প্রাচীন উপমহাদেশের হিন্দু সমাজে বিবাহের আদ্যোপান্ত

পৃথিবীর নানা প্রান্তের সব সমাজেই বিবাহ একটি অতি প্রাচীন সামাজিক প্রথা। উপমহাদেশের প্রাচীন হিন্দু সমাজও এর ব্যতিক্রম নয়। প্রাচীন ভারতীয় হিন্দু শাস্ত্রকারেরা বিবাহকে সংস্কার বলেছেন। হিন্দুধর্মের দশবিধ শাস্ত্রীয় অনুষ্ঠানের মধ্যে বিবাহ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার। সংস্কারের উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য ব্যাখা করতে গিয়ে মনু বলেছেন – ‘ব্রাহ্মণীয় ক্রীয়তে তনুঃ’ – (মনু সংহিতা ২.২৮)। অর্থাৎ তনুকে সংযত করে ব্রম্মভাব আয়ত্ত করা সংস্কারের উদ্দেশ্য। জীব প্রকৃতির বিভিন্ন দুর্বলতার উর্ধে উঠার অর্থ হল ব্রহ্মতুল্য ভাব আয়ত্ত করা।


পৃথিবীর নানা প্রান্তের সব সমাজেই বিবাহ একটি অতি প্রাচীন সামাজিক প্রথা। উপমহাদেশের প্রাচীন হিন্দু সমাজও এর ব্যতিক্রম নয়। প্রাচীন ভারতীয় হিন্দু শাস্ত্রকারেরা বিবাহকে সংস্কার বলেছেন। হিন্দুধর্মের দশবিধ শাস্ত্রীয় অনুষ্ঠানের মধ্যে বিবাহ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার। সংস্কারের উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য ব্যাখা করতে গিয়ে মনু বলেছেন – ‘ব্রাহ্মণীয় ক্রীয়তে তনুঃ’ – (মনু সংহিতা ২.২৮)। অর্থাৎ তনুকে সংযত করে ব্রম্মভাব আয়ত্ত করা সংস্কারের উদ্দেশ্য। জীব প্রকৃতির বিভিন্ন দুর্বলতার উর্ধে উঠার অর্থ হল ব্রহ্মতুল্য ভাব আয়ত্ত করা।

বিবাহ সামাজিক রীতি অনুসারে একটি যজ্ঞ। প্রাচীন হিন্দু সমাজে ষোল বছর বয়সে সমাবর্তনের পর বিবাহ বিধেয় ছিল। সেজন্য গুরুগৃহে পাঠ সমাপ্ত করে স্বগৃহে প্রত্যাবর্তন করলে স্নাতকদের যথাসম্ভব দ্রুত বিবাহ করে গৃহস্থ জীবনে প্রবেশ করাকে কর্তব্য বলে গণ্য করা হত। তৈত্তিরীয় উপনিষদে আছে- আচার্য শিষ্যকে উপদেশ দিচ্ছেন, ‘প্রজাতন্তং মা ব্যাবচ্ছেদৎ সীঃ ( প্রজাতন্ত ছিন্ন করবে না) – {তৈত্তিরীয় ১.১১.১}। এ কথার তাৎপর্য হচ্ছে, বিদ্যা শিক্ষা শেষ হলে ব্রহ্মচারী গুরুর অনুমতি নিয়ে বিবাহ করে গৃহস্থশ্রমে প্রবেশ করা উচিত এবং সন্তান উৎপাদন করে বংশধারা অবিচ্ছিন্ন রাখা উচিত। এটিই শাস্ত্রীয় বিধি। অত্রি বলেন ‘ যে ব্যক্তি বিবাহ না করে গৃহস্থভাবে থাকে তার অন্য অভক্ষ্য।

বিবাহের উপর এত বেশি গুরুত্ব দেয়ার কারণ হল জৈবিক তাগিদ সমাজ অনুমোদিত পথে চরিতার্থ করার বিশেষ প্রয়োজন শাস্ত্রকারেরা সেই প্রাচীন কালেই অনুভব করেছিলেন। দ্বিতীয় একটি প্রধান কারণ হল, বিবাহ না করলে বংশগতি বৈধ উপায়ে চালিত হয়না। আরেকটি কারণ উল্লেখ করা হয়েছে, বিবাহ ব্যতিত দৈনন্দিন সামাজিক কাজ বাধাগ্রস্থ হয়। মনু বলেছেন- আপত্যের উৎপাদন, জাত অপত্যের প্রতিপালন এবং নিত্য অতিথিসেবা প্রভৃতি গৃহী কর্ম স্ত্রীর সাহচর্যেই সম্ভব। তাই গৃহস্তের জন্য বিবাহ অপরিহার্য।

বাৎস্যায়ন বলেছেন ‘শতায়ুব পুরুষঃ’; অর্থাৎ পুরুষের আয়ু (আনুমানিক) একশ বছর। এই একশ বছরকে ৩ ভাগে ভাগ করে বাল্য, যৌবন, বার্ধক্যে ত্রিবর্গের (ধর্ম, অরথ,কাম) সেবা করা বিধেয় বলা হয়েছে। বাল্যকালে বিদ্যাশিক্ষা ও সেই সাথে অর্থোপার্জনের উপায় শিক্ষা করার কথা বলা হয়েছে। বিদ্যা লাভ হওয়া পর্যন্ত ব্রহ্মচর্যের সেবাই কর্তব্য। তারপর বিবাহ করে গৃহস্ত জীবন যাপন ও কামের সেবা করা এবং বার্ধক্যে ধর্ম ও মোক্ষ অর্থাৎ ধর্ম চর্চা করে মোক্ষলাভের উপায় চিন্তা করা কর্তব্য। বয়সের বিভাগ সম্পর্কে বলা হয়েছে- ‘আ ষোড় ষাদ ভবেদ বালো যাবৎ ক্ষীরানুবর্তকঃ । মধ্যম সম্প্রতি যাবৎ পরত বৃদ্ধ উচ্যতে’। অর্থাৎ ষোল বছর বয়স পর্যন্ত বালক বলা হয়, সত্তর বছর বয়স পর্যন্ত মধ্যম এবং তারপর বৃদ্ধ। এই মধ্যম শব্দে এখানে যৌবনকাল ও প্রৌঢ়ত্বকে একসঙ্গে ধরা হয়েছে। তার কারণ, পুরুষ সত্তর বছর বয়স পর্যন্ত কাম সেবা ও সন্তান উৎপাদনে সমর্থ। কৌটিল্য বলেছেন-‘দ্বাদশবর্ষা স্ত্রী প্রাপ্তব্যবহারা ভবতি। ষোড়শবর্ষঃ পুমান’। অর্থাৎ যে স্ত্রীর বয়স বারো বছর পার হয়েছে সে প্রাপ্তব্যবহারা অর্থাৎ সাবালিকা এবং ষোল বছর বয়সি পুরুষ সাবালক।

হিন্দু ধর্মশাস্ত্র,অর্থশাস্ত্র ও পৌরাণিক গ্রন্থে ৮ প্রকার বিবাহের উল্লেখ আছে। যেমন, ব্রাম্ম,প্রজাপত্য,আর্য,দৈব,গান্ধর্ব,আসুর,রাক্ষস ও পিশাচ। শ্বেতকেতুর অভিশাপ দেওয়া থেকেই যেন বিবাহ নির্দিষ্ট রূপ ধারণ করে। ধনতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার ভিত্তি গড়ে উঠে।

শ্বেতকেতুর উপাখ্যানটি এরকম- গৌতম বংশীয় উদ্দালকের পুত্র শ্বেতকেতু। শ্বেতকেতু একদিন দেখে তাঁর নিজের মা’কে অপর একজন ব্রাহ্মণ সম্ভোগের জন্য নিয়ে যাচ্ছে। তাঁর পিতা উদ্দালকও তখন উপস্থিত ছিল। শ্বেতকেতু ক্রুদ্ধ হয়ে উঠে। কিন্তু পিতা পিতা উদ্দালক পুত্রকে শান্ত করেন, বলেন- এটি চিরাচরিত ধর্ম। এ সময় শ্বেতকেতু অভিশাপ দেন যে, স্বামীকে অতিক্রম করে অন্যচারিণী হলে ভ্রূণ হত্যার পাপ হবে। অনুরূপ কারণে স্বামীরও একই পাপ হবে। এবং স্বামীর নির্দেশে সন্তান ধারণ করতে সম্মত না হলে সেই নারী একই রকম পাতকী হবে।

এখন আট প্রকার বিবাহ বিষয়ে একটু আলোচনা করা যাক। এই বিবাহ বিভাগ অতি প্রাচীন বলে অনুমিত হয়। যে সম্প্রদায়ে যে প্রকার বিবাহ প্রচলিত ছিল সেই সম্প্রদায়ের নাম অনুযায়ী বিবাহভেদ করা হয়েছে। ব্রাহ্ম বিবাহ ব্রাহ্মণের আদর্শ অনুসারে। নিজ সামর্থ্য অনুসারে অলংকিত কন্যাকে পূর্ব নির্ণীত পাত্রকে আহবান করে দান করার নাম ব্রাহ্মবিবাহ। উপমহাদেশের সমাজ ব্যবস্থায় এই বিবাহ প্রথা আজও প্রচলিত।

কোন বিশেষ অনুষ্ঠান না করে যুবক-যুবতী স্বামী-স্ত্রীর মত সংসার ধর্ম পালন করলে তা প্রাজাপত্য বিবাহ। দক্ষাদি প্রজাপতির সময় বংশ বৃদ্ধি বিশেষ আবশ্যক হয়েছিল। প্রাজাপত্য বিবাহ সেই সময়কার প্রথা।

বরের নিকট থেকে শুল্ক বা পণ হিসেবে গাভী নিয়ে যে কন্যা সম্প্রদান তা আর্য বিবাহ। ঋষি সমাজে এই বিবাহ প্রচলিত ছিল।

যজ্ঞ উপলক্ষে কন্যা সমর্পণ দৈব বিবাহ। দেবতারা যজ্ঞপ্রিয়। বর্তমানে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মানার্থে বা বিশেষ উপলক্ষে ভোজ দেয়ার ব্যবস্থা চালু আছে, প্রাচীনকালেও এরকম প্রথা ছিল। এইরূপ ভোজের নাম যজ্ঞ। ক্রমে ক্রমে যজ্ঞ ধর্ম অনুষ্ঠানে পরিণত হয়েছিল। ইন্দ্রাদি দেবতারা অনেক যজ্ঞে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে নিমন্ত্রণ রক্ষা করতেন। পরবর্তীতে যজ্ঞে ইন্দ্রের উদ্দেশ্যে অগ্নিতে খাদ্যদ্রব্য ও নানান উপকরণ দেয়া হতো। মনোনীত পাত্রকে যজ্ঞে আমন্ত্রন করে কন্যাদান দৈব বিবাহ।

যে বিবাহে বর ও কন্যা নিজ ইচ্ছায় বা অভিভাবকের অভিমত না নিয়ে একে অন্যকে গ্রহণ করে তার নাম গান্ধর্ব বিবাহ। গান্ধর্ব বিবাহ আধুনিক কোর্ট ম্যারেজের প্রাচীন রূপ। গান্ধর্ব জাতিদের মধ্যে এই জাতীয় বিবাহের সর্বাধিক প্রচলন ছিল বলে ধারণা করা হয়। ক্ষত্রিয় রাজারাও গান্ধর্ব বিবাহ করতেন।

যে বিবাহে বর কন্যার পিতাকে বা কন্যাকে শুল্ক বা ধন দিয়ে কন্যা গ্রহণ করে তার নাম অসুর বিবাহ। অসুর সমাজে কন্যার পিতাকে পণ হিসেবে বরকে প্রচুর ধনরত্ন দিতে হত। যদিও আর্য বিবাহেও বরকে পণ দিতে হত, কিন্তু তা অতি সামান্য ও নিয়ম রক্ষা মাত্র। দুটি গাভী দিয়েই বর আর্য বিবাহ করতে পারতেন।

কন্যাকে রাক্ষসের ন্যায় লুণ্ঠন করে বা যুদ্ধে হরণ করে বিবাহের নাম রাক্ষস বিবাহ। আর ছলনা বা প্রতারণার মাধ্যমে কন্যা হরণ বা কুমারী কন্যাকে হরণ করে নিয়ে বিবাহ করার নাম পিশাচ বিবাহ। সে সময়েও পিশাচ বিবাহ নিন্দিত ছিল।

ব্রাহ্ম বিবাহে কন্যার সম্মতি অনেক ক্ষেত্রেই বিবাহের অপরিহার্য অংশ ছিল। অনেক ক্ষেত্রে কন্যা নিজেই পাত্র নির্বাচন করত।

কৌটিল্য বলেছেন- ব্রাহ্ম,প্রাজাপত্য,আর্য ও দৈব এই চার প্রকার বিবাহ ‘ধৈর্ম’ অর্থাৎ ধর্মানুকূল বলে বিবেচিত হয়। কারণ এগুলোতে পিতামাতা বা অভিভাবকের অনুমোদন থাকে। অবশিষ্ট চার প্রকার বিবাহও তখনই ধর্মানুগত বলে বিবেচনা করা যাবে যদি এগুলোতে পিতা ও মাতা উভয়ের অনুমোদন লাভ করা যায়।

বাৎস্যায়ন বলেছেন, দেশাচার অনুসারে ব্রাহ্ম,প্রাজাপত্য,আর্য বা দৈব এর যেকোন বিধানে যথাশাস্ত্র কন্যার পাণিগ্রহণ করবে। তিনি আরও বলেছেন, সমস্ত বিবাহের মধ্যে গান্ধর্ব বিবাহ মধ্যম হলেও অনুরাগতিক বলে এটি সাধারণের আদৃত। কারণ, সকল বিবাহেই অনুরাগ ফল স্বরূপ। এ সংসারে গান্ধর্ব বিবাহ সুখের কারণ, এতে অপেক্ষাকৃত কম ঝামেলা সহ্য করতে হয়। অনুরাগ ভরেই এই বিবাহ সম্পন্ন হয়ে থাকে। কাজেই যারা সহজ দাম্পত্য সুখ আকাঙ্ক্ষা করে তাদের পক্ষে গান্ধর্ব বিবাহ শ্রেষ্ঠ।

রাক্ষস,আসুর,পিশাচ বিবাহকে প্রাচীন শাস্ত্রকারেরা তীব্র ভাবে নিন্দা করেছেন। কোন অর্থবল,বাহুবল বা রিপুর বল স্বভাবতই উদ্যত ও পরের বিধান মানতে অনিচ্ছুক। গান্ধর্ব বিবাহ ততটা নিন্দনীয় ছিলনা। তবে মনু এই বিবাহকে কাম সম্ভব বলে একটু অবজ্ঞা করেছেন। প্রাচীন সাহিত্য ও ইতিহাসে গান্ধর্ব বিবাহের প্রভাব অধিক এবং এর ব্যাপক প্রচলন ছিল।

এই সব নানা প্রকার বিবাহ পদ্ধতিকে স্বীকার করে নিয়ে হিন্দু পণ্ডিত ও শাস্ত্রকারেরা তখনকার দিনের বহু সামাজিক সমস্যার সমাধান করতে প্রয়াসী হয়েছিলেন। প্রাচীনকালে ভারতীয় উপমহাদেশ বহিরাগত শক্তির দ্বারা বহুবার আক্রান্ত হয়েছে। এর ফল স্বরূপ নারীরা নানান অত্যাচারের স্বীকার হত। এই রকম বল প্রয়োগের ফলে তাদের গর্ভে যে সব সন্তানের জন্ম হত তাদের সামাজিক স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন ছিল। রাক্ষস,পিশাচ প্রভৃতি বিবাহকে স্বীকার করে অবৈধ সন্তানের সমস্যাকে শাস্ত্রকারেরা সমাধান করতে চেষ্টা করেছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে সফলও হয়েছেন। বল প্রয়োগজাত সন্তানকে বৈধ বলে স্বীকার করে সন্তান ও মাতাকে সমাজে ঠাই দিয়েছিলেন।

প্রাচীন সমাজে পুরুষরা বহুবিবাহ করতেন। রাজা,উচ্চবংশীয় পুরুষ,ঋষিদের বহু স্ত্রী থাকার প্রমাণ ইতিহাসে এবং পুরাণে পাওয়া যায়। রাজবংশের অনেক কন্যা ঋষিপত্নী হয়েছিলেন। কোন কোন ক্ষেত্রে নারীরাও দ্বিতীয়বিবাহের অধিকার পেতেন। স্বামী অকালে মারা গেলে,সন্ন্যাসী হলে বা দৈহিক মিলনে অক্ষম কিংবা হিজড়া হয়ে পড়লে বা স্বামী সমাজচ্যুত হলে এরকম কিছু বিশেষ কারণে কখনো কখনো স্ত্রী দ্বিতীয় বিবাহের অধিকার পেত। এ ক্ষেত্রে স্বামীর ভাইকে বা ভাই না থাকলে অন্যকাউকে বিবাহ করতে পারত। কোন কোন প্রাচীন হিন্দু জাতি বা সমাজে স্ত্রীলোকেরও বহুবিবাহ প্রচলিত ছিল বলে জানা যায়। উদাহরণ স্বরূপ, মারিষা নাম্নী কণ্ডু কন্যাকে দশজন নৃপতি একত্রে বিবাহ করেছিলেন। দ্রৌপদীর পঞ্চস্বামীর কাহিনীটিও প্রসিদ্ধ। অনেকে মনে করেন স্ত্রীলোকের বহুবিবাহ অনার্য প্রথা।
প্রাচীন কালের বিবাহের নিয়ম ছিল গোত্র যেন এক না হয় এবং পিতৃকুলে সাতপুরুষ এবং মাতৃকুলে পাঁচ পুরুষ বাদ দিয়ে ছেলে মেয়ে বিবাহ করতে পারত।

প্রাচীনকালের হিন্দু পুরাণে সতীত্বের আদর্শ বর্তমানকালের মত ছিলনা। অনেক সময় একের স্ত্রী অন্যে হরণ করত। যেমন, চন্দ্র বৃহস্পতির স্ত্রী তারাকে হরণ করে। চন্দ্রের ঔরসে তারার বুধ নামের পুত্র জন্মে। পরে চন্দ্র তারাকে বৃহস্পতির কাছে ফিরিয়ে দেয়। বৃহস্পতি তারাকে ফিরিয়ে নিতে দ্বিধা করেনি। নারী স্বেচ্ছায় পরকীয়ায় লিপ্ত হলে অসতী বলে গণ্য হত, কিন্তু জোরপূর্বক বলাৎকৃত বা ধর্ষিত হলে অসতী বলে গণ্য হতনা।

নারী ধর্ষণ নিবারণের জন্য পরবর্তীকালে রাজাদের সতর্ক দৃষ্টি ছিল। ‘গ্রামে কোন উপদ্রব উপস্থিত হলে, গৃহাদির পতনে বা কারো দ্বারা কোন রমণী আক্রান্ত হলে যারা সেই সব উপদ্রব নিবারণের জন্য সামর্থ্যানুযায়ী ধাবিত না হয়, রাজা তাদেরকে স্বপরিচ্ছদ নির্বাসিত করবেন’-(মৎস্যপুরাণ ২২৭/১৭০-১৭১) – এরূপ বিধান প্রচলিত ছিল।

জীবনযাত্রা নির্বাহের জন্য সব কালে সকল লোকেরই অর্থের প্রয়োজন ছিল ও আছে। হিন্দু শাস্ত্রেও এর উল্লেখ আছে। বাৎস্যায়ন চার উপায়ে অর্থ সংগ্রহের কথা বলেছেন। ১. প্রতিগ্রহ অর্থাৎ দান গ্রহণ, ২.জয় অর্থাৎ বলপূর্বক অধিকার, ৩. ক্রয় অর্থাৎ ব্যাবসা, ৪. নিবেশ অর্থাৎ কাজ করে দেবার বিনিময়ে পারিশ্রমিক। শিক্ষা সম্পূর্ণ করে গৃহস্থ জীবন যাপনের পূর্বে ব্রাহ্মণ যাগযজ্ঞ অধ্যাপনা করে রাজা ও ধনী ব্যক্তিদের কাছ থেকে যে অর্থ দান স্বরূপ পেতেন তাই তার আয়। ক্ষত্রিয় যুদ্ধ করে যে সম্পত্তি বা অর্থ লাভ করতেন তাই তার আয়। বৈশ্য বা বণিকেরা ব্যাবসা বাণিজ্য করে যা উপার্জন করতেন তা তার আয়। শূদ্র কায়িকশ্রম দ্বারা যা উপার্জন করতেন তা তার আয়। সেই সাথে উত্তরাধিকার সুত্রে যে যা পেত তাও তাদের প্রত্যেকের আয় বা সম্পত্তি রূপে গণ্য হত। (সমাপ্ত)

৩০ thoughts on “প্রাচীন উপমহাদেশের হিন্দু সমাজে বিবাহের আদ্যোপান্ত

  1. পোস্ট এর. বিসয়বস্তুর উপরে
    পোস্ট এর. বিসয়বস্তুর উপরে কিছু বলার নাই । শুধু বলব নতুন কিছু জানলাম আজ। এর জন্য ধন্যবাদ। :ফুল:

    1. কষ্ট করে যে লেখাটা পড়েছেন তাই
      কষ্ট করে যে লেখাটা পড়েছেন তাই লেখকের বিশাল পাওনা, অসংখ্য ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন, সাথে থাকবেন।

    1. নতুন কিছু জানাতে পেরে অনেক
      নতুন কিছু জানাতে পেরে অনেক ভালো লাগছে। এই চেষ্টা ভবিষ্যতেও থাকবে, সাথে থাকবেন। ভালো থাকবেন। :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ: :ধইন্যাপাতা:

  2. অনেক তথ্যবহুল আর দরকারি একটা
    অনেক তথ্যবহুল আর দরকারি একটা পোস্ট।।
    দরকারের সময় তথ্যগুলো কাজে লাগবে…
    ধন্যবাদ!! :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:
    :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow:

    1. তারিক লিংকন ভাইকে প্রায়শই
      তারিক লিংকন ভাইকে প্রায়শই সাথে পাচ্ছি দেখে অনেক ভালো লাগছে। নতুন কিছু উপস্থাপনের সামান্য চেষ্টা, আপনাদের যে সঙ্গে পাচ্ছি এটাই বিশাল পাওনা। :ফুল:

      1. আমারে পাশে পাইলে সাহস পাইতে
        :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে:
        আমারে পাশে পাইলে সাহস পাইতে পারেন কিন্তু ভাল লাগছে কেন? 😉

  3. তথ্যবহুল লেখা। তবে লেখার সাথে
    তথ্যবহুল লেখা। তবে লেখার সাথে তথ্যসুত্রের লিংক সম্ভব হলে সংযোজন করে দিয়েন। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

    1. ধন্যবাদ আতিক ভাই। সুনির্দিষ্ট
      ধন্যবাদ আতিক ভাই। সুনির্দিষ্ট পৌরাণিক বা ধর্মীয় তথ্যগুলো গ্রন্থের নাম, বক্তা বা লেখকের নাম এবং অধ্যায় ও পৃষ্ঠা সহ তথ্যের পাশেই ব্র্যাকেটে দিয়ে দেওয়া আছে। তাছাড়া সমস্ত লেখাই আমার ব্যক্তিগত বই পুস্তক থেকে ভালো মত পড়ে এবং খোঁজখবর নিয়ে লেখা। এসব তথ্যের লিঙ্ক নেটে পাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। তাছাড়া ছোট বড় সব তথ্যের লিঙ্ক দিতে গেলে লেখাটা পাঠযোগ্য রাখা দুরূহ হবে। পড়বার জন্য আবারো ধন্যবাদ :ফুল:

  4. ভালই লিখেছেন। কিছু জানতাম
    ভালই লিখেছেন। কিছু জানতাম কিছু জানতাম না। একটা প্রশ্ন আছে। তাহলে কি সীতাকে যখন রাবন হরন করে নিয়ে যায় সেটা কি রাক্ষস বিবাহ ছিল​?

    1. খুবই ভালো একটা পয়েন্ট ধরেছেন
      :তালিয়া: খুবই ভালো একটা পয়েন্ট ধরেছেন রাইন। তবে এ বিষয়ে আমার ব্যক্তিগত মতামত জনসমক্ষে প্রকাশ থেকে বিরত থাকলাম। কারণ হল, বিষয়টি ধর্মীয়, স্বভাবতই স্পর্শকাতর। আমার ব্যক্তিগত মতামত হিন্দু ধর্মাবলম্বী অথবা যারা এ বিষয়ে আমার চাইতে বহুগুণে বেশি জ্ঞান রাখেন তাদের অনুভূতির সাথে সাংঘরসিক হতেও পারে। তবে আপনার নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সব তথ্যই লেখাতে আছে। ভালো থাকবেন। :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ: :ধইন্যাপাতা:

      1. ও​। আচ্ছা ঠিক আছে।আমি ধর্মীয়
        ও​। আচ্ছা ঠিক আছে।আমি ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত দেবার জন্য প্রশ্নটি করিনি। জাস্ট কৌতুহল।

        1. তা ঠিক আছে, আমিও জানি আঘাত
          তা ঠিক আছে, আমিও জানি আঘাত দেবার জন্য প্রশ্ন করেননি। তবে বিষয় কি যে, সীতা হিন্দু ধর্মের একজন সম্মানিত দেবী। তার কাহিনীটিও সামান্য স্পর্শকাতর। নানান ভাবে ব্যাখ্যা করা যায়। আমাদের বুধহয় সে কারণেই তার বিবাহ বা হরণ নিয়ে মতামত দেয়া ঠিক হবেনা। আমার ব্যেক্তিগত ধারণাটা বললাম। ভালো থাকবেন। :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ: :ধইন্যাপাতা: আরেকটা কথা, আপনার নামটা সুন্দর। ওটা কি ‘রাইন নদী’ থেকে দেয়া? ব্যেক্তিগত প্রশ্ন করলাম।

          1. মানুষের ব্যাপারে আপনার এত
            মানুষের ব্যাপারে আপনার এত উঁচু দৃষ্টিভঙ্গি দেখে ভালো লাগছে। :চিন্তায়আছি:

  5. বিবাহ দশবিদ সংস্কারের
    বিবাহ দশবিদ সংস্কারের সর্বশ্রেষ্ঠ এবং প্রধান সংস্কার। বিবাহ ২৫ বছর বয়সে ব্রহ্মচর্য্যাশ্রম শেষ করে বিবাহের মাধ্যমে গার্হস্ত আশ্রমে প্রবেশ করা হয়।

  6. সুন্দর পোস্ট আরো অনেক কিছু
    সুন্দর পোস্ট আরো অনেক কিছু জানলাম।

    তবে দাদা গান্ধর্ব বিবাহ টা শুধু মাতা পিতার অস্মতিতে নয় তাদের সামনেও হতে পারে। সেটা ভগবান কে বা তার প্রতিমুর্তিকে সাক্ষী রেখে মালা বদলের মাধ্যমে সুখ দু:খ বন্টনের অঙ্গিকার করে বিবাহ। এটাই আমি জানি।

  7. হতে পারে। সামাজিক রীতিনীতি
    হতে পারে। সামাজিক রীতিনীতি সর্বদাই পরিবর্তনশীল ও চলমান প্রক্রিয়া। আমি শুধু প্রাচীন সমাজের নীতি গুলো তুলে ধরলাম। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ: :ধইন্যাপাতা:

  8. মালা বদলটা মুখ্য বিষয় নয়,
    মালা বদলটা মুখ্য বিষয় নয়, অভিভাবকের অনুমতিটাই সংজ্ঞা নির্ধারণে মূল প্রভাব ফেলেছে। আমি শুধু বহুল ব্যবহৃত আবিধানিক সংজ্ঞা গুলোই আমার লেখাতে ব্যবহার করেছি। অনুমতি নিয়েও গান্ধর্ব বিবাহ হয় কিনা তা পণ্ডিতরা ভালো বলতে পারবেন। আবারো বলছি, আমি ব্যবহার করেছি বহুল ব্যবহৃত সংজ্ঞা। আমার লেখায় গান্ধর্ব বিবাহের সংজ্ঞার শেষ লাইনটার প্রতি আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি -ক্ষত্রিয় রাজারাও গান্ধর্ব বিবাহ করতেন। রাজারা নিশ্চই পালিয়ে বিবাহ করতেন না। আমার ব্যক্তিগত মত হল,গান্ধর্ব বিবাহের ক্ষেত্রে পাত্র পাত্রীর ইচ্ছাটাই প্রধান ছিল। অভিভাবকের ইচ্ছা অনিচ্ছা তেমন গুরুত্ব পেতনা। সুতরাং তারা উপস্থিত থাকতেও পারেন,নাও পারেন। এটাই মূল বিষয়। ধন্যবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *