আলহাজ্জ কুতুবউদ্দিন ও একটি কনফিউশনের গল্প

গল্পটা বলার আগে একটা হাদিস বলে নেই আপনাদের।

হযরত আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত; তিনি বলেছেনঃ আমি নবী করিম (সা)কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি আল্লাহর উদ্দেশ্যে হজ্জ সমাপন করলো এবং হজ্জ সমাপনকালে কোন প্রকার অশ্লীল কথা ও কাজে কিংবা গোনাহের কাজে লিপ্ত হলোনা, সে সদ্যজাত শিশুর ন্যায় নিষ্পাপ হয়ে প্রত্যাবর্তন করলো। ( বুখারী)

এই হাদিসটা একটি সহিহ হাদিস।তা নিয়ে যেমন আমার কোন সন্দেহ নেই, আপনাদেরও থাকার কথা না। হাদিসের বর্ননাকারী এবং সংকলনকারী’র নামের দিকে তাকান আরেকবার।

এইবার মূল গল্পে আসি।


গল্পটা বলার আগে একটা হাদিস বলে নেই আপনাদের।

হযরত আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত; তিনি বলেছেনঃ আমি নবী করিম (সা)কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি আল্লাহর উদ্দেশ্যে হজ্জ সমাপন করলো এবং হজ্জ সমাপনকালে কোন প্রকার অশ্লীল কথা ও কাজে কিংবা গোনাহের কাজে লিপ্ত হলোনা, সে সদ্যজাত শিশুর ন্যায় নিষ্পাপ হয়ে প্রত্যাবর্তন করলো। ( বুখারী)

এই হাদিসটা একটি সহিহ হাদিস।তা নিয়ে যেমন আমার কোন সন্দেহ নেই, আপনাদেরও থাকার কথা না। হাদিসের বর্ননাকারী এবং সংকলনকারী’র নামের দিকে তাকান আরেকবার।

এইবার মূল গল্পে আসি।

এক গ্রামে এক মোড়ল থাকতো। নাম ছিলো তার কুতুবউদ্দিন। কিভাবে কিভাবে যেন তার অনেক ক্ষমতা হয়ে গিয়েছিলো। সে শত-হাজার অন্যায়-অবিচার করতো। এমন কোন অপরাধ নেই যা সে করতোনা। সবাই তার অন্যায় মুখ বুজে সহ্য করতো। কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ দিয়ে “ওয়ান” কিংবা “টু”, কোন শব্দই বের করতোনা। কেন যে কেউ তার অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলেনা তা কেউ জানতোনা; শুধু জানতো যে কথা বললেই সবার রবি; মানে ঘ্যাচাং হয়ে যাবে। তাই সবাই এক-প্রকার মেনেই নিয়েছিলো যে এই কুতুব না মরলে তাদের আর রক্ষা নেই! তাই সবাই তার মৃত্যু কামনা করেই ক্ষান্ত দিত। কিন্তু প্রাচীন বাংলা প্রবাদ সত্যি করে দিয়ে কখনোই কুতুবউদ্দিন নামক গরুটি শকুন-রূপী গ্রামবাসীদের দো’য়ায় মরতোনা!

সে গ্রামেরই এক গরীব মহিলা হলো ব্যাটরিনা। পুরো নাম ব্যাটরিনা বাইফ। মধ্যবয়ষ্ক সেই মহিলার একমাত্র কন্যা লীপিকা লাড়ুকোন। বয়স ১৬ বছর ৩ মাস। বাবা আলমান আন মারা গেছে প্রায় এক বছর হতে চললো।
তো অনেক দুঃখ কষ্টে দিন পার করে ব্যাটরিনা আর লীপিকা। লীপিকা প্রতিদিন বইগুলো হাতে করে নিয়ে স্কুলে যায়; আর কুতুব আহরুখ এর চায়ের দোকানে বসে চা খায় আর লীপিকার জন্য অপেক্ষা করে। লীপিকা আসতেই সে লুঙ্গী কাছা দিয়ে লাফ দিয়ে উঠে দাঁড়ায়। তারপর লীপিকার পেছন পেছন শীষ দিতে দিতে পিছু নেয়। ভয়ে আধ-মরা হয়ে যায় লীপিকা। কিন্তু কিছু বলতে পারেনা। রাস্তার সবাই তখন পকেট থেকে টিনের চশমা বের করে চোখে দিয়ে হাটাহাটি করে।

এমনই এক টিপিকাল দিনে কুতুব লীপিকার পিছু নিয়েছে। কিছুদূর যেতেই হঠাৎ লীপিকার হাত ধরে টান দিয়ে কুতুব রাস্তার পাশে নামিয়ে নিয়ে আশে। পাশেই কুতুবের মালিকানাধীন পাটক্ষেত। লীপিকাকে নিয়ে সে ঢুকে গেল পাটক্ষেতে। আগেই সে সেখান থেকে সব লোক সরিয়ে নিয়েছিলো। লীপিকা তখন চিৎকার করছিলো বলে রাস্তার সবাই বিরক্ত হয়ে চোখে টিনের চশমার পাশাপাশি কানেও হেডফোন গুঁজে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিলো।

ফলে যা হওয়ার তাই হলো।

কিন্তু কেউ বিচার চায়নি। এর আগেও কুতুবের হাজারও অন্যায়ে কেউ বিচার চায়নি। এইবারই বা চাইবে কেন? কার কাছেই বা চাইবে?
ব্যাটরিনার স্বামী নেই বলে তাদের পক্ষে জোরও নেই কোন। লীপিকা আর ব্যাটরিনা সারাদিন-রাত কাঁদে। কিন্তু কোন ফল হয়না!
সেখানকার জামে মসজিদের ইমাম সামীর সান ছিলো লীপিকার বাবা আলমান এর ঘনিষ্ঠ বন্ধু। সে লীপিকাকে আর তার মা’কে অভয় আর সান্তনা দিয়ে বলতো, “উপরে আল্লাহ আছেন! তিনিই এর বিচার করবেন! শেষ বিচারের দিন!”
অতঃপর লীপিকা আর তার মা ইমাম সাহেবের কথায় বিশ্বাস করে মনে মনে একটু শান্তি পেলো।

১০ বছর পর।

সেই কুতুবই এখনো গ্রামের মোড়ল। কিন্তু এই কুতুব আর সেই কুতুব নেই! এই কুতুব এখন ভীষন ভাবে আল্লাহ-ভীরু পরহেজগার মানুষ। দিন-রাত নামাজ পড়ে নিজের আখিরাতের জন্য আল্লাহর কাছে পানাহ চায়। সে এখন সৎ ভাবে ইনকাম করে। নামাজ-রোজা, যাকাত সবই নিয়মিত ভাবে করে থাকে! এই বছর তার হজ্জ করতে যাওয়ার ইচ্ছা! সব ব্যাবস্থা কমপ্লিট! এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা!
গ্রামেও এখন শান্তি বিরাজ করে। কুতুন নিজে তো অন্যায় করেইনা; এমনকি অন্যের অন্যায়ও সহ্য করেনা!

তো কুতুব হজ্জে গেলো। নিয়ম করে সব কিছু সম্পাদন করলো ঠিক-ঠাক! আল্লাহ’র কাছে পূর্ববর্তী সকল অপরাধের ক্ষমা চাইলো।
তারপর সে সব শেষে গ্রামে ফিরে আসলো নামের আগে আলহাজ্জ যুক্ত করে।

মহানবী(সা) এর বক্তব্য অনুযায়ী আলহাজ্জ কুতুব এখন সদ্যোজাত সন্তানের মতো পবিত্র। তিনি এখন তার পূর্ববর্তী পাপ-মুক্ত।
তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া করলেন যেন তিনি এই পবিত্র অবস্থায়ই মরতে পারেন! এবং কয়েকদিন পরে তিনি পুরনো সিফিলিসে আবার আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু কোল লক্ষ্য করে লাফ দিলেন।

কিতু তখনও লীপিকা আর তার মা ব্যাটরিনা আল্লাহর কাছে দোয়া করছিলো যাতে আল্লাহ তার বিচার করেন শেষ বিচারের দিনে! তারা দুই হতভাগিনী জানেও যা যে সে হজ্জ করার কারণে সদ্যোজাত সন্তানের মতো পবিত্র হয়ে গিয়েছিলো এবং সেই পবিত্র অবস্থায়ই সে মৃত্যুবরণ করেছে!

তাহলে কি আলহাজ্জ কুতুবের ধর্ষনের শাস্তি হবেনা? লীপিকা তো তাকে ক্ষমা করেনি একটুও! তারা তো শাস্তির জন্য আল্লাহর দিকে চেয়ে দিন-যাপন করছে! কিন্তু আলহাজ্জ কুতুব হয়ে গেলো সদ্যোজাত সন্তানের মতো পবিত্র! কুতুবের পরিনতি কি হবে?

সম্মানিৎ পাঠক-পাঠিকাগণ! আমি বড় কঠিন কনফিউশনে আছি। আমার কনফিউশন দয়া করে যুক্তি-সহকারে দূর করে আমাকে আর লীপিকা আর ব্যাটরিনাকে এই গ্যাড়াকল থেকে উদ্ধার করুন!

২৮ thoughts on “আলহাজ্জ কুতুবউদ্দিন ও একটি কনফিউশনের গল্প

  1. ”ইচ্ছাকৃত ভাবে পাপ করলে সেই
    ”ইচ্ছাকৃত ভাবে পাপ করলে সেই পাপ হজ্জের মাধ্যমে মুছে ফেলা যায় কিনা” এমন প্রশ্ন আমিও একজনকে করেছিলাম। কিন্তু সন্তুষ্ট হওয়ার মত উত্তর পাইনি।

    1. আমিও পাইনি। তাই এই লেখাটা!
      আমিও পাইনি। তাই এই লেখাটা! কিতু কেউ মনে হয় আমাকে উদ্ধার করার ইচ্ছাপোষন করেনা! 🙁 :মাথাঠুকি:

  2. প্রশ্ন আসলেই কনফিউশনে ফেলে
    প্রশ্ন আসলেই কনফিউশনে ফেলে দেয়।
    *******************
    স্বপ্নগুলি এই ফাগুনে কৃষ্ণচূড়া হয়ে ফুটুক।

  3. কনফিউশনে থাকেন আর
    কনফিউশনে থাকেন আর ৰ্ধমগ্রন্থগুলোর বাংলা অনুবাদ পড়েন । মুক্তির পথ অবশ্যই পাবেন । O:-)

  4. ভাই আপনার কনফউশন থাকতে পারে
    ভাই আপনার কনফউশন থাকতে পারে কিন্তু একটা জিনিশ মাথায় রাইখেন ধর্ম কিন্তু ধর্ষনের বিচার করতে বলসে। দশ বছর আগেই কিন্তু আপনার মোড়লের বিচার হয়ে যাবার কথা ছিল। কিন্তু তার বিরুদ্ধে কেউ দাঁড়ায় নাই বইলা সে পার পাইয়া গেসে।এখন এইটার দোষ কারে দিবেন???
    যাক সেই কথা পরে। আমার কথা হইল ধর্ম হইল বিশ্বাস।আর আমি বিশ্বাস করি ধর্ষনকারীর হাজ্জ কবুল হবে না কিন্তু সব কথার শেষ কথা আল্লাহই এইটা ভাল বলতে পারবেন।

    1. আপনার প্রথম কথাটা আমি গ্রহণ
      আপনার প্রথম কথাটা আমি গ্রহণ করলাম। মানুষ চায়নাই তাই বিচারও হয়নাই। সেইজন্যেই আল্লাহর বিচারের কথা আসতেছে। আবার আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেয়ার জন্যও ব্যবস্থা রেখেছেন। কারণ

      হযরত আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত; তিনি বলেছেনঃ আমি নবী করিম (সা)কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি আল্লাহর উদ্দেশ্যে হজ্জ সমাপন করলো এবং হজ্জ সমাপনকালে কোন প্রকার অশ্লীল কথা ও কাজে কিংবা গোনাহের কাজে লিপ্ত হলোনা, সে সদ্যজাত শিশুর ন্যায় নিষ্পাপ হয়ে প্রত্যাবর্তন করলো। ( বুখারী)

      এখানে শর্ত হলো হজ্জ অবশ্যই আল্লাহর উদ্দেশ্যে করতে হবে এবং হজ্জ সমাপনকালে অশ্লীলতা এবং গোনাহ থেকে বিরত থাকতে হবে।

      এই কুতুব এখন ভীষন ভাবে আল্লাহ-ভীরু পরহেজগার মানুষ। দিন-রাত নামাজ পড়ে নিজের আখিরাতের জন্য আল্লাহর কাছে পানাহ চায়। সে এখন সৎ ভাবে ইনকাম করে। নামাজ-রোজা, যাকাত সবই নিয়মিত ভাবে করে থাকে!

      দেখা যাচ্ছে কুতুব এখন ইসলামের পথে আসতে চায়। সে আল্লাহর হক এবং আল্লাহর সৃষ্টির হক আআয় করে। সে এখন সবদিক দিয়েই ভালো। তাহলে কি বাধার কারণে কুতুবের হজ্জ কবুল হবেনা? সে তো সবসময়ই আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায়। সে আল্লাহর উদ্দেশ্যেই হজ্জ পালন করেছে। কেন তার হজ্জ কবুল হবেনা?

  5. কোরআন শরীফে একটা কথা বার
    কোরআন শরীফে একটা কথা বার বার বলা আছে “আল্লাহ ক্ষমাশীল ও অসীম দয়ালু, তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন এবং যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেন ” — সূরা আল ইমরান
    আয়াত ১২৯

    কি আর কমু, আপনার উত্তর বোধ হয় পাইছেন ।।

    1. আল্লাহ অবশ্যই যাকে ইচ্ছা
      আল্লাহ অবশ্যই যাকে ইচ্ছা শাস্তি আর যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন।
      কিন্তু কথা হইলো যদি শুধুই ইচ্ছার ব্যাসিসে আল্লাহ শাস্তি আর ক্ষমা করতেন, তাহলে এতো নিয়ম-কানুন দিয়ে দিতেন না। যে যার মত আকাম-কুকাম বা সৎকাজ করতো; তারপর আল্লাহ ডেকে ডেকে তাদের ইচ্ছা মতো বিচার করতেন।

      আমার কনফিউশনটা কোথায় তা বোধ আপনি বুঝতে পারেননি।
      আমি বলতে চাই যে আল্লাহ মানুষের পেছনের জীবনের যাবতীয় গোনাহ মাফ করিয়ে নেবার যে একটা সুযোগ রেখে দিয়েছেন, সেটা ঠিক কিরকম হবে? কুতুব কিন্তু ইসলামের পথে তার শেষ জীবনে মন থেকেই এসেছিলো। গল্পটার শেষাংশ আবার পড়তে অনুরোধ করবো!

  6. আপনার confusion তো আপনি নিজেই
    আপনার confusion তো আপনি নিজেই দূর করতে পারেন| গল্পের অবতারণার দরকার কি? প্রত্যেক মুসলমানের উচিত পবিত্র কুরআন ও হাদিস পড়া ও বুঝা| হাদিস টার শুরুতে লেখা আছে “আল্লাহ’র উদ্দেশ্যে”, এর মানে হচ্ছে আল্লাহ’র সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে| এখন আমি যদি মনে করি যে, সারা জীবন নামাজ কলমা কিছুই পরলাম না, রোজা রাখলাম না, গরীবকে যাকাত দিলাম না, এতিমের হক আদায় করলাম না, গরিব প্রতিবেশীকে অভুক্ত রেখে নিজেই খেলাম শুধু, ওজনে কম দিলাম, আমানতের খেয়ানত করলাম, মদ খেলাম, মেয়েদের নিয়ে ফুর্তি করলাম, তারপর জুয়া খেলায় যে পয়সা জিতলাম, সেটা দিয়ে হজ্জ্ব করে আসলাম, আর যেই কয়দিন হজ্জ্বে থাকলাম, লক্ষী ছেলে হয়ে থাকলাম, তাতেই হয়ে গেল, সেটা কিন্তু না| আল্লাহ’র সন্তুষ্টি বা বিচার কি এতই সোজা? কিন্তু কথা হচ্ছে আমি আপনাকে যতই বুঝাই আপনি কিন্তু না বুঝার জন্যই তৈরী হয়ে আছেন| আমি বললেই কি আপনি কুরআন ও হাদিস পড়বেন? না| তবে পড়ে দেখলে ভালো হয়| এতটুকু বলতে পারি, অবাক হবেন| আর কি লাভ ধর্ম নিয়ে হাসাহাসি করে? অনেক তো হলো| এবার আসুন না ক্রিয়েটিভ কিছু নিয়ে লিখি? যার যার ধর্ম বিশ্বাস তার তার কাছে থাক| আস্তিক হওয়া যদি আমার পছন্দ হয়, তেমনি সৃষ্টিকর্তাহীন পৃথিবী কল্পনা করাও আপনার স্বাধীনতা| কিন্তু একে অপরকে হেয় করে এ পর্যন্ত কোনো লাভ হয়েছে কি? আমি কি খুব ভুল কথা বললাম?

    1. কিন্তু কথা হচ্ছে আমি আপনাকে

      কিন্তু কথা হচ্ছে আমি আপনাকে যতই বুঝাই আপনি কিন্তু না বুঝার জন্যই তৈরী হয়ে আছেন| আমি বললেই কি আপনি কুরআন ও হাদিস পড়বেন? না| তবে পড়ে দেখলে ভালো হয়| এতটুকু বলতে পারি, অবাক হবেন| আর কি লাভ ধর্ম নিয়ে হাসাহাসি করে? অনেক তো হলো| এবার আসুন না ক্রিয়েটিভ কিছু নিয়ে লিখি? যার যার ধর্ম বিশ্বাস তার তার কাছে থাক| আস্তিক হওয়া যদি আমার পছন্দ হয়, তেমনি সৃষ্টিকর্তাহীন পৃথিবী কল্পনা করাও আপনার স্বাধীনতা| কিন্তু একে অপরকে হেয় করে এ পর্যন্ত কোনো লাভ হয়েছে কি? আমি কি খুব ভুল কথা বললাম?

      হতাশ হলাম ভাই। খুবই! আপনি আমাকে প্রতিপক্ষ ধরেই বক্তব্য লেখা শুরু করেছেন। আপনি বোঝালে আমি বুঝবোনা কেন? যথেষ্ট এবং অকাট্য যুক্তি থাকলে আমি কেন বুঝবো না? আমি আমার কনফিউশন দূর করার জন্যই এই লেখাটা দিয়েছি এইখানে। আর আমি মোটেও ধর্ম নিয়ে হাসাহাসি করিনি। কাউকে হেয় করিনি। সৃষ্টিকর্তাহীন পৃথিবীও আমি কল্পনা করিনা। শেষ লাইন দ্রষ্টাব্য। সো দেখা যাচ্ছে যে আমি আমার লেখায় কাউকে আক্রমন না করলেও আপনি ঠিকই আপনার মন্তব্যে আমাকে আক্রমন করে বসে আছেন।
      ভাই! আসেন না আপনি আপনার যুক্তিগুলো উপস্থাপন করেন আর আমি আমারগুলো করি!
      আমি আবারো বলছি, আমি নাস্তিক না। ইসলাম ধর্মে বিশ্বাস করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। ক্লাস ৪ থেকে সবগুলো রোজা রাখি। ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি। আপনি না বললেও কুরআন এবং হাদিস পড়ি।
      আশা করি আমাকে নিয়ে আপনার কনফিউশন দূর হইছে!

      এই কুতুব এখন ভীষন ভাবে আল্লাহ-ভীরু পরহেজগার মানুষ। দিন-রাত নামাজ পড়ে নিজের আখিরাতের জন্য আল্লাহর কাছে পানাহ চায়। সে এখন সৎ ভাবে ইনকাম করে। নামাজ-রোজা, যাকাত সবই নিয়মিত ভাবে করে থাকে! এই বছর তার হজ্জ করতে যাওয়ার ইচ্ছা! সব ব্যাবস্থা কমপ্লিট! এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা!
      গ্রামেও এখন শান্তি বিরাজ করে। কুতুন নিজে তো অন্যায় করেইনা; এমনকি অন্যের অন্যায়ও সহ্য করেনা!

      কুতুব কিন্তু ভালো ভাবে ইসলামিক ওয়েতে এখন জীবন যাপন করে। সে কিন্তু ভালো হয়ে যেতে চায়।
      তাহলে কি আপনি বলতে চান যে সে এখন ভালো হয়ে যেতে চাইলেও পারবেনা? আল্লাহ তাকে সেই সুযোগ দিবেন না?

      প্লিজ আবার আক্রমন না করে আলোচনা করুন। ধয়বাদ।

      1. আমার বক্তব্য যদি আক্রমনাত্বক
        আমার বক্তব্য যদি আক্রমনাত্বক হয়ে থাকে তাহলে আমি দুঃখিত। আমি ভুল ধারনা নিয়ে আমার মতামত দিয়েছিলাম। সে জন্যেও দুঃখিত। কিন্তু কোরান-হাদিসেই ত আপনি আপনার প্রশ্নের উত্তর পেতে পারেন। তবে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি দেখলে বলতে হয়, হেদায়েতের মালিক আল্লাহ। কে হেদায়েত পেল বা কে পেল না সেটা আমি আপনি কেওই বলতে পারব না। তবে “ইসলাম ধর্মে বিশ্বাস করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি” এই কমেন্ট টা আমার জন্য একটু কনফিউজিং ছিল। কারন মানেটা এরকম দাড় করানো যায় যে, কোন একটা ধর্ম আছে যেটাতে আপনি কম হলেও স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন। আবার হয়ত আরো অন্য মানেও দাড় করানো যায়। কিন্তু এতে তর্ক চলতেই থাকবে। শেষ কথা, একটা কাল্পনিক গল্প এই ব্লগে লিখে উত্তর চাওয়ার মানে কি? অনেক ইসলামিক সাইট আছে যেখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করে উত্তর খুঁজতে পারেন, তাই না? আপনি নিজেই জানেন এখানে আপনি উত্তরের চেয়ে বিতর্কই বেশি পাবেন। এখন আপনার উদ্দেশ্য আপনিই ভাল জানেন, অর্থাৎ আপনি কোনটা চান, বিতর্ক নাকি উত্তর?

        1. ভাই এইটাই প্রথম না! কোন
          ভাই এইটাই প্রথম না! কোন ইসলামিক সাইটে এই প্রশ্ন করিনি কারণ আমি অলরেডি বিভিন্ন হুজুরের কাছে সরাসরি এইটা জিজ্ঞেস করেছি। তারা বেশিরভাগই কথা শুরু করেছে অনেকটা এইভাবে “বুঝলা বাবা, তোমরা যারা নাস্তিক…”
          তাদের ধারণা ইসলাম ধর্মের কোন বিষয় নিয়েই বিতর্ক করা যাবেনা। করলেই নাস্তিক হয়ে যেতে হবে। ইসলাম ধর্ম নিয়ে আলোচনা-সমালোচনাও যেন ট্যাবু। খুব সংগত কারণেই আমার এমন লোক দরকার যে কিনা একইসাথে মুক্তমনা এবং ইসলামিক জ্ঞান-সম্পন্ন। এইধরনের মানুষ ব্লগ ছাড়া আর কই পাবো ভাই?
          আর ভাই, বিতর্ক এড়িয়ে গেলে কিভাবে হবে? যেখানে যুক্তি এবং পালটা যুক্তির স্কোপ আছে, সেখানে বিতর্ক তো হতেই পারে! আমি বিতর্কের মাধ্যমে যৌক্তিক উত্তর চাই!

          আর গল্পটা কি খুব বেশি কাল্পনিক? আমি তো খুব বেশি কল্পনা মেশাইনি!

  7. আপনি আমার কমেন্টিও বুঝেন
    আপনি আমার কমেন্টিও বুঝেন নি । আপনি কেন বুঝতে পারছেন না ধর্ম কে যুক্তি দিয়ে খন্ডন করা যায় না অথবা যুক্তি দিয়ে ধর্ম । যুক্তি ও ধর্ম পরস্পর সাংঘর্ষিক । আরো স্পষ্ট করে বলতে গেলে সবই ধর্মের নামে ভন্ডামী ।।

  8. আপনি আমার কমেন্টিও বুঝেন
    আপনি আমার কমেন্টিও বুঝেন নি । আপনি কেন বুঝতে পারছেন না ধর্ম কে যুক্তি দিয়ে খন্ডন করা যায় না অথবা যুক্তি দিয়ে ধর্ম । যুক্তি ও ধর্ম পরস্পর সাংঘর্ষিক । আরো স্পষ্ট করে বলতে গেলে সবই ধর্মের নামে ভন্ডামী ।।

  9. আপনি আমার কমেন্টিও বুঝেন
    আপনি আমার কমেন্টিও বুঝেন নি । আপনি কেন বুঝতে পারছেন না ধর্ম কে যুক্তি দিয়ে খন্ডন করা যায় না অথবা যুক্তি দিয়ে ধর্ম । যুক্তি ও ধর্ম পরস্পর সাংঘর্ষিক । আরো স্পষ্ট করে বলতে গেলে সবই ধর্মের নামে ভন্ডামী ।।

    1. আপনার অবস্থানটা তখন ক্লিয়ার
      আপনার অবস্থানটা তখন ক্লিয়ার ছিলোনা! :ভেংচি:
      এখন ক্লিয়ার! :থাম্বসআপ:

  10. থিম ভালো হয়েছে। জটিল প্রশ্ন
    থিম ভালো হয়েছে। জটিল প্রশ্ন তুলেছেন। আশা করি জ্ঞানী আলেমগন ইহার জবাব দিতে পারিবে!

    কিন্তু একটি জিনিশ দেখে দেখে ত্যক্ত বিরক্ত হয়ে গেছি। লেখার শেষে যোগ করে দেওয়া, ” আমি নাস্তিক না, আস্তিক”
    অন্য মানুষের চিন্তা দিয়ে আপনাদের এতো যায় আসে কেন বুঝি না।

    1. উমমম…হুম! আমার নিজেরও এখন
      উমমম…হুম! আমার নিজেরও এখন ত্যাক্ত বিরক্ত লাগতাছে। ফাউল হইছে পুরা! :/
      কিছু মনে করেন না, মুছে দিলাম ঐ লাইন। অন্য মানুষের চিন্তা দিয়া আমার কিছুই আসে যায়না!
      আপনেরে :ধইন্যাপাতা:

    1. দুঃখিত। আমার নিজের কাছেই
      দুঃখিত। আমার নিজের কাছেই হাস্যকর লাগায় ঐ লাইন রিমুভ করলাম। আপনারে :ধইন্যাপাতা:

    1. দুঃখিত। আমার নিজের কাছেই
      দুঃখিত। আমার নিজের কাছেই হাস্যকর লাগায় ঐ লাইন রিমুভ করলাম। আপনারে :ধইন্যাপাতা:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *