চুমু :*

ডিসক্লেইমারঃ কেবলমাত্র মানসিকভাবে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য

ক. গত সপ্তাহে এক বন্ধু নক করলো মেসেন্জারে। কোন ভনিতা না করেই বললো, আমি তো বাইক এক্সিডেন্ট করে হাত পা ভাঙব যখন-তখন।
আমি বললাম, সাবাধানে বাইক চালাও তাহলে। আর খুঁটিনাটি বিষয়গুলো শিখতে একটু পড়াশুনা ও করতে পারো।
আরে, সাবধান হব কেমন করে? চারিদিকে মেয়েরা যে ছোট-খাটো খোলা-মেলা পোশাক পরে ঘোরাঘুরির করে সামারে, চোখ তো যাবেই। সারা জীবন বাংলাদেশে থাকছি, আমাদের চোখ তো ট্রেইনড না। -বন্ধুর উত্তর
বিপদের বন্ধুই প্রকৃত বন্ধু তাই বন্ধুকে এই বিপদ থেকে রক্ষা করতে পরামর্শ দিলাম-নিজেকে নিজে বলো শুধুমাত্র সাইক্লিং এর সময় কারো দিকে তাকাবো না, বাকি সময় তো রইলোই!
এ উপদেশে বন্ধু কিছুটা সন্তুষ্ট এবার।

খ. বন্ধু ছেলেটাকে নিয়ে সেবার গিয়েছি ফুড কোর্টে মেক্সিকান খাবার খাওয়ার উদ্দেশ্যে। ওই দোকানে বন্ধুর সেটা প্রথমবার। আমি যথারীতি পছন্দের খাবার অর্ডার করে তাকিয়ে আছি ওর দিকে। অনেকক্ষন ধরে মেনু কার্ড পড়ে হঠাৎ বন্ধুর মুখে হাসি। সে খাবে নেকেড বুরিতোস নামের একটা খাবার। অর্ডার করার পরও হাসি যায় না তার। কিন্তু খাবারটা সামনে আসার পর সে পুরোই হতাশ! বুরিতোস হল বড়সড় মেক্সিকান রুটিতে মোড়ানো বীনস, রাইস, সালসা, চিকেন বা বীফ মাখান একটা খাবার। নেকেড বুরিতোস হল রুটি বাদে বাকী সব। সুতরাং, এক বাটি ডাল, মাংস, সালাদ, সীমের বীচি মাখা ভাত দেখে নেকেড শব্দে কিঞ্চিত পুলকিত বোধ করা বন্ধুর চোখে হতাশ দৃষ্টি !
আমার এই ছেলে-বন্ধু বেশ কয়েক বছর ধরেই বিলেতে বসবাস করে। এতদিনে কিন্তু তার বাঙালি মন ট্রেইনড হয়ে যাওয়ার কথা!

আচমকা এই গল্পদুটো কেন বলছি? আজ আমার ফেইসবুকে নিউজফিডে একটি ছবি বারেবারে ঘুরেফিরে দেখতে পাচ্ছি। একটা ছেলে ও মেয়ে টিএসসি তে দিনেদুপুরে বসে প্রকাশ্যে চুমু খাচ্ছে। এই ছবি কেউ কেউ দিন বদলের চিত্র বলে মনে করছে, তো কারো কারো কাছে এ নিতান্তই নোংরামি।
এখন যদি জানতে পারি এইযুগল পবিত্র বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ, তখনও কিন্তু স্বামী-স্ত্রীর প্রকাশ্যে চুমু খাওয়াকে সমাজ ঠিকই বাঁকা চোখে তাকাবে।
আমরা জাতিগতভাবে অনুভূতি পরায়ণ হলেও অনুভূতির প্রকাশ করতে জানিনা মোটেও। আমরা বাবা-মায়ের ঝগড়া দেখে বড় হই, মারামারি দেখে বড় হই কিন্তু প্রেম দেখি না। আমাদের জেনারেশনের কোন ছেলে-মেয়েই বলতে পারবে না তারা কোনদিন দেখেছে বাবা তাদের মাকে চুমু খেয়েছে, তাদের মা বাবাকে জড়িয়ে ধরেছে। এই লাইন পড়ার পর অনেকেই হয়ত কিছুটা অস্বস্তিতে ও পড়ছে নিজেদের বাবা-মায়ের সম্পর্কে এমন কথা পড়তে, বলতে কিংবা চিন্তা করতে অথচ আমারা নিজেরাই কিন্তু আমাদের বাবা-মায়ের ভালোবাসাবাসির ফল।
এই যে আমরা বাবা-মায়ের ভালোবাসা না দেখে বড় হওয়া জেনারেশন, আমাদের তাতে কী ক্ষতি বৃদ্ধি হয়েছে বলুন তো? আমরা দিব্বি পরীক্ষায় পাশ দিয়েছি, চাকুরি করে বেতন ঘরে তুলছি মাসে মাসে, বিয়ে থা করে সংসারি হয়েছি, বাচ্চা-কাচ্চা ও হয়েছে। তাহলে? সবই হয়েছে ঠিকই, কেবল শুদ্ধতম ভালোবাসার অনুভূতি প্রকাশ করা শিখিনি আমরা। প্রেম আর কামের পার্থক্য করা শিখিনি একেবারেই।তাই পান থেকে চুন খসলেই আমাদের জাত যায়, সমাজ রসাতলে গেল বলে ডাক ওঠে।

আমরা চুমু কেন খাই? ভালোবাসি বলে। আমরা চুমু কাকে খাই? যাকে ভালোবাসি তাকে। চুমু খাওয়া মানেই যৌনতা নয়, সব চুমু যৌনতায়
শেষ হয় না, আবার সব যৌনসম্পর্কে ভালোবেসে চুমু খাওয়াও হয় না। দুজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ দুজনের সম্মতিতে যেখানে সেখানে চুমু খেতেই পারে। আপনার ভালো লাগলে তাকিয়ে দেখুন, ভালো না লাগলে চোখ নামিয়ে নিজের কাজে মন দিন।

রাষ্ট্র,সমাজ,ধর্ম ভালোবাসার কারণে রসাতলে যায় না; ঘৃণার কারণে যায়, বিবাদ-বিষংবাদের কারণে যায়। অথচ প্রতিটি ধর্ম-সমাজ-রাষ্ট্রের ইতিহাস বলে যায় রক্তক্ষয়ী গল্প। সেই সমাজের আর ধর্মের একজন এই রক্তপিপাসু মন চুমু খেতে জানে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *