মানুষের প্রথম পরিচয় হোক- সে একজন মানুষ!

গত কয়েকদিন ধরে ব্লগে কয়েকজন মুক্তমনা ব্লগার খুব চমৎকারভাবে যুক্তিতর্ক দিয়ে একটা বিষয় প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছেন। তা হলো “সেক্স যদি অপেন করে দেয়া হয় তাহলে সমাজের জন্য তা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে কিনা?” দুই পক্ষেই খুব চমৎকার কিছু যুক্তি-মতবাদ-তথ্য-উপাত্ত-সমীক্ষা দিয়ে স্বপক্ষের যুক্তিকে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন। তবে ভালো লাগার বিষয় হচ্ছে “যৌনতা”র মত একটা স্পর্শকাতর বিষয় নিতে এতো তর্ক বিতর্ক হওয়া সত্যেও কেউ সীমা অতিক্রম করেননি বা ব্যক্তিগত আক্রমণ বা গালাগালির আশ্রয় নেননি! নিঃসন্দেহে ব্লগিং জগতে এটা একটা ইতিবাচক খবর! তবে শুরুতেই বলে নিচ্ছি- আমি আমার পোস্টে সেই পুরনো কাসুন্দি ঘাটতে চাচ্ছি না। তাছাড়া অনেককেই দেখলাম যৌনতা নিয়ে ব্লগে লেখালেখি বা আলোচনাকে ভালো চোখে দেখছে না। যাই হোক, পূর্ববর্তী পোস্টগুলো যারা লিখেছেন ও মন্তব্য করেছেন তাদেরকে আন্তরিক স্বাদুবাদ জানিয়ে আমি একটা বিষয় স্পষ্ট করে বলতে চাই। আর তা হলো-
সমাজে নারী অবহেলিত এটা ‘সেক্স অপেন না ট্যাবু’ সেটা মূল কারণ নয়। মূল ব্যাপার হচ্ছে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গী। আসল ব্যাপারটা ঠিক না করে আপনি সেক্স অপেন করে দিলে বরং নারী আরো বেশী লাঞ্ছিত হবে! অবাধ যৌনতা কখনই সমাজের জন্য ইতিবাচক কিছু নিয়ে আসবে না। হ্যাঁ সমাধানটা হতে পারে “যৌন স্বাধীনতা”।
আর সেটা শুধু যৌনতার ব্যাপারে হবে কেন- বরং সমাজের সকল ক্ষেত্রেই নারী-পুরুষ সকলেরই স্বাধীনতা সমান থাকা দরকার। সেক্ষেত্রে অবশ্যই দায়িত্বগুলোও সমান ভাবেই ভাগ করে নিতে হবে। এজন্য দরকার সুশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়া আর সেটা অবশ্যই নারী-পুরুষ দু’জনকেই!
আমরা যে নারী নির্যাতনের উদাহরন গুলো দেখছি সেগুলোর বেশির ভাগই অশিক্ষিত সমাজে হচ্ছে। (তথাকথিত) শিক্ষিত সমাজে যে হচ্ছে না তা বলছি না। তবে রেশিও অনেক কম বা নির্যাতনের ধরনটা হয়তো ভিন্ন! এ সমস্যার সমাধান হতে পারে- সামগ্রীকভাবে মূল্যবোধের উন্নতি সাধন। যুগ যুগ ধরে বংশ পরাম্পরায় আমরা (পুরুষরা) নিজেদেরকে নারীদের চেয়ে বড়/উন্নত ভাবতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। তাদের ওপর একটা প্রভুত্ব খাটানোর আদম্য ইচ্ছা আমাদের জিনের ভেতর রেকর্ড হয়ে গেছে! সমস্যাটা এখানেই…
একটা সহজ মাইন্ড গেম খেলি আসুন। ধরুন আপনি (একজন পুরুষ) রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাবার সময় উল্টা দিক থেকে একটা মেয়েকে আসতে দেখলেন। মেয়েটা সুন্দরী, ফিগার ভালো আর পোষাকও আধুনিক (তবে শালীন বা একটু উগ্র ২টোই হতে পারে!)
মেয়েটিকে দেখার পর কোন শব্দটা প্রথম আপনার মাথায়/মনে আসবে?
ক) মাল একটা! ফিগারটা অসাম!
খ) দারুন একটা মেয়ে! হেব্বি সেক্সি!
গ) বাহ বেশ সুন্দরতো মেয়েটা!
ঘ) সুবহানআল্লাহ! সৃষ্টিকর্তা কী সুন্দর করেই না মেয়েদের বানিয়েছেন!
ঙ) বাহ! খুব সুন্দর একজন মানুষ!

এটাই হচ্ছে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গী…
এজন্যই সুশিক্ষার ব্যাপারটা বারবার চলে আসছে। কারণ, শিক্ষার উদ্দেশ্য হচ্ছে মূল্যবোধের পরিবর্তন। আমরা প্রত্যেকে যখন একে অপরকে (হোক সে নারী বা পুরুষ) একজন মানুষ হিসেবে সম্মান করতে শিখবো তখন এমন অনেক সমস্যা আদৌ তৈরীই হবে না। আর এই সম্মানবোধটা একপাক্ষিক ভাবে তৈরী করা সম্ভব হবে না কোনদিনই…
নারী পুরুষ সবারই দরকার উন্নত মূল্যবোধ আর পারস্পারিক শ্রদ্ধাবোধ।
উন্নত একটা সমাজের স্বপ্ন কেবল তখনই দেখা সম্ভব…

১৪ thoughts on “মানুষের প্রথম পরিচয় হোক- সে একজন মানুষ!

  1. আমরা সিংহের প্রশংসা করি
    আমরা সিংহের প্রশংসা করি কিন্তু গাভিকেই শ্রদ্ধা করি…
    এই দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন চাই!! আর সবার আগে ১০০% মানুষকে শিক্ষিত করতে হবে!!
    অশিক্ষিতের জন্যে যেমন গণতন্ত্র না তেমনি “যৌন স্বাধীনতা”ও না…
    দাদা কি ঐক্যের ডাক দিয়েছেন? 😉

    1. কি জানি! হবে হয়তো…
      আমি তো

      কি জানি! হবে হয়তো…

      আমি তো শুধু একটা জিনিষই চাই- প্রত্যেকে একজন মানুষকে মানুষ হিসেবেই সম্মান করুক…
      :গোলাপ:

  2. পারস্পরিক সম্মান শিক্ষা
    পারস্পরিক সম্মান শিক্ষা স্বাধীনতার সমান বন্টন। এ আলোচনার সমাধানের অপেক্ষায় রইলাম।

  3. অশিক্ষিতের জন্য ওপেন সেক্স এক
    অশিক্ষিতের জন্য ওপেন সেক্স এক ভয়াবহ ব্যাপার হবে। উন্নত শিক্ষায় শিক্ষিত হলেই তবে মানুষ বুঝতে পারবে ওপেন সেক্স কি কেন?
    আগে প্রতিটি মানুষ বিকশিত হোক নিজ নিজ চেতনায় তবেই যৌন স্বাধীনতা সফল হবে, নতুবা এর ফল অত্যন্ত ক্ষতিকারক হবে।

  4. মূল্যবোধ এর জাগরন খুবই
    মূল্যবোধ এর জাগরন খুবই প্রয়োজনীয় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ।

    নারী পুরুষ সবারই দরকার উন্নত মূল্যবোধ আর পারস্পারিক শ্রদ্ধাবোধ।
    উন্নত একটা সমাজের স্বপ্ন কেবল তখনই দেখা সম্ভব…

    লাইন টা চমৎকার

  5. মূল্যবোধ এর জাগরন খুবই
    মূল্যবোধ এর জাগরন খুবই প্রয়োজনীয় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ।

    নারী পুরুষ সবারই দরকার উন্নত মূল্যবোধ আর পারস্পারিক শ্রদ্ধাবোধ।
    উন্নত একটা সমাজের স্বপ্ন কেবল তখনই দেখা সম্ভব…

    লাইন টা চমৎকার

  6. অশিক্ষিতের জন্য ওপেন সেক্স এক
    অশিক্ষিতের জন্য ওপেন সেক্স এক ভয়াবহ ব্যাপার হবে। উন্নত শিক্ষায় শিক্ষিত হলেই তবে মানুষ বুঝতে পারবে ওপেন সেক্স কি কেন?
    আগে প্রতিটি মানুষ বিকশিত হোক নিজ নিজ চেতনায় তবেই যৌন স্বাধীনতা সফল হবে, নতুবা এর ফল অত্যন্ত ক্ষতিকারক হবে।- অবাস্তব স্বপ্নচারী
    সহমত তার সাথে। অবশ্যই পোষ্টটিও সুন্দর হয়েছে। আগে মনুষ্যত্ববোধের বিকাশ হওয়া চাই, সঠিক দৃষ্টিভংগিতে আসা চাই সমাজের সিংহভাগ মানুষকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *