পূর্নিমার ৫৫ দিনের আমাবশ্যা….!!!

পরীক্ষার ফলাফল হাতে নিয়ে আনন্দশ্রুসিক্ত মেয়েটি বাবাকে প্রনাম করে বলেছিলো বাবা আমি এ প্লাস পেয়েছি।এবার কিন্তু বলতে পারবে না পরের বছর নিয়ে যাবে কক্সবাজার। এবার আমরা মা,দিদি সবাইএকসাথে মিনিমাম এক সপ্তাহের জন্য কক্সবাজার বেড়াতে যাবোই যাবো। বাবা মেয়েকে বলেছিলো সেদিন মা তুই সমাপনী পরীক্ষায় যেমন ফলাফল করেছিস, আমি চাই তোর জীবনের সকল পরীক্ষায় এমন ভালো ফলাফল করে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হবি, নিজের পায়ে দাড়াবি। এ সমাজে আমাদের পরিচয়টা এমন যে আমারা এক ধরনের পরগাছা হয়ে আছি । এ দেশ যেনো আমাদের কিছু না। আমি চাই তোকে হিন্দু হিসেবে কেউ যেন তুচ্ছতাচ্ছিল্য করতে না পারে বরং বাঙালি হিসেবে এ জাতি গর্ব করে। সেদিন বাবা মেয়ে দুজনেই কেদে ছিলো যুগপৎ কখনো পরমানন্দে আবার কখনো পরমদুঃখে নিজেদেরকে পরগাছা মনে করে।
বাবা মায়ের স্বপ্নের সিড়ির প্রতিটি সিড়িতে আস্তে আস্তে করে এগোবার স্বপ্নে ভর্তি হয়েছিলো ক্লাস সিক্সে। যথারীতি স্কুলে যাচ্ছিলো মেয়েটি নিয়মিত। যে পথে হেটে এই মেয়েটি স্কুলে যাচ্ছিলো, সেই পথের প্রতিটি মাটি কনা হয়তো দেখেছে কি অদ্ভুত সুন্দর স্বপ্ন লালন করে মেয়টি প্রতিদিন স্কুলে যেতো। তার চোখে মুখের অভিব্যাক্তি ছিলো হয়তোবা একজন আদর্শ বাঙালি হবার। প্রতিদিনের মতো বুক ভরা স্বপ্ন নিয়ে আজো স্কুলে যাচ্ছে। হঠাত পথে………………

৫৫ দিন পর পুলিশ কক্সবাজার থেকে একটি অপহৃত মেয়েকে উদ্ধার করে। মেয়েটির বয়স ১১ বছর। যে মেয়েটি কিনা গনধর্ষনের স্বীকার হয়েছে।মেয়েটির বাড়ি গাজীপুর।

ডট ডট লাইনের পর আর শেষের তিন লাইনের মাঝে ঘটে যাওয়া ঘটনার বর্ননা দিতে বুকে একধরনের বিষাক্ত ব্যাথা ঢুকে পরলো। যা কিনা বুকের প্রতিটি হাড়কে একটি চির চির ব্যাথায় কাপিয়ে বলে দিলো তোর মতো একজন পুরুষ এই ১১ বছরের কিশোরীকে দিনের পর দিন রাতে পর রাত একধরনের মরণ যন্ত্রনা দিয়েছে। যে যন্ত্রনাতে ঐ পশুটি পেয়েছে নিরীহ হরিনের মাংশ খাওয়ার স্বাদ কিন্তুটি বাচ্চাটি পেয়েছে ব্রিটিশ আমলে অপরাধীকে চার হাত পা চার দিকে দড়ি দিয়ে বেধে চারটি ঘোড়া দিয়ে চারদিকে টেনে দেয়ার মতো নির্মম অত্যাচার। যেখানে বাচ্চাটি চিতকার করেও কাদতে পারেনি আবার নীরবে সহ্য করতে পারেনি। নীরবে সহ্য করার মতো বয়স যে সে মেয়েটির ছিলো না তা ঐ হিংশ্র পশুর বোধগম্য নয়। বাচ্চাটি হয়তোবা তার হিংস্র চোখের দিকে তাকিয়ে শুধুই অঝোর নয়নে কেদেছিলো আর বলেছিলো আমাকে ছেড়ে দিন আমি জীবনে অনেক বড় হতে চাই। আমাকে নিয়ে সারা জাতি গর্ব করবে। কিন্তু ৫৫ দিন পর ঐ পশুটি তাকে উপহার দিয়েছে সমাজের ঘৃনা, অপবাদ আর টাকার বিনিময়ে হরিনের মাংশো বিক্রেতা হবার। এ সমাজ বড় ভয়ঙ্কর, এখানে যে ধর্ষিত হয়েছে তাকে ঘৃনার চোখে দেখলেও রাতে ঠিকই তাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখে কাপড় ভিজায় আর চিন্তা করে ৫৫ দিন একটানা কচি হরিনের মাংশো……।

মেয়েটির স্বপ্নের কক্সবাজার ঠিকই যাওয়া হয়েছে তবে বাবা মায়ের সাথে নয় কিছু ভুখা কুকুরের সাথে চোখ মুখে কাপড় বেধে। সমুদ্র দেখা হয়নি, তবে দেখা হয়েছে একবিংশো শতাব্দীতে কিছু প্রাপ্ত বয়স্ক পশুদের বর্বরতা, ৫৫ দিনের টানা গনধর্ষন। এ গল্পই হয়তোবা গাজীপুরের পূর্নিমার ৫৫ দিনের আমাবশ্যা।

২ thoughts on “পূর্নিমার ৫৫ দিনের আমাবশ্যা….!!!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *