এফ ডি সি, T20

স্থানঃ এফ ডি সি
সময়ঃ T20 (ভিশন ২০২১ এর আগের বছর)
চলচ্চিত্রঃ “হিজাব আমার অহংকার”

[দেশ উন্নতির চরম শিখরে পৌছে গেছে। অনেক আন্দোলন ও দাবী দাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার বাংলাদেশ ফিল্ম ফেডারেশনের কথা মত এফডিসিতে ২৪ তলা বিল্ডিং তৈরি করে দিয়েছেন। মহরা কক্ষ ও স্যুটিং স্পটগুলোর আধুনিকায়ন হয়েছে, নতুন নতুন সুযোগ সুবিধা ও প্রযুক্তি এখন নির্মাতা ও কর্মচারীদের হাতের মুঠোয়! স্পেশাল কম্পিউটার সফটওয়্যার এর বদৌলতে পরী নয় বোরকা পরিহিতা নায়িকারা মেঘবালিকাদের মত আসমান হতে নেমে আসছে। আরবের হলিস্যান্ড এর চলচ্চিত্রের সাথে পাল্লা দিচ্ছে এদেশের হালালউডের সিনেমা। ]


স্থানঃ এফ ডি সি
সময়ঃ T20 (ভিশন ২০২১ এর আগের বছর)
চলচ্চিত্রঃ “হিজাব আমার অহংকার”

[দেশ উন্নতির চরম শিখরে পৌছে গেছে। অনেক আন্দোলন ও দাবী দাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার বাংলাদেশ ফিল্ম ফেডারেশনের কথা মত এফডিসিতে ২৪ তলা বিল্ডিং তৈরি করে দিয়েছেন। মহরা কক্ষ ও স্যুটিং স্পটগুলোর আধুনিকায়ন হয়েছে, নতুন নতুন সুযোগ সুবিধা ও প্রযুক্তি এখন নির্মাতা ও কর্মচারীদের হাতের মুঠোয়! স্পেশাল কম্পিউটার সফটওয়্যার এর বদৌলতে পরী নয় বোরকা পরিহিতা নায়িকারা মেঘবালিকাদের মত আসমান হতে নেমে আসছে। আরবের হলিস্যান্ড এর চলচ্চিত্রের সাথে পাল্লা দিচ্ছে এদেশের হালালউডের সিনেমা। ]

কাট!- সুবাহানাল্লাহ, ফাটাফাটি শট। প্রোডাকশান, মেডামরে ঠান্ডা শরবত খাওয়াও। চেচামেচি করে বললেন পরিচালক হাজী সরাফুদ্দিন। তারপর নায়িকা ক্যাটরিনা বানু যিনি কিনা তার শরীরের বদৌলতে কয়েক দশক আগের মুনমুন-ময়ুরীকেই স্মরন করিয়ে দেন তাকে দেখে মেকাপ ওম্যানকে বললেন,- মেডাম এর নেক্সট ড্রেস আপ এর ব্যাবস্থা করো। ঐ যে গোলাপী যে বোরকাটা আছে, সেটা। নিকাবসহ। এমন সময় তার দিকে নায়ক এগিয়ে এল।
-ভাই, ফাটাফাটি শট কইয়া আমার দিকে তো তাকাইলেনি না, আমি তো নায়ক না কি! আর ঐ বোরকাওয়ালীর দিকে তাকাইয়া কি এমন দেখেন?
-‘আরে কি যে কও!’ কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে বললেন সরাফুদ্দিন। তিনি নায়ককে ঠিক তার দিকে আসতে দেখেন নি। ‘আর, আমি পরিচালক, নায়িকাকে কেমন দেখাবে, তা আমিই তো দেখবো। নাকি?’
-‘তা ঠিকই কইছেন।’ তারপর মনে মনে,’বুঝলাম, সবই দেখতে হয় আপনার।’
– এই তো বুঝলা। তা তুমি আজ কেমন জানি মনমরা মনমরা আছো ঘটনা কি? অস্থির দৃশ্য, নায়িকা ফাটাফাটি করল, তোমার অভিনয় কোনমতে চলে, ব্যাপারডা কি?
-ক্যাটরিনা তো অস্থির হবেই, ঐরকম ড্রেস পরে ও তো ঘেমে ভেতরে ভেতরে একেবারে নেয়ে গেছে মনে হয়, অস্থিরতা কি আর এমনে আসে!
-কও কি?
-হ, নায়িকার ঐ ঘামুক অবস্থা দেইখাইতো আমি ডায়লগ থ্রো করতে মিনমিন করছিলাম। বলল নায়ক জাকির চ্যান। শুনে চুপ করে রইলেন সরাফুদ্দিন। ‘কি ব্যাপার ভাই, কি ভাবেন?
-কিছু না। তারপর বিড়বিড় করে- ‘ ধুর মিঞা, নায়িকা ঘেমে গেছে সেটা আগে কইলেই পারতেন, কিছু ক্লোজশট নিতাম।’
-কিছু কইলেন ভাই?
-না, কিছু না। একটু বিরক্তির সাথে। ঐ মেকাপ…! শুনেই দৌড়ে এল মেকাপ ওম্যান সারিকা। ‘জ্বী স্যার!’ আরে তোমারে ডাকি নাই, তুমি তো নায়িকার কাছে ছিলা, দৌড়াই আইলা কেন? নায়িকার মেকাপ কইরা সখ মেটে না? তারপর একটা আরব্দেশীয় গালি দিয়া- নায়করেও লাগাইতে মনে চায়? অবস্থা বেগতিক দেখে ছুটে এলো মেকাপম্যান শাকিব খান। ‘ঐ, কই থাকস? নায়করে মেকাপ দে।’

-‘সারিকা, পরিচালকের কথায় মাইন্ড করেছ?’ সারিকাকে বললেন ক্যাটরিনা, ও ভু ভু ভু শব্দ করে নায়িকার মেকাপরুমে ঢুকেছে। সেও বোরকা পরা থাকায়, চোখও ঢাকা থাকায় দেখে বোঝার উপায় ছিল না সে কাঁদছিল কিনা।
-মাইন্ড করুম না! আপনেই কন সিস্টার মেডাম, আমারে কি খারাপ ম্যায়্যা মনে হয় আপনার? এত সুন্দর নিজেরে ঢেকেঢুকে রাখি, কারও গায়ে ঘেসি না। আমার বোরকাডা দেখছেন কত্ত বড়! এইডা আমার নানীর, মারা যাওয়ার আগে এইডা দিয়া গেছে। এমনেতেই আমারে দেখতে আজ নানী-নানী লাগনের কথা। আর ভাইজান আমারে আইজ এইডা কি কইল?
-এমন বোরকা আজকাল চলে না সারিকা। বলল ক্যাটরিনা।
-আমার এইডাই ভাল্লাগে, আমি বোকাসোকা মেয়ে। ফ্যাশন ট্যাশন ভাল বুঝি না আফা।
-হুম, আমার কি মনে হয় জানো?
-কি আপা?
-তুমি বোকাসোকা দেখেই আজ ডিরেক্টরের গালিটা খাইলা। বলেই সারিকার দিকে কি এক ইশারা করে সে এক চোখ টিপ দিল।
-চোখ মারেন কেন আপা, কইলাম না আমি বোকা সোকা ম্যায়্যা।
-হুম, তুমি পরিচালক হাজী বদরুল এর নাম শুনেছো, উনি যে প্রোডাকশান এর কর্মচারী মেয়েদের সাথে কি কি নাজায়েজ কাজ করেন, শুনেছো?
-হ, আপা। এক প্রোডাকশান আপা কইল হেইদিন।
-আমার মনে হয়, তোমার পরিচালক ভাইজানও তোমার বোরখার ভেতরে ঢুকতে চান।
-হায় আল্লা! কোন কি আপা? বলেই কান্না শুরু করতে গেলো সারিকা।
-এই, এই মেয়ে থামো। সময় নাই। তাড়াতাড়ি আমায় মেকাপ লাগাও। তা তোমার জিনিসপত্র কই? শুনে দাঁড়িয়ে গেলো সারিকা। তারপর তার ঢাউস বোরকা থেকে হাসিমুখে একে একে মেকাপ এর সকল কিছু বের করতে লাগলো।

পনের মিনিট বাদে, পরবর্তী শট শুরু হবে, পরিচালক নায়ক আর নায়িকাকে সব বুঝিয়ে দিলেন। নায়িকা গোলাপী বোরখা-নিকাব পরে হাজির, তার ভুরুতে গাড় করে কাজল লাগানো হয়েছে। সে বেশ মোটাগোটা স্বাস্থ্যবতী হওয়ার পরেও তাকে আটোসাটো বোরকা পরতে দেয়া হয়েছে। সামনের দৃশ্যটিতে নায়ক তাকে কোলে তুলে নেবে, তারপর ফ্যাল ফ্যাল করে নায়িকার ভ্রুর দিকে তাকিয়ে থাকবে। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক চলবে। ওরকম ভারী একজন নায়িকাকে কোলে নিতে হবে জেনেও নায়ককে চিন্তিত দেখাচ্ছে না। সে বরং নায়িকার দেহবল্লরী আড়চোখে লুকিয়ে দেখে নিচ্ছে। কিন্তু একটা সময় ছিলো এটা চিন্তাই করা যেত না। তখন ময়ুরী-মনমুনকে কোলে তুলতে গিয়ে হাটু-কোমড়ে ব্যাথা পেয়ে বাতের সমস্যায় ভুগে ক্যারিয়ার ধ্বংস হয়েছে অনেক নাম না জানা নায়ক এর। কিন্তু জাকির চ্যান এ যুগের নায়ক। জিম করে সে পুরোদোস্ত বডিবিল্ডার। সে প্রস্তুত, প্রস্তুত নায়িকা, ক্যামেরাম্যান, সহকারীরা।
-লাইট, ক্যামেরা, একশান! চিৎকার করলেন হাজী সরাফুদ্দিন। শুরু হলো উদভট ভঙ্গিতে নাচ। নায়ক আর নায়িকার পেছনের সারিতে জনা বিশেক নারী পাকিস্তানী মুজরা নাচ নাচতে আরম্ভ করলো। তালে তালে। তবে নায়িকার তাল মেলাতে কষ্ট হলেও তার শরীরের নড়ন চড়নে তার কিছুই বোঝা যাচ্ছিলো না। ক্যামেরা নায়িকাপ্রিয় হওয়ায় নায়কের শুধু হাত আর পা’ই দেখা যাচ্ছিল। এই পর্যায়ে নায়িকা নায়কের কোলে উঠতে লাফ দিল। নায়ক সহজ ভাবেই তাকে লুফে কোলে তুলে নিলো। তারপর হাটু গেড়ে বসে নায়িকার দিকে স্ক্রীপ্ট অনুযায়ী ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকতে গিয়ে দেখল নিকাবে নায়িকার ঠোঁট দেখা যাচ্ছে না। তার বুকে কি এক ঝড় তোলপার আরম্ভ করল। আর্নল্ড শোয়ার্নিগারের মত শক্ত হাতে যখনই সে তুলে নিতে গেলো নায়িকার নিকাব- তার আগেই- কাট! বললেন পরিচালক। নায়িকা নায়ককে বাধা দিলো নিকাব তুলতে। নায়ক চরম বিরক্ত হয়ে নায়িকাকে কোল থেকে নামালো। সে আবার মেকাপ রুমের দিকে আনন্দে দৌড়ে গেলো। মেয়েটি নায়িকা নয়, সারিকা ছিল। নিকাব থাকায় আর ভুরুতে গাঢ় করে কাজল দেয়ায় কেউ তাকে আন্দাজ করতে পারে নি। তাই, ভেতর থেকে হাসির আওয়াজ আসতে লাগল।

-এইটা কি হইল? দু-হাত শুন্যে তুলে পরিচালকের দিকে তাকিয়ে বলল জাকির চ্যান। আপনি আমাকে নিকাবটা খুলতে দিলেন না কেন?
-কারন ওই অংশটুকু কেটে ফেলা লাগত। নায়ক নায়িকাকে কোলে নিয়ে নিকাব খুলছে, এটাতো যাচাই কমিটির চোখে ধর্ষনের সামিল মনে হত। বুঝেছ?
-কন কি ভাই! বিস্ময়ের সাথে আস্বস্ত হল জাকির চ্যান। সবার আগে পেট বড়।
-হ্যা, এ যুগে নায়কদের পক্ষে মুটকী নায়িকাকে কোলে তোলা সহজ, কিন্তু তাদের নিকাব খোলা অসম্ভব।

(সমাপ্ত)

২০ thoughts on “এফ ডি সি, T20

  1. আহা…। এমন একখান ছিনেমা
    আহা…। এমন একখান ছিনেমা বানানো অত্যন্ত আবশ্যক…। :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে:

  2. হালালুডের ছিনেমার পরিচালক
    হালালুডের ছিনেমার পরিচালক থাকব ঈমামরা, তাইলে পুরাই শরিয়ত মোতাবেক ছিনেমা হইব :p

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *