দুরত্ব

মেয়েটাকে যতই দেখেছে ততই অবাক হয়েছে অমিত। তার সাথে প্রথম দেখা হওয়ার মুহুর্ত কিংবা প্রথম কথা কিছুই তার এখন মনে পড়ছে না।
এতক্ষন ধরে রূপার কথাই ভাবছিলো অমিত। ফার্ষ্ট ইয়ারের প্রথম দিকেই তার সাথে পরিচয় অমিতের। কিছুদিন পর মোবাইল ফোনের কল্যানেই যোগাযোগ। এরপর থেকে আর থেমে থাকে নি- কথা হতো সন্ধ্যা, রাত কিংবা সকাল, কোনো সময়ই বাদ থাকেনি। তাদের দুজনার মধ্যে বন্ধুত্বের এভাবেই শুরু।

মেয়েটাকে যতই দেখেছে ততই অবাক হয়েছে অমিত। তার সাথে প্রথম দেখা হওয়ার মুহুর্ত কিংবা প্রথম কথা কিছুই তার এখন মনে পড়ছে না।
এতক্ষন ধরে রূপার কথাই ভাবছিলো অমিত। ফার্ষ্ট ইয়ারের প্রথম দিকেই তার সাথে পরিচয় অমিতের। কিছুদিন পর মোবাইল ফোনের কল্যানেই যোগাযোগ। এরপর থেকে আর থেমে থাকে নি- কথা হতো সন্ধ্যা, রাত কিংবা সকাল, কোনো সময়ই বাদ থাকেনি। তাদের দুজনার মধ্যে বন্ধুত্বের এভাবেই শুরু।
অমিত সুযোগ পেলেই ক্লাসে কিংবা আড্ডায় রূপাকে খ্যাপাতো মিকিমাউস বলে। ওর কি বা দোষ, রূপার নাকটা দেখলেই শুধু একটা ছবিই চোখে ভাসত-মিকিমাউস! কথাটা মনে পড়তেই আজো একমনে অনেকক্ষন হেসে নিল অমিত। মেয়েটাকে বুঝে না বুঝে অনেক জ্বালিয়েছে অমিত।যেবার প্রথম রূপাকে কষ্ট দিয়েছিলো- তার স্মৃতি আজো তার চোখে আকাঁ। যতবার-ই স্মৃতিটা মনে পড়ে ততবার-ই নিজেকে খুব অপরাধী মনে হয় অমিতের। আজো সে জানে না রূপা তাকে ক্ষমা করতে পেরেছে কিনা। আর বিপরীতে যতবার-ই কোনো কালো অন্ধকারের মুখোমুখি ততবারই অমিতের মনে হয়েছে রূপার কথা। একটা ঘটনা খুব মনে পড়ে- হয়তো বা ওই ঘটনার পর রূপা পাশে না থাকলে অমিতের ভার্সিটি লাইফেরই সমাপ্তি ঘটতো।
বন্ধুত্ব কেমন ছিলো অমিত জানে না, কিন্তু প্রিয় অনেক বন্ধুর কাছ থেকেও শুনতে হয়েছে, ‘কিরে তুই কি রূপাকে ভালোবাসিস নাকি?’। অমিত কিছুই বলেনি শুধুই হেসেছে আর অবাক হয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশী অবাক হয়েছে যখন ভালোবাসার মানুষটাও একি অভিযোগের আঙ্গুল তুললো তার দিকে-বেশ কয়েকবার আকারে ইঙ্গিতে আর শেষতক সরাসরি! আজো কথাগুলো মনে পড়লে মনে মনে হাসে অমিত, কারন অমিত তখনো জানতো এখনো জানে তার অবস্থান।
আস্তে আস্তে অমিত আর রূপার মাঝে দুরত্ব বেড়েছে যোজন যোজন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের মাঝামাঝি থেকে যার শুরু। এখনো মাঝে মাঝে কথা হয়, কিন্তু অমিতের মনে হয় কোথায় যেনো সুরের তার কেটে গেছে। যেনো গীটার বাজতে বাজতে মাঝে একটা ভুল কর্ড প্লে হয়ে গেছে, যারা বুঝার তারা বুঝেছে আর যারা বুঝেনি তারা মুগ্ধ শ্রোতার মতো শুনে যাচ্ছে। আক্ষেপ নেই অমিতের, মাঝে মাঝে দুরত্ব কিছু স্মৃতি তৈরি করে আর তা নাড়াচাড়া করে অবসরে মানুষ নষ্টালজিক হয়। ওই সময়টুকুতে চুপচাপ করে অমিত অনুভব করে পুরনো স্মৃতি। আর কখনো হয়তো মিকিমাউস ডেকে কাউকে বিরক্ত করা যাবেনা, বাসায় গিয়ে স্বাদের প্রিয় নুডুলস খাওয়া হবে কিংবা ভরদুপুরে বন্ধুদের কাউকে নিয়ে রূপার বাসায় হানা দিয়ে বলা যাবে না-আমরা দুপুরে খাবো, কিন্তু স্মৃতি গুলোতো মুছে ফেলার নয়।
মাঝে মাঝে যখন রিকশায় ঘুরে তখন রূপার কথা মনে পড়ে অমিতের। রিকশা চলতে থাকে আর দুরত্ব বাড়তেই থাকে……………

১৪ thoughts on “দুরত্ব

  1. লেখা ভাল হয়েছে । শুভেচ্ছা রইল
    লেখা ভাল হয়েছে । শুভেচ্ছা রইল । লিখতে থাকুন। :ফুল: :ফুল:

  2. কিছু চাপা তথ্য খুলাসা করলে
    কিছু চাপা তথ্য খুলাসা করলে লিখাটি আরও সাবলীল হত।।
    মনে হয় কারো জীবনের গল্প, একটু রয়েসয়ে লিখেছেন…

      1. চমকপ্রদ কেন? খোলাসা করুণ…
        চমকপ্রদ কেন? খোলাসা করুণ… :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি:

        1. আপনি গল্পটি পড়ার সাথে সাথে
          আপনি গল্পটি পড়ার সাথে সাথে গল্পের পিছনের অংশটুকু ও ভেবেছেন। :থাম্বসআপ:

Leave a Reply to আশরাফুল করিম চৌধুরী Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *