পরিশুদ্ধির অপেক্ষা…




ফযরের আযানের শব্দে ঘুম ভেংগে গেলো ওমির। মাত্রই চোখটা লেগেছিলো আর অমনি আযানের শব্দে ঘুমটা ভেংগে গেলো।“ধুর বাল!” বলে সাথে সাথেই তওবা কাটল ওমি। ছিঃ আযানের শব্দের সাথে সে গালি উচ্চারন করলো! মিজান ভাই বলেছেন যে, “নামাজ না পড়লে আর কোনো উপাসনাই কবুল হবেনা। আমাদের মহানবী যুদ্ধের মাঝেও নামাজ পড়তেন। যুদ্ধের সময় দুইভাগে ভাগ হয়ে এক ভাগ পাহাড়াতে থাকতেন আর আরেকভাগ নামাজ পড়তেন। এখনও নবীর দেশ সৌদিয়ারবে নামাজের সময় সব কাজ বন্ধ রাখার নিয়ম আছে। আগে নামাজ পরে অন্য কাজ।” আহা, এই মিজান ভাইয়ের মতো কাউকে যদি ছোটবেলা থেকেই মেনটর হিসাবে পাওয়া যেতো। অথচ তার পরিবারে কেউ একবারও এই নামাজের/জেহাদের গুরুত্বের কথা ত বলেইনি। উল্টো আপু আছে সারাদিন হিন্দি সিনেমা নিয়ে,আব্বু-আম্মুর ত দেখাই পাওয়া যায়না। আব্বু কখন বের হয় আর কখন আসে সেটি নিজেও জানেনা। একই বাসায় থেকে আব্বুর সাথে হয়ত মাসে একবার দেখা হয়। আম্মুর সাথেই বা কতবার দেখা হয়।সেই ক্লাস সিক্স থেকেই ত ভর্তি হয়ে রেসিডেন্সিয়ালের হলে থেকে মানুষ। ছুটি-ছাটাতে বাড়িতে আসলেও হেন অনুষ্ঠান ,ত্যান অনুষ্ঠান নিয়েই ব্যাস্ত আম্মু সেই ছোটবেলা থেকেই। মনে আছে কলেজে যখন এইচএসসিতে এ প্লাস পেয়ে রেসিডেন্সিয়ালের হল থেকে কল করে আব্বুকে জানিয়াছিলো সে তখনা আব্বু তাকে পাল্টা প্রশ্ন করে, “বাবা তুমি যেনো কি পরীক্ষা দিয়েছো?” বন্ধুরা এখনও তাকে এইটি নিয়ে ক্ষ্যাপায়। এরপর বুয়েটে ভর্তি হবার স্বপ্ন ভাংগার পর আব্বু তাকে ভর্তি করিয়ে দেয় নর্থ-সাউথে। এইটা কি বিশ্ববিদ্যালয়? সেইদিন মিজান ভাই সাইদি হুজুরের একটি ওয়াজ শুনিয়েছিলেন। কি সুন্দর চেহারা সেই হুজুরের। কথা বলার সময় যেনো নূরের ঝলক বের হয়। হুজুর মনে হয় জাহাংগির নগর বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে কথা বলছিলেন, “ছেলে-মেয়েরা সবাই চিপায়-চাপায় গিয়ে বসে থাকে। পড়ালেখা করতে পাঠাইছে বাপ-মায়ে আর হেরা গাছের চিপায় কি করে? বলি,এইটা কি “বিশ্ববিদ্যালয়” নাকি “বেশ্যাবিদ্যালয়”?” জাহাংগির নগর দেখেই হুজুর যদি এই কথা বলেন তাহলে আমাদের ভার্সিটি দেখলে হুজুর কি বলবেন? মেয়েগুলা সব যে ড্রেস পরে তাতে বুক/পিঠ সবই দেখা যায়। আস্তাগফিরুল্লাহ। প্রথম প্রথম এইগুলা দেখে মজাই লাগত। রাতে পর্নোগ্রাফিতে হয়ত শিলা বা মিলার মুখটি কল্পনাতে আনত। কিন্তু তার সেই সকল ভুল ভেংগে দেয় এই মিজান ভাই। ভাইয়ার চেহারাটাতেও পুরা কবি কবি একটা ভাব। যদিও তিনি কবিদের একদমই দেখতে পারেন না। কবিদের মধ্যে শুধু নজরুল বা ফররুখ আহমেদের কথাই বলেন তিনি। বাকি সব “মালাউন” আর “কাফের”। .রবীন্দ্রনাথ বা শামসুর রহমান। সব হারামজাদা কাফের-নাস্তিকদের দল। এরাই বাংলাদেশের এই হালের জন্য দায়ী। ভাইয়া কতকিছু জানেন! “এতদিনের এত পাপ কি আল্লাহ্‌ মাফ করবেন?” একদিন চা খেতে খেতে ভার্সিটির ক্যাফেটেরিয়াতে প্রশ্ন করেছিলো ওমি। “আল্লাহ্‌ মহান। আল্লাহ্‌র মন এই মহাবিশ্বের চাইতেও বিশাল। আল্লাহ্‌ “শিরক” এর মতো বড় গুনাহও মাফ করতে পারেন। সেখানে এইগুলো করবেন না? অবশ্যই করবেন। কিন্তু তার জন্য অবশ্যই মাফ চাইতে হবে মন থেকে। আর এমন কিছু করতে হবে যা আল্লাহ্‌কে সন্তুষ্ট করতে পারে।“

-“ কি এমন?”

“স্যাক্রিফাইস”…জিহাদ। আজ ওমির পরিশুদ্ধ হবার দিন। আজ সে পরিশুদ্ধ হবে। জিহাদ করবে। আজকের নামাজটা না হয় বাদই দিলাম। আল্লাহ্‌ ক্ষমাশীল। ভাবতে ভাবতে আবার ঘুমিয়ে গেলো ওমি।

২/
পিয়ালের মাথা কাজ করছেনা। কাজটা ঠিক হচ্ছে ত? কাজটা ঠিকভাবে করা যাবে ত? ভাবতে ভাবতে হাতে আগুনের ছটকা এসে লাগল। উফ! সেই কখন গাঁজার স্টিকটি ধরিয়েছিলো মনেই নাই। মাত্র আগুনের ঝটকা এসে লাগাতে টের পেলো, মাত্র একটি টান দিয়েছে সে। শেষ গাঁজার সিগারেটটি ধরিয়ে এইবার কষে দুইটা টান দিয়ে আবার ভাবা শুরু করলো। এমনিতেই ইয়াবা খেয়েছে আজকে ১০টা। সন্ধ্যা থেকেই শুরু করেছে খাওয়া। ইয়াবাতে অবশ্য কিছুই হয়না। খালি খেতেই ইচ্ছে হয় কিন্তু নেশা হয়না। আজব এক জিনিস। আবার খেতে ইচ্ছে হয় ,আবার নেশা হয়না। ঘুমানোর আগে তাই গাঁজাটা টেনে নিলে ঘুম হবে ভালো। মিজান ভাই আজকে কড়কড়ে ১০০ টাকার একটি বান্ডেল দিয়েছে। পুরো ২০ হাজার টাকা। কাজটা যদিও সে করছে অন্য কারনে। অনেকদিন ধরেই এই কুত্তারবাচ্চা শাওনকে সাইজ করার একটি উপায় খুঁজছিল,ব্লগে যা খুশি লিখে যাচ্ছে কুত্তারবাচ্চা। এর মাঝেই ক্যাম্পাসে একদিন রাজিব ভাইয়ের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন ডিপার্টমেন্টের এই বড় ভাই। প্রথমে বলেছিলেন যে উনি দলের সমর্থক না কিন্তু দেশে/বিদেশে ইসলামের বিরুদ্ধে এই যে আন্তর্জাতিক একটি চক্রান্ত শুরু হয়েছে সেটির বিরুদ্ধে তিনি একটি দল গড়ে তুলতে চান। দুনিয়াতে এখনও এত ভালো মানুষ আছে? ইসলামের জন্য নিজেকে এইভাবে বিলিয়ে দিতে চান ? কিন্তু পিয়ালের অবশ্য ইসলামের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দেবার মতো সময়-সামর্থ কোনোটাই নেই। মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হয়ে কেনো যে এই বালের “নর্থ-সাউথে” ভর্তি হলাম? এইখানে কাশি মারলেও হাজার টাকা বিল করে। পোলাপান গাড়ি করে আসে-যায়। ক্যাম্পাসে বসে বসে সারাদিন এই ড্রিংক্স সেই ড্রিংক্স খেয়েই যাচ্ছে।মেয়েগুলা যে ড্রেস পরে তা দেখে মাথা আউলিয়ে যায়,কয়েকটা মাগী দেখি সিগারেটও টানে। জীবনেও এমন জিনিস দেখে নাই। এদের সাথে কথাও বলতে পারেনা সে। কেমন যেনো বিব্রত লাগে। ক্লাসে স্যাররা ইংলিশে কি বালছাল বলে কে জানে? প্রতি স্যামিস্টারে তাই সাবজেক্টে ফেল করে করে এখন তার দমবন্ধ অবস্থা। বাসায় জানতে পারলে উপায় নাই। এর মাঝে আবার শান্তনুর চক্করে পরে ইয়াবা খাওয়াও শিখে গিয়েছে। বাড়ি থেকে আর কত টাকা আনা যায়? বাবা বারবারব রেজাল্ট শিট পাঠাতে বলছে। না জানি কবে এসে সব জেনে যায়! টাকার চিন্তার কাছে এইসব তত্ত্ব-ধর্ম সব হেঁয়ালি মনে হয়। তাই প্রথমদিন খুব একটা আগ্রহ দেখায়নি পিয়াল। কিন্তু যেদিন মিজান ভাই তার মেসে এসে তাকে ৫ হাজার টাকা দিয়ে বললেন,”টাকার চিন্তা তোমাকে আর করতে হবেনা পিয়াল। আল্লাহ্‌র রহমতে আমার টাকার অভাব নেই। কিন্তু আমি আমার এই টাকা আল্লাহ্‌র রাস্তাতেই খরচ করতে চাই। তুমি শুধু আল্লাহ্‌র রাস্তায় থাকো। টাকার চিন্তা আমার উপর” সেইদিন সেই কথাগুলো শুনে সত্যিই আল্লাহ্‌র উপর এতদিন চেপে থাকা সকল ক্ষোভ উঠে গেলো। সত্যিই আল্লাহ্‌ মহান। তা না হলে কোথাকার মিজান ভাই তাকে কেনো টাকা দিবে? তার সকল দায়ভার নিয়ে নেবেন? সত্যিই আল্লাহ্‌ মহান। আজকে আল্লাহ্‌র সেই মহত্ত্বের বদলা দিতে হবে।স্যাক্রিফাইস…আল্লাহর পথে সবচাইতে বড় স্যাক্রিফাইস হচ্ছে “রক্ত”।. আজকে রক্ত ঝড়াতে হবে। ক্রূর একটা হাসি ছেয়ে গেলো পিয়ালের মুখ জুড়ে। রক্ত!!

৩/
শান্তনু বসে আছে টেবিলে। মা চিল্লাচ্ছে ভার্সিটি যাবার জন্য। কিন্তু আজকে ভার্সিটি যাবার দিন না। আজকে নিজেকে শুদ্ধ করার দিন। চোখের সামনে “দৈনিক আমার দেশ” পত্রিকাটাই নিয়ে বসে আছে সে। কতগুলা নাস্তিকের দল ঐ শাহবাগে রাজাকারের বিচারের নামে বেলাল্লাপনা করছে আর এইটাকে সবাই “বিপ্লব” বলে গলা ফাটাচ্ছে। প্রথম আলো থেকে সকল পত্রিকা …সকল টিভি নিউজে খালি “শাহবাগ” “শাহবাগ”।. শালার হুজুগে বাঙ্গালি যাই দেখে সেখানেই ফাল দিয়া পরে। আগ-পিছ কিছু ভাবেনা। যে ব্লগারগুলে এই আন্দোলন শুরু করছে তার সবগুলা নাস্তিক। নাস্তিকেরা যাই বলুক সেই কথার কোনো দাম নাই। নিজেরাই শালা কিছু মানস না…পারলে নিজের মা-বোনের সাথে আকাম করস তোরা আইছিস দেশ পাল্টাইতে? রাজাকার কারা? ঐ সাইদি হুজুরের মতো লোক রাজাকার? যারা ইসলাম রক্ষার জন্য জীবন দিছে তারা রাজাকার নাকি যারা ঐ মালাউনদের সাথে নিয়া দেশকে পাকিস্তান থেকে আলাদা করছে তারা রাজাকার? ইসলামের কথা, “ দেশপ্রেম ঈমানের অংগ” সেই দেশপ্রেম থেকেই ত আমাদের দলের বড় বড় নেতারা সেই সময়ে ইসলামের পক্ষে যুদ্ধে নামছিলেন। যারা এর বিরুদ্ধে নামছিল তারা সব কাফের। আর কাফেরের একমাত্র শাস্তি “মৃত্যুদন্ড”। .এই জালেম সরকারের হাত থেকে আমাদের নেতাদের বাঁচাতে হবে। কোনভাবেই ভেবে পাচ্ছিলোনা সে যে কাজটি কিভাবে করা যায়। শাহবাগ নিয়ে যেভাবে মিডিয়াজুড়ে হাউকাউ হচ্ছে তাতে ত কাজটা আরো কঠিন হয়ে যাবে। এই নিয়ে কি করা যায় তা নিয়ে পার্টি অফিসে আলোচনা হচ্ছিলো সেইদিন। তখন শান্তনু-ই প্রথম এই ব্যাপারটি সবার সামনে আনে। পার্টি থেকে তার উপর দায়িত্ব ছিলো ব্লগ আর ফেসবুক নিয়ে কাজ করা। সেই কাজ সে ভালোভাবেই করেছে। ফেসবুকে কে কে নাস্তিকতার প্রচারনা করে তার ফুল লিস্ট আছে তার কাছে। কে কে ব্লগে এইটা নিয়ে হাউকাউ করে তারও ফুল লিস্ট আছে। তাই গতমাসেই পার্টি অফিসের একটা মিটিং এ সে বলেছিলো শাওন,আরেফিন আর বিনয় নামের তিনজনকে সে চিহ্নিত করেছে যারা ইসলাম ধর্ম নিয়ে খুবই বিচ্ছিরি বিচ্ছিরি পোস্ট দিচ্ছে ইদানিং। তাদের বিরুদ্ধে কি এ্যাকশন নেয়া যায় সেটাও সে হাইকমান্ডের কাছে জানতে চেয়েছিলো। পার্টি থেকে বলা হয়েছিলো “অবজার্ভেশনে রাখতে। এরাই একমসয় আমাদের অস্ত্র হবে”।. পার্টি থেকে শান্তনুদের গ্রুপটিকে মনিটর করার জন্য মিজান ভাইকে নিয়োগ দেয়া হয়। মিজান ভাই অনেক জ্ঞানী মানুষ। সাইন্সের ছাত্র ছিলেন একসময়। অনেক বড় বড় নাস্তিককে দেখেছি মিজান ভাইয়ের সামনে বিলাই বনে যেতে। আইনস্টাইন থেকে শুরু করে হালের স্টিফেন হকিং এর সব থিউরি যে আসলে কোরান থেকে চুরি করা এইটা হাতে ধরে প্রমান করে দিয়েছেন এই মিজান ভাই।লোকটাকে যতই দেখে ততই মুগ্ধ হয় শান্তনু। মিজান ভাই একদিন এসে তাকে বলেন, “তোমাদের ইউনিভার্সিটিতে মিডলক্লাস ফ্যামিলির কোনো ছেলে আছে? অথবা ব্রোকেন ফ্যামিলি বা কিছুটা ফ্যামিলি থেকে ডিটাচড এমন কোনো ছেলে আছে যার ধর্মের উপর বিশ্বাস আছে? পার্টির ছেলেদের দিয়ে এই কাজ করা হবেনা,আগেই সিদ্ধান্ত ছিলো। পার্টির সংশ্লিষ্টতা পেলে সেটি আরো সমস্যার তৈরি করবে আমাদের নেতাদের জন্য।” অনেক খুঁজে শান্তনুর দুইটা নাম মনে পরল যা মিজান ভাইয়ের রিকুয়ারমেন্টের সাথে একদুম খাপে খাপ মিলে যায়। “ওমি” আর “পিয়াল”। যদিও এদের সাথে শান্তনুর তেমন ভালো সম্পর্ক নেই। কিন্তু একবার মিজান ভাইয়ের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলে বাকি কাজ মিজান ভাই-ই করে দিবেন। মিজান ভাই তাঁর কাজ করে দিয়েছেন। আজকে আমাদের সেই কাজকে পূর্ণতা দেবার সময়। “শান্তনু এখনও বাসায় কি কর?”…ওফ! আম্মাটা যা চিৎকার করতে পারে! ধুত এখনই বের হতে হবে।বাসায় থাকলে পরে মেজাজ আরো খারাপ হবে।

###################################################################

“তোমরা কোনো মানুষকে হত্যা করতে যাচ্ছোনা। “মানুষ” আর “কাফের” এক না।“কাফের”র চাইতে বড় হচ্ছে “মুনাফেক”। .মোনাফেকের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদন্ড। এই শাওন মুসলিম পরিবারের সন্তান হয়ে আমাদের নবী/ইসলাম নিয়ে আজেবাজে কথা লিখে বেড়িয়েছে। সে আজকে এই শাহবাগ আন্দোলনের সাথে জড়িত। আমরা যদি তাকে হত্যা করতে পারি তাহলেই আন্দোলন একদিনেই শেষ হয়ে যাবে। ঐ শাওন যখন মারা যাবে তখন তাঁর লেখা সবাই পড়বে। আর তাঁর নামে আমরা কিছু লেখা লিখে রেখেছি। সেগুলোকেও শাওনের নামে প্রচার করা হবে।মনে রেখো এটা যুদ্ধ। যুদ্ধের সময় কোনো আইন নেই।কোরানেও এই ব্যাপারে দিকনির্দেশনা আছে। যাক তোমাদের এতকিছু ভাবার দরকার নাই। তোমরা শুধু ঐ মোনাফেকের বাচ্চাকে কতল করে আস। তোমাদের সেফটি দেবো আমি। কেউ তোমাদের টিকিটাও ছুতে পারবেনা। আমি কথা দিলাম। আমার উপর বিশ্বাস আছে? আল্লাহ্‌র উপর বিশ্বাস আছে? যদি থাকে তবে এই নাও” বলেই কাধের ব্যাগ থেকে একদম নতুন কেনা ৪টি চা পাতি আর বড় বড় ৪ টি ছুড়ি তিনি তুলে দিলেন ওমি,পিয়াল,শান্তনু আর রেজার হাতে। সবার চোখের দ্যুতি বলে দিচ্ছে রক্ত না ঝড়িয়ে এই ছেলেগুলো ঘরে যাবেনা। মিজানের মিশন সাকসেসফুল। একটি শান্তির শ্বাস ফেলে হাঁটা শুরু করলেন মিজান। পিছন ফিরে একবার তাকিয়ে বললেন, “আসসালামু আলাইকুম”।. সবাই উত্তর দিলো, “ওয়ালাইকুম সালাম”।
_____________________________________________________________
_________________________________________________________________

প্ল্যান অনুযায়ী বিকালেই কাজটা করে ফেলার কথা তাদের। গত চারদিন ধরেই তারা শাওনকে ফলো করছে। সকাল বেলা শাহবাগ আসে, কখনও আসে বিকাল বেলা আর ফিরে যায় সন্ধ্যা বেলা। তাই হয় সকাল বেলা মারতে হবে আর না হয় রাতের বেলা। সকাল থেকেই দাঁড়িয়ে আছে তারা ৪ জন মানিকনগরের রাস্তায়। শাওন সকাল থেকে বের হয়নি আজকে। হারামজাদার দেশপ্রেম আজকে কমে গেলো নাকি? এর মাঝে একবার শান্তনু মোবাইলের দোকান থেকে কল দিয়ে মিজান ভাই এর কাছ থেকে জেনে নিয়েছে যে কাজ শেষ হলে পরে তারা কি করবে। অপারেশনের যেনো কোনো ক্ষতি না হয় তাই ফিনিশিং এ্যান্ড হাইডিং এর ব্যাপারে আগে থেকেই তাদের কিছু জানানো হয় না। কেউ যদি বিট্রে করে বসে তাহলে? কাজ করে ফেলার পর ত বিট্রে করার কিছু নাই তাই কাজ শেষ করার পর সবাইকে জানানো হয়। ওমি কখনো মানুষ মারেনি কিন্তু আজকে তাঁর হাতটাও কেমন নিশপিশ করছে। বিশেষ করে কাল রাতে শাওননের লেখাগুলো পড়ার পর এখন সে কোনো মানুষ হত্যা করতে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছেনা তাঁর। পিয়ালের চিন্তাতে অবশ্য কাজের পরের বিষয়টাই গুরুত্ব পাচ্ছে। শান্তনুকে ত একটি বিশেষ দলের অনুসারী জানত। কিন্তু সেই দলের হয়ে কাজ করার কোনো ইচ্ছে তাঁর ছিলোনা। এখন মিজান ভাই অবশ্য বলে গেলেন যে, “ভালো কাজে দল দেখতে নেই, কাজ যদি ভালো হয় তবে সেটি চোর করলেই কি আর বেশ্যা করলেই কি?” কথা অবশ্য ঠিক। তাঁর মাথায় অবশ্য এই কথাগুলোর চাইতে ভবিষ্যতের চিন্তাই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। টাকার চিন্তায় সে প্রায় উন্মাদ হয়ে গিয়েছিলো। এখন থেকে আর সেই চিন্তা থাকবেনা…আব্বার বকা খেতে হবেনা এইটাই আসল কথা।
********************

-“ঐ যে খানকির পোলা বের হইছে।” শান্তনুর গলা বরফের মতো ঠান্ডা।

-“এখন যাবো? রাস্তায় কিন্তু লোকজন আছে।” গলাটা নিজের অজান্তেই কেঁপে উঠল ওমির।

– “কই দেখলি মানুষ? ঐ দুইটা মাইয়ারে দেইখা ডরায়ে গেলে হবে? মাগীগুলা রক্ত দেইখা ঘরে হান্দাইয়া আর জীবনেও বের হইবোনা…খ্যাক খ্যাক ” হাসতে হাসতে এগিয়ে গেলো শান্তনু। ইসারাতে বাকিদেরকেও আসতে বললো। কিন্তু অমনি শাওন আবার বাড়ির দিকে হাঁটা শুরু করলো।

-“ধুর্বাল। মাদারচোদ আবার বাসায় যায় ক্যান?” বীরত্ব দেখাতেই বললো হয়ত ওমি কিন্তু মনে মনে একটু শান্তি বোধ কর। মানুষ মারার মতো এত বড় একটা কাজ সে করতে যাচ্ছে এইটা তাঁর নিজেরি বিশ্বাস হচ্ছেনা।

-“দাঁড়া, আইবো এখনি। কিছু ভুলে গেছে মনে হয় বাসায়” নিশ্চিতভাবেই বলে গেলো শান্তনু।
****
অবশেষে তাদের অপেক্ষার অবসান ঘটল। ঐ ত শাওন বেরিয়ে এসেছে। কানে মোবাইল নিয়ে কার সাথে যেনো হেসে হেসে কথা বলছে। পিছন পিছন হাঁটা শুরু করলো চার নীরব খুনি। একবার পিছন ফিরে তাকাল শাওন। শুনশান রাস্তা। ছেলেগুলো তাঁর দিকে তাকিয়ে আছে কেনো? ভয়ের একটা হিমেস স্রোত তাঁর মেরুদন্ড বেয়ে নিচে নেমে গেলে। মোবাইলটা কেটে হাঁটার গতি আরো দ্রুত করলো শাওন। পিছন না ফিরেও টের পেলো ছেলেগুলোর পদশব্দও আরো জোড়ালো হচ্ছে। হাঁটা এখন দৌরানোর পর্যায়ে এসে পৌঁছুল শাওনের কিন্তু বেশিক্ষন দৌড়াতে পারলোনা। পিছনে প্রচন্ড জোরে একটি শব্দে তাঁর পা দুটি থমকে দাঁড়ালো।

চা-পাতি দিয়ে শাওনের মাথায় প্রথম কোপটা দিলো শান্তনু। এক কোপেই মোটামোটি কাজ হয়ে যাবার কথা। কিন্তু মাথা থেকে ফিনকি দিয়ে বেরিয়ে আসা রক্ত বাকি তিনজনের ভিতরের জানোয়ারটাকে বের করে আনলো। যত দ্রুত সম্ভব এই কুত্তারবাচ্চাটাকে মারতে হবে। ওমির চা-পাতিটা এইবার আঘাত করলো শাওনের পিঠে। চিৎকার যেনো করতে না পারে সেই জন্যে অভিজ্ঞ হাতে আগেই শাওনের মুখটি চেপে ধরেছিলো রেজা। চোখের ইশারাতে পিয়ালকে ছুড়ি চালাতে বললো সে। রেজার ঠান্ডা চোখের চাহনিকে অগ্রাহ্য করার শক্তি পিয়ালের ছিলোনা। হাটু গেড়ে বসে পিছন থেকে শাওনের চুলে ধরে ঘাড়টা উপরে তুলে নতুন কেনা ধারালো ছুড়িটা চালিয়ে দিলো শাওনের গলাতে… “আল্লাহু আকবার!” বলে পিছন থেকে শব্দ করলো শান্তনু। বলতে ভুলে গিয়েছিলো পিয়াল। এখন সেও বলে উঠলো “আল্লাহু আকবার” সবাই বলে চলছে, “আল্লাহু আকবার”…শাওনের গলা থেকে ফিনকি দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে। সেই রক্তে ভিজে উঠেছে পিয়ালের মুখ,শরীর। নোনতা রক্তের স্বাদ তাকে আরো বন্য করে দিয়েছে যেনো। ছুড়ি বন্ধ না করে চালিয়েই যাচ্ছে সে। এই জন্তুটাকে মারতে পারলেই তাঁর এই জীবনের সকল দুঃখ দূর হয়ে যাবে। এই জন্তুটার রক্তে বিশুদ্ধ হয়ে সে পরকালে সবার আগে বেহেশতে যাবে। তার অপেক্ষার সময় ফুরিয়ে এসেছে। তাদের অপেক্ষার সময় ফুরিয়ে এসেছে। তারা সবাই পরিশুদ্ধু হয়ে উঠছে। একজন মানুষের রক্ত চারজন মানুষকে পরিশুদ্ধ করে দিচ্ছে ঠিক যেভাবে ১৯৭১ এ ৩০ লক্ষ মানুষের রক্ত তাদের নেতাদের জীবন পরিশুদ্ধ করে দিয়েছিলেন।

৩২ thoughts on “পরিশুদ্ধির অপেক্ষা…

    1. ছবিটা আমিও দিতে পারতাম।
      ছবিটা আমিও দিতে পারতাম। কিন্তু বিষয়ভিত্তিক আলোচনা চাচ্ছিলাম,ব্যাক্তিকেন্দ্রিক না।তাই ছবিটা দেই নি।

        1. আমার ক্ষেত্রেও অনেকটা তাই।
          আমার ক্ষেত্রেও অনেকটা তাই। থাবার সাথে শেষের দিকে আমার নিজের ব্যাক্তগত সম্পর্কও ভালো ছিলোনা। কিন্তু তাই বলে একজন সহব্লগারের এইরকম পাশবিক মৃত্যু আসলেই আশাহত করে দেয়। ঐ লাশটি আমারো হতে পারতো…হতে পারতো আপনারও

  1. লেখাটা পড়ার সময় শাওনের
    লেখাটা পড়ার সময় শাওনের পরিবর্তে খাবার মুখই ভেসে উঠেছিল! সুপরিচিত এই মানুষটা এত নৃশংসভাবে খুন হবে, ভাবতেও পারিনি!

    গল্পের ডায়ালগ গুলু অনেকটা বাস্তবসম্মত হয়েছে আশফাক দা!

    1. এবং এখনও সবাই এই মৃত্যুটি
      এবং এখনও সবাই এই মৃত্যুটি নিয়ে নিশ্চুপ। ব্লগারদের মুক্তির দাবি নিয়ে হাউকাউ হচ্ছে ,হওয়া উচিৎ অবশ্যই কিন্তু থাবাকে নিয়ে কেউ কোনো কথা বলেনা। রাজীব যেনো অস্পৃশ্য। তার কথা বলতে গেলে যেনো নিজেরো মাথাটা যাবে। এই ভয় সবারি। রাজীব মাঝে মধ্যে আমাদের “মধ্যবিত্ত মডারেট” বলে গালি দিতো। এখন মনে হয় সেই গালিগুলোই সত্য

    1. জানিনা কি লিখেছি। প্রত্যক্ষ
      জানিনা কি লিখেছি। প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা তেমন নেই।থাকলে আরো ডিটেইলে লেখা যেতো হয়ত।

  2. লাস্ট প্যারা পড়তে পারি নি।
    লাস্ট প্যারা পড়তে পারি নি। সহ্য করার মতো ছিল না। সেই অনুভূতিকে আর জাগাতে চাই না, যে বীভৎস যন্ত্রণাকর অনুভুতির সম্মুখীন হয়েছিলাম রাজিব এর হত্যার খবর দেখে।

  3. অহন বাংলা পরীক্ষার প্রিপারেশন
    অহন বাংলা পরীক্ষার প্রিপারেশন চলতাছে জানেন না।আরো বছরের পর বছর চলব।ইংরেজী নিয়া নো কথা।রাজাকারের বিচারের মধ্যে অন্য জিনিস টানছেন।আপনারা বাম,আপনারা ছাগু।আগে জেলা ভিত্তিক সম্মেলন শ্যাষ হইবার দেন।থাবারে পুছার টাইম নাই। :চশমুদ্দিন:

    1. আগে জেলা ভিত্তিক সম্মেলন

      আগে জেলা ভিত্তিক সম্মেলন শ্যাষ হইবার দেন।

      :আমিকিন্তুচুপচাপ: :আমিকিন্তুচুপচাপ: :আমিকিন্তুচুপচাপ:

      1. আসলে কাউরেই পুছার টাইম নাই।
        আসলে কাউরেই পুছার টাইম নাই। কিন্তু থাবার কথা মনে হলো হঠাত। তাদের মতো রোবটিক মন নিয়া ত ঘুরতে পারিনা ভাই। একজন মানুষরে এমনে মাইরা ফালাইলো,কেউ রাও করেবনা। থাবা বাবা নামটাই যেনো বলা নিষেধ। অথচ আমাদের দেশের সম্পাদকরে আটকাইলে সেইটা বাকস্বাধীনতার বিপক্ষে যায়গা। বালের দেশ…

  4. পরিশুদ্ধ হবার নমুনাটা সত্যিই
    পরিশুদ্ধ হবার নমুনাটা সত্যিই অভিনব ।। আপনার সাংকেতিক গল্পে খুনিদের অন্ধ অনুভূতি গুলো বাস্তবিক ভাবে তুলে ধরেছেন ।। আমরা এই প্রহসনমূলক হত্যার দ্রুত বিচার চাই ।।

  5. বাস্তব নৃসংস ঘটনার পেছনের কথা
    বাস্তব নৃসংস ঘটনার পেছনের কথা অনুকল্পের মাধ্যমে কাহিনীর বিস্তার ও চরিত্রায়নে অতিরঞ্জন বাহুল্যতা ছাড়াই অনুরুপ নৃসংসতাই উঠে এসেছে সফলভাবেই গল্পে। পাঠকের অনুভুতিতেও ঘৃন্নতার বোধ জাগাতে পেরেছে অন্তত আমার তো বটেই।যে আসল ঘটনা জানে না পড়ে তারও ঘৃনা জন্মাবে।

    1. এই সব কথা জিগাইতে নাই। নিচে
      এই সব কথা জিগাইতে নাই। নিচে একজন মন্তব্য করেছে,দেখেন। এইটাই আসল কথা :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি:

  6. কি যে সব বিষয় নিয়া লেখেন!!!!
    কি যে সব বিষয় নিয়া লেখেন!!!! থাবারে মারসে,জানাজা পড়া হইসে, শপথ নেয়া হইসে বদলা নেবার। শেষ তো। আর কি

  7. ঘটনা ঘটছে / আবেগের উত্তরণ
    ঘটনা ঘটছে / আবেগের উত্তরণ ঘটবে / আমি আপনি সে তারা সবাই লিখবে / একটু চেতনার বিস্ফোরণ হবে – ফলাফল আমি আপনি সে তারা সবাই চুপ । কন্টিনিউয়াসলি এমন হচ্ছে হবে

  8. আমি এখনও বুঝে উঠতে পারিনা,
    আমি এখনও বুঝে উঠতে পারিনা, মানুষের ব্রেইন কিভাবে এতোটা ওয়াশড এইভাবে মানুষ হয়ে মানুষ জবাই করা যায়!!!

  9. ভাই, আমিও বুঝিনা অন্যসব
    ভাই, আমিও বুঝিনা অন্যসব হত্যাকান্ডের ব্যাপারে আমরা অনেক সোচ্চার কিন্তু রাজীব হত্যাকান্ডের কথা উঠলেই কোন এক অজানা কারনে আমরা চুপ হয়ে যাই । :বিস্ময়:
    ভালো লিখেছেন । লেখতে থাকেন … :আমিওআছি:

  10. মানুষের ব্রেন ধোলাই করার
    মানুষের ব্রেন ধোলাই করার পদ্ধতিতে তারা ডক্টরেট করেছে! নইলে কিভাবে একটা মানুষকে তারা খুনি বানাতে পারে? ধিক তাদের এই ব্রেন ধোলাই কৌশলকে…

  11. কিছুই বলার নাই…একাধারে ভাল ও
    কিছুই বলার নাই…একাধারে ভাল ও খারাপ দুটোই লাগছে.…খারাপ লাগার কারণটা সবাই জানেন…আর ভাল লাগছে এই কারণে যে অনেকদিন পর বিষয়টা আলোচনায় উঠে এসেছে..…হয়তো বা আবার-ও বিচারের আশা করা যাবে.…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *