ধর্মের মানসিক বিশ্লেষণ পর্ব ২

Image and video hosting by TinyPic

মানুষের মনকে ধর্মের নামে নিজ স্বার্থ বিসর্জন করে দলিয় স্বার্থ কাছে নতি স্বীকার করারবার জন্য এত ধরনের ধর্মিয় টেকনিক সামাজিক প্রেসার প্রদান করবার তরিকা দেখলে এইটা পরিষ্কার হয় যে মানুষ সহজাত ভাবেই ধর্মিয় উম্মার কাছে নিজ স্বার্থ ত্যাগ করে না বা বিশ্বাসী হয়ে উঠেনা জন্ম থেকে সামাজিক জীব হিসেবে এই জাতীয় অনেক প্রক্রিয়া মধ্যে দিয়ে যেতে যেতেই ধর্ম বিশ্বাস সুদৃঢ় হয়।

সাইকোলজিস্ট এলেন ফিস্ক বেশকিছু এই জাতীয় টেকনিক চিহ্নিত করেছেন। যেমন একটা পরিবারের মধ্যে যে ধরনের সংহতি থাকে (বলা বাহুল্য: জীন বিস্তার যে সব জীন পরিবারের সংহতি রক্ষা করবে তারাই তারা জীনের কপি করে তা বংশ বিস্তারে সফল হবে।) আমাদের মা বাবা ভাই বোন বা আত্মীয় স্বজন দের প্রতি অনুভূতি দিয়ে বিষয়টা অনুভব করতে পারি। ধর্মিয় পপ্রেক্ষাপটে একে অন্যের আত্মীয় না হয়েও মানুষ যখন এই রকম দলগত সংহতি প্রতিষ্ঠা করতে যা কি না নিজে নিজে আসবে না। তাই তাদেরকে নিপুন ভাবে মানুষিক মেনিপুলেশনের প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হয় যাতে একে অন্যেকে নিজে ফেমিলি মেম্বারের মতোই ট্রিট করে।

  • ইসলামে সবাই ভাই ভাই বলা হয়
  • খৃষ্টানরা পাদ্রীকে ফাদার বলে
  • নানদের সিস্টার
  • ইত্যাদি ইইত্যাদি

আর তাই একটি ধর্মিয় জনগোষ্ঠী গুলো ক্ষেত্র বিশেষে আন্তর্জাতিক বর্ডার অবজ্ঞা করে নিজেদের একই পরিবার হেসেবে নিজেদের একিভূত হিসেবে অনুভব করতে পারে।

আরো একটি টেকনিক হলো কমেনশাল অনুষ্ঠান উদযাপন কিংবা পবিত্র খাবার (commencal celebration/sacramental meal) যা মানুষের মধ্যে এমন অনুভূতি জাগ্রত করে আমরা সবাই একই মাংসের। এই বিষয়টা বুঝতে হলে মানুষের একটা সহজাত দৃষ্টিভঙ্গি প্রবণতা যে আমরা অনুভব করি যেন জীবিত প্রাণীরা তাদের শক্তি পায় কারণ তাদের নির্দিষ্ট উপাদান থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে বলে। এমন কোন উপাদান যা তাদের শরীরের গঠনে সাহায্য করে এবং তাদের শক্তি যোগায়। এই বিষয়টা অনেক কম বয়ষ্ক শিশুদের মাঝে দেখা যায়, শিক্ষিত প্রাপ্ত বয়স্ক লোকদের মাঝেও দেখা যায় যে তারা আসলেই আদিম ধারণায় বিশ্বাস করে “তুমি তা ই যা তুমি খাও। “ এই প্রেক্ষাপটে মনোবিজ্ঞানী Paul Rosen চমৎকার একটি গবেষণা করেছেন। যেখানে তিনি পেনসিলভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্সের (undergrads) ছাত্রদের নিকট কয়েকটি কাল্পনিক উপজাতীয় গোত্রের বর্ননা দিয়েছেন প্রত্যেকে কাছিম এবং বন্য শুকর শিকার করে।

তবে এই বর্ণনায় গবেষণার উদ্দেশ্যে কিছু ট্রিক খাটানো করানো হয়েছে।

কাল্পনিক উপজাতীয় গোত্রগুলোর কোন কোন টি সম্পর্কে বলা হয়েছে তারা কাছিম শিকার করে খোলস এর জন্য এবং বন্য শুকর শিকার করে খাবার জন্য।

এবং অন্যান্য উপজাতীয়দের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে পুরো উল্টো কথা যে তারা কাছিম শিকার করে খাবার জন্য এবং বন্য শুকর শিকার করে তাদের দাঁত সংগ্রহের জন্য।

তারপর এই ধরনের ইঙ্গিতগুলো উপজাতিদের বর্ণনায় দেয়া ছিল এবং তারপর তিনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেছেন এইসব গোত্রগুলোর মানুষদের সম্ভাব্য চরিত্র বর্ণনা করতে কিছু পার্সোনালিটি ট্রেটস এর সাথে মিল রেখে।

এই গবেষণা দেখা গেল যে যে সকল গোত্রগুলো র বর্ণনায় বলা হচ্ছে যে তারা বন্য শুকর শিকার করে খায় তোদেরকে হিংস্র, অপ্রতিরোধ্য শিকারি ধরনের লোক হিসাবে তারা বিবেচনা করছে। অন্যদিকে যে গোত্রগুলো কাছিমের মাংস খায় বলে বর্ণনা করা হয়েছে তাদেরকে ভালো সাঁতারু হিসেবে বর্ণনা করেছে যেন তার জলে বাস করে।

সেক্রি মেন্টাল মিল এর মত ধর্মীয় রীতি থাকার পেছনে ধর্মগুলোর সম্ভাব্য মানুষের মধ্যে এই ধরনের বিশ্বাসকে পাকাপোক্ত করে যে আমরা সবাই এক ধরনের খাবার খাই সুতরাং আমরা একই জিনিস থেকে সৃষ্টি। অন্যভাবে বলতে গেলে আমরা সবাই একই রকম। সবাইকে এক জাতি ভাগ প্রক্রিয়ায় মুসলমানদের হালাল মাংস খাবার সামাজিক রীতি এখানে একটি উদাহরণ হিসেবে ধরে নেয়া যেতে পারে।

আরেকটা বিষয় হচ্ছে ধর্মের অর্চনা পদ্ধতি গুলিতে পুনঃ পুনঃ ভাবে কৃত কার্যাবলী যেমন সবাই একসাথে নামাজে দাঁড়িয়ে মক্কার দিকে মাথা নিচু করা । সবাই একসাথে রুকুতে যাওয়া বা সিজদায় যাওয়া যা কিনা মানুষের মনের এমন একটি বিষয় কে প্রভাবিত করে যাকে মনোবিজ্ঞানীরা বলেন Gestalt law of common fate যা কিনা বলে যখন কোনো কিছু এক সাথে সমান্তরাল ভাবে যাত্রা করে তাদের সমষ্টিক ভাবে একটা বড় কিছু হিসেবে বিবেচনা করে। যখন আপনি এক পাল রাজঁহাস কে ইংরেজি ভি (v) অক্ষরের মত করে যেতে দেখবেন তখন সবাইকে একত্রে একটি বড় পাখির মত দেখাবে বা উড়ন্ত ভি অক্ষরের মত দেখাবে।

অনেকটা যেমন তাদের সৈন্যদের কুচকাওয়াজের এক সাথে মিল রেখে চলা বা একত্র যাত্রা অনেকটা অনুভূতি সৃষ্টি করে যেমন তারা একত্রে বিশাল কিছু তারা একা একা এককভাবে ভিন্ন ভিন্ন পাখি নয়। পাখিরা হয়তো সচেতনভাবে এই কাজ কারণে করে না কিন্তু খুব সম্ভবত নামাজ পড়ার মতো দলগত অর্চনা গুলোতে মানুষের মনে এই প্রভাব ফেলে। যখন কয়েকশত মানুষের শরীর একসাথে মিল রেখে নড়তে থাকে তখন একজন মানুষ অনুভব করে যেন সে হয়তো একটা বিশাল সুপার অর্গানিজমের কিংবা বিশাল প্রাণ সত্তার অংশ এককভাবে বিচ্ছিন্ন ব্যক্তি নয়। তখন সে নিজেকে সংগত কারণবশত অনেক বেশি শক্তিশালী মনে করবে।

পিংকার এর মতে মানুষের ধর্মবিশ্বাসকে সুদৃঢ় করার জন্য যেহেতু এই সব ট্রিক্স গুলি ব্যবহার করতে হয় তাই তিনি এই বিষয়টিতে গুরুত্ব দিতে চান মানুষ গ্রুপ সাইকোলজির দ্বারা ভীষণভাবে এক্ষেত্রে প্রভাবিত। এ থেকে প্রমাণ হয় মানুষ নিজে থেকে ধর্মীয় উম্মার কাছে নিজের স্বার্থ উৎসর্গ করে দিয়ে সহজ স্বাচ্ছন্দ্যের সাথে ধার্মিক হবার কথা না। আর তাই এই জাতীয় ধর্মীয় অর্চনা দি এবং মূল্যবান কোরবানি কিংবা রক্ত ঝরা মুসলমানি প্রয়োজন পড়ে। আমাদের নিঃশ্বাস নেবার জন্য কিংবা খাবার খাবার জন্য কিংবা যৌন মিলনের জন্য এই জাতীয় জটিল অর্চনার প্রয়োজন পড়ে না। এগুলো মানুষ সহজাত ভাবেই করে থাকে। কিন্তু মানুষকে ধর্মের মত অযৌক্তিক বিষয়গুলো বিশ্বাস করানোর জন্য এই জাতীয় ধর্মীয় রীতিনীতি এবং অর্জনগুলো প্রয়োগের প্রয়োজন পড়ে। যাতে তাদের মন গলে ধর্মীয় কমিউনিটির অন্যদের সাথে একাকার হয়ে যায়।

প্রফেসর রিচার্ড ডকিন্স বিবর্তনবাদের উপর লেখা প্রথম দিককার বইগুলি থেকে পড়লে আমরা এমন অনেক উদাহরণ পাই প্রাণিজগতের মধ্যে যে আপনার মনে হবে ধর্মই শুধু একমাত্র উদাহরণ নয় যার কারণে একটি প্রাণী আত্মহুতি দেয় নিজের অস্তিত্বের প্রয়োজনীয়তা অবজ্ঞা করে। অনেক শামুক কিংবা পাখির প্রজাতির মধ্যে এই জাতীয় আত্মহুতি দেবার প্রবণতা দেখা যায় বায়োলজিক্যাল কারণবশত। একটা শামুক যখন ইচ্ছাকৃতভাবে নিজেকে একটা পাখির পেটে যাবার মত পরিস্থিতি নিজেকে ফেলেতখন আমাদের জিজ্ঞেস করে লাভ নাই শামুকটার আসলে লাভ কি নিজের আত্মউৎসর্গ করে। এই আত্মউৎসর্গ যদিও শামুক টির নিজের অস্তিত্ব রক্ষায় বা জীন বিস্তারে কাজ লাগে না। আমাদের প্রশ্ন করতে হবে শামুকের ভিতরে থাকা পরজীবী অর্গ্যানিজিমটি যা তার শরীরের ভিতরে গিয়ে কল কাঠি নাড়ে যাতে সে পাখির খাবার হতে বাধ্য হয় (ভিডিও লিংকটি দেখে নিন) এবং মধ্যে দিয়ে পরজীবী অর্গ্যানিজিমটির নিজেরস্বার্থ পূরণ হয়।

রিচার্ড ডকিন্সের থিওরি অফ মানিপুলেশন তত্ত্বের আলোকে আমরা বুঝতে পারি আমাদের প্রশ্ন করা উচিত না যে লোক ঈশ্বরের নামে সেজদা দিয়ে দিয়ে যাচ্ছে ন তার আদৌ কি লাভ হয় বরং আমাদের প্রশ্ন করা উচিত যে ধর্মীয় নেতা তাদেরকে এই রকম ধর্ম পালনে উদ্ভুদ্ধ করছে যাবে তারা ধর্মের নামে আত্মহুতি দেয় ধর্মীয় উম্মাহর জন্য কিংবা পরোক্ষভাবে ধর্মীয় নেতার নিজের লাভের জন্য।

আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় নেতা রয়েছেন যারা নিজেদেরকে এক অর্থে ঈশ্বরের সাথে মানুষের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উপস্থাপন করে। মানুষ যেমন কথায় কথায় বলে কোন কিছু জানতে হলে ধর্মীয় আলেমের কাছে যেতে হবে বুজুর্গ পীর কিংবা মুফতির যেতে হবে। অন্যদিকে চিন্তা করলে এইরকম অদৃশ্য ঈশ্বর নামক উচ্চতর অধিকর্তা থাকার কারণে ধর্মীয় নেতারা কিছু সুবিধা ভোগ করতে পারে। যার মধ্য দিয়ে তারা কনফ্লিক্ট অফ ইন্টারেস্ট সময় নিজের স্বার্থ পূরণের উদ্দেশ্যে দর কষাকষি কিংবা কাউকে হুমকি দেবার জন্য তারা বিশেষ সুবিধা ভোগ করে।

একটা উদাহরণ দিলে বিষয়টা পরিষ্কার হবে। মনে করুন আপনি একটি গাড়ি কিনতে গেলে গাড়ির ডিলার কে বললেন

  • “আমি বিশ হাজার ডলার দিতে রাজি আছি এই গাড়ির জন্য”

তখন গাড়ি বিক্রেতা আপনাকে বলল

  • “আমি আপনাকে অবশ্যই দিতে চাই কিন্তু আমার ক্ষমতার মধ্যে তা নাই। একটু দাড়ান আমার বসের সাথে অনুরোধ করে দেখি কিছু করা যায় কিনা।”

তারপর সে বের হয়ে গেল একটা সিগারেট খেলো তারপর আবার ফিরে এসে আপনাকে বললো দেখেন –

  • -“আমি অত্যন্ত দুঃখিত আমি আপনাকে খুবই পছন্দ করেছিলাম এই গাড়িটা বিক্রি করার জন্য। আপনার মুখ দেখে খুবই ভাল মানুষ মনে হয়। কিন্তু আফসোস আমার বস কিছুতেই রাজি হলো না এই দামে দিতে।”

পার এইভাবে নিজের ক্ষমতাকে একটি উপরের স্তরের কাল্পনিক অস্তিত্বের উপর অর্পণ করে যার সাথে কেবলমাত্র আপনার যোগাযোগের ক্ষমতা আছে তা আপনাকে বিবিধ সময় দরকষাকষিতে বিশেষ ভাবে শক্তিশালী করে তুলবে।

অর্থই ধর্মগুরুরা যখন বলেন যে ঈশ্বর আমাকে বলেছে আপনাদের বলার জন্য এই কাজটা করতে হবে খুব সম্ভবত তখন সে তার নিজের স্বার্থ উদ্ধারের জন্যই এ কাজটা করে।

ন্যাচারাল সিলেকশনের অবচেতন প্রক্রিয়ায় আমরা দেখতে পেয়েছি যে একটি শামুক যখন প্যারাসাইট দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছে প্যারাসাইট তার অস্তিত্ব রক্ষার্থে আচরণ ম্যানিপুলেট করেছে যাতে সে একটি পাখির পেটে ঢুকতে পারে। এই ক্ষেত্রে প্যারাসাইট টির অস্তিত্ব রক্ষা পাচ্ছে। রিচার্ড ডকিন্স প্রকৃতির এই প্যারাসাইট টির সাথে ধর্মের তুলনা করে দাবি করেন যে এমনও হতে পারে কোন হুজুর বা পাদ্রী বা ধর্ম-গুরু হয়তো ইচ্ছাকৃত ভাবে পরিকল্পনা করেন কাউকে ম্যানিপুলেট করছে না কিন্তু ধর্ম বিশ্বাস কি সমাজের মধ্যে ওই প্যারাসাইট এর মত নিজের অস্তিত্ব রক্ষার্থে তার ধারণকারী কে মেনিপুলেট করে যাচ্ছে, বা মানুষের ধর্মীয় আবেগকে মেনুপুলেট করা যাচ্ছে।

স্টিভেন পিঙ্করের মতে পৃথিবীর সব জায়গার (আদিবাসী সমাজ সহ) বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় নেতারা কতটা আন্তরিক বিশ্বাসী বা কতটুকু সিনিকাল হয় তা বোঝবার জন্য গবেষণামূলক নৃবেজ্ঞানীদের ইম্পিরিকাল টেস্ট চালানো উচিৎ। এমনও হতে পারে তারা তাদের নিজেদের উদ্দেশ্যের স্তর থেকে আন্তরিক কিন্তু বিবর্তনমূলক উদ্দেশ্যের স্তর থেকে সিনিকাল। কারন আন্তরিকতা মানুষকে বোকা বানাবার খুবি ভাল একটি তরিকা।

সামাজিক মনোবিজ্ঞানের থিউরি অফ সেল্ফ ডিসেপশন বা আত্মবিভ্রমের মতবাদ অনুযায়ী বিবর্তন বাদী অস্তিত্ব রক্ষার প্রতিযোগিতায় যেখানে প্রতারণা করা কিংবা প্রতারণা ধরতে পারার প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠ প্রতারণাকারী হবে সে যে এক অর্থে নিজেই নিজের মিথ্যাকে বিশ্বাস করবে যাতে সে তার ভয়াবহ সত্য মনের ভূলে, স্ব-বিরোধিতা (self contradiction) বা অসতর্ক নার্ভাসনেস ইংগিতকারক (যেমন ধরুন ঘামতে শুরু করা ইত্যাদি ) ঘটনার কারনে কোন ভয়াবহ সত্য প্রকাশ করে না ফেলে।

বড় বড় নেতারা যদি সিনিকাল হতেন বা নিজেদের মিথ্যায় নিজেরা বিশ্বাস না করতেন তাহলে কেউ তাদের বিশ্বাস করতোনা। কিংবা তাদের সিনিসিজম তাদের আচরণ থেকে ধরা পরে যেত।

এই বিষয়টা বুঝিয়ে বলতে বর্তমানকালের আরও এক জনপ্রিয় মনোবিজ্ঞানী ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর Paul Bloom তার ক্লাসে এই উদাহরণ দিয়েছিলেন

-“আমি যদি একটা প্রতিযোগিতা আয়োজন করি যেখানে এক লাখ ডলার পুরুষ্কার দিবো তাকেই যে এমন মুখভঙ্গি দেখাতে পারবে যে সে আসলেই কষ্টে আছে-

আমার মনে হয় খুব ভাল হবে আপনি আপনার কলমটি নিয়ে জোড়ে নিজেই নিজের রানের মধ্যে বিঁধিয়ে দিন। এরফলে আপনি হয়ত অন্য সবার চেয়ে ভাল কষ্ট পাবার অত্যন্ত বিশ্বাসযোগ্য ভনিতা প্রকাশ করে পুরষ্কার জিতে নিতে পারবেন।”

স্টিভেন পিংকার মনে করেন এই ধরনের গ্রুপওয়াইজ self-deception চর্চা এমন ক্ষেত্রেও চালু থাকতে পারে সমাজে যেখানে হয়তো কোন পক্ষ ই কোন সুবিধা লাভ করছে না। কেমন হতে পারে সমাজের সব সদস্যের জন্য একটি বিশ্বাস ধরে রাখার পেছনে সমাজের সবার স্বার্থ জড়িত আছে। যেমনটা আমরা public goods/ Prisoner’s dilemma পরিস্থিতির ক্ষেত্রে দেখে থাকি। যদি সবাই দলের স্বার্থে সেক্রিফাইস করে তাহলে সবার জন্য ভালো হয় কিন্তু কেউ যদি সেক্রিফাইস না করে তাহলে সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এই বিষয়টা সবচেয়ে বেশি জলজ্যান্ত ভাবে দেখা যায় যুদ্ধের ক্ষেত্রে একটা সৈন্য দলের সব সদস্য যদি আন্তরিকভাবে যুদ্ধ করে যায় তাহলে অনেক ক্ষেত্রে যারা সাফল্য অর্জন করে। তবে ঐ সৈন্য দলের সব সদস্য কে ই সব সময় দুশ্চিন্তায় থাকতে হবে দলের কোন সদস্য যদি আন্তরিক ভাবে যুদ্ধ না করে ঝুঁকি এড়িয়ে যেতে চেষ্টা করে। তাহলে সে নিজেও নিজেকে প্রতারিত বোধ করবে এতক্ষণ যাবত যুদ্ধ চালিয়ে যাবার জন্য। এই কারণেই মিলিটারিতে যুদ্ধের ক্ষেত্রে ডিফ্লেকশন যুদ্ধ স্থল ত্যাগ করা হলে কঠোর ভাবে এবং সঙ্গে সঙ্গে শাস্তি দেয়া হয়।

কারণ দলীয় ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে যেখানে দলের সবাই একত্রে কোন দলীয় উদ্দেশ্যে অবদান রাখতে একমত হচ্ছে সেখানে দলের সবার অবদান রাখার জন্য কিছু নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা থাকা দরকার। ধর্মের ক্ষেত্রে দলগত আত্ম বিভ্রম সু প্রতিষ্ঠিত করার জন্য সবাইকে একই সঙ্গে এমন ভাবে কিছু কাজ করতে হয় যা কিনা কেউ এড়াতে পারে না।

অবশেষে আমরা বলতে পারি সর্বত্র ধর্মবিশ্বাস করেন ধর্ম বিশ্বাস কে সরল ভাবে বিশ্লেষণের উদ্দেশ্যে কেউ যদি সরাসরি বায়োলজিকাল এডাপ্টেশন (জৈব অভিযোজন) দাবি করে তা গ্রহণযোগ্য হবে না বরং এটাকে মানব মগজের অন্যান্য জ্ঞানীয় অনুষদ (কগনিটিভ ফ্যাকাল্টিস) সমূহের বাই প্রোডাক্ট বা উপজাত হিসেবে দেখাই বেশি গ্রহণযোগ্য । কেউ যদি মানুষের মগজে আগে থেকে গড মডিউল স্থাপন করা আছে দাবি করে বিষয়টাকে সরল ভাবে বিশ্লেষণ করতে চায় তা মোটেও গ্রহণ যোগ্য হবে না।

(জনপ্রিয় হারভার্ড মনোবিজ্ঞানী স্টিভেন পিঙ্কারের ধর্মের মনোবিজ্ঞান বক্তব্যের ভিত্তিতে লেখা।)

( ধর্মের মানসিক বিশ্লেষণ পর্ব ১ )

১ thought on “ধর্মের মানসিক বিশ্লেষণ পর্ব ২

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *