর্তনবাদ স্বীকার করে। কিন্তু রাতারাতি শুধু মাত্র “আমাদের দৃষ্টিভঙ্গী বদলে ফেললাম” এরকম প্রতিজ্ঞা করলেই এটা হবে না!

    আমি একটা ছোট্ট উদাহরণ দেই- আমরা এমন অনেক সময় দেখেছি, একটা ছোট বাচ্চা খুব কান্নাকাটি করছে। বাবা অনেক চেষ্টা করেও সেই কান্না থামাতে পারছে না। অথচ মায়ের কোলে যাওয়া মাত্র বাচ্চা কান্না থামিয়ে দিলো! (ব্যতিক্রম থাকতেই পারে, সেটা উদাহরণ নয়) এর কি ব্যাখ্যা দিবো আমরা?
    আমার কথার কেউ যেন ভুল ব্যাখ্যা না করে। আমি এটা বলতে চাচ্ছি না যে যুক্তি বলে “বাচ্চা সামলানোর কাজটা আসলে মায়ের, বাবার না!” কিন্তু প্রকৃতিগত ভাবে ‘মা’ অভ্যস্ত এবং দক্ষ- এটা অনস্বীকার্য!
    আমার সামগ্রীক বক্তব্যের সারমর্ম টানলে আমি বলব- আধুনিক সমাজে একজন নারী চাইলেই পুরুষের (প্রায়) সবকাজ করতে পারে। কিন্তু কিছু কাজ হয়তো পুরুষ চাইলেও (দক্ষতার সাথে) করতে পারে না, যেটাকে আমরা ‘মেয়েলী কাজ’ বলে থাকি!
    এজন্যই আমি বলেছিলাম- একজন নারীর জন্য সংসারের সব দিক সামলানোটা সত্যি দারুণ কঠিন!
    হ্যাঁ “স্বপ্নচারী”র সাথে আমি একমত- পুরুষ যদি সাহায্য করে আর আমরা যদি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গী বদলাই তাহলে নারীর পক্ষে তা কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। উন্নত বিশ্বে তো আজকাল ঠিকই তা সম্ভব হচ্ছে! তবু একটা জায়গায় ঠিকই কিছু অপ্রাপ্তি থেকেই যায়… আপনি বললেন- “বিয়ের আগে আমি আমার বাবা-মাকে যতটুকু সেবা করতে পেরেছি…”
    সমস্যা হলো- বিয়ের আগে ঐ মেয়েটির বাবা-মায়ের বয়স আর বিয়ের পরের শ্বশুর-শ্বাশুরীর বয়সটাও কিন্তু বিবেচনায় আসে।
    আরো কিছু ব্যাপারও আসে- (সেগুলো অন্য কোন মন্তব্যে আলোচনা করবো…)
    সময়ের আবর্তনে একদিন সুদিন আসবেই… কথা হচ্ছে আমরা সেই “সময়টুকু” কত দ্রুত আবর্তীত করতে পারবো?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *