আজ ও বসে আছি তোর অপেক্ষায়

গল্প কিভাবে শুরু করতে হয় আমার জানা নেই। হয়তো কারো টা রঙ্গিন আর সুন্দর আর কারোটা হয় ফ্যাকাসে আর অগুছালো । কেউ হাসতে হাসতে লিখে আর কেউ লিখে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে । কারো জীবন টা রঙ্গিন আর কারো টা ধুলোয় ঢাকা।

গল্প কিভাবে শুরু করতে হয় আমার জানা নেই। হয়তো কারো টা রঙ্গিন আর সুন্দর আর কারোটা হয় ফ্যাকাসে আর অগুছালো । কেউ হাসতে হাসতে লিখে আর কেউ লিখে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে । কারো জীবন টা রঙ্গিন আর কারো টা ধুলোয় ঢাকা।

তোর সাথে বন্ধুত্ব শুরু হয়েছিল দোষ দিয়েই।দোষ ঠিক না।রাগ বললেই চলে। তোকে তখন চিনতাম না। ভুলে একটা কথা বলেছিলাম দেখে রাগ করে ক্লাস থেকে উঠে গিয়েছিলি। তারপর ফেসবুকে সরি বলা। তোর মনে আছে আমি তোকে বলেছিলাম তোর পার্ট অনেক বেশি। এই কথা বলায় তুই অনেক রাগ করছিলি। তারপর তোর নাম্বার চেয়েছিলাম। তুই দিতে চাসনি। তখন সেই পার্ট বেশি কথা টা মিথ্যা প্রমান করতেই হয়তো তোর নাম্বার দিয়েছিলি।তারপর সেখান থেকে কথা শুরু হওয়া , হাল্কা হাল্কা ম্যাসেজ তারপর কথা বলা শুরু। ঘন্টার পর ঘন্টা কথা বলে যেতাম দুটো মানুষ কোন বিরক্ত ছারাই।যখন কথা বলার কিছু থাকতো না তখন ও দুইজন দুই প্রান্ত থেকে চুপ করে মোবাইল ধরে রাখতাম।কোন বিরক্ত ছিলোনা তাও দুজনের মধ্যে।দুজনের নিশ্বাসের শব্দেও মনে হয় পরিতৃপ্তি খুজে পেতাম কিসের যেনো একটা মাদকতে ছিলো সেই নীরবতায়।খুব তো বলতি আমাকে ছেরে কখন ও যাবিনা। কি দোষ করেছিলাম তোর কাছে যে এইভাবে ছুড়ে ফেলে দিলি? কখন ও তোকে বুঝতে দিইনি তোর কত ব্যাবহারে যে কষ্ট পেয়েছিলাম।শুধু নিজেকে এটাই বুঝাতাম, ও এখন ও অনেক ছোট , বড় হলে তখন আমাকে বুঝতে শিখবে তখন হয়তো আর এতো কষ্ট পাবোনা। তুই একটা দিন বলতে পারবি যেই দিন টাতে তোকে না বলে আমি আমার এক বেলার খাবার কাহিছি, তোকে না বলে আমি এক ফোটা হাসছি,তোকে না বলে এক ফোটা চোখের জল ও ফেলছি? পারিনাই।আমার জীবনে সব যে তুই ই ছিলি। তোকে যেদিন বলেছিলাম আমি সত্যি তোকে অনেক ভালবাসি রে তখন তুই অনেক রাগ করেছিলি মনে আছে? সেইটা রাগ ছিলো নাকি লজ্জা ছিলো আজ ও বুঝে উঠতে পারিনি। তুই তো ভালো মতই জানতি যে আমি জীবনে বেঁচে আছি তোকে অবলম্বন করেই , যেই মানুষটার সাথে সবসময় ছায়ার মতো লেগে থাকতি সেই মানুষটাকে কোন কারণ ছাড়া কিভাবে আজ ছেরে দিলি এই নিষ্ঠুর একা পৃথিবীটাতে?একটু বার তোর পিছে ঘুরে তাকাতে ইচ্ছে হলোনা?

তোর মনে আছে একদিন কথায় কথায় তুই ই একদিন ম্যাসেজ দিছিলি — Love u..তখন কেন জানি স্বপ্ন স্বপ্ন লাগতেছিল যে আমি জেগে আছি তো, তার জন্য আবার জিজ্ঞেস করেছিলাম বোকার মত – Really Do You Love?

U replied- YEs I do….

সেদিনের কথা তুই ভুলে গেলেও আমি ভুলতে পারিনি।তুই জানিস কিনা জানিনা। একটা ছেলে তার ভালোবাসার মানুষটির কাছ থেকে এই কথা শুনলে অনেক খুশিতে একটু হলেও হাসে।কিন্তু আমি সেদিন সেদিন ডুকরে ডুকরে কেঁদেছিলাম , না আমি খুশি ছিলামনা তা নয়। কেঁদেছিলাম হারানোর ভয়ে।সেদিন থেকে ভয় টা আরো বেড়ে গিয়েছিলো তোকে হারানোর। তুই কোথাও একা একা গেলে খুব টেনশন হতো,এই জন্য সবসময় তোকে বলতাম আমাকে জাস্ট বাসায় এসে একটু জানাইস প্লিজ, অনেক লক্ষী মেয়ে রে তুই,অনেক। কিন্তু কিভাবে যে সব উলটা পালটা হয়ে গেলো কিছুই বুঝলাম না। তোর মনে আছে আমি তোকে দেখা হলেই যতক্ষন আমার সাথে থাকতি তোর গালে আলতো করে সবসময় বাড়ি দিতাম। আর তুই মাঝে মাঝে তুই আমাকে মারলি এই কথা বলে মুখ ফুলিয়ে বসে থাকতি। তোর গালটা দুই পাশ থেকে টেনে বলতাম আমি কখনো তোকে আঘাত করতে পারি বল ,তুই যে আমার জীবন। তুই ও আমাকে দুইদিন ঠাশ করে মেরেছিলি মনে আছে? তুই মারতে পাইরা যতটা খুশিতে লাফাইতেছিলি তার চেয়ে তোর হাসি দেখে আমি বেশি খুশি হইছিলাম। একটু পরে তোর জ্ঞান হইছিলো যে থাপ্পর টা ভুলে জোরে লাগছিল।তারপর যেই দরদ ভরা কন্ঠ নিয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলি যে ব্যাথা পাইছস তুই? তখন যে তোর চোখের দিয়ে তাকিয়ে কতোটা ভালোবেসে ফেলেছিলাম তোকে তুই নিজেও জানতে পারবিনা কোন দিন।

তোর মনে আছে যেদিন তোকে এক গুচ্ছ গোলাপ হাতে দিয়ে দিয়ার পর তুই সেগুলো ব্যাগে রেখে দিলি । তারপর সাহস করে সেগুলো আবার বের করে তোকে বলেছিলাম আমি তোকে অনেক ভালবাসি রে।তুই দু হাত দিয়ে হাসি হাসি মুখে ফুল গুলো নিয়েছিলি আবার।তোকে সামনা সামনি অনেক সাহস করেই বলেছিলাম। অনেক লজ্জা পেয়েছিলি না??আমি নিজেও কম পাইনাই।তুই যে আমাকে গোলাপ দিছিলি ওইটা আজ ও আমার ডাইরির মধ্যেই আছে, কেমন যেনো কালচে হয়ে গেছে। প্রতিদিন একবার করে বেড় করে আলতো করে ঠোট টা ছুয়ে আবার রেখে দি যত্ন করে। জানিস এখনো মনে পড়ে যেদিন আমার মন খারাপ থাকতো যখন না খেয়ে বসে থাকতাম তখন তুই যখন তোর খাবার টা বাড়িয়ে বলতি নে খা, আর তোর হাত টা বাড়িয়ে দিতি তখ খুশিতে খেয়ে নিতাম। তখন শুধু মনে হতো আমি প্রত্যেকদিন না খেয়ে তোর হাত থেকে একটু খাওয়ার জন্য। কতো স্মৃতি এখনো পরে আছে না? যেগুলো বলতে গেলে হয়তো কোন পেইজে জায়গা হবেনা কোন ব্লগে জায়গা হবেনা।

আর হ্যাঁ নিজের একটু যত্ন নিস সবসময় প্লিজ। তোর কিছু হলে আমার যে খুব কষ্ট হয় রে।

জানিস এখন আমি ঘুমাই না রাত্রিতে। তুই না বলতি আমার অনেক ঘুম? ঘুম গুলো যেনো কোথায় হারিয়ে গেছে। আজ সপ্নের মধ্যেও ডুকরে কেঁদে উঠি যখন দেখি কোন এক জায়গায় দাঁড়িয়ে অথবা বসে সেই আলতো করে তোর হাত টা ধরে আছি আর চোখের দিকে তাকিয়ে আছি। আজ ইচ্ছে করে তোকে জরিয়ে ধরে একটু কাঁদতে , আবার ইচ্ছে করে তোর চুলগুলো নিয়ে খেলতে , ইচ্ছে করে তোর চুড়ি গুলো নিয়ে খেলতে। কিন্তু আজ যে আমার ইচ্ছার আর কোন দাম নেই রে পৃথিবীর কাছে আমি যে পৃথিবীর কাছে আজ বড়ই অবহেলিতো । ইচ্ছে করে তোকে ধরে তোর গাল দুটো আলতো করে ধরে কোন এক বৃষ্টির দিনে আবার জিজ্ঞেস করতে কেন ছেড়ে গেলি আমাকে?? পারিনা । যখন দেখি আমার পাশে তুই নেই স্থান কাল ভুলে আবার ফুপিয়ে কেঁদে উঠি। এখন তো দেখা হলেও তুই অনেক এড়িয়ে চলিস আমাকে।কেন? এতোটা পর তো কখন ও হতে চাইনাই।
না আমি বলবনা তুই আমাকে কেন ছাড়লি , কাউকে জানাতে চাইনা, এতে দুই একজন হয়তো কটু কথা বলবে ,সেগুলো যে আমি সহ্য করতে পারবোনা। অপেক্ষায় আছি এখন ও হয়তো কোন একদিন এসে জড়িয়ে ধরে আবার আপন করে নিবি আমাকে বলবি আমি তোকে এখনো ভালোবাসি রে। তাই তো এখনো চোখের পানি মুছতে মুছতে তোর ছবি টা নিয়ে বুকে জড়িয়ে ধরি।
কবে আসবি তুই??

আসবি তো জান?

আমি যে তোর অপেক্ষায় এখনো বসে আছি,থাকবো সবসময়।

৪ thoughts on “আজ ও বসে আছি তোর অপেক্ষায়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *