আমি

[এই গল্পটা সামুতে অনেকদিন আগে পোস্ট করেছিলাম। ওখানটা আবার রাজনীতি-দলাদলী আর আস্তিক-নাস্তিক এর পারস্পারিক গালাগালিতে সয়লাব। গল্প পড়বার সময় কই?
তাই ইস্টিশনে ফেরী করতে আসলাম… সওদা ভালো হলে হয়তো পার্মানেন্ট হকার হয়ে যাব! :)]

আমি

সফিক এহসান
(১০-১১-’১২ইং)


[এই গল্পটা সামুতে অনেকদিন আগে পোস্ট করেছিলাম। ওখানটা আবার রাজনীতি-দলাদলী আর আস্তিক-নাস্তিক এর পারস্পারিক গালাগালিতে সয়লাব। গল্প পড়বার সময় কই?
তাই ইস্টিশনে ফেরী করতে আসলাম… সওদা ভালো হলে হয়তো পার্মানেন্ট হকার হয়ে যাব! :)]

আমি

সফিক এহসান
(১০-১১-’১২ইং)

বছরের সবগুলো পূর্ণিমা এক রকম না। বিশেষ বিশেষ কিছু পূর্ণিমাতে চাঁদটাকে অনেক বড় লাগে। “রাস পূর্ণিমা” তেমনই একটি পূর্ণিমা। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য এটি একটি বিশেষ রাত। তবে শহরের আকাশে কবে চাঁদ ওঠে কবে ওঠে না সে হিসাব কেউ রাখে না। শুধু যখন লোডশেডিং হয়, তখন খোলা মাঠ বা ছাদে দাঁড়ালে মুগ্ধ বিষ্ময়ে মানুষ পূর্ণিমা টের পায়! আজ অবশ্য লোডশেডিং না। বরং ছাদের রেলিং জুড়ে ঝুলে থাকা মরিচবাতিগুলো জ্বলে-নিভে রিতিমত উৎসবের জানান দিচ্ছে! কিন্তু সেই আলোও যেন আকাশ ভাঙ্গা চাঁদের আলোর কাছে ম্লান হয়ে গেছে।
আজ লুবনার হলুদ সন্ধ্যা। লুবনা আমার দূর সম্পর্কের কাজিন। বেশ লতায় পাতায় সম্পর্ক! এই প্রোগ্রামে আমার আসার কোন কারণ নেই। আসতে হয়েছে জেরিনের জন্য। জেরিন আমার খালাতো বোন। আর লুবনা হচ্ছে ওর কিরকম যেন চাচাত না ফুফাতো বোন। গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে খালা-খালু আসতে পারছে না। আর তাই আমি পড়েছি ফাঁটা বাঁশের চিপায়! জেরিন জোড় করে ধরে বডি গার্ড হিসেবে নিয়ে আসলো আমাকে। এখানে এসে পড়েছি আরেক বিপদে। জেরিনের বাকি সব কাজিনেরা জোর করে ধরেছে- আজ জেরিনকে যেতে দিবে না। অনেক দিন পর সবাই একত্র হয়েছে- জমিয়ে আড্ডা দেবে। ওকে রেখে আমি একা চলে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আঙ্কেল-আন্টি (লুবনার বাবা-মা) এতো রাতে আর যেতে দিল না। জোর করে রেখে দিল। কাজেই রাতটা থেকে যেতে হচ্ছে এখানেই। এমন বোরিং লাগছে এখন!
ওদিকে ওরা সবাই দারুন মজা করছে। মেয়েলি আড্ডা- জেন্টস্ নট এলাউ! এদের গোষ্টিতে ছেলের সংখ্যা বোধহয় একটু কম। চার-পাঁচজন যা আছে আমার সাথে তেমন পরিচয় নেই। ওরাও কোথায় বসে যেন কার্ড খেলছে। মুরব্বিরা বসেছে জরুরি মিটিং-এ। আন্টিরাও দেখলাম এক রুমে দল বেঁধে বসে গল্প করছে! আমি পুরোই একলা পড়ে গেছি। প্রায় সবাই অপরিচিত। পরিচিত দু’একজন যাও ছিল সবাই ব্যস্ত। মাঝে মাঝে শুধু পলি আপু একটু খোঁজ খবর নিয়ে যাচ্ছে। লুবনারা দুই বোন। বড় বোন পলি আপু আমার চেয়ে তিন/চার বছরের বড় হবে। ছয় বছরের একটা ছেলে নিয়ে বাবার বাড়িতেই থাকে। পলি আপুর স্বামী বিদেশে থাকেন। প্রায় পাঁচ-ছয় বছর ধরে দেশে ফিরছেন না। শুনেছি ওদের নাকি আর সম্পর্ক নেই। দুলাভাই ওখানে আরেকটা বিয়ে করেছেন। ডিভোর্স-টিভোর্সও হয়ে গেছে বোধ হয়! পলি আপুকেও তার বাবা-মা আবার বিয়ে দেবার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সন্তানের দিকে তাকিয়ে কিংবা অন্য কোন জেদের বশে আপু তা করেননি।
আমি একা একা ছাদে দাঁড়িয়ে রাস পূর্ণিমার বিশাল চাঁদ আর শহুরে লাল-নীল-হলুদ বাতি দেখছিলাম। নভেম্বর মাস। শীতটা এখনও খুব একটা পড়েনি। ব্লেজারটা তাই নিচে খুলে রেখে এসেছিলাম। ফুল হাতা শার্ট কনুই পর্যন্ত গুটিয়ে রেলিং-এ ভর দিয়ে ব্যস্ত রাস্তার দিকে তাকিয়ে থাকতে ভালই লাগছে। বোরিং ভাবটা একটু কাটছে এতে। হঠাৎ পেছনে নারী কণ্ঠ শুনে ঘুরে দাঁড়ালাম।
ঃ আরে বাপরে! তুমি এখানে? আমি আরও সারা বাড়ি খুঁজে খুঁজে হয়রান। তাইতো বলি- সাহেব গেল কই! একা একা ছাদে দাঁড়িয়ে কার সাথে প্রেম করা হচ্ছে?
আমি হেসে বললামঃ আরে পলি আপু যে! কার সাথে আর প্রেম করব বল- সবাই তো যার যার মত ব্যস্ত! আকাশে বিশাল একটা চাঁদ উঠেছে; ওর সাথেই ডেটিং মারছি।
ঃ ওঁ! তাই বুঝি? বাব্বাহ্! পুরো দস্তুর কবি দেখছি! তা কবি সাহেবের মোবাইলে কি ব্যালেন্স নাই? নাকি গার্লফ্রেন্ডরা সব বিজি?
আমি পাশ ফিরে হাসলাম। পলি আপু বরাবরই স্ট্রেট ফরওয়ার্ড। আসার পর থেকেই দেখছি- সবার সাথে এভাবেই কথা বলে। দারুণ মিশুক; একটু বোধহয় ঠোঁট কাটাও! জেরিনের কাছে আমার পরিচয় পেয়েই বললঃ আরে! তুমিই সফিক? জেরিনের বড় খালামনির ছেলে? কত বড় হয়ে গেছো! শেষবার তোমাকে যখন দেখেছি- তখন তুমি হাফ প্যান্ট পড়। আমার সামনেই প্যান্ট খুলে পুকুরে গোসল করতে নেমে গেলে, মনে আছে?
আমার কিছুই মনে পড়লো না। তবু সম্মতির ভঙ্গিতে মাথা নেড়ে হেসেছিলাম। প্রায় দেড় যুগ আগে কবে কার সামনে প্যান্ট খুলে গোসল করতে নেমেছিলাম তা এতো দিনে মনে আছে নাকি!
কাজেই গার্লফেন্ড বিষয়ক এরকম সোজা-সাপ্টা আলোচনায় মোটেও অবাক হলাম না। শুধু বললামঃ গার্লফ্রেন্ড‘রা’! বাপরে! একবচনই নেই আর তুমি আছ বহুবচনের চিন্তায়?
পলি আপু আমার পাশে এসে রেলিং ধরে দাঁড়াতে দাঁড়াতে পেটে খোঁচা মেরে বললঃ ইস্! হয়েছে, আমার কাছে আর সাধু সাজতে হবে না। কত মেয়ের হার্ট ক্র্যাশ করেছো তার হিসাব আছে!
আমি কোন উত্তর না দিয়ে হাসলাম। পলি আপুর মত ঠোঁট কাটা চপল প্রকৃতির মেয়ের এধরনের কথায় উত্তর দেবার কিছু নেই।
আমাকে চুপ থাকতে দেখে পলি আপু বললঃ কী বললে না?
ঃ কী বলব?
ঃ ঐ যে! গার্লফ্রেন্ড কয়টা?
ঃ নেই তো!
ঃ নেই? যাহ্! কেন?
ঃ আরে আশ্চর্য! থাকতেই হবে নাকি?
ঃ ইস্! আজকালকার ছেলেমেয়েদের আমি হাড়ে হাড়ে চিনি।
ঃ ঘোড়ার ডিম চেনো।
ঃ কি বল তুমি! তোমার যে ফিগার আর দেখতেও তো কম হ্যান্ডসাম-স্মার্ট না; তোমার জায়গায় আমি হলে তো ডজনখানেক প্রেম করতাম।
ঃ হুঁম… সেজন্যই আল্লাহ তোমাকে ছেলে না বানিয়ে মেয়ে বানিয়েছে।
পলি আপু হাসতে লাগলো। তারপর সিরিয়াস ভঙ্গিতে বললঃ সত্যি কেউ নেই?
আমি তার দিকে ঘুরে তাকিয়ে বললামঃ সত্যি নেই।
ঃ কেন? কাউকে ভাল লাগেনি কখনও?
আমি আকাশের দিকে তাকিয়ে বললামঃ ভাল লাগা আর ভালবাসা কি এক হল? ভালবাসার ব্যাপারে আমার কিছু শক্ত ফিলোসফি আছে। আজকালকার এই সব হঠাৎ মোবাইল বা ফেসবুকে পরিচয়-রিলেশন-ডেটিং-টাইমপাস এসবে আমার কোন আগ্রহ নেই।
ঃ তাই বুঝি? তা দার্শনিক মহাশয়ের বিখ্যাত “ফিলোসফি অব লাভ”টা কি শুনতে পারি?
আমি হেসে কৃত্তিম দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললামঃ ওসব শক্ত ফিলোসফি শুনে কোন কাজ নেই। তারচেয়ে তোমার খবর বল।
কথাটা হালকা ভাবেই বলেছিলাম। কিন্তু আপু হঠাৎ চুপ হয়ে গেল। গম্ভীরভাবে বললঃ আমার আর কী খবর। একজন মানুষের মন-ই বেঁধে রাখতে পারলাম না!
আমি তাড়াতাড়ি প্রসঙ্গ পাল্টে বললামঃ জেরিনরা কি করছে বলতো?
পলি আপুও দ্রুত সামলে নিয়ে বললঃ ওদের খবর জিজ্ঞেস করে লাভ নেই। শয়তানগুলো সব এক সাথে হয়েছে না! দরজা জানালা আটকে কী করছে আল্লাই জানে। খালি হা-হা-হি-হি! একটু আগে গেলাম খোঁজ নিতে। ঠেলে-ধাক্কিয়ে বের করে দিল। বলে- বড় আপুরা নো এলাউ!
ঃ আর তোমার ব্যাটারী! তন্ময় কোথায়?
ঃ ওর কোন হদিস আছে নাকি? দুই দিন ধরে মাকে ভুলেই গেছে। বিচ্ছুর দল পেয়েছে একটা। সারাদিন আছে ওদের সাথেই। খাওয়া-নাওয়ার কোন খবর নাই।
আমি আর কোন কথা খুঁজে পেলাম না। পলি আপুও চুপ হয়ে গেল হঠাৎ। প্রায় মিনিটখানেক দু’জনেই চুপচাপ। অস্বস্তিকর পরিস্থিতি! নিরবতা কাটানোর জন্য আমি গুন গুন করে গান ধরলাম-
চাঁদের শহরে, কতবার গিয়েছি চলে
একটি বার দেখবো বলে-
কোন বাড়িটায় ঘুমাও তুমি, কোন বাড়িতে জোনাক জ্বলে…
আমার গান শেষ হওয়ার পর পলি আপু বললঃ আচ্ছা, আমি কী খুব খারাপ?
আমি কোন জবাব না দিয়ে দূরে তাকিয়ে রইলাম। পলি আপু আমার দিকে আরেকটু ঘেঁষে আসে।
ঃ আমি খুব খারাপ। বাজে একটা মেয়ে; তাই না?
আমি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললামঃ পৃথিবীর কেউই খারাপ না আপু। সবাই আসলে ভাল। আমরা একেকজন মানুষ একেকজনকে একেক এঙ্গেলে দেখি। তখন কাউকে ভাল মনে হয়, কাউকে আবার খারাপ মনে হয়।
আপু অন্যদিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস গোপন করল। তারপর আগের মত প্রফুল্ল কণ্ঠে বললঃ চল। খেতে চল।
ঃ এখনই?
ঃ এখন নয়তো আর কখন? কয়টা বাজে খেয়াল আছে? বিয়ে বাড়িতে কেউ কারও খরব রাখে না। একটু পরে দেখবে সবাই যার যার মত খেয়ে নিয়েছে। একা একা না খেয়ে বসে থাকতে হবে তখন!
ঃ কেন? তুমি আছ না? খিদে লাগলে তোমাকে বলব!
ঃ ইস্! আমি ওনার জন্য সারা রাত বসে থাকব আরকি! আমার আর কাজ নেই?
ঃ তোমার আর কী কাজ? আসার পর থেকেই তো দেখছি প্রজাপতির মত খালি এঘর ওঘর ঘুড়ে বেড়াচ্ছো!
ঃ তাই না?
ঃ হুঁম! তুমি যাও… আমি একটু পরে আসছি।
ঃ আচ্ছা; তাড়াতাড়ি এসো।
বলে পলি আপু চলে গেল। কী ভেবে যেন আবার সিঁড়ির কাছ থেকে ফিরে আসলো। কাছে এসে প্রায় ফিস ফিস করে বললঃ মিষ্টি খাবে?
ঃ মিষ্টি!
ঃ হ্যাঁ- মিষ্টি। অনেক মজা!
বলেই যা করলো তার জন্য আমি একেবারেই প্রস্তুত ছিলাম না। আচমকা দু’হাতে আমার মাথা শক্ত করে ধরে ঠোঁটে ঠোঁট চেপে ধরে গাঢ় করে চুমু খেল। আমি এতোটাই হতভম্ব হলাম যে একচুল নড়তেও পারলাম না! দুই সেকেন্ডকে মনে হল যেন কয়েক যুগ। সময় যেন আঁটকে গেছে! আমি পাথরের মূর্তির মত দাঁড়িয়ে রইলাম। আপু আমাকে ছেড়ে দিয়ে বুকে আলতো করে একটা কিল দিয়ে কৃত্তিম বিরক্তির সুরে বললঃ যাহ্! গাধা কোথাকার!
তারপর যেভাবে এসেছিল সেভাবেই হঠাৎ চলে গেল। একবারও পেছনে ফিরে তাকালো না।
সিঁড়ি ঘরের আড়ালে যাবার পর যেন আমার সম্বিত ফিরে এলো। আমি এখনও বুঝতে পারছি না, কয়েক মুহূর্ত আগে কি হয়ে গেল! এটা কি সত্যি? নাকি আমি কোন স্বপ্ন দেখছি! বার দুয়েক পলক ফেললাম শুধু। বাঁ হাতের তালুতে ঠোঁটটা মুছে ফেললাম। মৃদু একটা মিষ্টি গন্ধ পেলাম হাতে। স্ট্রবেরীর ফ্লেভার!
আমি আরও কয়েক মুহূর্ত চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলাম। কি ঘটেছে ব্রেনকে বুঝতে সময় দিলাম। মাথায় কিছু ঢুকছে না। অবাক চোখে আকাশের দিকে তাকালাম। অবাক জোসনা নিয়ে রাস পূর্ণিমার অতিকায় চাঁদটাও আমার দিকেই তাকিয়ে আছে! এরকমই কোন এক ভরা পূর্ণিমায় বোধহয় কবিগুরু লিখেছিলেন- “আজ জোসনা রাতে সবাই গেছে বনে…”
আমি মাথা নেড়ে সব কিছু ঝেড়ে ফেলতে চাইলাম। নিজেকে বোঝালাম- কিচ্ছু হয়নি। সব ঠিক আছে। এটা খুব সাধারণ একটা ঘটনা। এরকম হতেই পারে। ইট’স্ জাস্ট অল রাইট…
তবু শরীরের কোথায় যেন একটা অজানা অনুভূতি শিহরণ দিতে লাগল। জীবনে প্রথম কেউ আমাকে লিপ কিস করলো। চুমু জীবনে অনেক খেয়েছি। সেসব ছোট বেলায়। এমনকি ছোট ছোট কাজিনদের চিপস্-চকলেট-আইসক্রিম কিনে দিলে ওরাও মাঝে মাঝে গালে চুমু দেয়। গত বছরও পরীক্ষার রেজাল্ট নিয়ে বাসায় এসে আম্মুকে সালাম করার পর আম্মু বুকে জড়িয়ে ধরে চোখে-ঠোঁটে-কপালে চুমু খেয়েছিল।
কিন্তু সেগুলো কোনটাই এটার মত নয়। এই দুই সেকেন্ডের অপ্রত্যাশিত অনুভূতি, বাঁ হাতে লেগে থাকা স্ট্রবেরীর ফ্লেভার, দু’ ঠোঁটে এখনও অজানা এক শিহরণ… সব কিছুই যেন স্বপ্নের মত লাগছে!
আমি আরও কিছুক্ষণ একা একা ছাদে দাঁড়িয়ে থাকলাম। গভীর মনযোগ দিয়ে বিক্ষিপ্ত কয়েকটা গান গাইলাম। অনেকক্ষণ পর মনে হল- সব স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। আমি লম্বা একটা নিশ্বাস নিয়ে সিঁড়ির দিকে পা বাড়ালাম।
নিচে নেমে পলি আপুকে কোথাও দেখলাম না। খাবার টেবিলে সবাই যার যার মত প্লেট নিয়ে খাবার বেড়ে খাচ্ছে। বসবার কোন জায়গা নেই। যে যার মত দাঁড়িয়ে, সোফায় বসে, দেয়ালে হেলান দিয়ে খাচ্ছে। ভূনা খিচুরি আর মাংস। আমিও একটা প্লেটে খাবার বেড়ে নিয়ে বারান্দার কাছে একপাশে চলে এলাম। একটু পরে জেরিনের সাথে দেখা হল। বড় একটা ডিসে অনেকখানি খাবার নিয়ে লুবনার ঘরের দিকে যাচ্ছিল। আমাকে দেখে বললঃ কিরে ভাইয়া! খবর কী?
আমি সুযোগ পেয়ে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললামঃ আমার খবর আর কে রাখে! বডি গার্ডের চাকরি করতে এসেছি… আছি- না মরে বেঁচে আছি।
জেরিন চোখ-মুখ করুণ করে বললঃ আহারে বেচারা! আমার জন্য খুব বিপদে পড়ে গেলি না? খুব বোরিং লাগছে? সরিরে ভাইয়া… আচ্ছা যা- কাল ঐ বাড়ি থেকে যত বেয়াইন আসবে সব তোর।
আমি গলা খাকারি দিয়ে বললামঃ থাক বাবা, মাফ চাই। আমি কাল সকালেই ভাগছি!
জেরিন হেসে বললঃ তোকে এরা যেতে দিলে ভাল। বাই দ্যা বাই, তোর কিছু লাগলে পলি’পুকে বলিস। আচ্ছা দাঁড়া- ওকে পাঠিয়ে দিচ্ছি।
ঃ আরে না! কিছু লাগবে না…
আমার কথা না শুনেই জেরিন খাবার ঘরের দিকে রওয়ানা দিল। আমি তাড়াতাড়ি খাওয়া শেষ করে প্লেটটা কিচেনে রেখে হাত ধুয়ে আবার বারান্দায় এসে দাঁড়ালাম।
লুবনাদের বাড়িটা খুব সুন্দর। রাস্তার পাশেই তিনতলা বাড়ি। নিচের দুই তলা ভাড়া দেয়া। ওরা থাকে তিন তলায়। দুই ইউনিট এটাচ্ড। প্রায় তিন হাজার স্কয়ার ফিট এর বিশাল ফ্ল্যাট! বারান্দায় আমি একাই দাঁড়ানো। বারান্দার বাতি নেভানো। শুধু গ্রীল ঘেঁষে অসংখ্য মরিচবাতি জ্বলছে। তাতে বারান্দাটা আলো-আঁধারিতে আরও রহস্যময় হয়ে গেছে।
হঠাৎ আধ খাওয়া খাবারসহ একটা প্লেট হাতে পলি আপু বারান্দায় এলো। আমাকে দেখে বললঃ কি খবর! জেরিন বলল- তুমি নাকি খুব কষ্টে আছ? না খেয়ে শুকিয়ে যাচ্ছ শুনলাম!
ঃ আরে না! মাত্র খাওয়া শেষ করে এখানে এসে দাঁড়ালাম।
ঃ পেট ভরেছে?
ঃ হ্যাঁ, পেট ভরেই তো খেলাম। লজ্জ্বা করে কম খাব নাকি?
ঃ কি জানি! একা একা কী না কী খেয়েছো নিজ চোখে তো আর দেখি নাই। নাও, আমি খাইয়ে দিচ্ছি।
বলে আমার মুখের কাছে এক লহমা খিচুরি এনে ধরল। আমি মাথা পেছনের দিকে সরিয়ে বললামঃ আরে না। সত্যি- পেটে জায়গা নেই। আর খাব না।
পলি আপু এঁটো হাত আমার মুখের আরও কাছে ঠেঁসে ধরে বললঃ আরে খাও তো। দু’একবার নেবার জন্য আবার পেটে খালি জায়গা লাগে নাকি! কী আমার পুরুষটা!
আমি বাধ্য হয়ে খাবার নিলাম। পর মুহূর্তেই ঝালে চোখ বড় হয়ে গেল। আপু ইচ্ছে করে খিচুড়ির মধ্যে আস্ত একটা কাঁচা মরিচ ভরে দিয়েছে। আমি মুখ হা করে নিশ্বাস নিলাম। চোখে পানি এসে গেছে। এমনিতেই আমি ঝাল খেতে পারি না।
আমার অবস্থা দেখে পলি আপু হেসে গড়িয়ে পড়তে পড়তে বললঃ কি? মজা না! খুব ঝাল?
আমি কোন কথা না বলে অবাক চোখে আপুর দিকে তাকিয়ে রইলাম। আপু আমার কাছে এসে ফিস ফিস করে বললঃ আমারও খুব ঝাল লেগেছে!
এবার আমার ইন্দ্রিয় আগে থেকেই সতর্ক ছিল। কেন যেন মনে হচ্ছিল- আপু কোন দুষ্টুমি করবে। হলোও তাই! আপু বা হাতের প্লেট আর এঁটো ডান হাতটা আমার দু’পাশে এমন ভাবে ধরল যে আমি ডানে বামে নড়লেই জামায় তরকারির ঝোল লেগে যাবে। বাধ্য হয়ে এক পা পেছনে সরে আসলাম। আপুও আমার সাথে সাথে এক পা এগিয়ে এলো। দেয়ালে আমার পিঠ ঠেকে গেছে। মাথাটা পেছনের দিকে নিতেই দেয়ালে ঠুকে গেল। কোন বাধা দেবার আগেই পলি আপু তার শরীর দিয়ে আমাকে দেয়ালের সাথে এক রকম ঠেঁসে ধরে চুমু খেল। এবার আগের বারের চেয়ে অনেক বেশি সময় নিয়ে। আমি দম বন্ধ করে দেয়ালের সাথে সেঁটে রইলাম।
হঠাৎ পলি আপু আমাকে ছেড়ে দিয়ে যেভাবে এসেছিল সেভাবেই বাতাসের বেগে বারান্দা থেকে বের হয়ে গেল। আমি পকেট থেকে টিস্যু বের করে মুখ মুছলাম। এবার স্ট্রবেরী নয়, তরকারীর ঝোল!
মাথাটা পুরো খালি হয়ে আছে। কিছুই ভাবতে পারছি না। আমার সাথে হচ্ছেটা কি এসব আজ?
কতক্ষণ এভাবে ছিলাম জানি না। আমাকে বারান্দা থেকে উদভ্রান্ত অবস্থায় উদ্ধার করলো জেরিন আর রূপা। ওরা গানের কলি খেলবে। দলে একজন কম পড়েছে। আমি নাকি অনেক গান জানি! তাই আমাকে ওদের দলে দরকার। আমি বাধা দেবার কোন সুযোগ পেলাম না। সেই শক্তিও আমার আছে কিনা জানি না। বুঝতে পারছি জেরিন আমার লোনলীনেস কাটানোর চেষ্টা করছে। ওদের আগ্রহ দেখে আমিও এক রকম অনিচ্ছার সাথে লুবনাদের ঘরের দিকে এগুলাম। আমাকে দেখে ওদের মধ্যে হৈ হৈ পড়ে গেল। জানি না কেন! গুনে দেখলাম এগারোটা মেয়ের মধ্যে আমি একাই ছেলে। বোকার মত খাটের এক কোনায় বসে পড়লাম। ওরা নিজেরা নিজেরা দুই ভাগ হয়ে গেল। খেলা শুরু হল। এক দল গান গাইবে, তারা যেখানে থামবে তার শেষ শব্দ দিয়ে অন্য দলের গান গাইতে হবে। খেলা শুরু হবার পর দেখলাম গানের চেয়ে আমার প্রতিই ওদের আগ্রহ বেশি! সব গানই আমাকে দিয়ে গাওয়ানোর চেষ্টা চলছে। এমনিতে খুব ভাল গায়ক না হলেও মোটামুটি অনেক গানের লিরিকস্ জানা থাকায় এধরনের খেলায় আমি বেশ এক্সপার্ট! কিন্তু আজ কেন যেন মুড নেই। মাথাটা এখনও ফাকা হয়ে আছে। আমার অন্য মনষ্কতা নিয়ে ওদের ঠাট্টা-মষ্করাও কম হলো না। খেলার চেয়ে হাসাহাসিই বেশি। কেউ একটা কিছু বললেই সবাই হাসতে হাসতে গড়াগড়ি যায়। প্রায় সবাই আমার জুনিয়র। দু’এক জন সমবয়সি। সাধারণতঃ এধরনের আড্ডায় আমিই সবাইকে মাতিয়ে রাখি। কিন্তু আজ সব কিছুই কেমন যেন লাগছে। সবার হাসি তামাশার জবাবে আমি শুধু মাঝে মাঝে মুচকি হাসছি। আমার উদাসীনতা দেখে একজন বলেই ফেললঃ ভাইয়ার বোধহয় ঘুম পেয়েছে। রাত অবশ্য কম হয়নি। দুইটার বেশি বাজে! এক কাজ কর- ভাইয়াকে ছেড়ে দেই। আমাদেরও ঘুমানো দরকার।
আমি যেন হাফ ছেড়ে বাঁচলাম। জেরিনকে কানে কানে বললামঃ কিন্তু আমি ঘুমাবো কোথায়?
জেরিন ভ্রু কুচকে বললঃ ধুর! জায়গার অভাব নাকি? চল।
ঘর থেকে বেরুতেই পলি আপুর সামনে পড়লাম। জেরিন ওকে দেখে বললঃ ঐ আপু! আমার ভাইজানকে একটু ঘুমানোর জায়গা করে দাও তো। বেচারা একা একা খুব টেনশনে আছে!
পলি আপু আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলোঃ তাই নাকি? এতো বড় বাড়িতে থাকার জায়গার অভাব! খালি ঘরইতো পড়ে আছে হালি খানেক। এসো আমার সাথে।
আমি কিছু বলার আগেই জেরিন হাফ ছেড়ে বললঃ বাঁচলাম। দেখো- সাবধানে রেখো কিন্তু। সাতটা না, পাঁচটা না, একটা মাত্র সুইট ভাই আমার। চুরি-টুরি হয়ে গেলে খালামনির কাছে মুখ দেখাতে পারবো না!
বলেই হেসে চলে গেল। পলি আপু আমার হাত ধরে বললঃ ডাকাতের সম্পদ চুরি আর কে করবে!
বলে আমার চোখের দিকে তাকিয়ে উদ্দেশ্যমূলক হাসলো। আমি হাত ছাড়িয়ে নিয়ে বললামঃ আপু; তোমার সাথে আমার কিছু ডিসকাশন আছে।
পলি আপু আবার আমার হাত ধরে বললঃ আমারও আছে। চল। বলে আমাকে নিয়ে হাঁটতে লাগলো।
কী ঘটতে যাচ্ছে কিছুই বুঝতে পারছি না। কিন্তু যতটুকু আন্দাজ করতে পারছি তাতে রিতিমত কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থা! কারও সাথে শেয়ারও করতে পারছি না। আপু আমার সাথে এমন কেন করছে? কি চায় ও আমার কাছে? আগে থেকে তো কোন পরিচয় নেই আমাদের। সেই কোন ছোট বেলায় দেখেছিল। আর আজ মাত্র কয়েক ঘণ্টার মেলা মেশা। হলুদের অনুষ্ঠানে একটু গা ঘেঁষাঘেঁষি, একসাথে কয়েকটা ছবি তোলা আর সবার অনুরোধে একটা গান শোনানো… ব্যস এইটুকু! কি এমন হয়ে গেল এর মধ্যে? কেনই বা দুই দুবার ওরকম করলো? অথচ পরমুহূর্তেই কী স্বাভাবিক তার আচরণ! আমাকে স্তম্ভিত করে দিয়ে- যেন কিছুই হয়নি এমন একটা ভাব করে দিব্বি ঘুরে বেড়াচ্ছে! ভাবনার জট মাথায় ঘুরপাক খেতে খেতেই পলি আপু আমাকে নিয়ে এলো কোনার দিকের ছোট্ট একটা ঘরে। দরজা খুলে বাতি জ্বালিয়ে দিলো। ঘরে তেমন কিছু নেই। গেষ্ট রুম বোধহয়। একটা আলমারি, সিঙ্গেল খাট আর দুই গদির একটা সোফা। খাটের পাশে ছোট টি টেবিল, ব্যস এই।
পলি আপু আমাকে ঘরের ভেতর ঠেলে দিয়ে এক সেকেন্ড দরজায় দাঁড়িয়ে ঠোঁট কামড়ে কী যেন ভাবলো। তারপর পেছন ফিরে কিছু একটা দেখে নিয়ে আচমকা ঘরে ঢুকে দরজা আটকে দিল। আমি ঢোক গিলে প্রহর গুনতে লাগলাম। আপু শান্ত ভঙ্গিতে সোফায় গিয়ে বসে আমার অবাক-ভীত চোখের দিকে তাকিয়ে ভ্রু নাচিয়ে বললঃ কী কবি সাহেব? খুব ভয় পেয়ে গেছেন, তাই না? কী আমার বীর পুরুষটা- একটা মেয়ে মানুষকে ভয় পায়! ভালবাসার ফিলোসফিতে গিট্টু লেগে গেলো নাকি?
আমি যেন একটু সাহস ফিরে পেলাম। নিশ্বাস নিয়ে আমতা আমতা করে বললামঃ না মানে… ভয় পাব কেন? বড় বোনকে ভয় পাওয়ার কী আছে!
মাত্র এক মুহূর্ত। পলি আপুর মুখ থেকে হাসি উবে গেল। চোখ দু’টো জ্বলে উঠলো যেন। স্প্রিংয়ের মত সোফা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে আমার কলার চেপে ধরে বললঃ কী ভাব তুমি নিজেকে? সাধু-সন্নাসী? নিজেকে মহাপুরুষ মনে হয়?
আমি আমতা আমতা করে বললামঃ আপু… মানে আমি…
ঃ চুপ! একদম চুপ! সমস্যা কী তোমার? মেয়েদের সাথে মেলামেশা করোনি কোন দিন?
আমি কী বলব ভেবে পেলাম না। করুণ চোখে তাকিয়ে থাকলাম শুধু। আপু আমার গলা জড়িয়ে ধরে বললঃ কোন কথা বলবে না। নইলে আমি কিন্তু চিৎকার করব। আল্লার কসম! লোকজন জানাজানি করে আজীবনের জন্য আমি তোমার গলায় ঝুলে পড়ব। তুমি আমাকে চেন না!
আমি এবার সত্যি ভয় পেয়ে গেলাম। ঢোক গেলার আগেই আপু গাঢ় করে আমায় চুমু খেল। আমি শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম।
আপু আমার কানের কাছে ফিসফিস করে বললঃ প্লিজ! আমিও তো একটা মানুষ! মেয়ে বলে কি আমার মনে কোন চাওয়া নেই?
আমার নিশ্বাস ভারি হয়ে উঠলো। কী বলছে এই মেয়ে! খোদা! আমি এখন কী করব? পলি আপু এক হাতে আমার শার্টের বোতাম খুলছে। আমি তার হাত চেপে ধরলাম। আমার গলা দিয়ে কোন আওয়াজ বের হলো না। ফ্যাস ফ্যাস করে বললামঃ আপু প্লিজ! ফরগিভ মি!
আপু হাত ছাড়িয়ে নিতে নিতে বললঃ বিশ্বাস কর- আমি কখনও কারও সাথে এরকম করিনি। তোমাকে দেখার পর থেকে আমার ভাল লেগে গেছে। কী করব বল- ভালবাসা কি অপরাধ? আমি জানি এটা অন্যায়। কিন্তু মন…
বলতে বলতে ও আমার গলায় চুমু খেল। আমি কী করব বুঝতে পারছি না। ভেতর থেকে কে একজন প্রচ- বাধা দিচ্ছে। প্রতিটি হার্টবিট যেন বলছে- না, না, না! কিন্তু শরীরে কোন শক্তি পাচ্ছি না বাধা দেবার। পলি আপু প্রচন্ড উত্তেজিত। টোটাল আউট অব মাইন্ড। কী করে বসে ঠিক নেই। চিৎকার করে বসলে মহা কেলেঙ্কারি হয়ে যাবে। কেউ সত্যিটা জানতেই চাইবে না! আমি দু’চোখে অন্ধকার দেখছি। কিছুই মাথায় আসছে না। এদিকে আপুর ডান হাত আমার বুক বেয়ে নেমে যাচ্ছে নিচের দিকে। আমি সর্বশক্তি একত্র করে আবার তার হাত চেপে ধরলাম। ঝাকুনি দিয়ে আমার সামনে সোজা করে দাঁড় করালাম ওকে। দু’হাতে ওর মুখ ধরে চোখে চোখ রেখে বললামঃ প্লিজ আপু… প্লিজ! আমাকে আমার কাছে ছোট করে দিও না। তোমাকে আমি বড় বোনের মত…
ও আমাকে এক ঝটকায় ছাড়িয়ে নিল। আমি আবার দু’হাতে ওর মাথা চেপে ধরলাম। করুণ চোখে এক মুহূর্ত তাকিয়ে থেকে কপালে চুমু খেলাম। তারপর আবার করুণ স্বরে বললামঃ প্লিজ আপু!
ও আমার হাত ঝাড়া দিয়ে ছাড়িয়ে নিল। দু’চোখে প্রচন্ড ক্ষোভ নিয়ে বললঃ কিচ্ছু শুনতে চাই না আমি। গত ছয়টা বছর অনেক শুনেছি। অনেক ধৈর্য্য ধরেছি; অনেক ভেবেছি মান-সম্মান। আজ আমার মন যা চায় তাই করব…
তারপর আবার আমার শরীরের ওপর চেপে ধরলো নিজেকে। আমার কানে মুখ লাগিয়ে বললঃ কোন পাপ হবে না তোমার। বিশ্বাস কর- সব দোষ আমার।
তারপর শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ঠোঁট দিয়ে কান কামড়ে ধরে চুমু খেলো। আমি সর্বশক্তি দিয়ে ওকে ছাড়িয়ে নিতে চাইলাম। কিন্তু হাত দু’টো যেন অসাড় হয়ে গেছে। বুকের ভেতর হৃদপিন্ডটা ভেঙ্গে বের হয়ে আসবে যেন। নিশ্বাস নিচ্ছি হাপরের মত। মনে হচ্ছে জ্ঞান হারিয়ে ফেলব। পলি আপুর পারফিউমের গন্ধটা যেন মাতাল করে দিচ্ছে আমাকে। কী পারফিউম এটা? ব্লু লেডি?
টের পেলাম শার্টের আরও দু’টো বোতাম খুলে ফেলেছে পলি আপু। আমি কাতরভাবে বললামঃ আমি পারবো না… আপু প্লিজ!
এক মুহূর্ত থামলো ও। তারপর আমার চোখের দিকে তাকিয়ে পলক ফেলে সান্তনার সুরে বললঃ খুব বেশি কিছু করতে হবে না। এমনিতেই আমার “ডেঞ্জার পিরিয়ড” চলছে! তুমি চাইলেও তোমাকে আমি ‘সবকিছু’ করতে দেব না। শুধু একটু আদর করব তোমাকে।
বলেই আমার ঠোঁটে ঠোঁট চেপে ধরলো। আমি কাঠ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম। ও আমার গালে হাত রেখে মৃদু চাপে আদর করে বললঃ একটু নরম হও… প্লিজ!
তারপর আবার চুমু খেল। আমার ভেতরে কেমন একটা জেদ চেপে গেছে। আমি আরও শক্ত হয়ে ঠোঁটে ঠোঁট চেপে দাঁড়িয়ে রইলাম। পলি আপু আমার ঠোঁটের মধ্য দিয়ে ওর জিহ্বা ঢুকিয়ে দিতে চাচ্ছে। আমি আরও জোড়ে দাঁতে দাঁত চেপে রইলাম। বুঝতে পারছি- ওরও জেদ চেপে যাচ্ছে। ঠোঁট না সরিয়েই বাম হাতে আমার মাথার পেছনের চুলগুলো প্রচন্ড জোরে মুঠি করে ধরলো। ছিঁড়ে ফেলবে যেন! আর ডান হাতটা শার্টের ভেতর দিয়ে পেটের ওপর বোলাতে বোলাতে নিচের দিকে নামাচ্ছে!
আমি বাম হাত দিয়ে ওর ডান হাত চেপে ধরলাম। আরেক হাতে ওকে এক ঝটকায় ছাড়িয়ে নিলাম। এবার আমি ওর চোখে প্রচন্ড অভিমান দেখতে পেলাম। মুহূর্তেই সেটা প্রচন্ড আক্রোশে পরিণত হলো। হঠাৎ ও আমাকে ধাক্কা দিয়ে সোফায় ফেলে দিল। বেকায়দায় পড়ে যাওয়ায় ভালই ব্যাথা পেলাম পিঠে-কোমড়ে-মাথায়। পলি আপু বা হাতে লাইট নিভিয়ে আমার ওপর ঝাপিয়ে পড়ল। জানালা দিয়ে আসা স্ট্রীট ল্যাম্পের এক চিলতে আলোতে দেখতে পেলাম- ওর চোখে পানি চিক চিক করছে। আমার বুকের ওপর ভর দিয়ে গালে নাক-ঠোঁট ঘষতে ঘষতে বললঃ প্লিজ লক্ষ্মীটি… সোনা আমার… একটু দয়া করো। একটু আদর করো আমায়…
বলতে বলতে আমার হাত দু’টো টেনে নিয়ে যেতে লাগলো ওর বুকের কাছে। আমি হাত মুঠি করে ছাড়িয়ে আনলাম। হাত ছেড়ে দিয়ে আপু আমার মাথা চেপে ধরলো দু’হাতে। ঠোঁটে ঠোঁট লাগালো আবার। কেন জানি না, আমিও ভেতর থেকে নিজেকে গুটিয়ে ফেলেছি! যদিও জানি- কিছুই করার নেই আমার। আমি ফাঁদে পড়ে গেছি। জীবনে প্রথমবার অনুভব করলাম- পরিবেশ পরিস্থিতি কখনও কখনও একটা পুরুষকে একজন নারীর চেয়েও কত অসহায় করে দিতে পারে! কিন্তু তবুও বিবেক কিছুতেই সায় দিচ্ছে না।
কোন সাড়া না পেয়ে ও এবার ক্রুদ্ধ সাপের মত হিসহিস করে বললঃ তুমি যদি এরকম কর… তাহলে- আই উইল রেপ ইউ! ফর দ্যা গড সেক… আই উইল… তুমি কিচ্ছু করতে পারবে না। এই ঘর থেকে বের হতে চাইলেই আমি চিৎকার করব। তুমিই যদি চিৎকার কর তাতেও কোন লাভ হবে না। সব দোষ তোমার ওপড়ই পড়বে। আমি ডিভোর্সি… আমার মান-সম্মানের কিছু নেই; ক্ষতি যা হবার তোমারই হবে…
বলতে বলতে প্রায় কেঁদে ফেলল ও। ধরা গলায় বললঃ তুমি একটা পুরুষ মানুষ। তোমার তো কোন ক্ষতি নেই… তাহলে কেন এমন করছো? কেন একবার আমার কথা ভাবছো না? কেন বুঝতে চাচ্ছ না- কোন অবস্থায় একটা মেয়ে এরকম করতে পারে!
পরক্ষণেই শক্ত হয়ে বললঃ খুব হিরো সাজা হচ্ছে- না! কী ভেবেছো- নিজেকে মহাপুরুষ প্রমাণ করবে? আমাকে কী ভাব তুমি? খুব সস্তা একটা মেয়ে? বাজারের বেশ্যা…?
আবার ফুপিয়ে উঠলো ও। আমার বুকে পাগলের মত গোটা কয়েক চুমু খেয়ে, মাথা রেখে কাঁদতে কাঁদতে বললঃ আই উইল সুইসাউড! কাল সকালে তুমি আমার লাশ দেখবে। আমার আর কোন পথ খোলা নেই…
আমি ভয়ে সেঁধিয়ে গেলাম। কান্নার আওয়াজ বাইরে থেকে কেউ না আবার শুনতে পায়! ওকে শান্ত করার জন্য পিঠ মৃদু চাপড়ে হাত বুলিয়ে দিলাম। ও সেটাকে ‘আদর’ ভেবে এক মুহূর্ত থামলো। পরক্ষণেই আবার ফোপাতে লাগলো। ওহ্ খোদা! এ কী পরীক্ষায় আমায় তুমি ফেললে? আমি জানি- এক্ষুণি আবার উঠে বসবে ও। তারপর? তারপর কী করবে ও নিজেও জানে না! হয়তো একটু আগে রাগের মাথায় যা বলেছে…! নাকি শেষ মুহূর্তে সামলে নিতে পারবে নিজেকে?
আমি অজানা আশঙ্কা কিন্তু নিশ্চিত বিপত্তির জন্য অপেক্ষা করছি। ওর প্রতিটা হৃদস্পন্দন আমার সমস্ত অস্তিত্বে টের পাচ্ছি। এক একটা হৃদস্পন্দন এক একটা মুহূর্তের জানান দিচ্ছে। আর এক একটা মুহূর্ত আমাকে নিয়ে যাচ্ছে অজানা গন্তব্যের দিকে!
———- ০ ———-
[পুনশ্চঃ এই লেখাটা তাদেরকে উৎসর্গ করা হল- যারা সত্যি জানেন না, এরকম পরিস্থিতিতে পড়লে আপনি নিজে কী করতেন!]

২৫ thoughts on “আমি

  1. বেশ অস্বস্তিকর পরিস্থিতি।
    বেশ অস্বস্তিকর পরিস্থিতি। আসলেই কঠিন প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন শেষে।
    যাই হোক, ইস্টিশনে স্বাগতম। :ফুল:

    1. শুকরিয়া…
      রেপ তাহলে একচেটিয়া

      শুকরিয়া…
      রেপ তাহলে একচেটিয়া নয়! পরিস্থিতি একজন ‘শক্তিমান’ পুরুষকেও ‘অবলা’ নারীর কাছে অসহায় করে দিতে পারে…
      :ভালাপাইছি:

  2. আমি হলে সে যা চাইছে তা দিতাম,
    আমি হলে সে যা চাইছে তা দিতাম, তার অতৃপ্ত মন ও শরীরের সাথে সঙ্গম করতাম । যদিও “দিদি” বলেছেন ডেঞ্জার পিরিয়ড চলছে, তাহলে পরে হোলেও করতাম।

    আর আপনার এই লেখা পুরুষকে শুদ্ধ পবিত্র রাখার গল্প ফেঁদে ভন্ডামি।

    1. গল্পের ‘আমি’ও ঠিক আপনার মতই
      গল্পের ‘আমি’ও ঠিক আপনার মতই করতো যদি না…
      ভাই ভন্ডামী কিনা জানি না। যে মেয়েটা রেপড হয় তার কি যৌন কামনা নেই? সে কি কখনও কোন পুরুষকে কামনা করে না? তাহলে সে রেপড হয় কেন?
      কারণ, যৌনতা শুধুই একটা শারীরিক তৃপ্তি নয়। এটা যতটা না শারীরিক তার চেয়ে অনেক অনেক বেশী মানসিক তৃপ্তির ব্যাপার…

      পুরুষ হলেই যে, যে কোন নারী অফার করা মাত্র শুয়ে পরবে এমনটা আমার মনে হয় নি… অন্তত আমি হলে পারতাম না।
      এটা যদি ভন্ডামী বা ধ্বজভংগের লক্ষণ হয় তো হতেও পারে! সেক্ষেত্রে আমি দুইটাই…
      😛

  3. আমি মহা পুরুষ নই ।।আপনি বা
    আমি মহা পুরুষ নই ।।আপনি বা আপনারা কেউই মহাপুরুষ নন ।। যদিনা আপনি ধজভংগ হোন ।।

    1. মহা পুরুষ এবং ধ্বজভংগ (বা গে)
      মহা পুরুষ এবং ধ্বজভংগ (বা গে) ব্যতিত দুনিয়ার বাকি সব ‘সুস্থ ও স্বাভাবিক’ পুরুষরাই যে, কোন নারীর আহ্ববান পাওয়া মাত্র ফ্ল্যাট হয়ে শুয়ে পড়ে জানতাম না!

      ‘সুস্থ ও স্বাভাবিক পুরুষ’দের মানসিকতার ব্যাপারে আমার আবার গবেষণা কম! 😛

      দাদা একটা জিনিস একটু মাইন্ড স্ট্রোমিং করে বলেন তো- ধরেন আপনার আশপাশের সব নারী কোন কারণে ‘কাম উন্মাদ’ হয়ে গেছে! (বডি স্প্রে’র এড.গুলোতে যেমন দেখায় আরকি!:P ) সব মানে সব! (আপনার মা-খালা-ফুফু-বোন-ভাবি… সব)
      আপনি কার কার মনোবাসনা পূরণ করার জন্য মানসিক ভাবে প্রস্তুত? সবাইকেই কি?
      :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি:

  4. আরেক টা কথা। ধ্বজরা এমনকি
    আরেক টা কথা। ধ্বজরা এমনকি মহাপুরুষরাও আপনি যেভাবে সিচুয়েসেন ক্রিয়েট করেছেন সে অবস্থায় ঠিক থাকবে না ।। সে যতই সামর্থ হীন হোক না কেন —-

  5. ভাই যতই মহাপুরুষ সাজার অভিনয়
    ভাই যতই মহাপুরুষ সাজার অভিনয় করেন বাঙালীর মহা পুরুষত্য কোথায় থাকে সেটা আমার খুব ভালো মত জানা আছে ।। তাছারা আপনি তো বললেন গল্পের আলোকে আমরা নিজেদের ঐ পরিস্থিতিতে কিভাবে সামাল দিতাম,আপনার গল্পে কাম জাগ্রীতা নারী নিশ্চই আপনার মা, খালা, ফুপু, আপন বোন ছিল না, ছিল কি??? তাহলে সমস্যা ছিল কোথায়,একটু খুলে বলবেন ? (নাকি আপনারও ডেঞ্জার প্রিয়ড চলছিল ) অনেষ্টলি বলবেন,চাতুরতার আশ্রয় নিবেন না দয়া করে। ।তারপরেও আপনি ছেলের চরিত্রটিতে যে অবাস্তব কিউটনেস আনার চেষ্টা করেছেন তা শুধু গল্প বলেই সম্ভব ছিল। বাংলা ছবির আকাশ কুসুম কাহিনী কিংবা ভারতী কোনো ছবি হলেও মন্দ হতো না ।। ভাই কিছু মনে নিয়েন না, বাস্তবে আসুন,কল্পনার জগৎ কে বিদায় জানান।

    1. কি জানি, হবে হয়তো… আপনার মত
      কি জানি, হবে হয়তো… আপনার মত অভিজ্ঞ ব্যক্তি যে আমি নই এটা সত্য!
      আপনি ঢালাও ভাবে “বাঙ্গালীর মহা পুরুষত্ব” বলতে যা বোঝাচ্ছেন, এই ঢালাও মন্তব্যটাই আমি কখনও মেনে নিতে পারি না। মেজরিটি পারসেন্ট মানেই কিন্তু সর্বজনীনতা নয়!

      যাহোক, আসল কথা হচ্ছে কি; আপন মা-বোন না হলেই যে ‘কোন সমস্যা নেই’ এটা মানতে পারছি না… সমস্যাটা শারিরীক, সামাজিক বা প্রকৃতিক বা অন্য কিছু নয়।
      সমস্যাটা হচ্ছে মনের ব্যাপার। আমি যেটা বলতে চেয়েছি (বা পূর্বের মন্তব্যেও বলেছি) যৌণতা ব্যাপারটা প্রথমত মানসিক রুচি ও প্রস্তুতির ব্যাপার। সেটা পুরুষই হোক কিংবা নারী… অপ্রস্তুত অবস্থায় (অন্তত সবার পক্ষে) লোভনীয় হলেই সব সময় তা গ্রহণ করা যায় না।
      এটাই… 🙂

  6. একটা ফ্রী পরামর্শ দেই, কিছু
    একটা ফ্রী পরামর্শ দেই, কিছু মনে নিয়েন না, ব্লগে এই ধরনের চটি না লিখে মানুষের সেন্টিমেন্টকে দ্বিধায় না ফেলে বরং প্রোডাক্টিভ লেখায় মনোনিবেশ করুন। আপনার শুভ কামনা করছি ।।

    1. এটা চটি?
      মানুষের

      এটা চটি? :ভাঙামন:

      মানুষের সেন্টিমেন্টকে দ্বিধায় ফেলতে পেরে… :ভালাপাইছি:

      আপনাকেও :ফুল:

    1. হুম… হয়তো!
      এটা একটা নাদান

      হুম… হয়তো!

      এটা একটা নাদান পুরুষের গল্প… যে কিনা নারী বা নারীত্ব কোনটাই বোঝে না!
      😛

  7. আপনার প্রশ্ন শুনে দেয়ালে পিঠ
    আপনার প্রশ্ন শুনে দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে… ঘটনাটি অবাক করেছে। আরও বেশি অবাক করেছে অনিন্দ অন্যির মন্তব্য…

    1. অবাক হবার কিছু নেই। আমাদের
      :আমারকুনোদোষনাই:
      অবাক হবার কিছু নেই। আমাদের চারপাশে কত অদ্ভুদ ব্যাপারই না ঘটে… কয়টার খবর আমরা রাখি বলুন?

  8. পুরাই যায় যায় দিনের চটি গল্প!
    পুরাই যায় যায় দিনের চটি গল্প! গল্পের শুরুটা ছিল দারুন আর শেষ নিতান্তই সুড়সুড়ি…
    জানিনা কোন উদ্দেশ্য নিয়ে লিখেছেন কিনা!! তবে আমি বলব আপনি সত্যের ব্যত্যয় ঘটিয়েছেন!
    মহাপুরুষ সাজার চেষ্টা!! একটা মেয়ে আপনাকে দু’বার বিব্রতকর (আপনার ভাষায়) অবস্থায় ফেলার পরও একা উনি আপনাকে টেনে নিয়ে গেল আর আপনি না বুঝেই মহাপুরুষের (তথাকথিত) আসলে মহা-বোদাই এর মত চলে গেলেন? কিছুই বুঝেন নাই রুমে ডুকে দরজা বন্ধ করে দিবে?
    আমার শুধু মাত্র ‘আকিরা কুরুসাওয়ার’ বিখ্যাত চলচ্চিত্র ‘রশোমন’ এর কথা মনে পরল!! আমি পলি আপুর ভাষ্য দেখতে চাই—

    1. [বিঃদ্রঃ ইহা কোন ফেসবুক
      :লইজ্জালাগে:

      [বিঃদ্রঃ ইহা কোন ফেসবুক স্ট্যাটাস নয়। ইহা সম্পূর্ণই একজন লেখক মনের কল্পনা ও ব্যক্তিগত জ্ঞান/ধারনা/অভিজ্ঞতা হইতে লিখিত গল্প বিশেষ… পড়িতে চটির মত লাগিলে বা অবাস্তব কিংবা নারীকে ছোট ও নিজেকে (পুরুষকে) মহাপুরুষ সাজাইবার অপচেষ্টা মনে হইলে সেই দায়িত্ব লেখকের নহে! 😛 ]

      1. যদি বাস্তব ঘটনার ভিত্তিতে
        যদি বাস্তব ঘটনার ভিত্তিতে লিখা হয় তবে আমি ‘পলি’ আপুর স্মৃতিচারনও জানতে চাই!!
        আর যদি নিতান্তই গল্প হয় তবে লিখক প্রথমে পলি’র মনোবৃত্তি ব্যাখ্যার যে প্রয়াস দেখায়ছে অনুরূপ বালক/ছেলে/তরুন ‘আমি’র মনোবৃত্তিও ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন ছিল! সাহিত্য ও শিক্ষা বা শিল্প সবই মহান দায়িত্ববোধ নিয়ে হয়; আমার কাছে গল্পটি কিছুটা হঠকারী পুরুশ্তান্ত্রিকতায় লিখা মনে হয়েছে…
        লিখককে আঘাত দেয়ার জন্যে নয়, দায়িত্ববোধ জন্মানোর জন্যেই আমার মন্তব্য…

        1. অসংখ্য ধন্যবাদ… তবে কি-
          অসংখ্য ধন্যবাদ… তবে কি- আমার ধারনা আপনি যা চাচ্ছেন তা আমি গল্পের মাঝেই দিতে চেষ্টা করেছি।
          আপনি গল্পটা আরেকবার পড়ে দেখতে পারেন। প্রতিটি লাইন সমান গুরুত্ব দিয়ে পড়ার অনুরোধ রইলো… কারণ কোন কোন লাইন হয়তো মাত্র ২/৩ শব্দের কিন্তু অনেক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাসেজ বহ্ন করছে!

          বাস্তবতা হলো- এই গল্পে কাউকে ছোট বা বড় করাআর চেষ্টা করা হয়নি। দুইজন মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তিই তুলে ধরা হয়েছে কেবল।
          হয়তো সেটা একটু অস্বাভাবিক বা ব্যতিক্রমী মনে হতে পারে… কিন্তু এমনটা হয়- এটাই ছিল আলোচ্য।
          🙂

  9. সফিক ভাই্‌, একটা গল্প লিখে
    সফিক ভাই্‌, একটা গল্প লিখে আপনার উপর দিয়ে কি পরিমান ঝড় ঝাপটা গেছে বোঝা গেল কমেন্ট গুলো পড়ে। আমার মনে হয়, বেশীরভাগ লোকেই পলি আপার কষ্টটা বুঝতে পারে নাই। সবাই ভাবছে, শালায় তো চান্সে মজা নিল। গল্প সাহিত্য আসলেই কঠিন জিনিষ।তবে লেখাটায় একটু কাঁচা কাঁচা ভাব আছে, সেটা কাটিয়ে উঠতে হবে আপনাকে।

    1. বিষয় বস্তুটাতে আমি আসলেই
      বিষয় বস্তুটাতে আমি আসলেই কাঁচা! এধরনের সেন্সেটিভ বিষয় কিভাবে ফুটিয়ে তুলতে হয় ঠিক জানা নেই…
      অনেক সতর্ক থাকার চেষ্টা করেছি যেন শেষ-মেশ “চটি গল্প” মনে না হয়! তার পরেও অনেকে কমেন্টে সেটাই বলে ফেললো! অতি সতর্কতার কারণে ইমোশনগুলো হয়তো ভালো ফোটেনি… তাছাড়া “আমি” ক্যারেক্টারটাতে অন্তত ইমোশন কিরকম হতে পারে তা আন্দাজ করতে পেরেছি। কিন্তু “পলি আপু” ক্যারেক্টারটার ইমোশন প্রকাশ করতে আমাকে পুরোপুরিই কল্পনার আশ্র্য় নিতে হয়েছে! তার ডায়লগগুলো সাজাতে তাই বেগ পেতে হয়েছে যথেষ্টই…

      সার্বিকভাবে- এই তো!
      দোয়া রাখবেন, হয়তো আগামীতে পাকামো দেখাতে পারবো! 😀

  10. এইটা একটা গল্প , কিন্তু
    এইটা একটা গল্প , কিন্তু মন্তব্যগুলো একটু বেশি সিরিয়াস পর্যায়ে চলে গেছে 🙁

    গল্প হিসেবে আমার কাছে উপভোগ্য লেগেছে

    1. সিরিয়াস হওয়াটা দোষের মনে হয়নি
      সিরিয়াস হওয়াটা দোষের মনে হয়নি আমার কাছে…
      বস্তুত, প্রতিটা গল্পই আসলে একটা জীবনের বাস্তব রূপকেই উপস্থাপন করে!

      কিন্তু “প্রিমাইন্ড সেটআপ” মাঝে মাঝে আমাদেরকে সবকিছু ভুলিয়ে দেয়… গন্ডগোলটা বাধে তক্ষুণি!
      🙂

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *