একখন্ড জমি

আমাদের একখন্ড জমি ছিল ।

সেখানে আমরা ভালোই ছিলাম । বাড়ির ছেলেরা যা হোক ভাল মন্দ আয় রোজগার করত । মেয়েরা রোজ বিকেলে পালাগানের আসর বসাতো । হাসিতে আর গানে , আনন্দে আর উত্‍সবে ভালোই ছিলাম আমরা । ঐক্য ছিল , শান্তি ছিল । আর সবার সাথে মিলে মিশে ঐ একখন্ড জমিতে ভালোই ছিলাম আমরা ।।


আমাদের একখন্ড জমি ছিল ।

সেখানে আমরা ভালোই ছিলাম । বাড়ির ছেলেরা যা হোক ভাল মন্দ আয় রোজগার করত । মেয়েরা রোজ বিকেলে পালাগানের আসর বসাতো । হাসিতে আর গানে , আনন্দে আর উত্‍সবে ভালোই ছিলাম আমরা । ঐক্য ছিল , শান্তি ছিল । আর সবার সাথে মিলে মিশে ঐ একখন্ড জমিতে ভালোই ছিলাম আমরা ।।

ঐ জমিটাতে কিন্তু আমরা আগে ছিলাম না । পার্শ্ববর্তী এক প্রতাপশালী জমিদার বিশ্বাসঘাতকতা করে আমাদের প্রজা বানিয়ে রেখেছিল । অত্যচারী সে জমিদার আমাদের মেয়েদের কৈশোর পেরুতে দিতো না । আমাদের ছেলে শিশুগুলোকে হত্যা করত । আদিম এক সম্ভ্রান্ত পরিবার হয়েও আমাদের থাকতে হোতো নোংরা বস্তিগুলোতে । দিনে রাতে আঠারো ঘন্টা খাটতে হোতো পরিবারের সন্তানগুলোকে বাচিয়ে রাখার জন্যে ।

এমন সময় একদিন স্বপ্নের রাজকুমার এলো আমাদের উদ্ধার করতে । সেই ভয়ংকর জমিদারের হাত থেকে রক্ষা করে বহুদুরে নিয়ে এলো আমাদের । নিয়ে এলো এই এক খন্ড জমিতে । তখন থেকেই আমরা আছি এখানে । শান্তিতে আর উত্‍সবে ।

আমাদের সুখ যেন সহ্য হয় না বিধাতারও । আবারো ঘনিয়ে আসে অন্ধকার । দস্যুর দল জমি দখল করে নেয় , রক্তের রঙে লাল হয়ে যায় আমাদের ভালোবাসার ঐ একখন্ড জমি । কত শত অনুনয় , কত অনুরোধ । তাও মন ভিজে না দখলদার দস্যুদের । কুকুরের মত তাড়িয়ে দেয় আমাদের । আমাদের শক্তি ছিল না ওদের থামানোর মত । তুলে নিয়ে ছুড়ে ফেলে দেয় ওরা । আমাদের ছেলেদের ছিন্ন শির বল্লমের মাথায় গেঁথে দিয়ে আমাদের একখন্ড জমিটাও করায়ত্ত করে । মেয়েদেরও রক্ষা করতে পারি নি । ভীরু কাপুরুষের মত পালিয়ে গিয়েছিলাম জীবন বাচানোর তাগিদে ।

অচেনা অজানা এক শহরে নিজেদের নতুনভাবে গুছিয়ে নেয়া শুরু করলাম আমরা । আবারো দিনে রাতে আঠারো ঘন্টা কাজ করা শুরু করলাম , এবারে নিজেদের তাগিদে । মেধার দিক থেকে আমরা আর সবার চেয়ে এগিয়ে ছিলাম বরাবরই । সেই সাথে পরিশ্রম । দ্রুতই উন্নতির দিকে এগিয়ে গেলাম আমরা । আমাদের প্রাণের বাসভূমি থেকে লক্ষ যোজন দূরে থেকেও সবাই প্রাণপণ কাজ করে যাচ্ছিলাম ঐ ঘৃণ্য নিকৃষ্ট দস্যুর দলকে সরিয়ে আবার নিজেদের এক খন্ড জমিতে ফিরে যাওয়ার ।

আমাদের উপর বারবার আঘাত আসে । বারবার থামিয়ে দেয়া হয় । ন্যায্য দাবির কথা বলায় সকলের শত্রু হয়ে যেতে হয় আমাদের । সারা পৃথিবী প্রতিটা অংশে আশ্রয়হীন আমরা ঘুরেছি । এক একটা দানার জন্য আমরা অনুনয় করেছি । আশ্রয় মিলেনি । ভবঘুরে বেদুঈনদের মত ঘুরে বেরিয়েছি সর্বত্র । কেউ কিছু দিনের জন্যে থাকতে দিয়েছে , কেউ তাড়িয়ে দিয়েছে । আমাদের সমুলে ধ্বংস করে দিতে চেয়েছিল এক খুনী । নৃশংসতার চুড়ান্ত দেখিয়েছিল সকলকে । সেই প্রথম এক প্রভাবশালী রাজ্য এসে ছায়া হয়ে দাড়ায় আমাদের উপর । তাদের সহযোগিতায় নিজেদের শক্তি আবার ফিরে পেলাম । নিজেদের স্বপ্নের এক খন্ড জমিটা ফিরে পেলাম । আজ আমাদের শক্তি আছে , সামর্থ্য আছে । দস্যুর দল আজ আমাদের ছোয়ার ও সাহস করবে না । আমরা আজ ভালো আছি । সর্বকালের সবচেয়ে বেশি নিপীড়িত হয়েও আমরা আজ ভালো আছি । আর যে যাই বলুক , আমরা আজ ভালো আছি ।
পুনশ্চ : ইসরায়েল সেনাবাহিনীর নির্লজ্জ আক্রমনে বারবার আমাদের মাথা নুয়ে যায় । তারা দস্যু , আমরা তো মানুষ । কুকুর তাড়াতে গিয়ে আমরাও আজ কুকুর হয়ে গিয়েছি ।

_ Ayalah Tishby

[ আয়ালা আমার বন্ধু । ইসরায়েল ফিলিস্তিন যুদ্ধ ছাপিয়ে একটা সুন্দর পৃথিবীর স্বপ্ন দেখে ইসরায়েলী এই কিশোরী ]
:গোলাপ:

৪ thoughts on “একখন্ড জমি

Leave a Reply to অচিন্ত্য দূর্বাঘাস Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *