২১ বছরে ভাইকিংস

গান কোন ছেলেখেলা না অবশ্যই। কিন্তু যারা গান এবং সুরের মানুষ তাদের কাছে গানের প্রকৃত অর্থ খুঁজতে গেলে হতাশ হওয়ার আশংকা একদমই নেই। যাত্রা শুরু হয় ১৯৯৭ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর। একদম নতুন অবস্থায় কয়েকটা গান লিখে আবার স্টুডিও’তে গিয়ে রেকর্ডিং শুরু করার জন্য অনেক সাহসের প্রয়োজন। পাঁচটা মানুষ, পাঁচটা বন্ধুর অনেক সাহসের ফলেই আজ আমাদের বয়সী একদল নিশাচর একই গান বারবার শুনে পুরো একটি রাত কাটিয়ে দিতে পারে।

১৯৯৯ সালে স্টার অ্যাওয়ার্ড লাভ করা ব্যান্ডদল বীরের বেশে অনেকগুলো বছর পার করে দিয়েছে। পেয়েছ অনেক সাফল্য। বুঝিয়েছে তারা বরাবরই গান আর সুর নিয়ে খেলতে পছন্দ করে। তাদের গান পৌঁছে দিয়েছে যান্ত্রিক শহর থেকে একদম সবুজের সমারোহ পর্যন্ত। এমনটাই তো হওয়ার কথা। যারা জীবনের গান করে, যারা জোছনার অপেক্ষায় গান করে তাদের সফলতা না আসলে কার আসবে।

আজ থেকে আঠারো বছর আগে যখন প্রথম অ্যালবাম “জীবনের কোলাহল” বের হয়েছিলো তখন তারাও হয়তো জানতো না বহুবছর পরেও বিষাদগ্রস্ত মানুষ মুক্তির আশায় তাদের সৃষ্টিকেই শেষ সম্বল হিসেবে কাছে টেনে নিবে।

ভালোবাসাকে নিয়ে অনেকগানই এখন পর্যন্ত করা হয়েছে। কিন্তু কিছু গান, আমি আবারো বলছি, কিছু গান একদম মনে জায়গা করে নেয় একদম চিরতরে। চাইলেও মন থেকে মুছে ফেলা যায় না। আর এজন্যই তো দুপুরের কড়া রোদে পুড়ে ঘামে ভেজা শরীরটা নিয়ে বাসার ফিরতে গিয়ে মোড়ের সিডির দোকানটায় “ভালোবাসি যারে” শুনলে মুহূর্তেই সব ক্লান্তি পালিয়ে যায়।

এছাড়াও যখন “দিন যত, দুঃখ তত” অ্যালবামটা শুনি মগ্ন হয়ে রই জীবনের উৎসবে নিজের চারিপাশে গড়ে উঠা ছোটবড় কিছু দুঃখকর মুহূর্তের হিসেব নিয়ে। কিন্তু অবাক করা ব্যাপার হলো এই দুঃখগুলোও কেমন যেন মুহূর্তেই আমাদের ছেড়ে পালিয়ে যায়।

মূলত এই অ্যালবামের পরেই লম্বা একটা বিরতিতে চলে যান গান আর সুরের খেলোয়াড়েরা। বিরতিটা আরো লম্বাও হতে পারতো হয়তো। কিন্তু আমি নিশ্চিত যখন নিজেরাই উপলব্ধি করলেন এদেশের মানুষকে আরো অনেক কিছুই দেবার বাকি আছে তখনই আবার বীরের বেশেই তাদের ফিরতে হয়েছে পুরনো ট্র্যাকে, পুরনো ফিল্ডে। দলনেতা তন্ময় তানসেন গান আর সুর নিয়েই যে কেবল খেলতে জানেন তা কিন্তু না। এর বাইরেও তার আরেকটা পরিচয় আছে। ক্যামেরার পেছনে বসে বাস্তব জীবনের গল্প ক্যামেরায় ফুটিয়ে তুলার মত অসাধারণ ক্ষমতার অধিকারী এই মানুষটা। তিনি দেশের একজন সুনামধন্য সিনেমা নির্মাতাও। নির্মাণ করেছেন “পদ্ম পাতার জল” ও “রান আউট” নামের দুটো জনপ্রিয় চলচ্চিত্র। আর রান আউটের মধ্যে দিয়েই এই দলনেতা আবার নতুন করে দল নিয়ে ফিরে এসেছেন এদেশের মানুষের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে।

মাঝে একটা সময় তাদেরকে লাইভ কনসার্টে দেখা যেতো না। তরুণ প্রজন্ম থেকে শুরু করে মাঝ বয়সী মানুষেরাও এমন দৃষ্টি নিয়ে স্টেজে তাকাতেন যেন সত্যিই সবকিছু থেকেও কিছু একটা নেই। কিন্তু এখন কিছু একটা না থাকার হতাশা কেটেছে ভালো করেই। আবার দেশের বড় বড় কনসার্টে সবাই মাথা নাড়াতে নাড়াতে জীবনের গান গায়। কেউ কেউ আবার ভাঙা গলা নিয়ে তাদের সাথে ভালোবাসার গান গায়। তাদের সাথে গলা মেলায় জোছনার অপেক্ষায় করা গানটাতেও। গলা মেলায় কথা দেওয়ার গানে।

কাল রাতে বাংলাদেশের পরাজয়ে মন খারাপ করে যখন “এলোমেলো ক্রমশ” শুনছিলাম তখন হঠাৎ করেই আবিষ্কার করলাম এই ব্যান্ড দল আরো একটা বছর কাটিয়ে দিয়েছে একদম সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে। তোমাদের আরো অনেক বছর, আরো অনেক লম্বা পথ পাড়ি দিতে হবে। এদেশের আনাচেকানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিষাদগ্রস্ত একদল নিশাচর প্রাণীদের বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা জোগাতে হবে। অনেক অনেক ভালো থেকো প্রিয় “ভাইকিংস”।

জন্মদিনের অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইলো।

১ thought on “২১ বছরে ভাইকিংস

  1. ব্যান্ড ভাইকিংস এর নাম শুনেছি
    ব্যান্ড ভাইকিংস এর নাম শুনেছি আগেও। এটাও শুনেছি তাদের গানও নাকি হৃদয় ছোয়া। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত এখনও তাদের গান শোনা হয়নি অথবা হয়তো হয়েছে কিন্তু জানিনা এটাই ভাইকিংস এর গান। আপনার লেখা থেকে অনুপ্রেরনা পেলাম তাদের গান শোনার। আজকেই শুনবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *