ভিয়েনা বনাম ঢাকা – রাস্তার নীতি পর্যালোচনা

অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনা বেশ কয়েকবার রেংকিংয়ে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বসবাসযোগ্য শহর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। আমি এখানে দীর্ঘদিন বসবাস এবং গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশের সড়ক দুর্ঘটনা ঝুঁকি কমানোর জন্য কিছু পরামর্শ দিতে চেষ্টা করব। আমার মতে যদি কোন কিছু অনুকরণীয় পাওয়া যায় তা প্রয়োজনে যদি চরম শত্রু কাছ থেকেও শিখতে হয়, তাতে দ্বিধা করার কিছু নাই। আমি এটাও জানি বাংলাদেশ এবং অস্ট্রিয়ার প্রেক্ষাপট এক না, এক জায়গার অনেক কিছু অন্যত্র হজম হবে না। তারপরেও হয়তো ভালো কিছু আইডিয়া ঢাকা শহরে বাস্তবায়নের জন্য গ্রহণযোগ্য মনে হতে পারে ।  একজন taxi driver হিসেবে ছাত্রাবস্থায় এক সময় অনেক দিন টেক্সি চালিয়েছিলাম অস্ট্রিয়াতে। আমার গাড়ি চালাবার লাইসেন্সও এখান থেকে করা। এক দৃষ্টিতে চিন্তা করলে আমার মনে হয় বাংলাদেশে গাড়ি চালানো অস্ট্রিয়াতে গাড়ি চালানোর চেয়ে অনেক কঠিন। কেন এই কথা বললাম একটু ব্যাখ্যা করতে চেষ্টা করি । উন্নত বিশ্বে গাড়ি চালাতে শুধুমাত্র একটা ইন্দ্রীয় ব্যবহার করাই যথেষ্ট। তা হল- চোখ বা দৃষ্টি ইন্দ্রিয় । ট্র্যাফিক সাইন, ট্র্যাফিক লাইট কিংবা অন্যান্য যানবাহনের অবস্থান দেখে নিশ্চিত হলেই আপনি মোটামুটি নিশ্চিত ভাবে গাড়ি চালাতে পারবেন। আপনার শ্রবণেন্দ্রিয় বা কর্ন ব্যবহারের কোন প্রয়োজন নাই। এখানে কেউ হর্ন ব্যবহার করে না। ইমারজেন্সি গাড়ি সমূহ যেমন পুলিশ এম্বুলেন্স জাতীয় গাড়ি সমূহের অধিকাংশ সময় নীল বাতি জালানো দেখতেই সকলে সতর্ক হয়ে তাদের জন্য পথ ছেড়ে দেয়, অধিকাংশ সময়ে সাইরেন বাজানো প্রয়োজন পড়ে না। আর চোখ দিয়ে দেখে রাস্তায় প্রতিটা ক্ষেত্রে কি করনীয় সেই সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক গাড়ি চালানোর নিয়ম নীতিগুলো শেখানোর উদ্দেশ্যে ড্রাইভিং লাইসেন্স পাবার সময় মানুষকে অনেক ব্যাপক বিষয়াদি জানতে হয় শিখতে হয়। বাংলাদেশ এতকিছু copyright violation হয়। আজ কালের দিনে সবকিছু তো ইন্টারনেটে ফ্রি পাওয়া যায়। ড্রাইভিং এর নিয়ম কানুন সংক্রান্ত প্রচুর material প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাধ্যমে দেশে এনে বাংলাদেশের ড্রাইভারদের ট্রেনিংয়ের জন্য বাংলা ভাষায় পাঠ্য বিষয়বস্তু কিংবা অডিও ভিডিও র আকারে শিক্ষনীয় বিষয় বস্তু অক্ষরজ্ঞানহীন ড্রাইভারদের জন্য ও প্রস্তুত করা সম্ভব। বাংলাদেশ আর একটা সমস্যা হচ্ছে collective লার্নিং এর অভাব। প্রতিটা সরকার পরিবর্তন হয় কারো ভুল বা সাফল্য থেকে দেশের বৃহৎ স্বার্থে কে কি শিখলো পরবর্তী সরকারের মাধ্যমে দেশের স্বার্থে কাজে লাগানো যায় না। প্রতিটা ব্যর্থতা এক্সিডেন্ট প্রতিটা অগ্রগতির বিষয়বস্তু কিভাবে অন্যত্র প্রয়োগ করা যায় তা ভেবে দেখা দরকার।   অস্ট্রিয়ার প্রসঙ্গে ফিরে আসি। অনিয়মের দেশে সব সময় নিয়ম পালন করতে চাইলে যেমন সমস্যায় পড়তে হয়, তেমনি খুবই নিয়ম তান্ত্রিক দেশে একটা সামান্য নিয়ম ভাঙলেও সমস্যায় পড়ার সম্ভাবনা থাকে। অন্যভাবে বলতে গেলে প্রতিষ্ঠিত নিয়মই নিয়ম কে রক্ষা করতে সাহায্য করে। তখন আর এতটা পুলিশের দরকার হয়না। আর সবাই যখন এই নিয়মের উপর আস্থা করে তখন নিয়মকে সামান্য সময়ের জন্য অবহেলা করা সম্ভব না। ধর্মপ্রবণ বাংলাদেশের মানুষ ধর্ম পালনের উপর যতটা যত্নশীল এই দেশের মানুষ ট্রাফিক আইনে পালনে তার চাইতে বেশি সচেতন হতে বাধ্য । আপনি একবেলার নামাজ মিস করতে পারবেন ঠিক, তবে এখানে একবার যদি লাল লাইট এর উপরে গাড়ি চালিয়ে যান তার পরিণতি হয়তো সঙ্গে সঙ্গে ভোগ করে ফেলবে। তাৎক্ষণিক পরিণতি একটা ভয়াবহ এক্সিডেন্ট কিংবা হয়তো ক্যামেরার কারণে চলে আসবে নিশ্চিত জরিমানা । -সবাই সবার নিয়ম এবং অধিকার সম্পর্কে সচেতন, সেই সাথে আছে প্রতিটি রাস্তার কাঙ্ক্ষিত ডিজাইন । অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ছাড়া একটা দেশের পক্ষে তা সম্ভব হতো না। সবাই নিয়ম মেনে চলার কারনেই হয়তো আজকের বিজ্ঞানের যুগে এমন গাড়ি বানানো সম্ভব হচ্ছে যা চালকবিহীন উন্নত বিশ্বের রাস্তায় চলতে পারবে। শুধুমাত্র দৃষ্টি ইন্দ্রিয় ভিত্তিক তথ্য পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা সংক্রান্ত প্রোগ্রামিং কোড করে ফেলতে পারলেই গাড়িকে রাস্তায় ছেড়ে দেয়া যেতে পারে। আমি ভুল হতে পারি তবে আমার ধারণা বাংলাদেশে এই জাতীয় গাড়ি রাস্তায় নামানো হয়তো সহজ হবে না। বাংলাদেশে আরো অনেক অতিরিক্ত ইন্দ্রীয় ব্যাবহার করতে হয়। অন্য দিক দিয়ে কে কোন গাড়ি আসলে গাড়িটা নিয়ম ফলো করবে কিনা আপনি নিশ্চিত না তাই আপনাকে হর্ন বাজাতে হবে। অন্যদিকে কেউ হন বা আছে কিনা তা কান খাড়া রেখে শুনতে হয় । সেই সাথে আপনাকে ব্যবহার করতে হয় ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়। এই রাস্তার ম্যানহোলের মধ্যে ঢাকনা আছে তো (!) অনেক কিছুই অনুমানের ভিত্তিতে বুঝে নিতে হয়। সফল যাত্রা বা দুর্ঘটনা সবই ফি আমানিল্লাহ নামে চলতে থাকে। আর মন্ত্রী-এমপির ভিআইপি গাড়ি আসলে তো কথাই নাই নিয়ম কানুন আর নিয়ম কানুন থাকে না। এখানকার অনেক রাস্তা এতটা চওড়া নয় যতটা বাংলাদেশের চওড়া করতে হয়। গাড়ি চালাবার রাস্তার সাথে থাকে বাইসাইকেলের লেইন। যা বাড়িকে একটা সংকীর্ণ লেনের নিয়মমাফিক চলতে বাধ্য করে। Bangladesh লেইন ফলো করে চলতে দেখি নাই গাড়ির এক পাশের দুই চাকা থাকে এক লাইনের মাঝখানে অন্য পাশের দুই চাকা থাকে আরে ক লেইনের এর মাঝখানে। আর যদি তাই হয় রাস্তার মধ্যে এতো খরচা করে লেইন আঁক বার দরকার টা কি? রাস্তার মাঝে একে রাখার লাইন গুলোর উপকারিতা কি হতে পারে তার সরকার কর্তৃপক্ষ যেমন তোয়াক্কা করে না তেমন পাত্তা দেয় না গাড়ী চালকেরা।   উন্নত দেশ বিশ্বের অধিকাংশ শহরগুলির মতোই অস্ট্রিয়াতে সাইকেল চালানো কে সঙ্গত কারণবশত বিশেষভাবে উৎসাহিত করা হয়। প্রভিটা রাস্তার পাশে বাইসাইকেল লেইন থাকে কিংবা আপনি কোথাও থেকে কোথাও যেতে চাইলে বাইসাইকেল চালিয়ে কিভাবে যাবেন তা গুগল ম্যাপ থেকেও বিকল্প সাইকেল চালানোর পথটা সম্পর্কে জানতে পারবেন। তারপর থাকে চওড়া ফুটপাত যাতে মানুষ হাঁটতে পারে স্বাচ্ছন্দে। মূলনীতি একটাই শহরটা মানুষের জন্য গাড়ির জন্য না। পাবলিক ট্রা্সপোর্ট কে সংগত কারণবশত এতটাই শক্তিশালী এবং সুশৃংখলভাবে পরিচালিত করা হয় যে আপনি যদি পাবলিক ট্রান্সপোর্টের চলাফেরা করেন আপনার গাড়ির প্রয়োজন পড়বে না, একটু সময় মেনে চললেই হয়। সমস্ত পাবলিক ট্রান্সপোর্ট একটি সরকার নিয়ন্ত্রিত কোম্পানির অধীনে চলে। এর আওতায় আছে পাতাল ট্রেন, বাস, ট্রাম এবং দূরপাল্লার ট্রেন সমূহ । তাই কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা মাফিক কোন গাড়িটা কখন কিভাবে কোথায় যাবে নির্ধারণ করা থাকে। একটি টিকিট আপনি সর্বত্র ভ্রমণ করতে পারছেন। তার সময় সূচি আপনার যাবার কাঙ্খিত গন্তব্য এবং আপনার বর্তমান অবস্থান সম্ভাব্য যাত্রা শুরু র স্থান অনুযায়ী কোথায় কোথায় কোন কোন গাড়ি বদলাতে বদলাতে গন্তব্যস্থলে পৌঁছা যাবে তা বিস্তারিত গুগল মেপের মাধ্যমে এবং ওই সরকার নিয়ন্ত্রিত সংস্থার ওয়েবসাইটে বা নিজস্ব ফ্রি মোবাইল অ্যাপ্ দিয়ে চেক করে নেয়া যায়। ঢাকা শহরে যে সকল বাস টেম্পো এবং সব ধরনের যানবাহন চলাচল করে তাকে যদি কোনভাবে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণাধীন আনা যেত এবং প্রয়োজন অনুপাতে সুষ্ঠুভাবে যানবাহন ব্যবহার করা যেত। একটি শহরে sustainable transportation system চালু করবার জন্য উচ্চপর্যায়ের কর্তৃপক্ষের training প্রয়োজন হয় আমি একটি অষ্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনাতে প্রতিষ্ঠিত এনজিও সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে পারি যারা বিভিন্ন শহরের sustainable transportation system sustainable waste management রিনিউয়েবল এনার্জি প্রোগ্রাম ট্রেনিং করিয়ে থাকে। যেখানে ভিয়েনার থেকে অর্জিত শিক্ষা অন্যান্য শহরের জন্য শিখানো হয়ে থাকে। আর একটা প্রসঙ্গ মাথায় আসলো শহরের ভেতর বেশি গাড়ি ঢুকতে দেওয়া খুব একটা ভাল কাজ মনে করার কোন কারণ নাই। ক্ষেত্রবিশেষে প্রাইভেটকার গুলোকে বাইরে পার্ক করে রেখে সে মানুষ যেন পাবলিক ট্রান্সপোর্টের শহরের ভিতরে জরুরী কাজ কর্ম করে নিতে পারে সেই ব্যবস্থা করা আছে। একটু ভেবে দেখুন একটি private গাড়িতে সর্বোচ্চ 4 জন মানুষ বসতে পারে। তারপরও অধিকাংশ সময় একজনের জন্যই গাড়িটি ব্যবহৃত হয় যা রাস্তার আনুপাতিক হিসাবে ভেবে দেখলে একটা বিশাল সংখ্যক জায়গা দখল করে ফেলে। অন্যভাবে বলতে পারেন বেহুদা স্থানের অপচয়। একটা জনবহুল শহরের যদি দীর্ঘমেয়াদে sustainable শহরকে যদি রক্ষা করতে চান এই ধরণের অপচয় কোন মতেই প্রশ্রয় দেবার কোন কারণ থাকতে পারে না। অন্যদিকে একটি বাস বা ট্রাম তুলনামূলক কম জায়গায় অধিক সংখ্যক লোকদেরকে যাত্রা করার সুযোগ করে দেয়। আর তাই সরকারের নীতি থাকা উচিত সবাই যাতে public transport ব্যবহারে উৎসাহিত হয়। একটা উদাহরন যদি দেই – পার্ক এন্ড রাইড park and ride বলে পরিচিত এই ব্যবস্থার আওতায় শহরের বিভিন্ন কোনায় প্রবেশ পথে অতিকায় বহুতল গাড়ি পার্ক করার ভবন নির্মাণ করা হয় এবং অত্যন্ত সুলভ এ সেখানে সারাদিনের জন্য নিরাপদে গাড়ি পার্ক করে রেখো public transport ব্যবহার করে মানুষ তাদের শহরের ভেতর গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পাদন করে আবার ফেরার পথে গাড়ি নিয়ে ফিরে যেতে পারেন। শহরের ভেতর গাড়ি পার্ক করার ব্যয়বহুল হবার কারণে অনেকেই এই নীতি কার্যকর হয় । তবে এই ধরনের পন্থা বাস্তবায়নের আগে শহরটিতে প্রয়োজন পর্যাপ্ত আরামদায়ক এবং নির্ভরযোগ্য public transport system থাকা খুবই দরকার । সবাই তখন পাবলিক পাসপোর্ট ব্যবহার করতে থাকেন তখন public transport কোয়ালিটি উন্নত হবেই কোরআন মন্ত্রী-এমপিরাও এতে যাতায়াত করতে বাধ্য হবেন। Private transport ব্যবহার করা মানে পরিবেশের দূষণ কারণ public transport সেই তুলনায় অধিক সংখ্যক জনগণকে গন্তব্যস্থলে পৌঁছে গিয়ে পুরনো মূলক ভাবে কম পরিবেশ দূষণ করছে একই সঙ্গী কম স্থান অপচয় করছে। আর তাই সরকারকে public transport কেউ অগ্রাধিকার দিতে হবে মন্ত্রী এমপির বা কোটিপতির গাড়িকে নয়। একটা উদাহরণ দিলে আমি কি বুঝাতে চাচ্ছি পরিষ্কার হবে। দুইটা গুরুত্বপূর্ণ এক মুখী one way রাস্তা আছে ভিয়েনাতে Burgasse / Neustiftgasse । এই জাতীয় রাস্তা গুলোর বৈশিষ্ট্য হলো এদেরকে দুইটি লেইনে এ ভাগ করে দেয়া আছে । একপাশে চলাচল করবে সমস্ত গাড়ি যানবাহন অন্যদিকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে যাবে পাবলিক বাস সমূহ।  সেই সাথে চলবে ট্যাক্সি এই লেইন ধরে। করণ taxi একটি public transport কারণ এটি অনেকে ব্যবহার করতে পারে পুনঃ পুনঃ ভাবে। এখন কল্পনা করে দেখুন একদিকে সব গাড়ি লাইনে দাঁড়িয়ে থাকে কিংবা যেতে পারে সর্বোচ্চ 30 কিলোমিটার বেগে, অন্যদিকে পাবলিক বাস এবং ট্যাক্সি নিজস্ব 50 কিলোমিটার সবাইকে অতিক্রম করে আগে চলে যায় । বাংলাদেশ যা কল্পনা করা কঠিন – কোটিপতির গাড়ি মন্ত্রী এমপির গাড়ি সব এক পাশের লাইনে দাড়িয়ে থাকবে public transport হিসেবে বাস এবং taxi অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত নিজস্ব লেইন ধরে এগিয়ে যাবে। এই লেইন আরো শেয়ার করা হয় বাইসাইকেলের এর সাথে। এই ধরনের আইন থাকার পেছনে একটাই কারণ সরকারি পরিষ্কার নীতিমালা এবং রিজনেবল থিংকিং। একটা রাস্তা আছে Döblinger Hauptstraße যেখানে একটা নির্দিষ্ট জায়গা পরে 30 কিলোমিটার বেগে যেতে হয় এবং তা নিয়ন্ত্রন করবার জন্য ক্যামেরা লাগানো আছে। পরে জানতে পারলাম যে এখানে একটা অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছিল একটা ছোট্ট মেয়ে রাস্তায় করতে গিয়ে গাড়ি চাপা পড়ে মারা গিয়েছিল। আর তাই রাস্তার এই জায়গায় বিশেষ ব্যবস্থা। এই জায়গায় আসলেই সবাই সতর্ক হয়ে গতি কমিয়ে আনে কারণ নিয়ন্ত্রণকারী ক্যামেরা আছে জরিমানা পাঠানোর জন্য। প্রতিটা জীবনের মূল্য অনেক এবং সরকার এ নীতিমালায় প্রতিটা accident পর্যালোচনা ব্যবস্থা আছে এক্সিডেন্ট এর ভুল কি ড্রাইভার এর জন্য ডিজাইন করা র ভুল রাস্তার ইন লেইন ডিজাইনে কি কোন কিছু চেঞ্জ করতে হবে। নাকি গাড়িগুলোর স্পিড কমিয়ে আনার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হবে। নিরাপদ সড়কের জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ

১। আমরা জানি যে ঢাকা শহরের ভেতরে সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে অত্যন্ত নিয়মকানুন মেনে গাড়ি চলাচল করে। যদি এটা সম্ভব হয় ওই নির্দিষ্ট এলাকায় তা সম্ভব হবে সমগ্র ঢাকা শহরেও শুধু দরকার পর্যাপ্ত পরিকল্পনা। মুক্তিযুদ্ধের সময় যে রকম ভাবে বাংলাদেশকে বিভিন্ন সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল ঢাকা শহর টা কে সেনাবাহিনীর পরিকল্পনায় যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন সেক্টরে ভাগ করতে হবে। প্রতিটি সেক্টরে পর্যায়ক্রমিকভাবে নিয়মমাফিক গাড়ি চলাচল নিয়ন্ত্রন চালু করতে হবে। অন্যভাবে বলতে গেলে ধীরে ধীরে ডিওএইচএস তাই যেন সমগ্র ঢাকা শহরের ছড়িয়ে যাবে।
২। বর্তমান information technology সম্ভাবনাময় সময় যে কোন জ্ঞান বিতরণ তেমন জটিল কিছু না কারো যদি অক্ষরজ্ঞান নাও থাকে তাকে বোঝাবার জন্য সরল বাংলা ভাষায় ভিডিও চিত্রের মাধ্যমে ট্রাফিক আইন কানুন সমূহ বুঝিয়ে দেয়া সম্ভব। সরকার নতুন ধরনের drivers license ঘোষণা করতে পারে যা পাবার জন্য সবাইকে বিশেষ ধরনের audio visual ট্রেনিং নিতে হবে এবং পর্যায়ক্রমে তার সাধারন ড্রাইভিং লাইসেন্স থেকে পরিবর্তন করে উন্নত ড্রাইভিং লাইসেন্স সংগ্রহ করে নিতে হবে। এবং এরই মধ্য পর্যায়ে থাকবে এই training অংশগ্রহণ। অক্ষরজ্ঞানহীন ব্যক্তিবর্গের কথা বিবেচনায় রেখে তাদের জন্য স্পেশাল ট্রেনিং এর মাধ্যমে এবং পরীক্ষা নেওয়ার মাধ্যমে নিয়ম কারণ শিখি দেয়া যেতে পারে। ৩। প্রাইভেট কারের উপর মানুষের নির্ভরশীলতা বাদ দেবার জন্য ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন করতে হবে যাতে মানুষ public transport ব্যবহারে বেশি উৎসাহী হয়। এতে শহরের যানবাহনের যান চলাচলের চাপ কমবে এবং মানুষ গাড়ি বাসায় রেখে public ট্রান্সপোর্টে করে গন্তব্য স্থানে যেতে আগ্রহী হবে।

৩। ঘুষ চাওয়া ঘুষ দেয়া মাধ্যমে রাস্তার মধ্যে অনিয়ম চলাচল শুরু হলে তা যাতে হুইসেল ব্লোয়ার কিংবা private video রেকর্ডিংয়ের মাধ্যমে হাতে নাতে ধরা পড়ে সেই ব্যবস্থা করা যেতে পারে। ইন্ডিয়াতে যখন গিয়েছিলাম দিল্লির রাস্তায় বড় প্লেকার্ডে দিল্লি পুলিশের লেখা একটা স্লোগান আমার মনে পড়ে Never break a heart or a traffic rule. বাংলাদেশ যদি তার উশৃংখল অবস্থা থেকে শৃংখলার দিকে যেতে চায় আমার মনে হয় উন্নত বিশ্বের দিকে চূড়ান্ত লক্ষ্য হিসাবে নজর দেয়ার পাশাপাশি পর্যায়ক্রমিক স্তর পার হবার জন্য ভারতের পরিবর্তনের মডেল গুলো ফলো করতে পারে। কারন ভারতের সাথে আমাদের অনেক সাদৃশ্য আছে।

৪। গাড়ি পার্কিংয়ের নিয়ম-কানুন আরো নিয়মতান্ত্রিক খাতার মধ্যে আনতে হবে । ভিয়েনা শহরে রাস্তার পাশে একটা গাড়ি রাখার জন্য প্রতি আধা ঘন্টার জন্য মানুষ দিতে বাধ্য হয় ১.০৫ ইউরো। এই পার্কিং এর ফি চাইলে মোবাইল এর মাধ্যমে পে করা যায। কিভাবে এটাকে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে কেউ ঠিকমতো পার্কিংয়ের ফ্রি না দিলে কিভাবে জরিমানা আদায় করা যাবে কিভাবে ঘুষ বিতরণ বন্ধ করা যাবে তা ভেবে দেখার বিষয়। কাজটা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একটু কঠিন হলেও নব্য নতুন ডিজিটাল technology থাকার কারণে অসম্ভব হবে বলে আমার মনে হয় না। যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং এর জন্য উচ্চমূল্যের ফি প্রদান চালু করা হলে সরকারের ব্যবস্থা হবে একই সঙ্গে সবার public transport ব্যবহার বাড়বে।

৫। যে বিষয়টা কি আমরা আন্দোলন হবে দেখছি এই বিষয়টাকে স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত করতে হবে যাতে এই আন্দোলনের কথা স্মরণ করে বছরে নির্দিষ্ট দিন স্কুল-কলেজের ছাত্ররা রাস্তার নিয়ন্ত্রণে অংশ নেবে আনুষ্ঠানিকভাবে। ট্রাফিক পুলিশ কর্তৃপক্ষ নিজেরাই স্কুল কলেজে গিয়ে এই কার্য পরিকল্পনার পন্থা ব্যাখ্যা করে দেবে। কথাটা কেন বললাম বলছি ভিয়েনা একটি পরিচ্ছন্ন শহর এবং এখানে ময়লা রিসাইকেল করার জন্য অত্যন্ত কার্যকর ব্যবস্থা চালু আছে। প্রতিবছর নির্দিষ্ট দিনে স্কুল-কলেজের ছাত্ররা উৎসাহী হয় এই ধরনের ময়লা পরিষ্কারের মহড়ায় অংশ নেয়। এখানে ময়লা ফেলবার জন্য শুধু ডাস্টবিনে ছুড়ে ফেলে দিলেই যথেষ্ট না ময়লাকে আপনাকে তিন চারটি ভাগে ভাগ করতে হয। যাতে শিখি ময়লা নিয়ে আবার recycle করা যায়।় এর জন্য দরকার ব্যাপক জনসচেতনতা । স্কুল-কলেজের ছাত্রদেরকে যদি নিয়মমাফিক ভাবে প্রতিবছর রাস্তার নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব দেয়া হয় তারা নিজে থেকেই রাস্তা পারাপারের ক্ষেত্রে নিয়ম ফলো করার জন্য যত্নবান হবে।

সরকার আশেক মাহমুদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *