কমলাদা ও ধর্ষন সমাচার

আমি বললাম
-দেখেছো কমলা দা। কোন যুগে যে এসে পড়লাম। দেড়মাসের বাচ্চা কেও ধর্ষন করা হয়। এ ঘোর কলিযুগ

কমলাকান্ত দা বললো
-আহ যেটা বুঝো না সেটা নিয়ে কথা বল কেনো বাপু??

আমি বললাম
-কেনো দাদা কি হয়েছে??

কমলা দা বললো
-দেড় বছরের বাচ্চা ধর্ষন হবে এতো স্বাভাবিক। সে কি পর্দা করতে জানে?? আর সে একা একা বের হবে আবার বেহায়াপনা করবে কিন্তু ধর্ষন হবে না তাতো চলবেনা বাপু।



আমি বললাম
-দেখেছো কমলা দা। কোন যুগে যে এসে পড়লাম। দেড়মাসের বাচ্চা কেও ধর্ষন করা হয়। এ ঘোর কলিযুগ

কমলাকান্ত দা বললো
-আহ যেটা বুঝো না সেটা নিয়ে কথা বল কেনো বাপু??

আমি বললাম
-কেনো দাদা কি হয়েছে??

কমলা দা বললো
-দেড় বছরের বাচ্চা ধর্ষন হবে এতো স্বাভাবিক। সে কি পর্দা করতে জানে?? আর সে একা একা বের হবে আবার বেহায়াপনা করবে কিন্তু ধর্ষন হবে না তাতো চলবেনা বাপু।

আমি বললাম
-দেড় বছরের মেয়ে পর্দার কি বুঝবে??

কমলা দা বললেন
-সেটা তো তোমাদের ভালো জানার কথা, তোমরা সুশীল, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিত্ব কর। আমরা গাঁজা খোর, গুলি খোর, মুখ্যু সুখ্যু মানুষ। আমাদের কথা তো তোমরা কানেই নাও না।

আমি বললাম
-তাহলে যে ধর্ষক তার শাস্তি??

কমলা দা অট্টহাসি দিয়ে বললেন
-তুমি ছোট মানুষ। এসব বুঝবার কথা না। তারপরও বলি। আজ পর্যন্ত যতটা ধর্ষনের খবর পড়েছো ঠিক ততটা কি ধর্ষনের বিচারের খবর পেয়েছো???

আমি বললাম
-না তো!!!

কমলা দা বললো
-তাহলে??? উল্টো এটা দেখেছো যে ধর্ষিতা ধর্ষনের বিচার চাইতে গেলে পুনরায় লাঞ্চিত হয়। ওদিকে ধর্ষক প্রভাবশালী হলে তো কথাই নেই। ধর্ষিতার পুরো পরিবারকে চাপের মুখে রাখে। এই অবস্থায় মেয়েটার আত্মহত্যা ছাড়া তো কোনো পথ থাকে না। এবার কিছু বুঝলে বাছা???

আমি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললাম
-হুম

কমলা দা বললেন
-আর তোমাদেরও বলি হারি তোমরা কোনো একটা ইস্যু পেলে লাফ দাও। ফেসবুক না ব্লগে কি সব কি জানি ইভেন্ট ক্রিয়েট কর। কিন্তু বিচারের জন্য ইভেন্ট ক্রিয়েট কর ভালো কথা যাতে ধর্ষকের শাস্তির দাবি করতে পারো। কিন্তু ফেসবুকেও সুশীলের অভাব নেই। মোল্লার দৌড় যেমন মসজিদ পর্যন্ত তেমনি সুশীলের দৌড় ওই ইভেন্টে ক্লিক করা পর্যন্ত। আমি চাইনা বঙ্গদেশে আর একটাও ধর্ষন চাই না..……তাই এবার থেকে মেয়েদের মুখের বাণী হোক Don’t teach me what to wear, teach your son not to rape.

৫ thoughts on “কমলাদা ও ধর্ষন সমাচার

  1. চমৎকার বলেছেন!!
    যে মানুষ

    চমৎকার বলেছেন!!
    যে মানুষ নিজের বাচ্চা মেয়ে বা আত্মীয়কে তাদের স্বাভাবিক পোশাকে দেখে বিব্রত হয় না অথচ বাইরের অন্যকোন নারীকে লাঞ্ছিত হতে দেখলে অশালীন পোশাকের (যা নিজের মেয়ে বা আত্মীয়ের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক) অভিযোগের স্বেচ্ছাচারী ওজুহাত দেখায়। আসলে তাদের উচিৎ নারীর পোশাকের বদলে তোমার মগজের আবর্জনার দিকে তাকানো।

Leave a Reply to তারিক লিংকন Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *