শেষ

টুম্পা ম্যাসেজটা রাতেই দিয়েছিল। লক্ষ্য করিনি। সকালে আবিস্কার করলাম। মাত্র একটি শব্দ, ‘শেষ’। অনেকক্ষণ তাকিয়ে থাকলাম। নিজের জীবনের ঘটনা না হলে বোধহয় টুম্পার সাহিত্যিক ভঙ্গিমার প্রশংসা করতাম। এখনও করা যায়। তবে আমার ফোন আর ধরবে বলে মনে হয় না। পরে ভাবা যাবে কি করব। এখন একটু বের হওয়া দরকার। খোলা আকাশের নীচে কিছুক্ষণ হাঁটবো।
কোন দিকে যাওয়া যায়? নাকি এমনি এমনি হাঁটবো? কোন পার্কে বসলে কেমন হয়? কিছুক্ষণ একা থাকা দরকার। রেট্রোস্পেকশান করতে ইচ্ছা করছে না। কার দোষ ভেবে এখন আর কোন লাভ নেই। টুম্পা দারুণ জেদী। একবার যখন শেষ বলেছে, তখন শেষ। আমারও কেন যেন খারাপ লাগছে না। কেমন নির্ভার লাগছে। ভালই হয়েছে।

টুম্পা ম্যাসেজটা রাতেই দিয়েছিল। লক্ষ্য করিনি। সকালে আবিস্কার করলাম। মাত্র একটি শব্দ, ‘শেষ’। অনেকক্ষণ তাকিয়ে থাকলাম। নিজের জীবনের ঘটনা না হলে বোধহয় টুম্পার সাহিত্যিক ভঙ্গিমার প্রশংসা করতাম। এখনও করা যায়। তবে আমার ফোন আর ধরবে বলে মনে হয় না। পরে ভাবা যাবে কি করব। এখন একটু বের হওয়া দরকার। খোলা আকাশের নীচে কিছুক্ষণ হাঁটবো।
কোন দিকে যাওয়া যায়? নাকি এমনি এমনি হাঁটবো? কোন পার্কে বসলে কেমন হয়? কিছুক্ষণ একা থাকা দরকার। রেট্রোস্পেকশান করতে ইচ্ছা করছে না। কার দোষ ভেবে এখন আর কোন লাভ নেই। টুম্পা দারুণ জেদী। একবার যখন শেষ বলেছে, তখন শেষ। আমারও কেন যেন খারাপ লাগছে না। কেমন নির্ভার লাগছে। ভালই হয়েছে।
কখন চন্দ্রিমা উদ্যানে চলে এসেছি, বুঝতে পারিনি। বসলাম একটা গাছের নীচে। এতো সকালে যারা এসেছেন, বেশীর ভাগই ‘মর্নিং ওয়াক’ করা গ্রুপ। কেউ আবার এসেছেন সস্ত্রীক। বেশীর ভাগেরই এখন বিশ্রামের পালা চলছে। এখানে সেখানে বসে বোতলে আনা পানি পান চলছে। অল্প কিছু এখনও ফ্রি হ্যান্ড ব্যায়াম করছেন। আমি নির্জন এলাকা খুঁজছি। ওই কোণায় তেমন কেউ নেই।
কতক্ষণ ঝিম মেরে বসেছিলাম বলতে পারবো না। সম্বিত ফিরে পেলাম একটা মেয়েলি কণ্ঠে, একটু বসতে পারি?
বেশ বিব্রতকর পরিস্থিতি। চিনি না জানি না একজন যুবতী। এমন একটা নির্জন কোনে আমার পাশে বসতে চাইলো। ব্যাপারটা খুব সুবিধের মনে হচ্ছে না। বারণ করবার জন্য মুখ খুললাম, বসুন।
কথাটা মুখ থেকে বেরোতেই, চমকে উঠলাম। কি করছি আমি? একাকীত্ব এর জন্যই তো এখানে আসা। আর এধরনের জায়গায় অঘটনের ও সুযোগ রয়েছে। মোবাইল ফোনটা রেখে এসেছি। সঙ্গে দামী তেমন কিছু নেই। পকেটে টাকা বলতে শ’দুয়েক হবে। যদি ফাঁদে ফেলা টাইপ কেউ হয় খুব সুবিধে করতে পারবে না। কেমন যেন একটা অ্যাডভেঞ্চার ফিলিং আসছে। জেনে শুনে ফাঁদে পা দিয়ে দেখি না কি হয়?
‘সরি টু এমব্যারাস ইউ। আসলে একান্ত নিরুপায় হয়ে আপনার হেল্প চাইলাম’
ইংরেজি জানে তাহলে। ভদ্র টাইপের মনে হচ্ছে। আমার ভয় অমুলক ও হতে পারে। কেমন একটা সম্মোহন ফিল করছি। ভয়ের হয়তো কিছুই নেই, তারপরও সাবধান থাকতে হবে। খুব দ্রুত শুনিয়ে দিতে হবে আমার কাছে টাকা পয়সা বিশেষ নেই। কিছু একটা বলা দরকার। ‘আপনি কি একা?’
ঠিক একা না। একজনের আসবার কথা।
ও, আচ্ছা।
আর আমরা এই গাছটার নিচেই বসি। সাধারণতঃ আমি পরে আসি। আজ আগে এসে পরেছি।
আমি অন্য কোথাও বসতে পারি। আমার কোন অসুবিধা হবে না।
না না, আমি তা বলতে চাই নি। অন্য কোথাও আমিও বসতে পারতাম। ইন ফ্যাক্ট কিছুক্ষণ বসেও ছিলাম। সবাই কেমন করে যেন তাকাচ্ছে।
এ কথার কোন উত্তর হয় না। আমি নিজেও তো কেমন কেমন ভাবছিলাম। এবার ভালো করে তাকালাম। সুন্দর চেহারা। শ্যামলা, তবে বেশ মিষ্টি দেখতে। প্রেমে পড়ার মত। আমার করণীয় নিয়ে পরলাম সমস্যায়। প্রেমিক আসা পর্যন্ত পাহারা দেয়া? এবং আসবার সাথে সাথে ‘আমার একটু কাজ আছে’ বলে উঠে যাওয়া? এমন একটা কাজে ঠিক সায় পাচ্ছি না। উঠে যে যাব, ভদ্র কোন বাহানাও পাচ্ছি না। গল্প যে করব, কি নিয়ে করবো? কোন টপিক মাথায় আসছে না। প্রেমিক সম্পর্কে জানতে চাইবো? কি করে, এইসব?
আপনি কি কারো জন্য অপেক্ষা করছেন?
এই লাইনটা খারাপ না। নিজেকে টপিক বানিয়ে কিছুক্ষণ চালানো যাবে। বললাম, না। মনটা খারাপ, তাই একা একা বসে আছি।
তবে তো এসে ডিস্টার্ব করলাম।
ঠিক তা না। আসলে আপনার সঙ্গে কি কথা বলব সেটাই ভেবে পাচ্ছি না।
আমি তাহলে শুরু করি। আপনি কি করেন?
আমি একজন সাইন্টিস্ট। একটা নতুন ওষুধ আবিস্কারের জন্য কাজ করছি।
স্ট্রেঞ্জ।
স্ট্রেঞ্জ কেন?
না মানে সাইন্টিস্ট মানেই উস্কো খুসকো চুল, অগোছালো পোশাক এমন একটা পিকচার মাথায় আসে।
কয়জন সাইন্টিস্ট দেখেছেন?
চাক্ষুস বোধহয় একজনকেও না।
বোধহয় কেন?
কারণ জীবনে যত মানুষ দেখেছি তাঁদের অনেককেই তো চিনি না। তাঁদের ভেতর কেউ তো সাইন্টিস্ট হতেও পারে।
গুড লজিক। এনিওয়ে আপনি কি করেন? অবশ্য আপনার যদি বলতে আপত্তি না থাকে।
না আপত্তি নেই। তবে একটু পরে বলব। আপনারটা আগে শেষ হোক।
আমার তেমন কোন ঘটনা নেই। একটা ওষুধ আবিস্কারের চেষ্টা করছিলাম। গতকালকে, উই মেড ইট।
উই?
আমরা দুজন ছিলাম এই প্রোজেক্টে। আমি আর টুম্পা।
টুম্পা?
ভালো নাম মনে নেই। সেও সাইন্টিস্ট। অ্যান্ড…
অ্যান্ড?
উই হ্যাড অ্যাফেয়ার। বাট…
ব্রোকেন?
সর্ট অফ। ওই ওষুধটার রয়্যালিটি ইস্যু নিয়ে। ও চাইছিল বিদেশী একটা কোম্পানি কে বিক্রি করবে, আমি চাইছিলাম নিজেই কিছু করবো। এনিওয়ে লিভ ইট। অন্য কোন গল্প করি। আপনার সম্পর্কে বলুন।
আমি প্রফেশনাল কিলার।
কি? প্রফেশনাল…
কিলার। কন্ট্রাক্টে মানুষ খুন করি।
আর ইউ সিরিয়াস?
ভেরি মাচ।
বলেন কি?
অ্যান্ড আই অ্যাম হেয়ার উইথ অ্যান অ্যাসাইনমেন্ট।
মানে? আমাকে খুন করতে এসেছেন?
দেয়ার ইউ আর। ঠিক ধরেছেন। এতক্ষণ ওয়েট করছিলাম লোকজন বেশী ছিল দেখে।
কারণটা জানতে পারি?
কারণটা আমি নিজেও জানি না। আমার কাজ শুধু… ইউ নো।
কে দিয়েছে কন্ট্রাক্ট?
সেটা বলবার ও নিয়ম নেই।
আমি তো আর কাউকে বলতে যাচ্ছি না। আমি তো মরেই যাচ্ছি।
তা অবশ্য ঠিক। বেশ তবে বলছি। পুরো ডিটেলস জানি না, শুধু নাম জানি, সেটাও আসল কি না জানি না।
কি নাম?
সারমিন হোসেন।
অসম্ভব। এতো টুম্পার ভালো নাম।
এটাই সম্ভব। আই থিঙ্ক শী ইস অ্যান এজেন্ট অফ দ্যাট মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানি। ফর্মুলা বেচতে রাজী হলে হয়তো বেঁচে থাকতেন। এনিওয়ে, আই হ্যাভ টু ডু মাই জব। গুড বাই।
সাইলেন্সার লাগানো পিস্তলটা থেকে শুধু হালকা একটা আওয়াজ হল। টুম্পার ম্যাসেজের মানে এবার বুঝলাম… ‘শেষ’ মানে ওর মিশন শেষ।

১৫ thoughts on “শেষ

  1. চমৎকার তাতে কোন সন্দেহ
    চমৎকার তাতে কোন সন্দেহ নাই…
    তবে একটা ব্যাপার লক্ষ্য করলাম আপনরা গল্পে খুন একটা ভাল উপলক্ষ্য গল্পটি শেষ করার জন্যে!! শেষের দুইটা গল্পে তাই ছিল!!
    যা হোক ভালই গল্প লিখেন! প্রেম ছাড়া অন্য কোন মানব অনুভূতি নিয়ে একটা গল্প লিখুন…
    :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

    1. ভালো আইডিয়া দিয়েছেন। চেষ্টা
      ভালো আইডিয়া দিয়েছেন। চেষ্টা করব। আসলে খুন গুলো পর দেয়া হয়ে গেছে। এটা অনেক আগে এলখা।

  2. ধন্যবাদ…
    ধন্যবাদ… :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:

    আশায় থাকলাম…

    1. গল্পের জন্য? ধন্যবাদ তো আমার
      গল্পের জন্য? ধন্যবাদ তো আমার দেয়ার কথা কষ্ট করে পড়া আর মন্তব্যের জন্য

      1. “ভালো আইডিয়া দিয়েছেন। চেষ্টা
        “ভালো আইডিয়া দিয়েছেন। চেষ্টা করব। আসলে খুন গুলো পর দেয়া হয়ে গেছে। এটা অনেক আগে এলখা।”— এর জন্যে ধন্যবাদ দিয়েছিলাম!! 🙁

  3. আপনি আসলেই খুব ব্যাতিক্রম
    আপনি আসলেই খুব ব্যাতিক্রম থিম পছন্দ করেন। গল্পের শুরু মাঝে কোথাও বুঝার উপায় নেই, কাহিনী কোন দিকে যাচ্ছে। আপনি থ্রিলার লিখতে পারবেন।

  4. পড়ে মজা পেলাম। কিন্তু
    পড়ে মজা পেলাম। কিন্তু খুন-খারাবি বেশি করলেতো পুলিশের কাছে না হোক, পাঠকের কাছে ভবিষ্যতে শুরুতেই ধরা খেয়ে যাবেন!!! 😀

    1. অতো চিন্তা করলে লিখতেই পারবো
      অতো চিন্তা করলে লিখতেই পারবো না। আপাততঃ লিখে যাই, পরে অন্য কিছু ভাববো। মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *