আবোল তাবোল

কবি যখন পথে বের হবে সাহিত্যিকরা তখন পথ ছেড়ে দাঁড়াবে।”-উইলিয়াম সামারসেট মম।

কবিদের নিয়ে যত স্তুতি গাওয়া হয়েছে এই লাইনটা তার মাঝে সর্বোচ্চ।আমি ভাবি মম সাহেব এখন বেঁচে থাকলে কি হতো? আর তিনি যদি বাঙলা পড়তে পারতেন। তাহলে ব্লগে আর ফেসবুকের কবিদের দেখে নিশ্চয় আত্মহত্যা করতেন।

কবি যখন পথে বের হবে সাহিত্যিকরা তখন পথ ছেড়ে দাঁড়াবে।”-উইলিয়াম সামারসেট মম।

কবিদের নিয়ে যত স্তুতি গাওয়া হয়েছে এই লাইনটা তার মাঝে সর্বোচ্চ।আমি ভাবি মম সাহেব এখন বেঁচে থাকলে কি হতো? আর তিনি যদি বাঙলা পড়তে পারতেন। তাহলে ব্লগে আর ফেসবুকের কবিদের দেখে নিশ্চয় আত্মহত্যা করতেন।

মাঝে মাঝে পরিচিত বন্ধু বা সুভান্যুধায়ীরা নানা ধরনের পত্রিকা,লিটন ম্যাগের জন্য আমার কাছে লেখা চায়। আমি সানন্দে রাজি হয়ে যাই। এবং আগ্রহ ভরে জানতে চাই লেখাটা কবে দিতে হবে? আমার নিজের মনেও লেখা দেয়ার জন্য একটা আগ্রহ থাকে। কিন্তু যখনই লিখতে বসি মাথায় কিছুই আসে না। তাই ছাপা অক্ষরে কোন কিছুই এখনো বের করতে পারিনি। আফসুস… আফসুস. আফসুস। অনেক চেষ্টা করে যখন সিদ্ধান্ত নেই যে কোন ভাবেই আমার পক্ষে লেখা সম্ভব নয় তখন চিন্তা করি একটা কবিতা অন্তত দেব। কবিরা নাকি খালি হাতে ফিরায় না , আমিও কাউকে ফিরাব না। কবিদের ব্যপারে আমার আগ্রহ অসীম। আগ্রহ কিছুটা এলার্জি টাইপের হয়ে গেছে।এই এলার্জি আবার ব্লগেও অনেক বার ছড়িয়েছি। আসলে কবিতা ভালবাসলে কবিদের একেবারে উপেক্ষা করা যায় না। যদি যেত তাহলে কবি বিহীন কবিতার পৃথিবী গড়ার স্বপ্ন দেখতাম। কিন্তু কবিতা….. সে তো দূর অস্ত।

রাজনীতি মাথায় এতই ঢুকে গেছে যে এর বাইরে আমি আর কিছু চিন্তা করতে পারিনা। কিছু লিখতে গেলেই তা রাজনৈতিক হয়ে যায়, এমন কি প্রেমের কথা লিখতে শুরু করলেও তা রাজনৈতিক প্রেম হয়ে যায়। রাজনৈতিক ডিজিসে আক্রান্ত হয়েছি পরিত্রানের কোন উপায় দেখছিনা।

আমি নিজেকে স্বাধীন ভাবার চেষ্টা করি। সব সময় এমন ভাব দেখাই যে এই মহাজগতে আমি এবং আমিই এক মাত্র নির্দেশক যার নির্দেশ আমি মানি, অথবা বীর দর্পে অস্বীকার করি।এই যে বীর দর্পে কথাটা বললাম ,আমার ধারনা এটা বেশির ভাগ মানুষের ক্ষেত্রেই সত্য। আমি যখন আয়নার সামনে দাঁড়াই আমি কিন্তু আমাকে দেখি না। যা দেখি সেটা বস্তব না। কেউ যখন আমাকে বলে সুন্দর আমি তখন আয়নায় আমাকে সুন্দর হিসেবে দেখি। কেউ যখন বলে বানরের মুখের মতো মুখ। আমি তখন বাননের মুখের সাথে আমার সাদৃশ্যই বেশি দেখতে পাই। অনেক বছর আগে যখন লর্ড অবদা রিং সিনেমাটা দেখি। হঠাৎ একদিন মনে হল আমি মনে হয় দেখতে মৃগেলের মতো। তারপর যতবার আয়নার সামনে দাঁড়িয়েচি ততবারই মৃগেল সাদৃশ্য চেহারা দেখে দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলেছি।এই মৃগেল ভাবনাটা নিয়ে আমার অনেক সময় কেটেছে। মানুষের এই ধরনের ভাবনা দেখলে প্রথমেই মৃগেল ভাবনার কথা মনে আসে। চার পাশে মৃগেল মানুষ , কেবল মৃগেল সিন্ড্রোম।

এবার পছন্দের কবিতা।

জনসমুদ্রে নেমেছে জোয়ার,
হৃদয় আমার চড়া।
চোড়াবালি আমি দূরদিগন্তে ডাকি-
কোথায় ঘোড়সওয়ার?

দীপ্ত বিশ্ববিজয়ী! বর্শা তোলো।
কেন ভয়? কেন বীরের ভরসা ভোলো?
নয়নে ঘনায় বারে-বারে ওঠাপড়া?
চোরাবালি আমি দূরদিগন্তে ডাকি?
হৃদয়ে আমার চড়া?

অঙ্গে রাখি না কারোই অঙ্গীকার?
চাঁদের আলোয় চাঁচর বালির চড়া।
এখানে কখনো বাসর হয় না গড়া?
মৃগতৃষ্ণিকা দুরদিগন্তে ডাকি?
অত্মহুতি কি চরকাল থাকে বাকি?

জনসমুদ্রে উন্মথি কোলাহল
ললাটে তিলক টানো।
সাগরের শিরে উদ্বেল নোনাজল,
হৃদয়ে অধির চড়া।

চোরাবালি ডাকি দূরদিগন্তে,
কোথায় পুরুষকার?
হে প্রিয় আমার, প্রিয়তম মোর!
অঙ্গে আমার দেবে না অঙ্গীকার।
————————–
জনসমুদ্রে নেমেছে জোয়ার
মেরুচূড়া জনহীন
হালকা হাওয়ায় কেটে গেছে কবে
লোকনিন্দার দিন।

হে প্রিয় আমার , প্রিয়তম মোর,
আযোজন কাঁপে কামনার ঘোর।
কোথায় পুরুষকার?
অঙ্গে আমার দেবে না অঙ্গীকার?”

-বিষ্ণু দে (ঘোড়সওয়ার)

৫ thoughts on “আবোল তাবোল

  1. আসলাম-দেখলাম-জয় করলাম…
    এমন

    আসলাম-দেখলাম-জয় করলাম…
    এমন ভাব!! তবে আমি কবিতা আর সাহিত্যে তুলনা করাটাকে অশুদ্ধ তুলনা বলব!!
    মারকেজের ‘নিঃসঙ্গতার ১০০ বছর’ হাজার হাজার বিখ্যাত কবিতা থেকে শক্তিশালী আবার নেরুদার কিছু কবিতা সবাইকে মনে হয় হার মানায় দিবে… এইটা আসলে আলাদা আলাদা জগত।।
    ফেদেরারকে তেন্ডুল্কার রাস্তা ছেড়ে দিবে কি দিবে না প্রশ্নটাই অবান্তর…

  2. সাহিত্যের জগতে এককালে কবিরা
    সাহিত্যের জগতে এককালে কবিরা ছিলেন সবার মধ্যে কুলীন। আর এখন? আবোল তাবোল এলোমেলো কয়েক লাইন লিখেই লোকে ভাবে কবিতা হয়ে গেছে। সেটা আবার সবাইকে না গেলানো পর্যন্ত রেহাই নেই। বিশেষ করে ব্লগে যারা শুধুমাত্র কবিতা পোস্ট করেন, তাদের বেশীর ভাগের মধ্যেই একটা প্রবনতা আছে নিজেরা অন্য কারো পোস্টে অংশ নেওয়া তো দূরে থাক, পড়ে দেখারও ধার ধারেন না, কিন্তু তাদের লেখায় মন্তব্য না দিলেই ধরে নেন কবিতা বিদ্বেষী হিসেবে। দূর্বোধ্য ভাষার কথা আর নাইবা বললাম।

  3. উইলিয়াম সামারসেট মম এর
    উইলিয়াম সামারসেট মম এর উক্তিটার সাথে একমত হতে পারলাম না ,। যদিও তিনি রিনোনড অ্যারাউনড দা ওয়ার্ল্ড । আর অনলাইন এ কবিতা এখন যেভাবে ছড়াচ্ছে তা. সত্যি অনেকটা দুঃখজনক । কেননা অধিকাংশ কোন রীতি কাব্য এবং অন্তর্নিহিত অর্থ ব্যতিত কবিতা লিখছে ।

  4. কখনো যদি আমি ইচ্ছাপূরণ জাতীয়
    কখনো যদি আমি ইচ্ছাপূরণ জাতীয় বরপ্রাপ্ত হই তাহলে আমি অবশ্যই অবশ্যই এবং অবশ্যই কবি হওয়ার ইচ্ছা জানাবো। মাঝে মাঝে আমি প্রবলভাবে ভারাক্রান্ত হই এই আফসোসে যে “ইশ আমি যদি কবিতা লেখতে পারতাম”। আমৃত্যু এই অতৃপ্তি থেকে মুক্ত হতে পারবনা আমি।
    সমারসেট মম ভুলই বলেছেন। যে মানুষ শরীর আর মন থেকে সত্যিকার কবি তার এই পৃথিবীর ধুলি মলিন পথে হাঁটতে হয়না সুতরাং তাঁকে দেখে কারো পথ ছাড়ারও প্রয়োজন নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *