সীমান্ত শহর সুনামগঞ্জে শুরু হয়েছে ধর্ষন বিরুধী আন্দোলন, আর বসে থাকা নয়, জ্বলে উঠুন


গোটা কয়েকজন বন্ধুর সিদ্ধান্তে আমরা আমাদের শহরে দাড়িয়েছিলাম ধর্ষক লম্পটটার সর্বোচ্চ শাস্তির দাবীতে।

অঝড় ধারার বৃষ্টির বাধাকে উপেক্ষা করে আশে-পাশের মানুষগুলো আমাদের সাথে এক কাতারে এসে দাড়িয়েছে। কাংখিত জনাবিশেকের সংখ্যাটা একটু পরেই ছাড়িয়ে গেছে শয়ের কোঠাটি। মানুষেরা অবাক করে দিয়ে হাতে হাত ধরে জানিয়েছে তাদের মৌন সমর্থন। মানবতার দাবীকে মৌনভাবে উপস্থাপন করেছে রাষ্ট্রযন্ত্রের কাছে। ধিক্কার জানিয়েছে যে যার মত করে। আশ্বাস দিয়ে গেছে আগামীর। কাধে কাধ রেখে সামনের দিনগুলোতে পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে গেছে তরুণ থেকে বৃদ্ধের দল।

তাদের আশ্বাস আমাদের সাহস দিচ্ছে
বারুদের, বিস্ফোরণের,
দ্রোহের, অগ্নির।

দাবানলের।
—————————

বন্ধুরা,
আমরা, সত্যিকারের তরুণেরা জাগতে শুরু করেছি। বাংলা এবার পশুমুক্ত হবেই। কোন ভয় কিংবা দ্বিধা নয়, সব আশংকা ছুড়ে ফেলে আপনারাও জেগে উঠুন। পাশের জনকে খোচা দিন। আধমরা মানুষগুলোর চেতনায় আঘাত করুন। দেখবেন সবাই কেমন দল বেধে আপনার পাশে চলে এসেছে। ঘুনের ধরা সমাজের নিষ্পেষন আর জাতাকলে পিষ্ট মানবতার পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। আর বেশি দেরী নয়, গণমানুষ উল্টোরথের দিকে যাত্রা শুর করবে। প্রয়োজন একটা ডাকের, একটা ইসারার।

হয়ত,
আমাদেরকে ডাক দেয়ার জন্য একজন বঙ্গবন্ধু নেই, নেই তার মত ভরাট কণ্ঠের কেউ। তবে কি বসে থাকবেন? চোখের সামনে ঘটে যেতে দেখেবেন দেয়ালের ভেতরে সেটে যাওয়া দেশ? দানবের নারকীয় উল্লাস? দেখতে থাকবেন কি মৃত্যু উপত্যকায় পশুদের পাশবিক উন্মত্ত আচরণ?

না,
সেই কাজটা এবার নিজেই নিজেকে দিন। আপনি দেশকে ভালবাসেন, এই দেশ আপনার, আপনাকে নতুন করে ডাকার কি প্রয়োজন? আপনি নিজেই তো একজন বঙ্গবন্ধু। গোটা দেশকে হয়তো আপনি ডাকতে পারবেন না, তাই বলে কি সহপাঠি, সহকর্মীকে বলতে পারবেন না? হ্যা, এই মুহুর্ত থেকে শুরু করুন। সহকর্মীরা নেই? ঘর থেকে শুরু করুন। আপনার আম্মুকে বলুন, ভাই বোনদেরকে বলুন।

কেউ শুনছে না?
পাগল বলে হেসে উড়িয়ে দিচ্ছে? তাহলে, আরো পাগলামী করুন। বাসায় যে দিস্তা খাতাটা কিংবা আর্ট পেপার আছে সেখান থেকে একটা কাগজ নিন, মার্কার কিংবা কলম দিয়ে বড় করে আপনার মনের মত করে একটা শ্লোগান লিখুন। এবার এটি পিঠে কিংবা সামনের দিকে লাগিয়ে বাইরে বের হয়ে পরুন। ব্যস, আপনার হয়ে গেলো।

যদি,
তাও করতে না পারেন, তাহলে একা একাই আপনার বাসার গেইটে সেই ফেস্টুন নিয়ে দাড়িয়ে পরুন। মোবাইলে একটি ছবি তুলে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিন। তখন তো আর আপনি একা থাকছেন না, আপনাকে প্রেরনা দিবে আপনার হাজার হাজার অনলাইন ফ্রেণ্ড, ফলোয়ারেরা। হ্যা, তাতে হয়তো রাষ্ট্রযন্ত্রের টনক নড়বে না, কিন্তু প্রতিবাদ তো করা গেলো। আপনার দেখা দেখি ঘরে ঘরে তৈরী হবে এমন পাগলের সংখ্যা। সেটাই বা কম কিসে?

এবার
নিজ নিজ এলাকায় বন্ধু-বান্ধবরা একসাথে হয়ে শুরু আগের ফেস্টুন, শ্লোগানগুলো নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়ুন। শুধু শুরুটা করুন, দেখবেন সাড়া পাবেন। একটা বাধ ভেঙ্গে দেয়ার জন্য কিন্তু হাজার হাজার শ্রমিকের প্রয়োজন নেই, একটা ফাটলই যথেষ্ঠ। সেই ফাটলই ধীরে ধীরে গোটা বাধটাকেই নিঃশেষ করে দেবে। আপনার কাজ শুধু ফাটলটা তৈরী করা।

বন্ধু,
আপনি কারো নেতা নন, আমিও কারো নির্দেশকারী নই। আপনি আমি সকলেই সকলের সহযোদ্ধা। সকলের ঐক্যবদ্ধ ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টাই আমাদের সফলতার বীজ বপন করবে।

আগামী শুক্রবার বিকাল চারটায় ঢাকার শাহবাগে বিকাল চারটায় যে কর্মসূচী রয়েছে তার সাথে একাত্ত হয়ে আপনার জেলায় জেলায় প্রতিবাদ শুরু করেন। সবগুলো কর্মসূচীর সাথে একাত্ত হোন। ” ধর্ষকের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ” এই দাবীতে আমার আপনার আন্দোলনকে বেগবান করুন।

আর দেরী নয়, জেগে উঠুন, প্রতিবাদ করুন, করতে শিখুন।
দেখা হবে রাজপথে, কথা হবে চেতনায়।
জেগেছে তরুণ রুধিবে কে আয়?

( কেউ যদি মনে করেন, এই কথাগুলো আন্দোলনকে শক্তিশালী করতে পারে, কিংবা কাউকে অনূপ্রেরনা দিতে পারে, তাহলে নির্দ্বিধায় শেয়ার করুন, যে কোন অংশ কপি করে স্ট্যাটাস দিন, টুইট করুন। )

১০ thoughts on “সীমান্ত শহর সুনামগঞ্জে শুরু হয়েছে ধর্ষন বিরুধী আন্দোলন, আর বসে থাকা নয়, জ্বলে উঠুন

  1. আর দেরী নয়, জেগে উঠুন,

    আর দেরী নয়, জেগে উঠুন, প্রতিবাদ করুন, করতে শিখুন।
    দেখা হবে রাজপথে, কথা হবে চেতনায়।
    জেগেছে তরুণ রুধিবে কে আয়?

    :আমিওআছি: :আমিওআছি: :আমিওআছি:

  2. আর দেরী নয়, জেগে উঠুন,
    আর দেরী নয়, জেগে উঠুন, প্রতিবাদ করুন, করতে শিখুন।
    দেখা হবে রাজপথে, কথা হবে চেতনায়।
    জেগেছে তরুণ রুধিবে কে আয়?

    :salute: :salute: :salute: :salute: :salute:
    সহযোদ্ধাদের…

  3. জয় বংলা!! আমরা আবার একত্রিত
    জয় বংলা!! আমরা আবার একত্রিত হয়ে লড়ব সব পিশাচ দের বিরুদ্ধে। সত্যের জয় সর্বদা।

    পাশে আছি ও থাকব।

  4. আর দেরী নয়, জেগে উঠুন,

    আর দেরী নয়, জেগে উঠুন, প্রতিবাদ করুন, করতে শিখুন।
    দেখা হবে রাজপথে, কথা হবে চেতনায়।
    জেগেছে তরুণ রুধিবে কে আয়?

    :আমিওআছি: :আমিওআছি: :আমিওআছি: :আমিওআছি: :আমিওআছি: :আমিওআছি: :আমিওআছি:

    বায় দা ওয়ে চমৎকার উদ্যোগ এবং আহবান। ধন্যবাদ আপনাকে এমন পোস্ট এর জন্য ।

  5. লাখ প্রান আজ জেগেছে এক হয়ে
    লাখ প্রান আজ জেগেছে এক হয়ে রুধিবে তাদের কোন সে জন
    দীপ্ত প্রানে লরে যাবো আমরা আসলে আসুখ মহামরন………

    জয় বাংলা :আমিওআছি:

  6. চলুন অনলাইন এন্ড অফলাইনে
    চলুন অনলাইন এন্ড অফলাইনে ধর্ষক, লম্পট দের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াই। আমরা ২০১৩ সালের মধ্যে এই বাংলাকে ধর্ষকমুক্ত গড়ে তুলি এবং তুলবো

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *