দুই চাকার পক্ষীরাজ ও একটি কিশোর………..

নাহহ!!!শালার আর ঘর থেকেই বের হব না।,বলতে বলতে ঘরে ঢুকে ফারাবি।আজকেও রাস্তায় রং-বেরংয়ের সাইকেলগুলো দেখে তার মেজাজটাই খারাপ হয়ে গেছে।এই নিয়ে চারবার তার সাইকেল বিষয়ক মন খারাপ হল।


নাহহ!!!শালার আর ঘর থেকেই বের হব না।,বলতে বলতে ঘরে ঢুকে ফারাবি।আজকেও রাস্তায় রং-বেরংয়ের সাইকেলগুলো দেখে তার মেজাজটাই খারাপ হয়ে গেছে।এই নিয়ে চারবার তার সাইকেল বিষয়ক মন খারাপ হল।

না সাইকেলের উপর ফারাবির কোন রাগ নাই,বরঞ্চ সাইকেল চালাতে একপ্রকার ভালইবাসে সে।তবে সাইকেল দেখে তার মেজাজ খারাপের কারন কি???কারন আছে।কারনটা কিছুটা মর্মান্তিক,গত সপ্তাহে তার নতুন কেনা সাইকেলটা চুরি হয়ে গেছে।কোচিং এ নিয়ে গিয়েছিল,ছুটির পর সাইকেল যেখানে রেখেছিল সেখানে গিয়ে দেখে সাইকেল উধাও!!!মোটমাট এক মাসও চালাতে পারলো না ছেলেটা।তাই এখন রাস্তায় নেমে যখন সে দেখে রাস্তা ভরা সাইকেল তখন নিজের সাইকেলের কথা ভেবে মন খারাপের পাশাপাশি সাইকেল চোরের উপর রাগের মিশ্র অনুভুতি হয় তার,যা ক্রমে মেজাজ খারাপে রুপ নেয়।
কিন্তু যতই মেজাজ খারাপ হোক,সাইকেল চুরির পর থেকে তার শয়নে,স্বপনে,জাগরনে শুধুই সাইকেল আর সাইকেল।ইশ! যদি নতুন আরেকটা কেনা যেত।কিন্তু ফারাবির আব্বা কঠিন মানুষ,একটা সাইকেলই সে কিনেছিল বহু কাঠ-খড় পুড়িয়ে।এখন ওইটা চুরি গেছে,তারপরে কিভাবে আরেকটা সাইকেল চায় সে?ভেবেই পায় না ফারাবি।কিন্তু কি করবে সে?সাইকেলের চিন্তায় তো রাতে ঘুমও আসে না।এদিকে রাস্তায় বের হলে শত শত সাইকেল তার পাশে দিয়ে ফুস করে চলে যায়,তাই মাথা থেকেও সাইকেল সরাতে পারে না।

এভাবেই কাটছিল ফারাবির দিন।হঠাৎ তার জন্মদিনে পেল সে একটি বিরাট চমক,তার মা তাকে নিয়ে বাইরে যাবার নাম করে বংশাল নিয়ে গিয়ে বলে “এই নে পনের হাজার টাকা,এর মধ্যে যেই সাইকেল পছন্দ হয় কিনে ফেল।”
ফারাবি প্রথমে যেন বুঝতে পারল না কথাটা,পরে যখন বুঝতে পারল তখন তার চোখে পানি।মা যেন সেই পানি না দেখতে পায় তার জন্য মা’র হাত থেকে টাকাটা নিয়ে অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে শুধু ফিসফিস করে বলে,”থ্যাংক ইউ মা,তুমি এত ভাল কেন??”

এরপরে সে একটি নীল রংয়ের সাইকেল পছন্দ করল,কিনেও ফেলল সেটা।সাইকেল বাসায় এনে যেন তার আর তর সয় না,মা বুঝতে পারল।বলল “ভাত খা,এর পরে সাইকেল নিয়ে ঘুরতে যাস।”
একথা শোনার পর আর কি লাগে,কোনমতে ভাত গিলে,পানি খেয়ে সাইকেল নিয়ে বের হয়ে গেল।মা বারান্দা দিয়ে দেখলেন ছেলের আনন্দ,অনুভবও করলেন।আনমনেই ফিসফিস করে বললেন “সাবধানে চালাস।”

জুন মাসের শেষের দিকের কোন এক বিকেল বেলা।একটি কিশোর একটি নীল দুই চাকার পক্ষীরাজে চেপে বের হয়েছে।আকাশে মেঘ করেছে ফোটা ফোটা বৃষ্টিও পড়ছে।কিশোরটির মনে অনেক আনন্দ,তারওপর বৃষ্টি দেখে তার আনন্দের যেন ষোলকলা পূর্ণ হল।এই আনন্দ কি মাপা যায়?এই আনন্দের কি তুলনা করা যায়?কি জানি?দুই চাকার নীল পক্ষীরাজে চেপে বৃষ্টিবিলাসে বের হওয়া সেই কিশোরের আনন্দ হয়ত আর কেউ অনুভব করেনি,কিন্তু সেই আনন্দ হয়ত ছাড়িয়ে গিয়েছিল সেইদিনের বাংলাদেশের সকল আনন্দিত মানুষের আনন্দকে।বড় ইচ্ছে করে নিজেকে ওই কিশোরের আনন্দে নিজেকে সামিল করতে,আফসোস তা করা যায় না।ইচ্ছে করে ওই কিশোরের জায়গায় নিজেকে বসাতে। কে জানে হয়ত মনের অজান্তে বসিয়েও ফেলি……

১৩ thoughts on “দুই চাকার পক্ষীরাজ ও একটি কিশোর………..

  1. গল্পটা উৎসর্গ করলাম আমার
    গল্পটা উৎসর্গ করলাম আমার বন্ধু মাহিন উৎস,নাজমুল পিয়াল,রিফাত এবং বাংলাদেশের সকল সাইক্লিস্টদের……….. 🙂

  2. নতুন স্বাদ পেলাম, সাথে
    নতুন স্বাদ পেলাম, সাথে cycling এর কথা মনে করায় দিলেন। :থাম্বসআপ:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *