‘শিরোনাম সমাচার’

বিরোধী দলের কপাল ভালো হওয়ার কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। যতবার চেষ্টা করছে শিরোনামে আসবার, ততবারই কোন না কোন অঘটন ঘটে যাচ্ছে। হেফাজতকে নিয়ে দারুণ একটা গতি নিয়ে এসেছিল আন্দোলনে এমন সময় ঘটলো ‘রানা প্লাজা’ ট্র্যাজেডি। প্রায় সপ্তাহ খানেকের জন্য শিরোনাম ছিনতাই হয়ে গেল। এরপর হেফাজতের পলায়ন। ফলে সেখানেও শিরোনাম কিছুদিনের জন্য হাতছাড়া হয়ে গেল।

বিরোধী দলের কপাল ভালো হওয়ার কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। যতবার চেষ্টা করছে শিরোনামে আসবার, ততবারই কোন না কোন অঘটন ঘটে যাচ্ছে। হেফাজতকে নিয়ে দারুণ একটা গতি নিয়ে এসেছিল আন্দোলনে এমন সময় ঘটলো ‘রানা প্লাজা’ ট্র্যাজেডি। প্রায় সপ্তাহ খানেকের জন্য শিরোনাম ছিনতাই হয়ে গেল। এরপর হেফাজতের পলায়ন। ফলে সেখানেও শিরোনাম কিছুদিনের জন্য হাতছাড়া হয়ে গেল।
তারেক সাহেব কে নিয়ে কিছু আলাপ আলোচনা হোক, শিরোনামে থাকুক, এই চাওয়া একেবারে মনের কোনে লুকানো ছিল না এমন তো আর না। সে গুড়েও বালি দিয়ে এমন সময় উদয় হল ‘আশরাফুল এপিসোড’। এখন কয়েকদিন শিরোনামে না হলেও আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে এই ‘স্ক্যান্ডাল’। পক্ষ বিপক্ষ হবে। পক্ষে যারা থাকবে তাঁরা ঠিক ‘ম্যাচ ফিক্সিং’ এর পক্ষে না। তাঁদের বক্তব্য হবে ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্ব’। ভারত হবে এখানে খলনায়ক। নিজেদের লজ্জা ঢাকতে তারাই এসব করাচ্ছে, বাংলাদেশকে ফাঁসাচ্ছে। যত জুয়াড়ি ধরা পড়েছে তাঁরা তো ভারতীয়।
ওদিকে আবেগের বন্যা বইছে ফেসবুক স্ট্যাটাসে। ‘এ কি করল আশরাফুল’ কিংবা ‘কেন করল?’ ‘দেশ আর জাতির আবেগের সঙ্গে এই বিশ্বাসঘাতকতা’ এজাতীয় কথাবার্তায় এখন ফেসবুক ভরপুর। পত্রিকার শিরোনামে ‘তারেক এবং ইন্টারপোল’ কিছুটা পিছিয়ে থাকবে হয়তো আগামী কিছুদিন। আরও গভীর কোন ‘ম্যাচ ফিক্সিং’ এর সুত্র পাওয়া যায় কি না সেই আশায় আছে পাঠকরা। একজন অবশ্য সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ এর ঘটনা আরও আসছে মনে হচ্ছে। তবে আরও একটা স্বীকারোক্তি এলেই শিরোনাম ছিনতাই হতে সময় নিবে না।
তত্ত্বাবধায়ক নিয়ে আলোচনা কেন যেন ঠিক গতি পাচ্ছে না। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফেরত আসলে যেহেতু সুশীল সমাজ এর হর্তাকর্তা হবে তাই তাঁদের যুক্তিকে অনেকেই ধান্ধাবাজী হিসেবে দেখছে। ‘কনফ্লিক্ট অফ ইন্টারেস্ট’ হচ্ছে, এমন কথা বলাবলি শুরু হয়ে গেছে। তাঁর ওপর আবার সিটি কর্পোরেশান নির্বাচনে বিএনপি র অংশ নেয়া। বিদ্রোহী ভাবে কিছুটা যেন গ্রহণ লাগানোর কাজ করল। এখনও উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার না করলেও ভবিষ্যতে যে সরকারী দল তা করবে, সে ব্যাপারটা বোধহয় হলফ করে বলা যায়।
খুব বড় জাতের কারচুপির ঘটনা না ঘটলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবী পুনরায় শিরোনামে আনা কিছুটা কষ্টকর হয়ে যাবে। সরকারী দল যেমন অনড় অবস্থান দেখাচ্ছে তাতে বড় কোন অঘটন কিংবা আন্দোলন এর সম্ভাবনা তৈরি করতে না পারলে মনে হয় না তাঁরা বিরোধী দলের কথা কানে তুলবে। হেফাজতের বিশাল বাহিনী দেখে একটু মৃদু কণ্ঠে ‘সংলাপ’ হতে পারে বলেছিল। হেফাজতী পলায়নের পরে আবার সুর পাল্টেছে।
ওদিকে আবার বামপন্থীরা আপ্রাণ চেষ্টা করছে ‘টিকফা চুক্তি’ আর ‘রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প’ কে আলোচনায় নিয়ে আসবার। পারছে না। আসলে এধরনের ইস্যু নিয়ে আন্দোলন বেজায় কঠিন। পত্রিকাও তেমনভাবে নিউজ করে না। টিভি চ্যানেলও তেমন কাভারেজ দেয় না, কখন আবার লাইসেন্স বাতিল হয়ে যায়। তাঁদের নিজেদের ওপরই তো কোন ভরসা নেই। তারা নিজেরাই যেহেতু ঠিক করে উঠতে পারছেন না ‘তাঁরা দল ভাঙবেন না অন্য দলে যোগ দিবেন’ তাই তাঁদের ঘরানার বুদ্ধিজীবিরাও ঠিক করে উঠতে পারছেন না তাঁদের এসব ইস্যু নিয়ে ঘ্যান ঘ্যান করবেন না ‘ইন্টারপোল’ ‘প্যারল’ এসব ব্যাপারে তত্ত্ব শোনাবেন।
বিরোধী দল যে ঠিক কি চাইছে, তাও বোঝা ভার। বোঝা যাচ্ছে না তাঁদের কাছে প্রধান ইস্যু কি? ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ না ‘তারেকের নির্বিঘ্ন প্রত্যাবর্তন’? সরকারী দলও, বিরোধী দলের এই দুর্বল অংশটা জানে। তাই তাঁরাও ওঁত পেতে বসে আছে এই মোক্ষম সময়টার জন্য। কবে তারেক আসবে, আর কবে তাঁকে ঘিরে শুরু হবে দর কষাকষি। এখনও যা অবস্থা তাতে মনে হয় না তারেক গ্রেফতার হলে বিশাল কোন আন্দোলন গড়ে তুলতে পারবে বিরোধী দল। তাই ‘হুমকি’, ‘চমক’ এসব কথা দিয়েই প্রেস কনফারেন্স এর সময় পার করছে।
তত্ত্বাবধায়কের সময় সিটি কর্পোরেশান নির্বাচনে অংশ না নিয়ে যে ভুল তাঁরা করেছিল এবার আর তা করছে না। নারায়ণগঞ্জে সম্ভবতঃ ‘ওসমান’ এর হাত থেকে নিস্তার ছিল মূল উদ্দেশ্য। এবার হিসাব নিকাশ অন্য। অংশ নিলেও দুটো রাস্তাই তাঁরা খোলা রেখেছে। জিতলে বলবে ‘সরকার গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে’ আর হারলে ‘কারচুপি’। হিসাব সরকারী দলও করে রেখেছে। হারতে হলে কোনটা হারবে তাও বোধ হয় ঠিক করা আছে। দলীয় কোন্দলের জের ধরে কিছু ঘটবে কিনা এখনও বোঝা যাচ্ছে না। একটা ব্যাপার প্রায় সুনিশ্চিত। আগামী কিছুদিন শিরোনামে আসীন হয়ে থাকবে ‘সিটি কর্পোরেশান নির্বাচন’। তাই নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত খুব বড় সড় আন্দোলনে গেলেও শিরোনাম হতে বেগ পেতে হবে।
‘অন্তর্বর্তী সরকার’ আসলে নির্বাচিত না অনির্বাচিত এমন সব চুলচেরা বিশ্লেষণ হচ্ছে। সেগুলো শিরোনাম করা সমস্যা। এতো প্যাঁচালো ব্যাপার মনোযোগ দিয়ে পড়ার ইচ্ছা কারোরই নাই। খুব বড় কোন ঘটনা না ঘটলে তত্ত্ববধায়ক আর অন্তর্বর্তী কালীন সরকার, এসব ব্যাপারকে ঠিক শিরোনাম করা যাচ্ছে না। আর শিরোনাম না হলে কোন আন্দোলনই টেনে তোলা কষ্টকর।
ব্যাপারটা বিরোধীদল নিজেও বুঝতে পারছে। তাই একটা ফেস সেভিং ফর্মুলা চাইছে। এমন কিছু যেন দুজনই বলতে পারে, ‘আমরাই জিতেছি’। তবে এক জায়গায় বোধহয় দুই দলই একমত, আর সুশীল সমাজের হাতে তাঁরা ক্ষমতা দেবে না । ‘জেল ও খাটতে হচ্ছে’ আবার যারা এসব করছে তাঁদের সসম্মানে ‘বিদেশে যেতে দিতেও হচ্ছে‘। ভরসা ঐ এক যায়গায়, জেল যাওয়ার ভয়ে যদি কোন সমঝোতা হয়। সেটাকে ‘নেগশিয়েশান’ বলুন আর ‘পাতানো খেলাই’ বলুন আমার ধারণা ভেতরে ভেতরে তা চলছে, তবে তা কখনই শিরোনামে আসবে না। শিরোনাম করা হবে আন্দোলন, হরতাল, চমক, ইন্টারপোল, প্যারোল এসবকে, আমাদের উদ্গ্রীব করে রাখার জন্য।

লেখাটা একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়েছে।
http://www.amadershomoy2.com/content/2013/06/03/news0188.htm

২১ thoughts on “‘শিরোনাম সমাচার’

  1. হা হা হা
    এরপরই রোজা চলে আসবে।

    হা হা হা
    এরপরই রোজা চলে আসবে। সবাই ধর্মে কর্মে মন দিবে।আবার নির্বাচন কমিশনার আজকে কইল রোজার পর ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন দিবে।ফলাফল শিরোনাম ছিনতাই।

  2. বি এন পি বলেন আওয়ামালিগ বলেন
    বি এন পি বলেন আওয়ামালিগ বলেন উভয়ই আছে কোণঠাসা অবস্থায়। তবে বি এন পি অনেক চেষ্টা, নাটক, ইস্যু বানিয়েও কিন্তু খবরে থাকতে পারছে না। কোন না কোন ভাবে পিছিয়ে পড়তে বাধ্য হচ্ছে। এটা ভালো লক্ষন। 😀

  3. আদর্শিক একটা মজবুত বিরোধী
    আদর্শিক একটা মজবুত বিরোধী দলের অভাবে মুক্তিযুদ্ধোত্তর সময় থেকেই আমাদের টেকসই গণতন্ত্র হুমকির মুখে…
    ৭৩ এর নির্বাচনের পর বঙ্গবন্ধু এই দীর্ঘশ্বাসই ফেলছিলেন!!
    আজ স্বাধীনতার ৪২ বছর পরেও একই হাহাকার…
    আদর্শিক ভাবে এতটা দেওলিয়া একটি বিরোধীদল নিয়ে সংসদীয় গণতন্ত্র মজবুত হওয়ার নয়!!
    তাহলে, বিকল্প কি?

    1. চেষ্টায় আছি। আর আপনারা তো
      চেষ্টায় আছি। আর আপনারা তো আছেনই ছোট খাট ব্যাপার ধরিয়ে দেয়ার জন্য। আশাকরি সহায়তা পাবো।

      1. বুঝার জন্যে…
        :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:
        বুঝার জন্যে…

    1. চেষ্টায় আছি। আর আপনারা তো
      চেষ্টায় আছি। আর আপনারা তো আছেনই ছোট খাট ব্যাপার ধরিয়ে দেয়ার জন্য। আশাকরি সহায়তা পাবো।

  4. বর্তমান পরিস্থিতিতে যা
    বর্তমান পরিস্থিতিতে যা মনে হচ্ছে, বিরোধীদলীয় রাজনীতি মুমূর্ষু অবস্থায় আছে, এর রক্তের প্রয়োজন, সামনেই রক্তের ঝনঝনানির শব্দ পাওয়া যাচ্ছে, রাজনীতি কুক্ষিগত করার নেপথ্য যে রক্ত পিপাসুদের তৃষ্ণা বেড়েই চলছে তা বলার অবকাশ রাখে না ।।

  5. বি এন পির জন্য দুর্ভাগ্য ।
    বি এন পির জন্য দুর্ভাগ্য । শিরোনাম এ আসে ঠিক ই । কিন্তু পক্ষে নয় বিপক্ষে !!! :হাসি: :হাসি: :হাসি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *