স্বাধীনতার অপর নামই নৈরাজ্য। এ ছাড়া মুক্তি পাওয়া অসম্ভব। – লুসি পারসন্স ।

সময়টা ১৯২০ সালের মাঝামাঝি। শিকাগো পুলিশ প্রেস ব্রিফিং করবেন। নৈরাজ্যবাদীদের নিয়ন্ত্রণ করতেই হিমশিম খাওয়া কথা পুলিশ সাংবাদিকদের মাধ্যমে দেশবাসীকে জানাবেন। দেশবাসীও বসে আছে টিভি পর্দার সামনে। যাদের পুলিশ বলছে নৈরাজ্যবাদী। তারা অনেকের চোখে বিপ্লবী। আবার অনেকে বলে দাঙ্গাবাজ।

পুলিশ কর্তৃপক্ষ সাংবাদিকদের সামনে আসলেন। হাতে কাগজ। সে কাগজে একজন নারীর ছবি। তার নাম লুসি পারসন্স। পুলিশ ব্রিফিংয়ে ছবিটি দেখিয়ে বললেন, এ নারীর নাম লুসি পারসন্স। একা লুসিই হাজার হাজার দাঙ্গাবাজদের চেয়েও ভয়ংকর।


সময়টা ১৯২০ সালের মাঝামাঝি। শিকাগো পুলিশ প্রেস ব্রিফিং করবেন। নৈরাজ্যবাদীদের নিয়ন্ত্রণ করতেই হিমশিম খাওয়া কথা পুলিশ সাংবাদিকদের মাধ্যমে দেশবাসীকে জানাবেন। দেশবাসীও বসে আছে টিভি পর্দার সামনে। যাদের পুলিশ বলছে নৈরাজ্যবাদী। তারা অনেকের চোখে বিপ্লবী। আবার অনেকে বলে দাঙ্গাবাজ।

পুলিশ কর্তৃপক্ষ সাংবাদিকদের সামনে আসলেন। হাতে কাগজ। সে কাগজে একজন নারীর ছবি। তার নাম লুসি পারসন্স। পুলিশ ব্রিফিংয়ে ছবিটি দেখিয়ে বললেন, এ নারীর নাম লুসি পারসন্স। একা লুসিই হাজার হাজার দাঙ্গাবাজদের চেয়েও ভয়ংকর।

লুসি পারসন্স তখন আন্দোলনে ব্যস্ত। শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে মাঠে ময়দায়ে মানুষ জড়ো করছেন। তার স্বামীও আট ঘণ্টা কাজ করার নিয়ম আদায়ের জন্য সংগ্রাম করছিলেন।

এর আগে লুসি পারসন্সের হাত ধরেই ১৮৮৩ গঠন হয় ইন্টারন্যাশনাল ওয়ার্কিং পিপলস অ্যাসোসিয়েশন। এ সংগঠনটির মাধ্যমেই তিনি আরও কৌশলী হওয়ার চেষ্টা করেন।

শ্রমিক আন্দোলনকে আরও বেগমান করতে লুসির চেষ্টার শেষ নেই। তিনি প্রচুর পড়াশোনা করতেন। একই সঙ্গে বই লেখার দিকেও মনোযোগ দেন। তিনি ১৮৯২ সালের দিকে একটি পত্রিকাও বের করতেন।

এর মাধ্যমে বিপ্লবী চেতনা ছড়ানোর চেষ্টা করতেন। তিনি নিজেকে নৈরাজ্যবাদী কমিউনিস্ট বলেও দাবি করতেন। তবে তাদের নৈরাজ্য ন্যায়ের জন্য। এ কথাও বিভিন্ন সময়ে আন্দোলনে বোঝানোর চেষ্টা করতেন লুসি।

যুক্তরাষ্ট্রে ১৮৫৩ সালে জন্ম নেওয়া লুসির পরিচয় একজন শ্রমিক। যিনি নৈরা্জ্যবাদী আদর্শে নিজেকে দাবি করেন। অসাধারণ বক্তা লুসিকে এখনও মে মাসজুড়ে বিশ্বব্যাপী স্মরণ করা হয়।

লুসি পারসন্স ১৯১৩ সালে নৈরাজ্যবাদীদের নিয়ে শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে একটি অসাধারণ বক্তৃতা দেন। তার বক্তৃতাটি সংক্ষিপ্ত আকারে প্রকাশ করা হলো।

আমি নৈরাজ্যবাদী হিসেবেই এখানে আসলাম। আমি নিশ্চিত আপনারা অনেকেই নৈরাজ্যবাদীরা দেখতে কেমন সে আগ্রহ নিয়েই এসেছেন। অনেকেই ভেবেছেন আমার এক হাতে বোমা থাকবে। আপনারা নিশ্চই হতাশ হয়েছেন? আসলে আপনাদের ধারণার কারণেই হতাশ হয়েছেন। সত্যি কথা হলো, নৈরাজ্যবাদীরা শান্তিপ্রিয়। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা নিয়েই চলাফেরা করে।

আপনারা কি আমাদের দেখে অবাক হন না? এ স্বাধীন দেশে কেন নৈরাজ্যবাদীদের জন্ম হলো? কারও মনে কি কখনও প্রশ্নও জাগে না? কিংবা কখনও মনে হয় না এ দেশে নৈরাজ্যবাদীদের প্রয়োজনই বা কি?

দয়া করে নিউইয়র্ক যান। অসাধারণ এ শহরে ঘুরে বেড়ান। ঘুরে বেড়ানোর সময় গুনে দেখুন কত মানুষ বাড়িঘর ছাড়া রাস্তায় পড়ে আছে। একজন দাসের চেয়েও নিম্নভাবে তারা বাস করছে। তাদের দিয়ে কাজ করিয়ে নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু ন্যায্য মূল্য তারা পাচ্ছে না।

আমাদের দেশের সরকার এমনকি অর্থনৈতিক ভিত যাদের দিয়ে তৈরি করা হয়, তারাই অভাবে অনাহারে মৃত্যুকূপে নিমজ্জিত হচ্ছে।

অন্যদিকে শিকাগোবাসী বিশ্বাসই করেনা আমাদের। তারা মনে করে নৈরাজ্যবাদীদের কোনো প্রয়োজন নেই। তারা আইন তৈরি করে আমাদের ফাঁসি চায়। আপনারা শুনেছেন আমাদের ওপর বোমা হামলার কথা। শুনেছেন কিভাবে অন্যায়ভাবে আমাদের সহযোদ্ধাদের গ্রেফতার করা হয়। শুনেছেন কিভাবে গোয়েন্দা লাগিয়ে আমাদের স্বাভাবিক জীবন অস্থিতিশীল করে তোলা হয়।

আমরাও নাগরিক। যখন আমাদের ওপর বোমা নিক্ষেপ করা হয় তখন পুলিশ বলে, তারা আইন রক্ষা করছিল। কিন্তু সেই পুলিশের হাত থেকে বাঁচার জন্য যখন আমরা হামলা চালাই তখন বলা হয় আমরা দেশের ওপর হামলা চালিয়েছি।

আসলে আমরা দেশের ওপর কোনো হামলা চালাইনি। আমরা হামলা চালিয়েছি সেই সিস্টেমে। যারা আমাদের অধিকার দিতে চায় না। যে সিস্টেম আমাদের দম বন্ধ করে মেরে ফেলতে চায়।

তারা বলতে চায় আমরা নাকি এ দেশকে ধ্বংস করে দিতে চাই। আবার তারাই বলে, আমাদের হাতে একটি দুটি বোমা থাকে। তাহলে আমার প্রশ্ন, এ একটি-দুটি বোমা দিয়ে কি এতো বড় দেশ আমরা ধ্বংস করতে পারবো? এগুলো হাস্যকর অভিযোগ। যে অভিযোগ বারবার আমাদের ওপর চাপিয়ে প্রশাসন সুযোগ নিতে চায়।

আমাদের পতাকা লাল ও কালো রঙের সমন্বয়ে তৈরি। এ রং অত্যন্ত ভয়ংকর। এটা দিয়ে কি বোঝায়? তবে আমাদের পতাকা ভাতৃত্ববোধের প্রতীক। এ পতাকা যখন বিশ্বজুড়ে উড়বে তখনই আমাদের ত্যাগ সফল হবে।

আমরা স্বপ্ন দেখি যখন প্রতিটি মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলবে। তখনই এ ধরণী থেকে উঠে যাবে বেশ্যাবৃত্তি, দাসত্ব আর ক্ষুধা।

স্বাধীনতার অপর নামই নৈরাজ্য। এ ছাড়া মুক্তি পাওয়া অসম্ভব। ভয় পেও না তোমরা। বিপ্লবী হও। নিজেকে মুক্ত করো। তা না হলে তুমি ও তোমার ভবিষ্যৎ প্রজন্ম দাস হয়েই থাকবে।

মনে রেখো, মুক্ত হওয়ার জন্য কিছুটা মূল্য তো তোমাকে দিতেই হবে। যদি সে মূল্য তুমি দিতে না পারো তবে বিশ্বের সবচেয়ে লজ্জাকর ব্যক্তিটি হবে তুমি নিজেই।

ধুলোবালি থেকে নিজের পতাকা রক্ষা করো। আমাদের তরুণদের নায়ক হওয়ার সুযোগ তোমরাই দিতে পারো। তারা কোনো নৈরাজ্য করবে না। তারা সব সিস্টেম ভেঙে দেবে স্বাধীনতার জন্য। এ জন্য যদি কেউ আমাদের নৈরাজ্যকারী বলে। তবে আমরা নৈরাজ্যকারী। আমরা নৈরাজীবাদী !

৪ thoughts on “স্বাধীনতার অপর নামই নৈরাজ্য। এ ছাড়া মুক্তি পাওয়া অসম্ভব। – লুসি পারসন্স ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *