স্নিগ্ধ গ্রামে ভবঘুরে হয়ে কাটানো একটি রাত

কিছুদিন ধরেই রাতের ভবঘুরে হবার প্রবল ইচ্ছে করছিলো। তাই গতকাল রাত এগারোটার দিকে বেরিয়ে গেলাম আমাদের সদর ছেড়ে পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলো দেখার জন্যে। বস্তুত আমি কোনদিনই এতো রাতে ভবঘুরে হয়ে পার্শ্ববর্তী গ্রাম দেখতে যাইনি। তো সঙ্গে আরেক ভবঘুরেমনা ছোটভাই জুয়েলকে নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। হাঁটতে হাঁটতে আমরা ঐ গ্রামগুলোর বিচ্ছিন্ন অংশের দিকে যেতে লাগলাম। একপর্যায়ে দেখলাম -রাত বারোটার সময়েও রাস্তার একপাশে একটি ছোট্ট দোকানে কিছু লোক চা পান করছে। দেখে তো আমি রীতিমতো ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলাম! গ্রামে যেখানে রাত দশটার মধ্যেই সবাই ঘুমিয়ে পড়ে সেখানে এতো রাতে চা পানের দৃশ্য দেখতে পাওয়া সত্যিই বিরল। অথচ যাবার সময় দেখেছিলাম বাজারের সমস্ত দোকান বন্ধ ছিলো। কিন্তু বাজারের ব্যস্ততাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ঐ দোকানটি খোলা ছিলো।

আমরা হাঁটতে হাঁটতে আরও সামনের দিকে অগ্রসর হতে লাগলাম। দেখলাম রাস্তার উপরে বর্ষার পানি উঠে গিয়েছে। হঠাৎ দেখলাম -একজন লোক লাইট জ্বেলে কুচ দিয়ে মাছ ধরছে। কিছুসময় তা দেখে উল্টো পথে পা দিলাম ।

এগুতে এগুতে রাস্তার এক নির্জন স্থানে বসে সঙ্গে আনা চানাচুর, বিস্কুট ও ক্যান্ডি খেলাম। খাওয়ার পর আবারো গল্প করতে লাগলাম। এর খানিক পরেই পুব আকাশে অন্ধকারের চাদর সরিয়ে ক্ষয়ে যাওয়া চাঁদটা বেরিয়ে এলো। ততোক্ষনে জুয়েল গান ধরেছে। আস্তে আস্তে পরিচ্ছন্ন আকাশটা কালো মেঘে ঢেকে যেতে লাগলো। আমরাও আকাশে মেঘের বিচরণ দেখে বাড়ির পথে পা বাড়ালাম। যখন ফিরলাম ততোক্ষনে দেখি ঘড়ির কাঁটা তিনটে ছুঁয়েছে …

১০ thoughts on “স্নিগ্ধ গ্রামে ভবঘুরে হয়ে কাটানো একটি রাত

  1. শুকনো মাটির মাঠ। গ্রামের গন্ধ
    শুকনো মাটির মাঠ। গ্রামের গন্ধ ছড়ানো চারিদিকে। একপাশে একটা পুকুর। পাশে একটা উঁচু টিলা । খুব বেশি বড় না। একটু হাঁটলেই উঠা যায়। মাঠের অন্যপাশে একটা ঘর, মাটির ঘর। দূরে আরও কয়েকটা আছে। ঘরের সামনে বিশাল এক উঠোন। ঘরের পিছনে একটা ছোট বাগান। এক পাশে একটা গোয়াল।
    সন্ধ্যা নেমে আসছে। সূর্যটা ক্লান্ত হয়ে নেমে যাচ্ছে। একটা মিষ্টি কমলা আলো চারিদিকে। গরমের তীব্রতা যেন মুহূর্তেই কমে গেলো। একটা নিস্তব্ধতা চারিদিকে হুহু করে বয়ে বেড়াচ্ছে। কোন শোরগোল নেই, কোন তাড়াহুড়ো নেই, কোন ব্যস্ততার আওয়াজ নেই। কেমন একটা বিষণ্ণতার ছাপ। প্রকৃতিও কি তবে বিষণ্ণ হয়? নাকি সে চায় মানুষ তার রূপ দেখে বিষণ্ণ হোক। কিছুটা উদাসী হোক। কবিরা তাকে নিয়ে কাব্য লিখুক। দুপুরের ভাত ঘুম থেকে উঠেও চোখে মুখে একটা ক্লান্তিকর ভরাট দুঃখহীন ভাব নিয়ে কোন গৃহবধূ অহেতুক দিগন্ত পানে নিস্পলক তাকিয়ে থাকুক। গ্রামের সন্ধ্যা গুলো কি এমন হয়?

  2. বর্ণনাগুলো আরও গুছানো আর
    বর্ণনাগুলো আরও গুছানো আর বিস্তারিত হলে পাঠক পরে আরাম পেত!!
    যখনই পাঠক নিজেকে যায়গায় কল্পনা করা শুরু করে তখনই আপনার গল্প শেষ,
    ব্যাপারটা বিশ্রী না?
    যাহোক ভালই লাগল… আরও কোমল আর ব্যাপক হতে পারত!!

  3. সুখপাঠ্য হয় নি ,। তবে লেখার
    সুখপাঠ্য হয় নি ,। তবে লেখার মাঝে আপনার উপলব্ধি আর অনুভুতির বহিঃপ্রকাশ ভাল লেগেছে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *