গতকালের মানববন্ধন; ১১ বছরের হিন্দু কিশোরীর অপহরন, ধর্মান্তর ও ৫৫দিন ধরে ধর্ষণ এবং এসব অপরাধের দর্শন !

গতকালের মানববন্ধন; ১১ বছরের হিন্দু কিশোরীর অপহরন, ধর্মান্তর ও ৫৫দিন ধরে ধর্ষণ এবং এসব অপরাধের দর্শন!

১১ বছরের হিন্দু কিশোরী মেয়েকে অপহরন, ধর্মান্তর ও পঞ্চান্ন দিন ধরে ধর্ষণ এর ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল ৭ জুন ২০১৩ শুক্রবার বৃষ্টি স্নাত বিকেল ৪.০০ টায় বাংলাদেশ জাতীয় যাদুঘরের সম্মূখে অনলাইন ভিক্তিক কিছু সংগঠনের উদ্যোগে একটি মানব বন্ধন কর্মসূচী পালিত হয়। রৈবী আবহওয়া থাকা সত্বেও ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে নানা বয়েসী বহু লোক এ মানব বন্ধনে যোগ দিয়েছেন। মানব-বন্ধনে উপস্থিতদের সবাই ক্ষুব্ধ তা উপস্থিত নেত্রী স্থানীয় ব্যক্তিবর্গের বক্তৃতা থেকে বুঝা যায়।


গতকালের মানববন্ধন; ১১ বছরের হিন্দু কিশোরীর অপহরন, ধর্মান্তর ও ৫৫দিন ধরে ধর্ষণ এবং এসব অপরাধের দর্শন!

১১ বছরের হিন্দু কিশোরী মেয়েকে অপহরন, ধর্মান্তর ও পঞ্চান্ন দিন ধরে ধর্ষণ এর ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল ৭ জুন ২০১৩ শুক্রবার বৃষ্টি স্নাত বিকেল ৪.০০ টায় বাংলাদেশ জাতীয় যাদুঘরের সম্মূখে অনলাইন ভিক্তিক কিছু সংগঠনের উদ্যোগে একটি মানব বন্ধন কর্মসূচী পালিত হয়। রৈবী আবহওয়া থাকা সত্বেও ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে নানা বয়েসী বহু লোক এ মানব বন্ধনে যোগ দিয়েছেন। মানব-বন্ধনে উপস্থিতদের সবাই ক্ষুব্ধ তা উপস্থিত নেত্রী স্থানীয় ব্যক্তিবর্গের বক্তৃতা থেকে বুঝা যায়।

ধর্ষণ! পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় এটি একটি অতি পুরাতন সামাজিক ব্যাধি। যদ্দুর জানা যায, ধর্ষনের ঘটনা পৃথিবীর প্রায় সব দেশে কম বেশী ঘটে থাকে। তবে ইসলামী বিশ্বের চোখের বালি ইসরাইলে এর হার সুপ্রাচীন কাল হতে এ ধরনের অপরাধ আজ অবধি অতি নগন্য। যদ্দূর জানি বর্তমান বিশ্বে এর পরের অবস্থানটা সম্ভবতঃ হিমালয় দূহিতা ভূটানের। ভূটানের ইতিহাসে ১৯৯২ সালের পূর্বে ধর্ষনের ঘটনা ছিলোনা বলে ভুটানে এ অপরাধের এর বিরুদ্ধে কোন শাস্তির ব্যবস্থা ছিলো না। ১৯৯২ সালে একটি মেয়েকে জোর পূর্বক ধর্ষণের ঘটনায় সারা ভূটান জুড়ে তোলপাড় শুরু হয় এবং আসামী গ্রেফতার করার পর এ অপরাধীকে কি শাস্তি দেয়া হবে এ নিয়ে ভুটানের আদালত হিমশিম খেতে হয়েছিলো। ভুটানের আদালতের কাঠগড়ায় দণ্ডায়মান আসামীকে মাননীয় আদালতের বিজ্ঞ বিচারপতি জিজ্ঞাসা করেছিলেন এ বলে যে, একটি মেয়ের উপর বলপূর্বক উপগত হবার ধারণা বা চিন্তা তার মাথায় এলো কী করে? প্রতি উত্তরে আসামী জানিয়েছিলো যে ভারত ভ্রমনে এসে হিন্দি সিনেমা দেখে সে এ ধরনের ন্যাকারজনক ঘটনায় উদ্দীপ্ত হয় এবং ফলে দূর্ঘটনাটা ঘটিয়ে ফেলে। সুতরাং ধর্ষনের মত বর্বর ঘটনা সম্পূর্ণ মনস্তাত্বিক বৈকল্য থেকে সংগঠিত হয় একথা একবাক্য প্রায় সকল মনস্তাত্বিকবিদ স্বীকার করবেন।

ভারতবর্ষের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, প্রচীন ভারতে ধর্ষনের কথা কেহ স্বপ্নেও চিন্তা করতো না। এ কারণে আমরা পুরাতন গল্পে রাজা মহারাজাদের কাহিনীতে তাদের নারী পূরুষ নির্বিশেষে অপরাধীদের দণ্ড হিসাবে বনবাসে প্রেরনের ঘটনা দেখতে পাই, এবং বনবাসের নিদ্দিষ্ঠ মেয়াদ শেষে সুস্থ শরীলে এ সব নারীদের পুনরায় গৃহে প্রত্যাবর্তন করার ঘটনা লক্ষ্য করা যায়। যদি সেই সময়কার পূরুষদের মেয়েদের ব্যাপারে আজকের মত পূরুষ ধ্যান ধারণা থাকতো তাহলে যে নারীকে শাস্তি স্বরূপ বনবাসে পাঠানো হতো, সে সম্ভবতঃ বনবাসের প্রথম দিনেই একটানা ধর্ষনের শিকার হয়ে পরলোকে পাড়ি জমাতো এতে সন্দেহ থাকার অবকাশ ছিলো না।

সে যাইহোক, অত্যন্ত অপ্রিয় হলেও সত্যিকথা নারীর প্রতি ধর্ষণের মতো সহিংসতা এ ভারত বর্ষে মহামারী আকারে এসেছে সেই ৭১২ সালের পর যখন বিদেশী একটি সংস্কৃতি এ দেশে এসে বিস্তার লাভ করতে থাকে তখন থেকে। এ সংস্কৃতির মূল বিষয় হলো আক্রমন এবং করতলগত করা, আর সেটি By Shord or By Rape যেভাবেই হোক। সে মনস্তাত্বিক ধারণা বহাল থাকার কারণেই ১৯৭১ সালে জারজ পাকিস্তানি ও তাদের এদেশীয় জারজরা সেই অতিপূরাতন ফতোয়া “হিন্দু মেয়েরা গনিমতের মাল” দিয়ে এদেশের লক্ষ লক্ষ হিন্দু মা বোনের ইজ্জন লুন্ঠন করেছে এবং বলপূর্বক ধর্মান্তর করছে। ধর্মান্ধ এ সব মানুষে চিন্তায় হিন্দু মেয়েকে ধর্ষণ না জায়েজ নয়, বরং জোর পূর্বক ধর্মান্তর করা মহাপূণ্যের কাজ। এ ধারণা আজকের রাস্তায় রিক্সাওয়ালা হতে মাননীয় আদালতে বিজ্ঞ বিচারপতিরা অলিখিত ভাবেই মেনে চলেন বলেই খোঁজ নিলে জানতে পারবেন ক্রস মেরেজ সংক্রান্ত ঘটনা গুলি আদালতে বিচারাধীন হলে রায় কখনোই হিন্দু ভিকটিমের পক্ষে যায় না, যদিও মেয়েটি অপ্রাপ্ত বয়স্ক থাকে। অন্যদিকে হিন্দু ছেলে জন্য, মাননীয় আদালতের বিজ্ঞবিচারক যতন না নিশ্চিত হচ্ছেন, ছেলেটি ইসলাম কবুল করেছেন কি না, ততক্ষন অবধি ছেলেটির জামিন দেবার বিষয়টি প্রশ্নই আসে না।

পত্রিকায় প্রকাশিত খবর, আর গতকালের মানববন্ধন কর্মসূচীতে জানতে ও বুঝতে পারলাম যে ১১ বছরের কিশোরী মেয়েটিকে প্রথমে অপহরন, পরে ইসলাম কবুল এবং শেষে মৌলভী ডেকে নিকাহ এবং নিকাহ পরবর্তী টানা পঞ্চান্ন দিন অবধি আটকে রেখে ধর্ষণ এটি কোন বিছিন্ন ঘটনা নয়। এটি ১৯৯২ সালে ভূটানে সংগঠিত সিনেমা দেখে উদ্দীপ্ত হয়ে ধর্ষণ নয়, এটি সেই ৭১২ সাল হতে হিন্দুদের বিরুদ্ধে সংগঠিত ধারাবাহিক ঘটনা গুলির একটি মাত্র। যেখানে কাজ করেছে একটি বিশেষ ধর্মগোষ্ঠির চরম ধর্মান্ধতা, যেখানে কাজ করছে একটি হিন্দু পরিবারের একটি সংখ্যাকে কমিয়ে দেয়া অর্থাৎ ধর্মের ভিত্তিতে একটি জাতি গোষ্টির একজন সদস্য নিমূল করার জন্য সূচিন্তিত ও সংগঠিত অপরাধ, যা জেনোসাইড বা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ বলে বিবেচিত হতে পারে।

বাংলাদেশের ফৌজদারী দন্ডবিধিতে ঠিক এ সমূর্হে ধর্ষনের দায়ে অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তি হলো মৃত্যু দণ্ড। অন্য দিকে বিদ্যামান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুাল আইনে বলপূর্বক ধর্মান্তর শাস্তি ২০(২) ধারা মোতাবেক মৃত্যুদন্ড (যদিও সাঈদীর বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ সন্দেহাতীত ভাবে প্রমানিত হবার পরও শাস্তি ঘোষিত হয়নি)।
সুতরাং গাজীপুরের ১১ বছরের কিশোরীকে অপহরন, ধর্মান্তর, নিকাহ, ধর্ষণ এগুলো সমস্তই ফৌজদারী অপরাধ হিসাবে বিবেচ্য এবং যদি আমাদের দেশের বিদ্যমান আইন এক্ষেত্রে যথাযথ প্রয়োগ করা হয়, তাহলে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কয়েকবার মৃত্যু দণ্ডের রায় ঘোষিত হবে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের সাথে জানাচ্ছি, আইন থাকলেও এক্ষেত্রে প্রয়োগ হবে না, কেননা, পুলিশ বিভাগ, আইন ও বিচার বিভাগের মানুষ গুলি এটিকে ফৌজদারী দণ্ড বিধিতে বিচার না করে, দেখবেন তাদের ধর্মীয় দৃষ্টি কোনে এটি কিভাবে দেখা হয়েছে। অলিখিত ভাবেই এরা মনে করবেন, একটি বিধর্মীকে শান্তির ধর্মের পতাকা তলে আনা নিশ্চয় অপরাধ হতে পারে না, বরং এটি মৃত্যুর পর বেহেস্ত যাবার সিঁড়ি হিসাবে ধরা হবে। এজন্যে ভিকমিট ও ভিকটিমের পরিবারকে শুধুমাত্র অপরাধীদের সহায়করা নয়, বরং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পুলিশ প্রশাসন, ও সরকারের সর্বোচ্চ স্তর থেকে পর্দার পেছন অবস্থান করে চাপ দেয়া হতে পারে। পত্রিকসূত্রে পাওয়া তথ্যে দেখা যায, ইতোমধ্যে গাজীপুরের পুলিশ এটি ভালবাসা ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন। বলা বাহুল্য প্রেমঘটিত হলেও মেয়েটির বয়েস ১১ এটি গাজীপুরের পুলিশ ভুলে গেছেন।

সুতরাং, এ লেখাটি যারা পড়বেন, তাদের কাছে আমার মিনতি, আপনার ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে ঘটনাকে মানবতার বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধ হিসাবে বিবেচনা করুন এবং আপনাদের যার যা সাধ্যমত ভিকটিমের পরিবাবরের সকলের পাশে দাঁড়িয়ে জোরদার আন্দোলন গড়ে তুলন।

৯ thoughts on “গতকালের মানববন্ধন; ১১ বছরের হিন্দু কিশোরীর অপহরন, ধর্মান্তর ও ৫৫দিন ধরে ধর্ষণ এবং এসব অপরাধের দর্শন !

  1. খুবই চমৎকার লিখা!! আপনার সাথে
    খুবই চমৎকার লিখা!! আপনার সাথে একমত, ধন্যবাদ… :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:
    শুধু একটা যায়গায় একটু দ্বিমত আছে বলছিঃ
    “প্রতি উত্তরে আসামী জানিয়েছিলো যে ভারত ভ্রমনে এসে হিন্দি সিনেমা দেখে সে এ ধরনের ন্যাকারজনক ঘটনায় উদ্দীপ্ত হয় এবং ফলে দূর্ঘটনাটা ঘটিয়ে ফেলে।”–
    এইটা তার ওজুহাত ছাড়া আর কিছুই নয়!! একটা উদাহরন দেইঃ
    “অনেক বড় শিল্পপতি আর গার্মেন্টস ব্যবসায়ীরা নিজেদের অফিসে গিয়ে জেমস-এর সিলাই দিদিমনিদের রেপ করছে!! অথচ তার বাসায় তার মেয়ে তার আত্মীয় স্বজন অনেক আধুনিক (তথাকথিত !!) পোশাক পরছে তাদের কিন্তু সে আক্রান্ত করছে না (হয়ত করেছে…); কিন্তু যদি নিজের মেয়ের স্বল্প পোশাক তাকে বিব্রত করতে না পারে তবে কেন অন্য মেয়ের আঁটসাঁট বা স্বল্প পোশাক তাকে বিব্রত করবে?”
    — একমাত্র উত্তর এইটা তার স্যাডিস্ট এটিটিউডের অংশ ও মানসিক অসুস্থতা।।

  2. আপনার ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে

    আপনার ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে ঘটনাকে মানবতার বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধ হিসাবে বিবেচনা করুন এবং আপনাদের যার যা সাধ্যমত ভিকটিমের পরিবাবরের সকলের পাশে দাঁড়িয়ে জোরদার আন্দোলন গড়ে তুলন।

    সহমত।

  3. একটা জিনিস উপলব্ধি করতে পারছি
    একটা জিনিস উপলব্ধি করতে পারছি আর সেটা হলো মানববন্ধন আজকাল এতো এতো বেশী হচ্ছে যে সেটার মূল্য নাই হয়ে গেছে। ধর্ষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষাটা একটু বদলাতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *