তবুও প্রবাসে

সুইডিশ গ্রামাঞ্চলে হাজার হাজার হ্রদ, মিষ্টি জল প্রবাহ, পাইন এবং বার্চ গাছ বেষ্টিত অনন্ত অবিরাম সৌন্দর্যের সমারোহ, পাহাড় এবং ঘূর্ণায়মান পাহাড়ের সারি। উত্তরের শুরুতে গ্রামগুলি ছোট এবং অসাধারণ প্রকৃতির সৌন্দর্যে ভরাট ভূদৃশ্যটি খুব মন ভোলানো নাটকীয় এবং সবুজ পাহাড় ও পর্বতমালার সারি যে কোন প্রকৃতি প্রেমীদের মন কেড়ে নেবে। সুইডেনের বৃহত্তম দ্বীপপুঞ্জ বা সারি সারি দ্বীপগুলির উপর স্টকহোম রাজধানী এক বিশাল বিস্তৃত পরিধি নিয়ে সৌন্দর্যের সুনামে পৃথিবীতে শ্রেষ্ঠ সবুজ রাজধানী হিসাবে পরিচিতি পেয়েছে। সবুজের সমারোহে এই দেশ এই মাটি আস্তে আস্তে ভরে উঠবে, এই সবুজ দেখলে বিশ্বাস হবে না যে বছরের একটা দীর্ঘ সময় পাহাড় পর্বত নদী নালা খাল বিল সব কিছুই বরফের সাদা চাদরে ঢেকে যায় অন্ধকার জগতের অলি গলিতে বরফের পাহাড় ঠেলে আমাদের ঘরে ফেরা অথচ বসন্তের এই অপরূপ স্রোত ধারায় শহরের মাঝখান দিয়ে বয়ে যাওয়া লম্বা শান বাধানো নদীর তীরে বসে কিছুটা সময় কাটাতে কার না ভালো লাগে। এমন একটি দিন ফুরিয়ে গেলেও সন্ধ্যে বেলাতে রাত আসতে অনেক দেরী করে, সন্ধ্যে আর রাতের ব্যবধান হয়ে যায় অনেক দীর্ঘ, নদীর ধারেই মদের দোকান যেটাকে বার বললেই হয়তো কিছুটা আধুনিক মনে হবে, জানালার পাশে একটি আসন পেতে বসেই ঠাণ্ডা ফেনায় ঢাকা বেয়ারের গ্লাসে চুমুক দিতে থাকি। বাইরে আবছা আলোতে শহরের বাতিগুলোর প্রতিচ্ছবি কলকল নদীর স্রোত ধারায় এক অপরূপ দৃশ্যের সৃষ্টি করেছে, হঠাৎ আমার হৃদয় মন শরীর চেতনা সব কিছুকেই অবচেতন করে সে যেন আমারই পাশেই হাতে একটা বেয়ারের গ্লাস নিয়ে বসতে চাইলো,
‘’সুক্ষদন্তিনী আর তন্বী সে শ্যামা ক্ষীণমধ্যা, নিম্ননাভি, হরিণী নয়না গুরুনিতম্বিনী ব’লে চলে ধীর লয়ে চকিত হরিণীর দৃষ্টি তাহার নয়নে পক্কবিম্বের মতো অধর রক্তিমা যুগল স্তনের ভারে যেন নম্র-নতাপ্রথম যুবতী যেন বিশ্বস্রষ্টার সেথা আছে সে-ই তুলনা যাহার।’’

নদীর পাড়ে সুইডেন এর একটি গ্রাম

অন্তরের বেদনার চিত্র আর অনুভূতি এতটাই প্রগাঢ় যে হাজার বছর পরেও যক্ষের সেই বিরহ কাতর আর্তি আজ যন্ত্র যুগেও আমার মন ছুঁয়ে যায়, কালিদাস হয়তো মেঘদুতে কথাগুলো আমার জন্যেই লিখে রেখে গেছেন। আমি লজ্জায় কি সংকোচ প্রকাশ না করে সামনের চেয়ারে বসতে আমন্ত্রণ জানালাম, কি যেন মদ আর তার গায়ের একটা মিশ্র গন্ধ আমাকে মাতল করে দিচ্ছে। নদীর দৃশ্য আর সামনে বসা রমণী মাঝে কি এক অসাধারণ মিল যেন একটি কবিতার দুইটি পংতি।
কিছুদিন আগেই তো ঢাকা থকে ঘুরে এলাম কিন্তু বুড়িগঙ্গার পারে বহুবার ঘুরেও শুধু মনে হয়েছে, রবিঠাকুর যদি আজ বুড়িগঙ্গার পারে বসতেন তবে সোনার তরী রচনা না করে সোনার কড়ি রচনা করতেন।
বুড়িগঙ্গা ও ঢাকার আশেপাশে নদীকূলে আজকাল কবিদের ভিড় না জমলেও চাঁদাবাজদের ছোটোখাটো ব্যবসা ঠিকই জমেছিল, নদীর পাড়ে বালিকাদের সমাগম না ঘটলেও সমাগম ঘটেছিল ক্ষুদার্থ ও অভাবী দেহ ব্যবসায়ীদের। নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে আকাশের রূপালী চাঁদের দৃশ্য গাঁজার ধোয়াতে আবছা হয়ে যাচ্ছিলো, দলীয় ধান্দাবাজরা দলের নামে সেখানে খুলে বসেছিল চিত্তবিনোদন কেন্দ্র। নদী তীরের জায়গা দখল করে দলীয় দখলবাজদের ব্যবসার আসরে এমন একজন রমণী বেয়ারের গ্লাস হাতে নিয়ে আমার পাশে এসে বসলেও চিত্তে এরকম দোলা লাগতো কি? প্রবাসী না হলে পরিবেশ আর পারিপার্শ্বিকতা যে মানুষের মনের উপর কতটা প্রভাব বিস্তার করে সেটা বুঝতে পারতাম না।
– হাই, আমার সময় কাটছিল না তাই কাজের পর একটু অবসাদ গ্রহণের জন্যে বারে ঢুকে গেলাম, তা তুমিও কি তাই?
মেয়েটার প্রশ্নে একটু মুচকি হেসে বললাম -যাক ভালই হয়েছে আমিও অনেকটা ঐ রকম, অবসাদ গ্রহণের জন্যে শহরের উপর দিয়ে কলকল করে বয়ে যাওয়া রমণীকে দেখছি মাত্র, তাই এই জানালার ধার ঘেঁষে বসে আছি।
মেয়েটি উত্তর দিল,
– বাহ, তুমি তো দেখছি দারুণ রোমান্টিক, তুমি নিশ্চয়ই ইন্ডিয়া থেকে এসেছ, শুনেছি তোমাদের দেশের ছেলেরা খুব রোমান্টিক হয় তাই হয়তো তুমিও একটি নদীকে রমণীর রূপে দেখতে পাও।
আমি মেয়েটির ভুল ধরিয়ে দিয়ে বললাম-তোমার একটু ভুল হয়ে গেছে, আমি আসলে বাংলাদেশ থেকে এসেছি আর আমাদের দেশের কবিদের মনে নদী সব সময়েই একটি বিশেষ ভূমিকা রাখে, আমাদের শহরে মাঝখান দিয়েও এরকম একটা নদী আছে, লজ্জার মাথা খেয়ে বললাম, নদীটির নাম বুড়িগঙ্গা।
আমরা দুজনে কথার পর কথা মালা গেঁথেই চলেছি, সন্ধ্যে পেরিয়ে রাতর গভীরতা বাড়তে থাকে আর এদিকে বিয়ারের খালি গ্লাস টেবিলের উপর জমতে থাকে। মেয়েটি কি ভেবে যেন বলে উঠলো,
-চলো, আমরা না হয় তোমার ঐ অপরূপ রমণীর তীরে শান বাধানো ঘাটে গিয়ে খানিক বসি আর কলকল শব্দের গান শুনি, চলো আজ না হয় তোমার সেই রমণীকে দুজনে এক সাথেই অবলোকন করি।
চতুর্থ বারের বিয়ারের গ্লাসে শেষ চুমুক দিয়ে দুজনেই বার থকে বেড়িয়ে নদীর ধরে শান বাঁধানো ঘটে গিয়ে খুব কাছাকাছি গায়ে গা ঘেঁষে বসে পরি, রাত বাড়তে থাকে।
মনের কোনে একটা গান উঁকি মারছে বার বার, গুনগুন করে গাইতে থাকি, – আজ মনে চেয়েছে আমি হারিয়ে যাবো।। হারিয়ে যাবো আমি তোমার পাশে।। কিছু গল্পে শোনা কিছু স্বপ্নে দেখা।। ….

নদীর ধারে গল্পটা বেশ জমে যাচ্ছে সেই সাথে আকাশের দিগন্ত জুড়ে দু একটা তারাও উঁকি ঝুঁকি দিচ্ছে, রাস্তার ধারের বাতিগুলোর প্রতিবিম্ব নদীর স্বচ্ছ জলের ধারার উপর এক অসাধারণ ঢেউয়ের তালে তালেতালে নেচে বেড়াচ্ছে আর সে দিকে চোখ পড়তেই মনে হচ্ছে পৃথিবীটা একটু দুলছে নাকি আমি ঢুলছি কিছুই বুঝতে পারছি না, ব্যস্ত পৃথিবীটা আরও একটু অন্ধকার নিমজ্জিত হলে ক্ষতি কি আমি না হয় আজ তার কাঁধেই ঢুলে পরে সারাটা রাত তার গায়ের গন্ধে বিভোর হবো, কিন্তু তার নামটা তো এখনো জানা হল না। মানুষের জীবনে হয়তো এমন কিছু মুহূর্ত আসে যখন মানুষ পাপ আর পুণ্যের দূরত্বে একাকার হয়ে যায়, কোনটা পাপ আর কোনটা পুণ্য সেটা খুঁজতে গেলে মনে হয় তার শরীরের গন্ধটাই যেন স্বর্গের বাগান থেকে ছুটে আসা ফুলের সুবাসে, এ সুবাসে নেশা হয়, শরীর শরীরকে কাছে টানে, স্বর্গ সুখের আবেশে মন প্রাণ একাকার হয়ে যায়, এ হাত ছুঁয়ে যায় একটি নারীর মুখ, শরীর নিতম্ব এ এক অপূর্ব অনুভূতি, তার চোখে মুখে ভুরুতে হাসিতে কপালে নাকে শুধুই যে নেশা। এ নেশাতে মাতাল হয়ে যাওয়া ছাড়া উপায় কি? যদি নির্বাসন দাও, আমি ওষ্ঠে অঙ্গুরি ছোঁয়াবো আমি বিষ পান করে মরে যাবো।।
– আমার নাম অনন্ত, তা তোমার নামটা তো এখনো জানা হল না ? মেয়েটা একটু কৌতূহলী দৃষ্টিতে আমার দিকে একটু মুচকি হেসে উত্তর দিল,
– ধরে নাও আমার নাম নদী, আমাকে যদি তোমার নদীর মতো মনে হয় তবে সেই নামেই ডাকতে পারো। যদি নদীকে তোমার এতটাই ভালো লেগে থাকে তবে আমাকে নদী নাম দিতে তো আপত্তি থাকার কথা না।
কখন যে নেশার ঘোরে তার কাঁধের কাছে মাথা রেখে গায়ের গন্ধ শুকে যাচ্ছি মনে নেই, কবি নির্মেলেন্দু গুনের কবিতাটা যেন তারই মুখের ভাষা,
আমি বিষ খাচ্ছি অনন্ত, আমি বিষ খাচ্ছি ।
তুই একটু অপেক্ষা কর ।
বাইরে এমন চাঁদ, এমন জ্যোৎস্না,
তোর বুঝি ভালো লাগছে না,
কি যে ভালো লাগছে আমার !
অনন্ত, তুই তার কিছুই জানলি নে,
কিচ্ছু জানলি নে । বড় সুখ, বড় ব্যথা।
ও হ্যাঁ তাইতো আমার অবশ্য তাকে নদী ডাকতে কোনই অসুবিধা নেই, তবে এ নদীতে ডুব সাঁতারে যে আমি অভ্যস্ত নই, একবার ডুবে গেলে আর যে উঠে আসা সম্ভব না জেনেও আমি ডুবে যেতে চাই, আমাকে দুহাত ধরে তুলে নেবার কেউ থাকবে কি।
ইউরোপের ভালোবাসার হওয়া বাতাসে কি শুধুই গায়ের গন্ধ, সেটাই তো স্বাভাবিক ভালোবাসা মানেই তো একে অপরের মাঝে মিশে যাওয়া, সুখের নদীতে ভেসে বেড়ানোই তো এখন আমার একমাত্র কাজ।
– তাই না হয় হোক, নদী হয়েই যদি আমাকে ভাসিয়ে নিতে চাও তবে আমি না হয় কাগজের ভেলা হয়ে অনন্তকাল ভেসে বেড়াবো।
এবার মেয়েটি একটু জোরেই হেসে উঠে বললো,
– এই যে আমি ঠিক ধরেছি, তোমরা আসলেই খুব রোমান্টিক, তা রাত তো একটু পরেই শেষ হয়ে যাবে, যদি কিছু মনে না করো, আমার বাসা কাছেই তুমি না হয় আজ আমার বাসাতেই চলো কিছু খেয়ে নেই। তোমার ওখানে না হয় অন্য একদিন যাওয়া যাবে।
এভাবেই আমাদের পাশাপাশি হেটে চলাটা শুরু হয়।
আমি বাঙালি তাই ঐ এক জ্বালা, সাংস্কৃতিক দ্বন্দ্বে প্রাচ্যের চাকচিক্যে ভালো লাগা আর ভালবাসায় যে কতটা কষ্ট, দুঃখ, বেদনা আর হাহাকারে পরিপূর্ণ একটি জীবন, তা বোঝাতে গেলে কষ্টের ভার শুধুই বাড়বে এ ভার বইতে পারার ক্ষমতা মানুষের পক্ষে সম্ভব কিনা ভেবে পাইনি। এক সাথে হেটে যাওয়া, রাত পার করে ভোরের আলোতে সূর্য দেখা হয়তো বা হয় কিন্তু মেয়েটি কি কোনদিন জানবে যে আমার আর তার সূর্য দেখার অনুভূতিতে দূরত্ব কত? হঠাত একটা গান মনের মাঝে খুবই রোমান্টিক ভাবেই বেজে ওঠে ‘’ আমি ভোরের স্বপ্নে দেখেছি তোমারে, বঁধুয়ার বেশে এসেছ।। রঙিন শাড়ির আঁচল ভরিয়া কত ফুল তুলে এনেছ … ’’
এখানেও রাত হয়, আকাশে চাঁদ ওঠে নদীর কলকল শব্দটাও ছন্দের সুরে মনে দোলা জাগায়, কিন্তু হায় রাতের আধারে বরফ ঢাকা ঘরের আঙ্গিনায় কোনদিন হাস্নেহেনা গন্ধ ছড়ায় না, গ্রামের মেঠো পথে হাঁক দিয়ে কেউ খাজুরের রস বিক্রি করে না, ঘুম থেকে উঠতেই ক্যাসেটে গান শুনছিলাম, “সেদিন তোমায় দেখেছিলাম ভোরবেলায়. তুমি ভোরের বেলা হয়ে দাঁড়িয়েছিলে কৃষ্ণচূড়ার ওই ফুল ভরা গাছটার নিচে আমি কৃষ্ণচূড়ার সেই স্বপ্নকে আহা, দুচোখ ভরে দেখে নিলাম’’

জানি এখানে মনের ভেতর কৃষ্ণচূড়ার লাল রং ফিকে হয়ে আসে, আর এ ভাবেই হয়তো জীবনের একটা ধাপ পেরিয়ে অন্য একটা ধাপের শুরু হতে পারে, রাত পেরিয়ে ভোর হবে সেও জানি কিন্তু তারপর ? দুটি মন দুটি সাংস্কৃতিক ধারায় একত্রে থাকতে গেলেই তো সাংস্কৃতিক, কৃষ্টি, আচার কানুন আর মানসিকতায় যে দূরত্বের দ্বন্দ্ব তা থেকে রেহাই পাবার পথ যে খুঁজে পাওয়া যাবে না এও জানি, যতটা সহজে ভালবাসা গড়ে ওঠে ঠিক ততটা সহজেই এই ভালবাসা নিমিষেই উবে যায়। এভাবেই যদি জীবনের সকল সুখ আর আনন্দকে অর্জন করা সম্ভব হতো তবে মানুষের মাঝে সাংস্কৃতিক দ্বন্দ্ব বলে কিছুই থাকতো না।

যৌবনের সকল আনন্দকে অর্জন করার স্বপ্নটা কখন যে ঝড়ো হওয়ার দমকা বাতাসে তছনছ হয়ে যায় বুঝে ওঠার আগেই ভালবাসা ভালো লাগা বিষয়টি এক নিমিষেই এক যন্ত্রণার সাগরে জীবনকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। প্রতি মুহূর্তে সেই আমি আমাকে খুঁজে পেতে যতো বারই চেষ্টা করিনা কেন, আমার শৈশব আমার সংস্কৃতি আমাকে প্রতিনিয়ত তারা করে বেড়ায়। আর এখানেই প্রাচ্যের সংস্কৃতির সাথে একজন প্রবাসী বাঙালির দ্বন্দ্বের শুরু যা অতিশয় মর্মান্তিক আর কষ্টের, কেউ কেউ হয়তো এই বেদনা আর কষ্টকে সাথী করেই জীবনে বাচার চেষ্টা করে কিন্তু এ বাঁচাতে যে আনন্দ কোথায় তা বুঝে উঠতে পারিনি। আমরা হয়তো প্রেমের পর সামাজিক নিয়মকে রক্ষা করে বিয়ের স্বপ্ন দেখি, এক সাথে একটা সুখের সংসার গড়ি, সামাজিক স্বীকৃতির সাথে ধর্মীয় রীতিটাও মেনে নেই, সংসার জীবন শুরুর আগেই বাবা মায়ের অনুমতি, দেন মোহর, কাজী কাবিন নামা আরও কত কি আচার কানুন আর এসব কিছু মেনেই তো আমাদের সমাজে শত ভাগ বাঙালি ছেলে মেয়েদের সংসার জীবন শুরু। অথচ প্রাচ্যের চিন্তা ভাবনা প্রেম ভালবাসা রীতিনীতিতে দুজন মানুষের ভালোলাগা আর ভালোবাসাটি মুখ্য, এখানে ভালোবাসা হয় স্বচ্ছ, নিঃস্বার্থ আর নির্ভেজাল, ঐ সব রীতিনীতি, আচার কানুনের কোনই দ্বায়বদ্ধতা থাকেনা আর এসব বুঝে ওঠার আগেই আমরা ভালো লাগা বা ভালবাসার মহা সমুদ্রে ঝাঁপিয়ে পরি, কখন যে এই সাগরের অতলে তলিয়ে যাই বুঝে উঠতে পারি না।
খুব সকালে আমার ঘুম ভাঙ্গলেও বিছানার অনেকটা জায়গা জুড়ে ঘুমানোর অভ্যাস তাই সেই রাতে আমার জায়গা হলো বসার ঘরে পাতা বিছানায়, খুব শান্তিতে অচেনা একটা বাসায় সম্পূর্ণ নতুন পরিবেশে একটা লম্বা ঘুম দিলাম, মেয়েটা হয়তো এখনো নাক ডেকেই ঘুমাচ্ছে, রাতের শুরুতেই মাথাটা ঝিম ঝিম করছিল তবে এখন বেশ লাগছে, হঠাত ইচ্ছে হলো পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা গানটি গেয়ে উঠি-
’’আমি তোমার কাছেই ফিরে আসবো, তোমায় আবার ভালবাসবো, তুমি কি ডাকবে মোরে চেনা সে নামটি ধরে? জীবনের এই পথ আঁকাবাঁকা হয় হোক, হোক না সে বন্ধুর।। ঠিকানা লিখে যাক্ ওই দুটি কালো চোখ, এই প্রিয় বন্ধুর
চেনা সে নামটি ধরে তুমি কি ডাকবে মোরে?
তুমি দিলে সে-কথা পাখী নিয়ে গায়,আকাশের নীল স্বপ্নে আলো হ’য়ে যায় ; পৃথিবীর যত সুখ যত কিছু ভালো তার সব নিয়ে চলে যাই; দু’জনার দুটি মন চিরতরে একাকার
এই শুধু বলে যাই!
চেনা সে- নামটি ধরে তুমি কি ডাকবে মোরে??’’
–মাহবুব আরিফ কিন্তু।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *