ওল্ড হোম

ওল্ড হোম ব্যবসা এখন বেশ জমজমাট। প্রায় প্রতি পাড়ায় দু একটা পাওয়া যাবে। খরচেরও রকম ফের আছে। বিশেষ করে শহর থেকে একটু দূরে হলে খরচ কম। কোন কোন গ্রাম তো এখন ওল্ড হোম গ্রাম নামেই পরিচিত হচ্ছে। রিয়েল এস্টেট ওয়ালারাও এখন এদিকে মনযোগ দিয়েছে। লাভ খারাপ না। আগে যেখানে একটা ফ্ল্যাট বিক্রি করতো এখন একটা রুম বিক্রি করে। এখন তো অনেক মিলে আবার হলরুম কিনছে। সস্তা হচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা, কোনটাই ফাকা থাকছে না। আগে থেকে বুকিং না দিলে এখন তো সিট ই পাওয়া যায় না।

ওল্ড হোম ব্যবসা এখন বেশ জমজমাট। প্রায় প্রতি পাড়ায় দু একটা পাওয়া যাবে। খরচেরও রকম ফের আছে। বিশেষ করে শহর থেকে একটু দূরে হলে খরচ কম। কোন কোন গ্রাম তো এখন ওল্ড হোম গ্রাম নামেই পরিচিত হচ্ছে। রিয়েল এস্টেট ওয়ালারাও এখন এদিকে মনযোগ দিয়েছে। লাভ খারাপ না। আগে যেখানে একটা ফ্ল্যাট বিক্রি করতো এখন একটা রুম বিক্রি করে। এখন তো অনেক মিলে আবার হলরুম কিনছে। সস্তা হচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা, কোনটাই ফাকা থাকছে না। আগে থেকে বুকিং না দিলে এখন তো সিট ই পাওয়া যায় না।
মেল, ফিমেল আলাদা পাওয়া যায়। আবার কনজুগালও। কনজুগাল গুলো খুবই কষ্টলী। যেহেতু ওখানে এক রুমে মাত্র দুজন। তাই এরকম ওল্ড হোমের বানানোর দিকে ইন্টারেস্ট কম। এতো খরচ করে খুব কম লোকই থাকতে আসে। কেবল যারা আগে থেকে ইনস্যুরেন্স করিয়ে রেখেছে, তারাই পারে থাকতে। সিঙ্গেল গুলোই বেশী ভালো চলছে। আরেক রকম বেরিয়েছে, সেমি কনজুগাল, পাশাপাশি দুটো ওল্ড হোম, মেল আর ফিমেল। ফলে সারাদিন দেখা সাক্ষাত হচ্ছে।
আগে থেকে প্ল্যান না করে রাখলে পরে সমস্যায় পরতে হয়। টেলিফোন, দালাল, মন্ত্রী এমপি র সুপারিশেও অনেক সময় কাজ হয় না। এখন তাই অনেকগুলোতে নাম লিখিয়ে রাখতে হয়। কোথাও কেউ মারা গেলে ওরাই ফোন করে। বাবার জন্য ওল্ড হোম পেতে বেগ পেতে হয় নি। সে সময় এতো রাশ ছিল না। ৭০ এর আগে ওল্ড হোম নেয় না। তাঁর আগে থাকতে চাইলে বাসা ভাড়া করে থাকতে হবে। তাতে খরচ অনেক বেশী। তাঁর ওপর কাজের লোক রাখা, খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা, বিশাল ঝক্কি। তাই ৭০ পর্যন্ত নিজের কাছেই রাখা হয়। আসলে রাখতে হয়। বাইরে বের করে দিলে সমাজে একটু নীচু হয়ে যেতে হয়। ওল্ড হোমে দেয়াটা এখন স্ট্যাটাস সিম্বল। বাবা মার আলোচনা উঠলে ‘ওই ওল্ড হোমটা কিন্তু বেশ। আমার বাবা কে রেখেছি। খুব ভালো ব্যবস্থা। শীতকালের জন্য গরম পানির ব্যবস্থা আছে। খরচ একটু বেশী বাট বাবা মার জন্য এতটুকু ও করবো না?’
বাবার এখন ৮০। বছর দশেক হল আছেন ওল্ড হোমে। প্রথমটায় মন খারাপ করতেন। কান্নাকাটি, অনুরোধ ‘আমি তো কোন সমস্যা করি না’। কখনো আমার ছেলেকে ব্যবহারের চেষ্টা ‘ও তো আমাকে ছাড়া থাকতে পারবে না’, ইমশানাল অ্যাঙ্গেল দেয়া, ‘বাসার কোণায় পরে থাকব’ টাইপ কথাবার্তা আর কি। এখন আর করেন না। ওখানে কিছু বন্ধু বান্ধব জুটেছে। আড্ডা দিয়ে সময় কেটে যাচ্ছে। মাসে একদিনের জন্য নিয়ে আসি। তখন মায়ের সঙ্গে রাজ্যের গল্প করেন। ফেরত যাওয়ার সময় শুধু একটু মন খারাপ করেন।
মার কালকে ৭০ হবে। আমার পূর্ণ মুক্তির দিন। এখন ওল্ড হোমে যেতে আর কোন বাঁধা নেই। যে কয়টা তে নাম লিখিয়ে এসেছিলাম তাঁর দুটো থেকে ফোন এসেছিল। কয়দিন আগে মাকে নিয়ে দুটো থেকেই ঘুরে এসেছি। কোনটাই মার পছন্দ হয় নি। এটা খারাপ, সেটা পচা। বিভিন্ন বাহানায় এড়াতে চাইছে। আসল ইচ্ছা কনজুগাল এ থাকা। বাবার সঙ্গে একসাথে, আফটার অল দোষ বছর ধরে আলাদা আছে। কিন্তু সেটাতো সম্ভব না, অতো টাকা আমার নেই। অনেকভাবে বোঝানো হয়েছে। বাবাও বুঝিয়েছেন। ‘থাকতে শুরু কর, পরে দেখবা আর খারাপ লাগছে না’।
সেমি কনজুগাল যে আমি ট্রাই করিনি, তা নয়। যদিও আমার কষ্ট হতো খরচ যোগাতে তারপরও আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। যতগুলো সেমি কনজুগাল ওল্ড হোম ছিল সব গুলতে নাম লিখিয়েছি। একই সঙ্গে দুইজন মারা যাওয়া তো এতো সহজে ঘটে না। আবার একজন মারা যাওয়ার পরে যে বুকিং দিবো, কিছুদিনের মধ্যে যদি আরেকটাতে আরেকজন না মরে? বুকিং এর টাকাটা নষ্ট যাবে।
বাবা মাকে নিয়ে একদিন বসেছিলাম। বাবাকে সেমি কনজুগাল এ শিফট করতে চেয়েছিলাম। পরে যদি পাশের ফিমেলটায় কেউ মারা যায় তখন বুকিং দিয়ে রাখা যাবে। বাবা রাজী হন নি। একটা ফ্রেন্ড সার্কেল তৈরি হয়ে গেছে। উনি নড়তে চাচ্ছেন না। এদিকে যে দুটো থেকে ফোন এসেছে দুটোতেই মার জন্য ২ মাস থেকে ফুল চার্জের টাকা দিচ্ছি। ওখানে না উঠলে টাকাটা নষ্ট যাবে। তাঁর চেয়েও বড় কথা, আবার কখন ফাঁকা পাবো তাঁর কোন ঠিক নাই।
এদিকে নতুন কিছু নিয়ম চালু হয়েছে। ইউথানাশিয়া বা পেইনলেস ডেথ। ৭০ এর ওপর কেউ চাইলে নিতে পারে। বিশেষ করে যাদের ছেলেমেয়েরা বাবা মাকে বাড়ী থেকে বের করে দেয় কিংবা ওল্ড হোমে রাখার ক্ষমতা রাখে না তাঁরা চাইলে আপ্লাই করতে পারেন। একটা ফর্ম এ সই করতে হয়, কনসেন্ট দেয়া, ‘আমি স্বেচ্ছায় মৃত্যু চাই’ । ইঞ্জেক্সান দেয়ার ঘণ্টা দুএক পরে মৃত্যু হয়। ফলে বাসায় ফেরত আসার সময় পাওয়া যায়। এরকম একটা সেন্টারে আমার বন্ধু কাজ করে। ওর সঙ্গে কথা বললাম আমার সমস্যা নিয়ে। ‘কি করবো বুঝে পাচ্ছি না’।
‘চিন্তা করিস না, ব্যবস্থা করে দিব। শুধু এই ফর্মে সই নিয়ে রাখবি’।
নিয়ে রেখেছি। মাকে বলেছি, ওল্ড হোমে আপ্লাই করার ফর্ম। কিন্তু ওখানে নিয়ে যেতে মন চাইছে না। কিন্তু উপায় ও নেই। মা যেভাবে নিজের জেদে আটকে আছে। কনজুগালে রাখবার মত এতো টাকা আমি কোথায় পাব? বেতন, ঘুষ সব মিলিয়ে যা পাই তাতে নিজের সংসার চালিয়ে অল্প কিছু হাতে থাকে। তাঁর ওপর আবার টানতে হচ্ছে বাবার ওল্ড হোম এর খরচ। আমাদের দুজনের ওল্ড হোমের জন্যও ইনুরেন্স নিয়েছি, তাঁর প্রিমিয়াম দিতে হয়। আমাদের ছেলে আমাদের জন্য কি করবে তাঁর ঠিক নেই, তাই নিজেই ব্যবস্থা করে রেখেছি। নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড়।
মাকে অনেক রকম করে বুঝালাম। ‘আপাতত যাও। সেমি কনজুগাল কোনটা পেলে তখন দুজনকেই শিফট করব। বাবা অবশেষে কিছুটা নিমরাজি হয়েছেন। উনার নিজের ওল্ড হোম ছাড়তে। কিন্তু মা অনড়। কিছুক্ষণ আগে শেষবারের মত বুঝালাম। রাজী না। উনি হয়ত ভাবছেন, রাজী না হলে আমার এখানেই থাকতে পারবেন। তা তো সম্ভব না। অনেকদিন তো দেখলাম, আর কত? আমার নিজেরও তো একটা জীবন আছে। চাওয়া পাওয়া আছে।
একটু আগেই বন্ধুটিকে ফোন করেছিলাম। ‘আমরা আসছি’। আর মাকে বলেছি, তোমার যে কালকে জ্বর জ্বর বলছিলা? চল, ডাক্তার দেখিয়ে আনি। মা ও তৈরি। এখনই বেরবো। ভালোয় ভালোয় সব শেষ করতে পারলে বাঁচি।

১২ thoughts on “ওল্ড হোম

  1. আপনি মশাই মানুষটা খুবই
    আপনি মশাই মানুষটা খুবই খারাপ..…।ভাল লাগল না.…আর-ও একবার সামাজের কুতসিৎ মুখে থু থু দিতে ইচ্ছা করল…

  2. আপনি মশাই মানুষটা খুবই
    আপনি মশাই মানুষটা খুবই খারাপ..…।ভাল লাগল না.…আর-ও একবার সামাজের কুতসিৎ মুখে থু থু দিতে ইচ্ছা করল…

  3. আপনি মশাই মানুষটা খুবই
    আপনি মশাই মানুষটা খুবই খারাপ..…।ভাল লাগল না.…আর-ও একবার সামাজের কুতসিৎ মুখে থু থু দিতে ইচ্ছা করল…

  4. (No subject)
    :ভাঙামন: :ভাঙামন: :ভাঙামন: :ভাঙামন: :ভাঙামন: :ভাঙামন: :ভাঙামন: :ভাঙামন: :ভাঙামন: :ভাঙামন: :ভাঙামন: :ভাঙামন: :ভাঙামন: :ভাঙামন: :ভাঙামন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *