‘সুন্দরবনে কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্র হতে দেব না’- প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ

আনিস রায়হান : রামপাল প্রকল্প এত বিরোধিতা সত্ত্বেও সরকার চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের না সত্ত্বেও সরকারের এত আগ্রহ কেন?
প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ : প্রধানমন্ত্রী যেভাবে হোক বিদ্যুৎ চান। তিনি মনে করেন সুন্দরবনে কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র হলে বনের কোনো ক্ষতি হবে না। তার মনে করা না করার ওপরেই কাজ চলছে। বিশেষজ্ঞদের কোনো মূল্যায়ন এখানে নেই।
সরকার যে বলে সুন্দরবন ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, কিসের ভিত্তিতে বলে। সুন্দরবন ইতোমধ্যে ব্যাপক সঙ্কটের মধ্যে আছে। তার অবস্থা খুবই খারাপ। সেখানে গাছপালা মারা যাচ্ছে। অনেক গাছের পাতা শুকিয়ে যাচ্ছে। যারা সুন্দরবন যায় আমি তাদের কাছে খোঁজখবর নেই। তারা জানিয়েছেন বনের অবস্থা প্রতিনিয়ত খারাপ হচ্ছে। কেন? সুন্দরবন অঞ্চলের পানির লবণাক্ততা বাড়ছে। এটাও হচ্ছে ভারতের কারণে। ফারাক্কা বাঁধের ফলে আপস্টিম দিয়ে মিষ্টি পানি কম আসছে। কম আসার কারণে লবণাক্ত পানির পরিমাণ বেড়েই চলেছে। ডাউনস্টিম থেকে যে লবণাক্ত পানি আসে তার সঙ্গে আপস্টিম দিয়ে আসা মিষ্টি পানি মিলিত হয়ে লবণাক্ততার তীব্রতা কমায়। এখন ফারাক্কার ফলে পর্যাপ্ত মিষ্টি পানি আসছে না। তাই লবণাক্ততা বাড়ছে বহুগুণে। সুন্দরবনের গাছগুলো কিছুমাত্রায় লবণাক্ততা সহনশীল। কিন্তু অতিরিক্ত লবণাক্ততা বনকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। গাছগুলো আগা মরা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এর সঙ্গে যদি কয়লার দূষণ যুক্ত হয় তাহলে অবশ্যই সুন্দরবন বলে কিছু থাকবে না।
সুন্দরবন যে প্রাকৃতিক বর্ম হিসেবে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরার কয়েকটি উপজেলাকে বাঁচিয়ে রেখেছে সেগুলো আর বাঁচবে না। আইলা ও সিডরে এ উপজেলাগুলোর প্রায় ৫ হাজার লোক মারা গেছে। বহু লোক ঘরবাড়ি থেকে উচ্ছেদ হয়েছে। তারা বেড়িবাঁধের ওপর আশ্রয় নিয়েছে। কোনোমতে জীবনধারণ করছে। বন উজাড় হলে এ অঞ্চলগুলো প্রকৃতির তোপের মুখে পড়বে। বনকেন্দ্রিক জীবিকা নির্বাহ করে যারা বেঁচে থাকে তারা উৎখাত হবে। এর আর্থিক মূল্য বিবেচনা করা হলে দেখা যাবে বিদ্যুৎ কেন্দ্র করে যা লাভ হবে গরিব জনগণের ক্ষতি হবে তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি। কিন্তু সাধারণত সরকার ধনী শ্রেণীর স্বার্থ দেখে। গরিব শ্রেণীর স্বার্থ দেখে না।
ফলে গরিব জনগণ ধ্বংস হবে। লাভ হবে কিছু দেশীয় ও বিদেশি ঠিকাদার। পাশাপাশি বিদ্যুতের সুবিধাও ওই জনপদের গরিব মানুষ ভোগ করতে পারবে না। প্রধানমন্ত্রী ধনিক শ্রেণীর স্বার্থ রক্ষা করেন বলে যে কোনো মূল্যে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজ এগিয়ে নিচ্ছেন।

আনিস রায়হান : ফুলবাড়ী প্রকল্প নিয়ে তো সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে অনেক কথাই বলল। আপনারাও আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমান অবস্থা কি?
প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ : ফুলবাড়ী প্রকল্প নিয়ে সরকার একেক সময়ে একেক ধরনের বক্তব্য দিয়েছে। একেবারে নতুন হচ্ছে, জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-এলাহীর বক্তব্য। তিনি বলেছেন, ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিংয়ের মাধ্যমে পরিবেশগত প্রভাব যাচাই করিয়ে পরেই সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। তাদের প্রতিবেদনে জানা যাবে ভূগর্ভস্থ পানির প্রকৃত অবস্থা আসলে কী? তিনি কথা দিয়েছিলেন, দেশীয় এ সংস্থার দেয়া প্রতিবেদন অনুযায়ী কাজ হবে। সর্বশেষ মাসখানেক আগে একটি অনুষ্ঠানে তার সঙ্গে দেখা হয়েছিল। তখন জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেছিলেন, তারা টাকা দিয়েছে। কাজ চলছে, আরও মাস দুয়েক লাগবে। তিনি ইতিবাচক মনোভাবই দেখিয়েছেন। এও বলেছিলেন, সব দিক না দেখে প্রকল্পের কাজ শুরু হলে যদি দেখা যায় সর্বনাশ হয়ে যাচ্ছে তাহলে আর কাজও করা যাবে না, ধ্বংসযজ্ঞও ঠেকানো যাবে না।
তিনি এরকম বললেও দেখা যায় অর্থমন্ত্রী বলছেন ভিন্ন কথা। তার বক্তব্য হচ্ছে, উন্মুক্ত খনি করতেই হবে। তিনি প্রায়ই সুপার প্রাইম মিনিস্টারের মতো কথা বলেন। তার কথাবার্তায় কোনো লাগাম নেই।

আনিস রায়হান : ফুলবাড়ীকে কেন্দ্র করে এশিয়া এনার্জিকে নিয়ে সরকারের মনোভাবকে এখন কীভাবে দেখছেন?
প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ : এশিয়া এনার্জি দাবি করে বেড়ায় তারাই ফুলবাড়ীর কয়লা উত্তোলন করবে। কিন্তু সরকারের সঙ্গে তাদের চুক্তি হচ্ছে জরিপের। কয়লা উত্তোলনের কোনো চুক্তি সরকার তাদের সঙ্গে করেনি। সুতরাং উত্তোলনের কাজ তাদের করার কোনো সুযোগই নেই। তারপরও এসব মিথ্যে কথা বলে তারা লন্ডনে শেয়ার ব্যবসা করে। মজার ব্যাপার হচ্ছে অর্থমন্ত্রী যখন উন্মুক্ত খনির সপক্ষে বক্তব্য দিলেন তখন লন্ডনে জিসি এমের শেয়ারের দাম বেড়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু দাম বাড়েনি। বরং কমেছে। কেননা এখন সেখানকার মানুষ জানতে পারছে বাস্তব অবস্থা কি। এখন আর মানুষ তাদের মিথ্যা কথায় ভুলছে না। তাই অক্টোবরে অর্থমন্ত্রীর উন্মুক্ত পদ্ধতির সপক্ষে দ্ব্যর্থহীন ঘোষণাও কোনো কাজে আসেনি।
এ থেকে বোঝা যায় সরকারের ভেতর তাদের কিছু লোক আছে। কিন্তু নিয়মানুযায়ী তাদের এখানে প্রকল্প পেতে হলে তো দরপত্র জমা দিতে হবে। তারা যে প্রস্তাব দিয়েছে তা সরকারের গ্রহণ করার সুযোগ নেই। একক কোনো কোম্পানির প্রস্তাব সরকার বিবেচনা করতে পারবে না। এটা করা বেআইনি। যদিও এই বেআইনি মনোভাবই সরকারের লোকজন প্রকাশ করে চলেছে। এশিয়া এনার্জির শেয়ারব্যবসা বন্ধের জন্য সরকার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এরা ধনিক শ্রেণীর সরকার। জনগণের কোনো বক্তব্য মতকে তারা পাত্তা দেয় না। তবে আমি নিশ্চিত ফুলবাড়ীতে যে জনবিরোধিতা আছে তার মুখে দাঁড়িয়ে এবং আমাদের আন্দোলনের ফলে তারা কখনোই উন্মুক্ত খনি কার্যকর করতে পারবে না। এশিয়া এনার্জিকে দিয়ে কাজ করতে পারবে না। এটা অসম্ভব।

আনিস রায়হান : সম্প্রতি রামপাল ও ফুলবাড়ীকে কেন্দ্র করে জাতীয় কমিটির বেশকিছু কর্মসূচি প্রত্যাহার হয়েছে। এর ফলে অনেকেই অভিযোগ তুলছেন জাতীয় কমিটি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হচ্ছে।
প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ : আমরা কঠোর কর্মসূচির পরিকল্পনা নিয়ে গত কয়েক মাস একটু সমস্যার মধ্যে ছিলাম। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এমন অবস্থায় ছিল যে, এর মধ্যে কোনো আন্দোলন সংঘটনের বাস্তবতা ছিল না। এ পরিস্থিতি কেটে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি। আগামী সেপ্টেম্বরে রামপাল অভিমুখে লংমার্চ হবে। কবে কোথায় কোন স্থানে সমাবেশ হবে, পদযাত্রা হবে সবসময় ক্ষণ উল্লেখ করে ঘোষণা করা হবে দ্রুতই। আমাদের কাজ চলছে। আমরা সুন্দরবনে কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্র হতে দেব না।
এটা ঠিক যে, আমাদের নিজেদের দুর্বলতা আছে। স্থানীয় পর্যায়ে আমাদের নেতাকর্মীদের মধ্যে দুর্বলতা আছে। সীমাবদ্ধতাও আছে। ফুলবাড়ীতে আমরা কর্মসূচি থেকে পিছিয়েছি উদ্ভূত জাতীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে। এরপর আমরা আমাদের পরিষ্কার বক্তব্য জানিয়ে দিয়েছি। ওখানে কিছু কর্মসূচিও দেয়া হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত তাও প্রত্যাশিতভাবে এগিয়ে নেয়া যায়নি। ব্যাপারটা হচ্ছে, আমরা যতই জোর দেই না কেন স্থানীয় সংগঠকদের ওপরও অনেক কিছু নির্ভর করে।

আনিস রায়হান : জাতীয় কমিটির মধ্যে তা অনেক বামপন্থি রাজনৈতিক দল যুক্ত আছে। তাদের রাজনৈতিক মেরুকরণজনিত পিছুটানের কারণে কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে কি?
প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ : এটা প্রথমে বুঝতে হবে আমি জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক। আনু মুহাম্মদ সদস্য সচিব, জাতীয় কমিটি আমাদের আর পার্টিগুলো এতে অংশগ্রহণকারী মাত্র ব্যাপারটা এমন না। আমরা তারা মিলেই জাতীয় কমিটি। তারা জাতীয় কমিটির অংশ। তারা যা বলে তা জাতীয় কমিটিরই একটি অংশের বক্তব্য। এখানে পৃথকীকরণের কোনো সুযোগ নেই। হরতালের মতো কর্মসূচিতে আমরা যখন গিয়েছি তখন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক আছে এমন বামদলগুলো কিন্তু কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেনি। তারা সরে থেকেছে। কিন্তু বিরোধিতা করেনি।

আনিস রায়হান : মাগুরছড়া, কনকো ফিলিপসের মতো ঘটনাগুলো তো পেছনে ফেলে এসেছেন। পেছনের এই ইস্যুগুলো তো চাপা পড়ে যায়। এ নিয়ে আপনাদের কোনো পরিকল্পনা আছে কি?
প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ : আমরা প্রত্যেকটা প্রোগ্রামেই পেছনের এই প্রসঙ্গগুলো টেনে আনি। সেগুলোর প্রতিকারের দাবি জানাই। আর এগুলো নিয়ে আমাদের লেখা আছে, পুস্তিকা আছে, বই আছে। সেগুলো প্রচার করা হয় গুরুত্ব দিয়ে। কনকো ফিলিপসের কথা ধরেন। আমরা সবসময় এই দেশবিরোধী চুক্তির বিরুদ্ধে সোচ্চার। আমরা দাবি জানাই, এই চুক্তি বাতিল করতে হবে। আমাদের সম্পদ আমাদের অধিকারে থাকছে না। দেশের স্বার্থ ক্ষুণœ হচ্ছে। মডেল পিএসসি ২০১২ নিয়েও আমরা এ কথাগুলোই বলছি। মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নিষ্পত্তির মাধ্যমে আমরা যে ভূখণ্ড পেয়েছি তা বিদেশি কোম্পানির হাতে গেলে আমাদের আমদানি মূল্যে নিজেদের গ্যাস কিনতে হবে। যে সম্পদ আহরণ করলে আমাদের সব সঙ্কট সমাধান হয়ে যেত। কিন্তু সরকারের মধ্যে থাকা কমিশনভোগীদের জন্যই জনদাবি উপেক্ষিত থেকে যায়।
সরকারকে ঠেকাতে হলে আমাদের করণীয় একটাই। জনসাধারণকে সঙ্গে নিয়ে মাঠে নামতে হবে। কিন্তু দলবদ্ধ লোক দেখলেই তো এখন সরকার ঠেকাতে যে ব্যবস্থা নিচ্ছে এ রকম অগণতন্ত্রের চর্চা আগে দেখা যায়নি।
এখন কোনো কর্মসূচিই তারা করতে দিচ্ছে না। আমরা জোর করে হয়ত করতে পারি। কিন্তু তাতে বিশেষ কোনো ফল আসবে না।

আনিস রায়হান : জাতীয় কমিটির আন্দোলন সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আজ যে অবস্থা এসে দাঁড়িয়েছে তা কিভাবে মূল্যায়ন করছেন?
প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ : আমি হতাশাগ্রস্ত নই এই জন্য যে, বাম রাজনৈতিক দলগুলো তো নিজেরা তাদের কর্মসূচিগুলোর এই বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে। এ কারণে তাদের শক্তি বিকশিত হচ্ছে না। এ কারণে আমরাও বড় শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারছি না। তাতে কিছু আসে যায় না। আমরা হাল ছেড়ে দেব না। আমরা অবশ্যই ন্যায্য দাবির সপক্ষে আন্দোলন চালিয়ে যাব। আমরা লেগে থাকলেই অবস্থার পরিবর্তন হবে।

আনিস রায়হান : এই দীর্ঘ সময়ে বিভিন্ন দাবি নিয়ে রাষ্ট্রের কাছে গেছেন। রাষ্ট্রের আচরণ কেমন দেখেছেন।
প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ : এই ধনিক শ্রেণীর রাষ্ট্র। এরা গণমুখী না। তাই তারা দুর্নীতিপরায়ণ। তারা মিথ্যাচার করে, জনস্বার্থ উপেক্ষা করতে তারা দ্বিধা করে না। তারা তাদের কাজগুলো ঠিকই চালিয়ে যায় যতক্ষণ না তাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক গণআন্দোলন গড়ে ওঠে। বোঝাই যাচ্ছে সামনের দিকে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরকার মরিয়া হয়ে উঠেছে। তারা যে কোনোভাবে ক্ষমতায় আসতে চায়। তারা আন্দোলনের কণ্ঠ শুনতে পাচ্ছে না। মানুষের প্রতিবাদকে গায়ে লাগাচ্ছে না। তারা ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা চালিয়ে যাবে। কিন্তু আমি মনে করি তাদের পরাজয় হবেই।

আনিস রায়হান : সাভারে রানা প্লাজা ধসের মধ্যে দিয়ে হাজারো শ্রমিক নিহত হয়েছেন, নিখোঁজ হয়েছেন অসংখ্য। এত বড় ধাক্কার পর শ্রমিকদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন আসবে কি না।
প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ : এটা তেলগ্যাস কমিটির এখতিয়ারভুক্ত না। কিন্তু একজন প্রকৌশলী হিসেবে আমি বলতে পারি সাভারে রানা প্লাজা নামক ভবনটি কিন্তু ধসে পড়ার আগে জানান দিয়েছিল যে, সে ধসে পড়তে পারে। ভবনের কলামগুলোতে ফাটল দেখা দিয়েছিল। একটি ভবনের অন্য যে কোনো স্থানে ফাটল দেখা দিলে কিছু যায় আসে না। কিন্তু কলামে ফাটল দেখা দিলে বিশেষজ্ঞ কর্তৃক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মেরামত করার আগ পর্যন্ত ভবনটি খালি রাখার নিয়ম। রানা প্লাজার ক্ষেত্রে তা মানা হয়নি। নিরীহ শ্রমিকদের চাকরিচ্যুতি, বেতন কর্তনের ভয় দেখিয়ে ভবনে ঢুকানো হয়েছিল। তাদের লাশ করে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এই মৃত্যুর কোনো প্রয়োজন ছিল না। জোরপূর্বক তাদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়া হয়েছে। শ্রমিকের অবস্থার খুব একটা পরিবর্তন হবে না। কারণ শ্রমিকদের যারা শোষণ করে তারা সরকারেরই একটা অংশ। সরকারই তাদের লালিত পালিত করে। শ্রমিক কারখানাগুলোতে হত্যার দায়ভার মালিক ও সরকার উভয়পক্ষের। মালিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়নি। সরকার মালিককে বাধ্য করেনি ব্যবস্থা নিতে। লাশের দায়ভার তারা কেউই এড়াতে পারে না।
বড় পরিবর্তনের আভাস এর মধ্যে নেই। শ্রমিকের জন্যও না। জনগণের বাকি অংশগুলোর জন্যও না। কারণ ধনিকশ্রেণীর যে দল দুটো পালাবদল করে ক্ষমতায় আসছে তারা কেউই জনকল্যাণের কথা ভাবে না। মূল সমস্যাটা হয়ে যাচ্ছে টাকা। এই টাকার কাছে বিক্রি হয়ে যায় সব। গরিব মানুষ আর কোনো উপায় না পেয়ে টাকার জন্য এদের দিকেই ঝুঁকে পড়ে। তবে এদের লাগামহীন অপকর্মই আবার রাস্তা করে দিচ্ছে নতুন কিছু হওয়ার। মানুষের সচেতনতা ক্রমশ বাড়ছে। জনগণ বর্তমান সীমাবদ্ধতাগুলো অতিক্রম করবে।

[প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ। আহ্বায়ক তেল গ্যাস, খনিজসম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি। জাতীয় সম্পদ রক্ষা আন্দোলনের অগ্রগামী নেতা। সাক্ষাৎকারটি সাপ্তাহিকে প্রকাশিত হয়েছে।]

৭ thoughts on “‘সুন্দরবনে কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্র হতে দেব না’- প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ

  1. সুন্দরবনের কাছে এতো বড় কয়লা
    সুন্দরবনের কাছে এতো বড় কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প বনের বাস্তুসংস্থানের উপর হুমকি হয়ে দাঁড়াবে এটা সবাই বুঝলেও সুরকার কেন বুঝতে চাইছে না? এতোটাই স্বার্থান্বেষী কেন আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো। যেই প্রকল্প ভারত তার নিজের দেশে করতে পারেনি সেটা আমাদের উপর চাপিয়ে দিচ্ছে। এতে করে ভারতের এক ঢিলে দুই পাখি মারা হবে। এক, নিজ দেশের সুন্দরবন অংশ রক্ষা পেল। দুই, আমাদের অংশের বাস্তুসংস্থানের উপর একটা প্রভাব পড়লে, আমাদের অংশের বাঘ থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রাণী ভারতের অংশে মাইগ্রেট করবে। পশু-পাখিদের তো আর ভিসা লাগে না, বিএসএফ এর গুলির ভয়ও নেই। বরং জামাই আদরে নিয়ে নেওয়া হবে। সরকার এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসুক।

  2. আমরা নিজের পায়ে নিজে কুড়াল
    আমরা নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারতে মারতে এতোটাই অভ্যস্ত হয়ে গেছি যে এখন আর নিজের পা কে নিজের মনে হয় না ।।

  3. আমাদের প্রধানমন্ত্রী যত বড়
    আমাদের প্রধানমন্ত্রী যত বড় অহংকারী, সুন্দরবন ধ্বংসের হাত থেকে কেউ রক্ষা করতে পারবেনা। সরকারের এই প্রকল্প নিয়ে লম্পজম্প দেখে মনে হচ্ছে জেনেশুনেই সুন্দরবন ধ্বংস তারা করবেই। দরকার বিদ্যুত, সেই যেভাবেই হোক তারা যোগাড় করবেই।

    1. সমস্যা তো এইখানে। নিজেদের জেদ
      সমস্যা তো এইখানে। নিজেদের জেদ বজায় রাখতে জেয়ে দেশের কত বড় ক্ষতি এরা করতে পারে তা তো দেখাই গেছে পদ্মা সেতু ইস্যুতে। উইনুস কেন নোবেল পাইলো শেখ হাসিনা কেন পাইলো না এই ইস্যুতে কি না করলো শেখ হাসিনা ফল হইলো ইউনুসের মতো চুতিয়া দেশের গাড় মারলো। আর সরকারও ঢেকুর তুললো একহাত নিয়েছি মনে করে

  4. ব্যপক জনসমর্থন লাগবে…তা না
    ব্যপক জনসমর্থন লাগবে…তা না হলে রাষ্ট্রের এত বড় একটা সংগঠনকে তার সীদ্ধান্ত নেয়া থেকে বিচ্যুত করা যাবে না.…

  5. আমার বন,
    আমার

    আমার বন,
    আমার মা
    সাম্রাজ্যবাদীদের খাবার হবে না।।

    এই বিদ্যুৎ প্রকল্প মানি না,মানব না…।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *