ভালবাসার শীতলতা-উষ্ণতা

উনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে সান-ফ্রান্সিস্কোতে শহরের বাইরে এক মধ্যবয়স্ক দম্পতি বাস করত।তাদের নাম আলেক্স এবং সেলিহা। তাদের একটি মেয়ে ছিল -নাম মারটিনা। আলেক্স এবং সেলিহা তাদের বাড়ির পাশে সবজির চাষ করে অর্থ উপার্জন করত। এক শীতে তারা তাদের এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাবে বলে ঠিক করল। ওই আত্মীয়ের বাড়ি সেখান থেকে প্রায় ১৭০ কিলোমিটার দূর ছিল।


উনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে সান-ফ্রান্সিস্কোতে শহরের বাইরে এক মধ্যবয়স্ক দম্পতি বাস করত।তাদের নাম আলেক্স এবং সেলিহা। তাদের একটি মেয়ে ছিল -নাম মারটিনা। আলেক্স এবং সেলিহা তাদের বাড়ির পাশে সবজির চাষ করে অর্থ উপার্জন করত। এক শীতে তারা তাদের এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাবে বলে ঠিক করল। ওই আত্মীয়ের বাড়ি সেখান থেকে প্রায় ১৭০ কিলোমিটার দূর ছিল।

একদিন বিকালে তারা তাদের জেলপি গাড়িটি নিয়ে বেরিয়ে পড়ল।আবহাওয়া বেশ ভালই ছিল। কিন্তু পথিমধ্যে ঘটল বিপত্তি। মুইর উডস ফরেস্ট এর মাঝখানে এসে তাপমাত্রা কমতে লাগল। হঠাৎ শুরু হল তুষার ঝড়। তুষারপাতের কারনে সামনের ৫০ মিটার ও দেখা যাচ্ছিলনা। তার মধ্যেই আলেক্স দক্ষ হাতে গাড়ী চালিয়ে নিয়ে যেতে লাগল। কিছুদূর যাওয়ার পর তুষারপাতের মাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে গেল। গাড়ীর ভিতরে হিটার আগে থেকেই চালু ছিল। তারপরেও ঠাণ্ডা কিছুতেই কমছিলোনা। এরই মধ্যে রাস্তায় তুষারের পুরু আস্তরন পড়ে গেল। গাড়ীর চাকা আটকে গেল বরফের মধ্যে। সেলিহা ও মারটিনা প্রচণ্ড ভয় পেয়ে গেল। অ্যালেক্স ও কিছুটা ভয় পাচ্ছিল। কিন্তু সে তা তাদের বুঝতে দিলোনা। এভাবে ২ ঘণ্টা কেটে গেল। এদিকে অতিরিক্ত ঠাণ্ডায় গাড়ীর ইঞ্জিন এবং ব্যাটারি অচল হয়ে গেল। এ যেন মরার উপর খাড়ার ঘা। ব্যাটারি বন্ধ হওয়ায় হিটার ও বন্ধ হয়ে গেল। তাপমাত্রা তখন শূন্যের ১২ ডিগ্রি নিচে। প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় রক্ত চলাচল প্রায় বন্ধ হওয়ার জোগাড়। আলেক্স অতিরিক্ত একটি ওভারকোট মারটিনার গায়ে পড়িয়ে দিলো। এদিকে আলেক্স ও সেলিহা দুইজনেই ঠাণ্ডায় প্রায় কুপোকাত। আলেক্স সেলিহাকে তার জীবনের চাইতে ও বেশি ভালবাসত। সে সেলিহা কে বলল -” তুমি আমার ওভার কোট টা গায়ে পড়ে নাও” সেলিহা এর তীব্র প্রতিবাদ করলো। সেও আলেক্স কে অনেক ভালোবাসতো। সে কিছুতেই রাজি হলনা। আলেক্স ওকে অনেক বুঝানোর চেষ্টা করলো। সেলিহা কিছুতেই মানতে রাজি হলোনা। তখন আলেক্স এর মাথায় একটা কূটবুদ্ধি খেলে গেল। সে তার মেয়ে মারটিনার মুখে একবার তাকাল। মারটিনা ঘুমিয়ে পড়েছে।

আলেক্স সেলিহা কে বলল সে কফি বানাবে। আলেক্স কফি বানাতে লাগল। সেলিহা যখনই একটু অসতর্ক হলো তখনই আলেক্স সেলিহার কফির পেয়ালায় ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দিলো। তারপর তারা দুজনে কফি খেতে খেতে জীবনের পেরিয়ে আসা সুন্দর মুহূর্ত গুলো মনে করতে লাগলো। এদিকে ঠাণ্ডা বেড়েই চলেছে। ঘুমের ওষুধ এর কারনে সেলিহার খুব ঘুম পেতে লাগলো। আলেক্স সেলিহার কপালে চুমু দিলো। সেলিহা ঘুমিয়ে পড়ল। সেলিহা ঘুমানোর পর আলেক্স তার গায়ের ওভারকোট এবং অন্যান্য ভারী কাপড়গুলোও সেলিহার গায়ে চাপিয়ে দিলো।

তাপমাত্রা তখন প্রায় মাইনাস ১৭। আলেক্স শেষবারের মত তার মেয়ে মারটিনা এবং স্ত্রী সেলিহার কপালে চুমু দিলো। কারন সে জানে এই ঠাণ্ডায় সে আর বড়জোর ১০ মিনিট বেচে থাকবে। তার চোখ থেকে কয়েক ফোটা জল গড়িয়ে পড়লো। তারপর গাড়ীর লক খুলে বেরিয়ে পড়লো তুষারপাতের মাঝে। যাতে ঘুম থেকে উঠে তার লাশ টা দেখে তার স্ত্রী ও মেয়ে আতংকিত না হয়। পা টেনে টেনে হাঁটতে লাগলো সে জঙ্গলের দিকে। আর শুধু বার বার পিছনের দিকে ফিরে তাকাচ্ছিলো। দুই দিন পর তার লাশ টা খুজে পেল সানফ্রানন্সিস্কো পুলিশ। তার হাতে তখনো ছিল একটি ছবি-তার স্ত্রী আর মেয়ের।

৬ thoughts on “ভালবাসার শীতলতা-উষ্ণতা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *