ধর্ষকরা কি অপ্রতিরোধ্য? নরপশুদের রুখে দিন

ধর্ষণ। বর্বর এ শব্দটি বর্তমান সমাজে দিন দিন ব্যাধির মতো ছড়াচ্ছে। ধর্ষণের সঙ্গে জড়িতরা যেন অপ্রতিরোধ্য। তাদের থামানোর কেউ নেই। শিশু থেকে বৃদ্ধা কেউই পার পাচ্ছে না মানুষরূপী হায়েনাদের হাত থেকে। পত্রিকার পাতা খুললে প্রতিদিনই চোখে পড়ে এক একটি লোমহর্ষক ঘটনা। গত বছরের ১ এপ্রিল রাজধানীর কাফরুল থানাধীন ইব্রাহিমপুরে ২ বছর ৪ মাস বয়সী এক শিশু ধর্ষণের শিকার হয়। ১ আগস্ট লৌহজংয়ে ধর্ষণের শিকার হয় এক বাক প্রতিবন্ধী। ওই দিনই ধর্ষিতার পরিবারকে হুমকি-ধমকি দিয়ে থানায় বসেই ঘটনার রফা করেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। ২৭ সেপ্টেম্বর রামগড়ে পৈশাচিকভাবে গাছের সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় ধর্ষণ করা হয় ১২ বছরের এক শিশুকে।

২১ জুন মিরসরাইয়ে ৬ বছরের শিশু ধর্ষণের শিকার হয়। ২ জুন রাজধানীর হাতিরপুলে নাহার প্লাজার ১৩ তলায় ১৭ বছর বয়সী এক তরুণীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। তার ২৬ টুকরো লাশ উদ্ধার করা হয়েছিল। যা ছিল ২০১২ সালের নারী নির্যাতনের মধ্যে আলোচিত ঘটনাগুলোর অন্যতম। আর কয়েকদিন আগে পুর্নিমা নামের মেয়েটি নির্মম শিকার নরপশুদের।
ঘৃণ্য এ বর্বরতার সঙ্গে জড়িত নরপশুদের শাস্তি নিশ্চিত করতে আছে আইন। তবে সেই আইনের ফাকফোকরে বরাবরি তারা থাকে ধরাছোয়ার বাইরে।

রাজধানীসহ সারাদেশেই ধর্ষণের শিকার নারীরা বিচারের আশায় থানা থেকে আদালত পর্যন্ত পদে পদে হয়রানির শিকার হন। অনেকে এটাকে ধর্ষণের সঙ্গে তুলনা করেন। বছরের পর বছর তারা ঘুরে বেড়ান বিচারের আশায়। কিন্তু ধর্ষকের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর যেন কেউ নেই। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আসামিপক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় তারা থানা পুলিশের ওপর প্রভাব বিস্তার করে। থানা পুলিশও মামলা নথিভুক্ত করতে টালবাহানা করে সময়ক্ষেপণ করে। এ কারণে একসময় ধর্ষণের অধিকাংশ আলামত নষ্ট হয়ে যায়। পরে মেডিকেল টেস্ট এবং আদালতে ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। সেই সুযোগে আসামিপক্ষ নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করে ঘটনা থেকে পার পেয়ে যায়।

আক্রান্ত মেয়েটি যদি সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ও চিকিৎসকের কাছে না যায়, তাহলে অপরাধীর বিরুদ্ধে অকাট্য প্রমাণ সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়ে। ধর্ষণের ক্ষেত্রে আক্রান্ত ও অভিযুক্ত ব্যক্তির ‘সিমেন স্যাম্পল’ যদি ম্যাচ করে, তাহলে অভিযুক্তকে অপরাধী হিসেবে প্রমাণ করা যায়। ঘটনার পর তড়িঘড়ি করে অনেকে আক্রান্তকে গোসল করিয়ে দেয় এবং পরিধেয় বস্ত্র ধুয়ে ফেলে। এতেও আলামত নষ্ট হয়ে যায়। তা ছাড়া ধর্ষিতা ও ধর্ষণকারী উভয়েরই বিভিন্ন অঙ্গে আঁচড়, দাগ, ক্ষতচিহ্ন অপরাধ প্রমাণ করতে পারে। কিন্তু ঘটনার ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলে এক্সটার্নাল ও ইন্টার্নাল ইনজুরি থেকে অপরাধ প্রমাণের সম্ভাবনা কমে যায়।

ঘটনার শিকার কয়েকজন ভিকটিমের সঙ্গে আমার কথা বলার সুযোগ হয়েছিল। যাদের প্রায় সবার অভিযোগ ছিল তারা থানায় গিয়ে তেমন কোনো সহযোগিতা পাননি। উল্টো থানা পুলিশ নানা রকম হয়রানির শিকার হয়েছেন।

গত বছরের ১৯ জানুয়ারি সিলেটের জকিগঞ্জে জামান নামের স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা এক নারীকে ধর্ষণ করেন। ওই নারীও থানায় মামলা করতে গিয়ে পুলিশি হয়রানির শিকার হন বলে অভিযোগ ওঠে। ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথমদিকে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে গণধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রীর বাবা মামলা করতে যাওয়ার পথে ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত সন্ত্রাসীদের পিটুনিতে নিহত হন। নির্মম ওই ঘটনার এক সপ্তাহ আগে সরাইলে এক যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে এক তরুণীকে পাশবিক নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। স্থানীয় থানা পুলিশ ওই যুবলীগ নেতার পক্ষ নিয়ে নির্যাতিতের পরিবারকে হয়রানি করা হয়।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পুলিশ ধর্ষিতাকে দ্রুত মেডিকেল টেস্ট না করিয়ে সময়ক্ষেপণ করে। এতে ধর্ষণের আলামত নষ্ট হয়ে যায় এবং ধর্ষণ প্রমাণ দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। ধর্ষিতার মেডিকেল টেস্টের রিপোর্টে চিকিৎসকের মন্তব্যের একটা ঘর থাকে। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়, চিকিৎসকরা বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য করেন না। এতেও মামলা দুর্বল হয়ে যায় এবং সুবিচার পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসে। ধর্ষণসহ নারীর প্রতি সহিংসতার পর পুলিশের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ অব্যাহত থাকলেও তা বন্ধে সংশ্লিষ্টরা প্রয়োজনীয় কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেন না।

গত বছরের ২৬ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ইমান আলী ও বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চের এক রায়ে বলা হয়েছিল, ‘যৌন হয়রানি প্রতিরোধে দেশের প্রতিটি থানায় আলাদা সেল গঠন করতে হবে। এক মাস পরপর যৌন হয়রানির মামলার বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিল করবে থানা সেল।’ কিন্তু গত এক বছরেও আদালতের এ নির্দেশনা বাস্তবায়িত হয়নি।

আলামত সংগ্রহসহ ধর্ষণ প্রমাণে পদ্ধতিগত জটিলতার কারণে অনেকেই ধর্ষণঅপরাধের বিচার চাইতে যান না। ধর্ষণের ঘটনায় অপরাধ প্রমাণ করা ও অপরাধী চিহ্নিত করার সব রকম আলামত ধর্ষিতার শরীরে থাকেই। কিন্তু সামাজিক কারণ, লজ্জা-ভয়, অনেক ক্ষেত্রে ঘটনার আকস্মিকতা ও সচেতনতার অভাবে অনেকেই দ্রুত অভিযোগ দায়ের ও মেডিকেল টেস্ট করাতে পারেন না। এসব কারণে আস্তে আস্তে নষ্ট হয়ে যায় সব আলামত।

ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্তকে অপরাধী প্রমাণিত করার সর্বশেষ পদ্ধতি হচ্ছে আক্রান্তকে দিয়ে অপরাধীকে শনাক্ত করানো। ভিকটিম কোর্টের সামনে সন্দেহাতীতভাবে অপরাধীকে শনাক্ত করতে পারলে শাস্তির সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু উন্মুক্ত আদালতে নিরাপত্তা বিঘি্নত হওয়ার আশঙ্কায় এবং পূর্ব হুমকির কারণে অনেকেই আসামি শনাক্ত করতে যান না। অনেক ক্ষেত্রেই তারা আসামি শনাক্ত করতে পারেন না।

এদিকে ধর্ষণ মামলায় আদালতে ক্যামেরা ট্রায়ালের কথা বলা থাকলেও বাস্তবে এটি ঘটছে না। আক্রান্তকে কোর্টে উপস্থিত হতে বাধ্য হতে হয় এবং জেরার নামে ধর্ষিতাকে নানানভাবে নাজেহাল করা হয়। এ কারণে অনেকেই মামলার শেষ সময়ে এসেও লোকলজ্জায় হাল ছেড়ে দেন। ধর্ষণ মামলার জেরা চলে উন্মুক্ত আদালতে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অশ্লীল ও নোংরা ভাষায় সে জেরা করা হয়। ধর্ষণকালে মহিলার হাত কোথায় ছিল, পা কোথায় ছিল, মুখ কোথায় ছিল_ এমন হাজারো প্রশ্ন করা হয়। উদ্দেশ্য একটাই, যে কোনোভাবে প্রমাণ করা_ ধর্ষণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে ভিকটিমের সামান্যতম হলেও অংশগ্রহণ ছিল।

প্রতিনিয়ত ধর্ষণের মতো বর্বর সহিংসতার শিকার হচ্ছে নারীরা। থানা থেকে আদালত পর্যন্ত ধর্ষণ প্রমাণের নামে ওই নারী বা শিশুকে দফায় দফায়ধর্ষণ করা হয়। কিন্তু এসব নিরসনে বাস্তবিক কোনো উদ্যোগ নেই।

সমাজে ভয়ানক আকার ধারণ করার পর নব্বইয়ের দশকে ধর্ষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ওঠে সচেতন মানুষ। ১৯৯৫ সালে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ বিশেষ বিধান আইন করা হয়। পর্যায়ক্রমে ২০০০ সালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন করা হয়। ২০০৩ সালে এ আইন আবার সংশোধন করা হয়। ধর্ষণের শাস্তি কত ভয়ানক, তা অনেকেই জানেন না। নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ৯ ধারায় ধর্ষণের বিচার হয়। এ আইনে ধর্ষণের সর্বনিম্ন শাস্তি পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদ করা হয়েছে। আইনের ৯(১) ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো পুরুষ কোনো নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করে, তাহলে সে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত হবে। এ ছাড়া অর্থদন্ডেও দন্ডিত হবে।

৯(২) উপধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি কর্তৃক ধর্ষণ বা ওই ধর্ষণ-পরবর্তী তার অন্যবিধ কার্যকলাপের ফলে ধর্ষিত নারী বা শিশুর মৃত্যু ঘটে, তাহলে ওই ব্যক্তি মৃত্যুদ ে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদ ে দ নীয় হবে। অতিরিক্ত এক লাখ টাকা অর্থদ েও দ নীয় হবে। উপধারা ৯(৩)-এ বলা হয়েছে, যদি একাধিক ব্যক্তি দলবদ্ধভাবে কোনো নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করে এবং ধর্ষণের ফলে ওই নারী বা শিশুর মৃত্যু ঘটে বা তিনি আহত হন, তাহলে ওই দলের প্রত্যেক ব্যক্তি মৃত্যুদন্ডে, যদি কোনো ব্যক্তি কোনো নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করে মৃত্যু ঘটানোর বা আহত করার চেষ্টা করে, তাহলে ওই ব্যক্তি যাবজ্জীবন সশ্রম কারা্দন্ডে দন্ডিত হবে ও এর অতিরিক্ত অর্থদন্ডেও দন্ডনীয় হবে। ধর্ষণের চেষ্টা করলে ওই ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর ও সর্বনিম্ন পাঁচ বছর সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত হবে। এ ছাড়া অতিরিক্ত অর্থদন্ডেও দন্ডিত হবে। পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন কোনো নারী ধর্ষিত হলে তার জন্যও কঠিন শাস্তি উল্লেখ করা হয়েছে ৯-এর উপধারা (৫)-এ।

কঠোর আইন থাকলেও নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে মামলার বিচারকার্য সম্পন্ন হয় না। আইন অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে মামলার তদন্তকাজ শেষ করা এবং ১২০ দিনের মধ্যে বিচারকাজ শেষ করার বিধান থাকলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বাস্তবে তা হয় না। প্রাপ্ত পরিসংখ্যান বলছে, আদালতে বিচারাধীন মোট মামলার ৯৯ শতাংশের বিচারকার্য সম্পন্ন হয় না। নিম্ন আদালত মামলার রায় দেওয়ায় আসামিরা উচ্চ আদালতে আপিল করেন। এর পরই নানা জটিলতা শুরু হয়। শুরু হয় দীর্ঘসূত্রতা। আবার অনেক সময় ভিকটিম ও মামলার বাদীর অসহযোগিতার কারণেও মামলার কার্যক্রম থেমে যায়।

পুলিশ প্রায়ই ধর্ষিতার মামলা গ্রহণ করে না। নিয়ম হচ্ছে, আমলযুক্ত অপরাধ হলে পুলিশ মামলা নিতে বাধ্য। কিন্তু পুলিশ তা করে না। উল্টো ভিকটিমকে হয়রানির ঘটনাও আছে।
আইনে সাক্ষ্যের মূল্য অপরিসীম। প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীর জবানবন্দি ছাড়া কোনো ঘটনা প্রমাণ করা যায় না। কিন্তু ধর্ষণ এমন একটি কাজ, যা প্রকাশ্যে বা সাক্ষী রেখে সংঘটিত হয় না। তাই ধর্ষণের ঘটনা প্রমাণ করা সহজ হয় না। এ কারণে আইনে আলামত, রাসায়নিক পরীক্ষা, ডাক্তারি পরীক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলা তদন্তাধীন থাকা অবস্থায় সঠিকভাবে এসব আলামত, ধর্ষণের বিষয়ে ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করা হলে ঘটনা প্রমাণে সুবিধা হয়। মামলাও মজবুত হয়।

লজ্জার বিষয় হলো, ধর্ষক নামক নরপশুদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির তেমন কোনো উদাহরণ নেই। সেই দৃষ্টান্ত যতক্ষন আমরা সৃষ্টি করতে না পারবো, ততক্ষন নরপশুরা নখ বসাবেই। নরপশুদের রুখে দিন।

১৪ thoughts on “ধর্ষকরা কি অপ্রতিরোধ্য? নরপশুদের রুখে দিন

  1. আইন আছে , আইনের প্রয়োগ নেই,
    আইন আছে , আইনের প্রয়োগ নেই, দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির উদাহরণও নেই।
    আছে শুধু আজীবনের জন্য বয়ে বেড়ানো অকল্পনীয় যন্ত্রণা্‌ অথবা মৃত্যু।

  2. অপরাধ করে পার পেয়ে গেলে অপরাধ
    অপরাধ করে পার পেয়ে গেলে অপরাধ প্রবণতা কমেনা বরং বৃদ্ধি পায়। ধর্ষনের ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির নজির সৃষ্টি না করলে এ অপরাধ প্রবনতা কমানো যাবে না। এ ধরনের অপরাধীরা উচ্চ আদালত থেকে কিভাবে যে জামিন নিয়ে নেয় তা বোধগম্য নয়। অপরাধীন শাস্তি কার্যকরের কয়েক বছর পরও এরা জামিনে মুক্তি পায় কিভাবে।
    অপরদিকে এই আইনের সুযোগ নিয়ে ভূয়া মামলার সংখ্যাও উদ্বেগ জনক।বিচারকরা হয়তো একারণেই কঠোর হতে পারেন না।

  3. হ্যাঁ অবলা, তোমাকে এবং আগত ও
    হ্যাঁ অবলা, তোমাকে এবং আগত ও অনাগত কন্যা শিশুদের বলছি—

    তুমি কি মানুষ বুঝ? সমাজ? রাষ্ট্র? ধর্ম?
    পুরুষতন্ত্র কি বুঝ? বাবা? ভাই?
    আর এই ধর্ষণ? বা প্রেম? অথবা কাম?

    আজ বলতে পারবা এই দুনিয়াকে, ‘পুরুষ’ কি?
    তারপর যদি এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজ লজ্জা (!) পেত!!

    বাংলাদেশ তথাপি গোটা দুনিয়া হয়ে উঠেছে ধর্ষক উপদ্রুত একটি জনবসতি…
    আজ আমাদের সকল অনুভূতি আর মানবীয় গুনাবলি ধর্ষণের শিকার !!!

    মানবতা কি আজ কারারুদ্ধ? আর বিবেক?
    এরপরও অনেকে বলবে নারীর অবাধ বিচরন এর জন্যে দায়ী!
    ১১ বছর বয়সের এই শিশুকে কেন তাহলে এই নৃশংসতার শিকার হতে হল?

  4. আমি আর কিছু বললাম না। যেই
    আমি আর কিছু বললাম না। যেই দেশের মানুষের মানসিকতাতেই সমস্যা আছে, সেই দেশে কোন অপরাধেরই সুবিচার হবে না।
    শিক্ষিত নয়, সুশিক্ষিত জাতি গড়ার দিকে মন না দিলে উপায় নাই।

  5. যৌণ ক্ষুধার
    রাজ্যে পৃথিবী

    যৌণ ক্ষুধার
    রাজ্যে পৃথিবী পিশাচময়
    ধর্ষিতা পূর্নিমার দেহ যেন মাংসল
    কাব্য ……

  6. অপ্রতিরোধ্য কেও নই !! কিন্তু
    অপ্রতিরোধ্য কেও নই !! কিন্তু রুখবে কে !!! স্বশিক্ষিত মানুষের বড্ড অভাব । আর এ দেশটাই INJUSTICE এর দেশ । so proper justice ensure আদৌ কি সম্ভব !!!! :ক্ষেপছি: :ক্ষেপছি:

  7. ধর্ষন শুধু অপরাধ নয় বরং একটা
    ধর্ষন শুধু অপরাধ নয় বরং একটা মানসিক ব্যাধি এবং পারিবারিক কুশিক্ষার ফল..…।এটাকে সঙ্ঘব্ধভাবে প্রতিহত করাটি একমাত্র প্রতিকারের পথ।আইনি কিছু দীর্ঘসূত্রীতা আছে;এগুলোকেও দূর করতে হবে এবং সেই সাথে দ্রুত বিচার আইনে বিচার সম্পন্ন করতে হবে।ধর্ষকের শাস্তি একটাই হতে পারে আর তাহল মৃত্যুদন্ড।এখানেই শেষ নয় ধর্ষকের পরিবারকে ধর্ষিতার সারাজীবনের ভরণ-পোষনের খরচ বহন করতে হবে.…

    একটা মেয়ে যখন ধর্ষনের স্বীকার হয় তখন ধর্ষক একজন পুরুষ হয় না.…হয় পুরো সমাজ।তাই ধরষনের স্থান এবং ধরষিতার নিবাস সন্শিষ্ট থানার সুপরিটেনডেন্ট অফ পুলিশ,ডেপুটি কমিশনার,মেম্বার অফ পার্লামেন্ট,থানান দারোগা,পিএসই এদের প্রত্যেকে আদালতে জবাবদীহি করতে হবে…প্রয়োজনে দায়িত্বে অবহেলার জন্য পদচ্যুত-ও করতে হবে.…

    এবং সর্বোপরি সরকারের পক্ষ থেকে এই ধরনের ঘটনা ঘটার সাথে সাথে জাতীর সম্মুখে ক্ষমা পার্থনা করতে হবে.…

    তাহলে হয়তোবা এইধরনের ব্যাধি দূর হবে.…

  8. ঘৃণা হচ্ছে ভিশ্ন…বার বার
    ঘৃণা হচ্ছে ভিশ্ন…বার বার মনে হচ্ছে মেয়ে হয়ে জন্মানো কি পাপ আমাদের??? আর এই পাপের শাস্তি ১৭ মাসের একটা মেয়ে কেউ ভোগ করতে হচ্ছে!!! পুরুষরা মানুষ হবে কবে???

Leave a Reply to তারিক লিংকন Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *