সত্যিই মোখলেস, বড় বিচিত্র এ দেশ!

আমাকে শিখানো হয় তুমি সব দলকে খারাপ বলতে পারবেনা। কোনো না কোনো দলের পক্ষে কথা বলতে হবে, নইলে তুমি হিপোক্রেট। কিন্তু আমি ব্যাপারগুলো বুঝতেই সমস্যা হয়, আমি বুঝিনা।

কালকে ফেসবুকে বিএনপি সমর্থিত সিলেটি একটা পেজে লেখা দেখলাম “আটার দলের সমর্থিত পার্থী আরিফ জামান বাই বাই, সিলেটে কামরানের টাই নাই” …কামরানের টাই নাই মানে হচ্ছে কামরানের ঠাঁই নাই! কিন্তু আটার দল মানে যে কি এটা অনেক কষ্ট করেও বুঝি নাই। পরে আরেকজন বাংলায় তর্জমা করে দিলো আটার দল মানে হচ্ছে আঠারো দল! সিলেটি ঐ ভাইজানের আক্ষরিক কথাটাই সত্য, জোটটা এখন আটার দল হয়ে গেছে। নইলে রাজাকারের সাথে কেমনে বিএনপি জোট বাধে! বিএনিপির রাজনৈতিক জন্ম যেভাবেই হোক দলটা একসময় বেশ পজিটিভ মুভ নিছিলো। রাজাকারের সঙ্গ ত্যাগ করা ছাড়া এদের সম্পর্কে কিছু বলতেই ঘৃণা হয়।



আমাকে শিখানো হয় তুমি সব দলকে খারাপ বলতে পারবেনা। কোনো না কোনো দলের পক্ষে কথা বলতে হবে, নইলে তুমি হিপোক্রেট। কিন্তু আমি ব্যাপারগুলো বুঝতেই সমস্যা হয়, আমি বুঝিনা।

কালকে ফেসবুকে বিএনপি সমর্থিত সিলেটি একটা পেজে লেখা দেখলাম “আটার দলের সমর্থিত পার্থী আরিফ জামান বাই বাই, সিলেটে কামরানের টাই নাই” …কামরানের টাই নাই মানে হচ্ছে কামরানের ঠাঁই নাই! কিন্তু আটার দল মানে যে কি এটা অনেক কষ্ট করেও বুঝি নাই। পরে আরেকজন বাংলায় তর্জমা করে দিলো আটার দল মানে হচ্ছে আঠারো দল! সিলেটি ঐ ভাইজানের আক্ষরিক কথাটাই সত্য, জোটটা এখন আটার দল হয়ে গেছে। নইলে রাজাকারের সাথে কেমনে বিএনপি জোট বাধে! বিএনিপির রাজনৈতিক জন্ম যেভাবেই হোক দলটা একসময় বেশ পজিটিভ মুভ নিছিলো। রাজাকারের সঙ্গ ত্যাগ করা ছাড়া এদের সম্পর্কে কিছু বলতেই ঘৃণা হয়।

আশির দশকের মাঝামাঝি সাংবাদিক মিনার মাহমুদ কাজ করতেন বিচিত্রাতে। কিন্তু বিচিত্রা সম্পাদক শাহাদাত হোসেনের সাথে সম্পর্কের অবনতি হলে তিনি বিচিত্রা ছেড়ে দেন। কিছুদিন পর নিজেই বিচিন্তা নামের আরেকটা ম্যাগাজিন বের করেন। এই ম্যাগাজিন এতটাই পাঠকপ্রিয় হইছে চোখ বন্ধ করে বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা ম্যাগাজিন বলা যায়। তখন সমালোচকরা এটা বলে মজা পেতেন মিনার মাহমুদ বিচিত্রার বিচি নিয়ে চলে গেছেন। বিচিন্তায় কাজ করা সবাই ছিলো বয়সেই তরুন। সবচেয়ে বেশি বয়সী মিনার মাহমুদের বয়সই তখন ত্রিশ পেরোয়নি। এসব অল্প বয়সী লিকলিকে পোলাপান একএকটা দুধর্ষ রিপোর্ট করে আর এরশাদ আরেকবার কেঁপে উঠে। এরশাদ একটার পর একটা পত্রিকা বন্ধ করে, সংবাদপত্রের উপর সেন্সর আরোপ করে আর এদিকে বিচিন্তার ঘাড় ত্যাড়ামি চলতেই থাকে। এরশাদ পলিটিক্যাল রিপোর্ট ছাপতে নিষেধ করলে তারা পাবনায় গিলে পাগলদের পলিটিক্যাল সাক্ষাতকার নিয়ে সেটা প্রকাশ করে।

বিচিন্তার শেষ সংখ্যা ছিলো ১৯৮৮ সালের ৩১ মে সংখ্যা। ঐ সংখ্যার প্রচ্ছদ কাহিনী ছিলো চট্টগ্রামে শেখ হাসিনার জনসভায় পুলিশের গণহত্যার উপর। ঐ সংখ্যা প্রকাশের পর বিচিন্তা অফিসে ঐ সংখ্যার জন্য সতর্ক করে সরাষ্ট্রমন্ত্রনালয় থেকে চিঠি আসে। একদিন পর আবার চিঠি আসে ঐ সংখ্যা নিষিদ্ধ করে। এর পরদিন আবার চিঠি আসে বিচিন্তার সব সংখ্যা নিষিদ্ধ করে। মিনার মাহমুদের নামে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা হয়। এক পর্যায়ে উনাকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়। বিচিন্তায় কাজ করা এসব লিকলিকে ছেলেপেলে আজ দেশের বড় বড় সাংবাদিক। বিচিন্তার গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলানিউজের কন্ট্রিবিউটিং এডিটর ফজলুল বারীর নাম বলা যায়, আরেক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র মানিক রহমান ছিলেন বিচিন্তার সহকারী সম্পাদক।

সেই এরশাদ সাহেব এখন সংবাদপত্রের স্বাধীনতা বিষয়ে উনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত ব্যাক্ত করেন। আমাদের চুতিয়া সাংবাদিকরাও মত প্রকাশের স্বাধীনতা বিষয়ে মতামত নেওয়ার জন্য এরশাদের কাছে ছুটে যান। মুন্নী সাহা এরশাদকে নিয়ে “একদিন প্রতিদিন” অনুষ্ঠান করেন। সেখানে এরশাদ হয়ে যান অমিত আর মুন্নি সাহা লাবণ্য! কিচ্ছু করার নাই। কপালের ফের নইলে কি আর, চুতিয়াদের এমন ব্যাবহার। যেখানে মুন্নি সাহা সাংবাদিকতার মানদন্ড, সেখানে এর থেকে ভালো কিছু আশা না করাই ভালো।

চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে শেখ হাসিনার ঐ জনসভাটা ছিলো ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি। শুধু লালদীঘি না, পুরা চট্টগ্রামই ছিলো লোকে লোকারণ্য। শেখ হাসিনাকে বহনকারী ট্রাক বহর চিটাগাং এয়ারপোর্ট থেকে কোতোয়ালী থানার সামনে এই কয়েক কিঃমিঃ যেতে ৬ ঘন্টার বেশি লেগেছিলো! কোতোয়ালী থানার সামনে পৌঁছালে শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে এরশাদের নির্দেশে নির্বিচারে গুলিবর্ষণ শুরু হয়। কিন্তু বঙ্গবন্ধু কন্যা এটই উনার শেষ পরিচয়। নিজের জীবনের চেয়েও শেখ হাসিনাকে বেশি ভালোবাসা মানুষগুলো ঐদিন উনার চার পাশে মানব ঢাল হিসেবে দাঁড়িয়ে যান। একজন গুলি খেয়ে লুটিয়ে পড়েনতো আরেকজন দাঁড়িয়ে যান। ঐদিন দিনের আলোতেই নিহত হন ৪০ জন। ঘটে বাংলাদেশের ইতিহাসে জঘণ্যতম গণহত্যা।

দুই তিন দিন আগে ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস দিছিলাম, আমার ফ্রেন্ডলিস্টে অল্প পরিচিত কিন্তু অসাধারণ স্ট্যাটাস দেওয়া মানুষগুলোকে নিয়ে ধারাবাহিক ভাবে লিখবো। ঐ স্ট্যাটাসে একটা লাইন ছিলো এরকম “আমি নিজের জন্য লিখি, নিজের মনের খুশিতে লিখি এসব হইলো ভুয়া কথা” …কিছুক্ষন পর মানিক রহমান নামে একজন আমাকে ইনবক্সে বললেন “ভাই আমি আপনার এই কথার সাথে একমত না। এরকম অনেকেই আছেন যারা নিজের জন্য লিখেন নিজের খুশিতে লিখেন। যেমন আমি।” আমি ঐদিন উনার কথাকে তেমন গুরুত্ব দেইনি। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে আমার এই স্ট্যাটাসটা কেউ না পড়লেও আমার কিচ্ছু আসবে যাবেনা। নিজের জন্যই লিখলাম। ফ্রেন্ডলিস্টে উনি অনেকদিন থাকলেও আমি উনাকে ঠিক চিনি নাই। পরে চিনতে পেরে নিজেরই লজ্জা লাগছে। উনিই বিচিন্তার সহকারী সম্পাদক মানিক রহমান।

এই মানিক রহমানরা আমেরিকায় পড়ে থাকেন, আর মুন্নি সাহারা হয়ে যান সাংবাদিকতার মানদন্ড! শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে গিয়ে গণহত্যা চালানো সেই এরশাদই এখন মহাজোটের অন্যতম শরীক দল! আর মিনার মাহমুদকে শেষ পর্যন্ত আত্নহত্যা করতে হয়।

সবাই সিস্টেম পছন্দ করে। কেউ সিস্টেমে ঢুকে যায়, কেউ সিস্টেমের সাথে মানিয়ে নেয়। আর সিস্টেমে না থাকা মিনার মাহমুদের মত মানুষরা নিজেরাই সিস্টেম হয়ে যান।

আমি শুধু হাসি/ আঁখি জলে ভাসি/ এই ছিলো মোর ঘটে/ তুমি মহারাজ/ সাধু হলে আজ/ আমি আজ চোর বটে!

সত্যিই মোখলেস, বড় বিচিত্র এ দেশ!

৬ thoughts on “সত্যিই মোখলেস, বড় বিচিত্র এ দেশ!

  1. অনেক তথ্যবহুল… রেফারেন্স
    অনেক তথ্যবহুল… রেফারেন্স দিলে ভাল হত!!
    আসলেই বড় বিচিত্র এ দেশের মানুষ!!
    :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :ভাঙামন: :ভাঙামন: :ভাঙামন: :ভাঙামন:

  2. চমৎকার তত্থবহুল একটা পোস্ট /
    চমৎকার তত্থবহুল একটা পোস্ট / ধন্যবাদ এমন চমৎকার পোস্ট এর জন্য / :ফুল:

    সবাই সিস্টেম পছন্দ করে। কেউ সিস্টেমে ঢুকে যায়, কেউ সিস্টেমের সাথে মানিয়ে নেয়। আর সিস্টেমে না থাকা মিনার মাহমুদের মত মানুষরা নিজেরাই সিস্টেম হয়ে যান।

  3. হুম; ১৯৮৮ সালের; এই ঘটনার
    হুম; ১৯৮৮ সালের; এই ঘটনার স্মৃতিতে; চট্টগেরামে নাকি; একখান; শহীদ বেদী আছে; তয়; নির্মম হলি পরেও সত্যি; যে; সিখানে; কাউয়া হাগে, মানুষে মুতে। বছর ঘুইরে; সেই তারিখ আইসলে; একটু; ঝাড়-পুছ কইরে; সিখানে নাকি; ফুল দিয়ে; স্মরণ করা হয়।

    অমিত (এরশাদ) কাহা; হেফচুতিয়াগের লাগি; যিরাম দুঃখ; প্রকাশ কইরে; গণহইত্যার; প্রতিবাদ কইরলো; তখন বারবার; ১৯৮৮ এর কথা; মনে পড়ে যাইচ্ছিলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *