বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস ও ধুমপায়ীদের নোবেল প্রাপ্তির সম্ভাবনা

আজ ‘বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস’ (৩১শে মে)। এ দিনটি পালনের মধ্যে আমাদের, অর্থা এদেশবাসীর আহ্লাদিত হবার খুব একটা কিছু নেই। বিশেষত আমাদের জন্য, আমরা যারা বিড়িওয়ালাদের ঘরের ছেলে, সিঁড়িওয়ালাদের ঘরের সন্তান নই। নেশা মুক্তি, আর তামাক মুক্তি কিন্তু এক কথা নয়। তামাকমুক্ত দিবস অর্থ কিন্তু নেশা মুক্ত দিবস এক নয়। তামাকের চাইতে অনেক অনেক বেশী ক্ষতিকর হিরোইন মুক্ত দিবস কবে? ফেন্সিডিল মুক্ত দিবস কবে? আজ তো ‘নেশামুক্ত দিবস’ নয়। আর নেশা মুক্ত দিবসই বা চাইব কেন? অনেক সৃষ্টিশীল নেশা আছে যা সৃষ্টির ইতিবাচক ফুল ফোটাতে পারে। তামাক বিরোধী আন্দোলনের কথা বলে আমার একটি অর্থকরী ফসলের বাজার ধ্বংস করার আন্তর্জাতিক চক্রান্তের শিকার হচ্ছি না তো? আমাদের দেশে সর্বোচ্চ কর প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হল BAT, একটি বৈদেশিক সিগারেট কোম্পানী। এদেশে ধুমপান ও তামাক জাতীয় দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন জারী করা হয়েছে ঐ কোম্পানীগুলোর পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ তৎপরতায়। যে তৎপরতার ভেতর দিয়ে আমার বিড়ির বাজার তুলে দেওয়া হয়েছে সস্তা (নেভী/পলমল জাতীয়) সিগারেট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের হাতে। ফলতঃ উত্তরবঙ্গের বিড়ি শ্রমিক এখন ঢাকার রাস্তার রিক্সাচালক অথবা গার্মেন্টস শ্রমিক। তাই সাভার ট্রাজেডির পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায় নিহতদের অধিকাংশই গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম , ঠাকুরগাঁও প্রভৃতি অঞ্চলের। গত ১৭ই মে-এর দৈনিক আল-ইহসান পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায় একটি খবর দেখলাম ‘সবচেয়ে সস্তা সিগারেটের দেশ বাংলাদেশ’। এর মূল কারণ কি? কারণ, ঐ সব সস্তা সিগারেটের উৎপাদনকারী তারা, যারা চাচ্ছে এদেশের বিড়ির বাজারটি তাদের দখলে নিয়ে এদেশের মুনাফায় ভাগ বসাতে। এদেশের বিড়ি শ্রমিকের আয়কে তার পেটে ঢুকাতে। ধুমপান যদি বড় বড় প্রতিষ্ঠান বন্ধই করতে চায় তবে ঘুড়িয়ে পেঁচিয়ে, সস্তা সিগারেট বাজারে না ছেড়ে, সরাসরি ‘বেনসন এন্ড হেজেজ ও ফাইভ-ফাইভ’ বন্ধ করার প্রচারণা চালাক। ঔষধ শিল্পের কথা বলে বিষাক্ত সাপ পোষা যাবে, প্রাণী বৈচিত্রের কথা বলে রপ্তানীর জন্য কুমির পোষা যাবে শুধু আমার গরিবের আয়ের তামাক ও অনাহারির বিনোদনের ‘বিড়ি’ বন্ধ করতে হবে। এভাবে ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে ভাবলে ঐ কথার সুর ধরেই বলতে হয়, আজকের দিন উপলক্ষে শ্রেষ্ঠ ধুমপায়ীর জন্য নোবেল পুরস্কার প্রথা চালু করা দরকার। তাদের জন্য যেসব চেইন স্মোকার (শেকল ধুমপায়ী) নিরন্তন যতিহীনভাবে বিড়ি / সিগারেট টেনে একটার পর একটা সিগারেট / বিড়ি শত্রুকে ধ্বংস করেই চলেছেন তথা এর ভেতরে থাকা তামাককে সংহার করছেন। তাই তাদেরকে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবসকে সফল করার পথিকৃত বলা যেতে পারে। আমাদের সমাজে এমন লোকের অভাব হবে না যারা বিরতিহীন ধুমপানের জন্য নোবেল পুরস্কার পেতে পারেন। আমাদের সমাজ ও সরকার তাদের বিষয়টি মাথায় রাখতে পারে।
ঠেস মারা কথা অনেকই বললাম। মূল কথার সুর ধরি। ‘বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস’ না ‘বিশ্ব মাদকমুক্ত দিবস’ দরকার। আসুন আমরা ‘বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস’ নয় ‘বিশ্ব মাদকমুক্ত দিবস’ পালন করি। যেন ধুমপায়ীদের নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করতে না হয়। প্রকৃতপক্ষে আমরা কোনটা পরিহার করব ও কোনটা লালন করব, কোনটার বিস্তৃতি ঘটাব অথবা কোনটার সংকোচন ঘটাব, তা নির্ধারণ করবে আমার মানুষের চাহিদা, সামাজিক মুল্যবোধ ও সার্বিক অবকাঠামোর উপর।

১৪ thoughts on “বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস ও ধুমপায়ীদের নোবেল প্রাপ্তির সম্ভাবনা

  1. আসুন সবাই মিলে পৃথিবীর তাবত
    আসুন সবাই মিলে পৃথিবীর তাবত তামাক পুড়িয়ে দেই।
    ধোয়াগুলো যথারীতি পান করি।

    খারাপ না, আসুন আরো বিড়ি খাই,

    আজ বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস।

    1. যখন আমার সোনার চামচ মুখে তুলে
      যখন আমার সোনার চামচ মুখে তুলে খাবার সুযোগ থাকবে তখন নিশ্চই ধোঁয়া পান করব না। কিন্তু যখন ধোঁয়া বিক্রি করে মানুষের মুখের আহার সংরহ করতে হয় তখন আমাকে তো ধোঁয়ার কারখানার সমৃদ্ধি ঘটাতেই হবে। বিশ্বের প্রতি দায়বদ্ধতা পালনের পূর্বে নিজের গৃহের দায়বদ্ধতা মিটানো প্রয়োজন। সে আঙ্গিকেই আমি ধোঁয়া পান বা পরিহার করব

  2. “প্রকৃতপক্ষে আমরা কোনটা
    “প্রকৃতপক্ষে আমরা কোনটা পরিহার করব ও কোনটা লালন করব, কোনটার বিস্তৃতি ঘটাব অথবা কোনটার সংকোচন ঘটাব, তা নির্ধারণ করবে আমার মানুষের চাহিদা, সামাজিক মুল্যবোধ ও সার্বিক অবকাঠামোর উপর।”—
    অসাধারন বলেছেন… :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *