আর বিলম্ব নয়।

একই স্থানে লোকটিকে অাবার অাক্রমণ করা হয়। পান্নু মাঝির ছেলে তাকে পিছন দিয়ে অাঘাত করে যখন লোকটি একজন কাউন্সিলরের সাথে কথা বলছিল। কয়েকজন দাগী লোক তাকে এখনি এই গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে বলে। লোকটি তার দৃষ্টিভঙ্গি জানায় আর বলে, আমাকে মারা উচিত নাকি পুরুষ্কার দেয়া উচিত? কে অাছে, যে দেশের অাইন মানে এবং ধর্ম মানে? সতীত্ব অাছে সেরকম একজনকে অামি বিয়ে করতে চাই। এটা কি পাপ?
কাউন্সিলর বলেন, ‘অবশ্যই না’।
মনে করুন, সামাজিক ভাবে বিয়ে না করে আমি কারো সাথে মিলিত হতে চাই না। কিন্তু বিয়ের জন্য একটা মেয়েকে অবশ্যই নূন্যতম অাঠার বছর হতে হয়। অাপনাদের কি অাঠার বছর বা তার বেশি বয়সের একটি মেয়েও অাছে যার সতীত্ব খোয়া যায়নি, অাপনারা ধার্মিক? যদি না থাকে তাহলে বলতে হয় অাপনারা সত্য ধর্ম পালনে ব্যর্থ। হয় আপনাদের ধর্ম ভুল অথবা অাপনারা ধর্ম পালনে ভুল। বৃক্ষ তো ফলে পরিচিতি পায়। কাজেই, অাপনারা অনৈতিক ভাবে অথবা অবৈধ ভাবে সতীত্ব হারানো নারীদের পিতা কিংবা ভাই, এভাবেই অাপনারা অাপনার নবীকে ব্যর্থদের নবীতে পরিণত করছেন।

কাউন্সিলর বলেন, ‘তাতে অাপনার কি সমস্যা?’

তারা পরস্পর বোন! খুবই সুন্দর দু’টি মেয়ে। সে বড়টিকে দেখেছিল যখন মেয়েটি চতুর্থ শ্রেনীতে পড়ত। মেয়েটি নিয়মিত একটি টেবিল ল্যাম্প নিয়ে প্রাইভেট পড়তে যেত। খুবই ঠান্ডা, সুন্দর, নম্র-ভদ্র, ছন্দময় হেটে চলা, সবসময়েই শরু রাস্তার বা’পার্শ্ব দিয়ে হেটে অাসত। লোকটি মেয়েটির কোন কথা, হৈ-হুল্লড় বা হাসি দেখতে পায়নি, কিন্তু উচ্ছ্বসিত অদ্ভুত মন চোখাচোখির একটি সুযোগও হারায়না। কোন লজ্জা কিংবা ভয় না, কিন্তু কৌতূহল। সে কি কথা বলতে পারেনা? নাকি, কথা বলা তার জন্য কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ? কি ঘটে, যখন বাইসাইকেল অাসে, বাম সাইড ধরে পিছন দিক থেকে? সে পিছন ফিরে, বেড়ার সাথে অাঁতকে উঠে অার পুরো রাস্তা ছেড়ে দেবার চেষ্টায় পিছনে পা ফেলতে থাকে যতক্ষণ না বেড়ায় পিঠ ঠেকে। লোকটি সাধারণত এরকম শরু পথে ডান পার্শ্ব দিয়ে চলে। লোকটির হাত থেকে একটা পোখরাজ পাথর পরে গেল। মেয়েটি থেমে গেল, কিছু একটা বলার সুযোগ পেল, সম্ভবত পাথরটি দেখাত, কিন্তু লোকটি নিজেই পাথরটি হাতে তুলে নিলে মেয়েটি ঠোট বন্ধ করে নেয়।

তুমি কি অামাকে ভয় করো?
সে সুধু একটু কাধ নাড়ায়
‘কেন? না, অামি ভয় করবো কেন?’
ভয় হচ্ছে না? লোকটি হাসি মুখে পাথরটি দেখিয়ে বলে, তুমি এটি নিবে?
‘না’। কয়েক মুহূর্ত পরে মেয়েটি জানতে চায়, ‘ওটা কি?’
তুমি চাইলে এটা নিতে পারো!
সে চুপ করে থাকে, মনে হয় অনেক কিছু বলবে, কিন্তু শুধু বলে ‘বাবা বকবে’।
তুমি বাবাকে ভয় কর?
সে অাবার কাধ নাড়ায়।
এটা ভাল। তোমার বাবার নাম বল, অামি উনার সাথে কথা বলিব, তুমি ভয় কর না, তুমি ইচ্ছে করলে এটা নিতে পার।
‘ওটা কি?’
তুমি রেখে দিতে পার আবার হাতের অাংটিতে সেট করতে পার।
সে ‘না’ শব্দটা উচ্চারণ করতে পারে না- এটা কিংকর্তব্যবিমূঢ়তা হতে রেহাই পাবার মত নয়। লোকটি কলিম’দের ঘরে ঢুকে পরে, যেখানে সে একমাস যাবৎ থেকেছে। ‘কলিম’ আর তার বন্ধু, ‘সাদেম’ বলে, ‘স্যার, ওকে ডেকে অানবো অাপনার কাছে?’
কেন?
‘অামারা যেমনটা জানি, তাতে ওর মত একজন অাপনার দরকার।’
কি?
‘অাপনি বলেছিলেন, সতীত্ব হারানো কোন মেয়েকে অাপনি বিয়ে করবেন না। একারণে বলছি, অামরা ওকে নিয়ে অাসি আর অাপনার সাথে এনগেজ্ড থাকুক। এটাই সঠিক বয়স। এটা গ্রাম, কোন নিশ্চয়তা নাই যে সাবালিকা হওয়া পর্যন্ত সে সতীত্ব টিকিয়ে রাখতে পারবে। এটাই ভাল যে অামরা ওর বাবা-মার সাথে কথা বলি আর অাপনার সাথে একত্রে থাকার ব্যবস্থা করি।’
তোমরা কি বাল্য বিয়ের কথা বলছ বা এমন কিছু যা মানুষের অধিকার লংঘণ করে? ধর্ম মানার কথা বলছো না কেন? ধর্ম কি অনুপস্থিত? যাহোক, তোমরা কথা বলতে পার, যাতে অনৈতিক কাজে বিরত থাকে। আর আমি? প্রয়োজনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকতে পারি, কিন্তু তার পিতা-মাতা ও সমাজকে বিধান মানার দায়িত্ব নিতে হবে। সে খুবিই ভাল, নিখুঁত, সে হাটে যেন স্বর্গে থাকে। ওকে বিরক্ত করোনা, খেয়াল রেখো যেন কেউ বিরক্ত না করে।

‘সোনা’ যে ‘সপ্না’র ছোট বোন তা লোকটার জানা ছিল না। কোন নড়াচড়া নেই, কোন উচ্ছাস নেই, কান্নার জলও নেই, স্থির দুটি চোখ তার চোখে অাটকে যায়, মেয়েটি শক্ত একটা টিউবয়েলে জল তুলছিল, শক্ত করে হাতল ধরা কিন্তু এখন চাপ দিচ্ছে না, সে থেমে গেছে যেন শ্বাস বন্ধ, লোকটি তার দিকে তাকাতেই মেয়েটি বড় বড় চোখে পুরো মুখমণ্ডল ঘুরিয়ে দেয় লোকটির দিকে। লোকটি লজ্জাপেয়ে মাথা নিচু করে হাটতে শুরু করে। মুহূর্তে কলচাপার শব্ধ, সে ধীরে ধীরে হাটছিল। পিছন ফিরে দেখে, ছোট কলস নিয়ে হেটে অাসছে অার বড় বড় চোখে তার দিকে তাকিয়ে অাছে। লোকটি অাসলে মোবাইলফোনে কথা বলছিল। মসজিদের কাছে এসে কথা বন্ধ করতেই সমজিদের টিউবয়েলে মেয়েটিকে দেখতে পায়। ধর্ম ত্যাগ করায় সে মসজিদে প্রবেশ করে না। সে বলতেছিল ‘কারা গোপন করেছিল, বিভ্রান্ত করেছে এবং অামার সম্পর্কে মিথ্যা বলেছে? – তোমরা মুসলমানরা! পাচ বছর হয়ে গেছে, সবাইকে শুরুতেই অামি বলেছি, অামি কে, কেন। অামি সময় নষ্ট করছি না, সময় নষ্ট করতে চাই না। অামি প্রথমেই বলেছি, অামি যেকোন সময়েই বিয়ে করতে রাজী, যদি পছন্দের একজন পাই। কিন্তু, মনেরেখ, সতীত্ব হারিয়েছে সেরকম কাউকে অামি বিয়ে করব না। যদি সতীত্ব থাকে, অামার থেকে ভাল হয় তবে অামি যেকোন সময় বিয়ে করতে রাজী এবং সে যে ধর্মেরই হোক না কেন অামি তার ধর্ম গ্রহণ করব। তোমরা কী ধর্ম শেখাচ্ছ, কী পালন কর, আর কী বাস্তবায়ন কর? যারা পাচ বছর পূর্বে সতী ছিল তারা অাইনত বিবাহযোগ্য ছিলনা, তারা এখন অাইনগত ভাবে বিবাহযোগ্য হয়েছে কিন্তু সতীত্ব নেই। তেমনটা কারা করেছে?- তোমরা মুসলমানরা! অামার সাথে ছলনা কর না। তোমরা সত্যিকার ধর্ম নিশ্চিত করতে ব্যর্থ। তোমরা তাদের সতীত্ব রক্ষায় ব্যর্থ। তোমরা অামাকে অপবাদ দিয়েছ, প্রতারণা করেছ, অধিকারে বাধা দিয়েছ অথচ নিজেদের সন্তানদের ইজ্জত রাখতে পারনি। তোমরা তাদের ছলনা, প্রতারণা, বাহুবল আর অর্থের দাপট হতে রক্ষা করতে পারনি- তোমরা তোমাদের ধর্মের বাস্তবায়নে ব্যর্থ। তোমরা ধর্ম শিক্ষার নামে ভিনদেশী ভাষা মুখস্থ করাটা সন্তানদের জন্য বাধ্যতামূলক করেছ, অথচ সততা নিশ্চিত করতে পারনি। অামাকে নাস্তিক বলে অপদস্থ করেছ, অামাকে অপবাদ দিয়েছ, কিন্তু তোমরা এটা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছো যে তোমাদের সন্তানরা সংযোম পালন করবে অথবা বৈধ উপায়ে বিবাহ করবে। এটা অনেক ভাল হত যদি তোমরা অামার ধর্ম গ্রহণ করতা। LIA(lawful Intelligent Aisle). মানুষ হিসাবে যেকোন ধর্মের যে কোন গোত্রে অামার বিবাহ করার অধিকার অাছে এবং তাদেরও অধিকার অাছে। অভিভাবকদের উচিত নয় সে অধিকারে বাধা দেয়া। ঘাম ঝরা ঠেকাতে পারো না। কিন্তু তোমরা বিয়ের পথে বাধা সৃস্টি করে পাপ করতে পার, কিন্তু বীজ রক্ষা করতে পারনা; অার পাপের বোঝা তোমাদের উপরেই যাচ্ছে- তোমরা তোমাদের নবীর মূখ কলঙ্কিত করছ, কারণ তোমরা তাকে পাপীদের নবী বানাচ্ছো। অামি এই পরিস্থিতির জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করি, যেহেতু ধর্ম পছন্দ করার মত চেতন শক্তি হবার অাগেই তা অামার উপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছিল।” লোকটি মোবাইল বন্ধ করে পিছন ফেরে, তখন মেয়েটি এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল।

গ্রীষ্মে যখন লোকটি ফাতেমাদের বাড়িতে চার মাসের মত কাটিয়েছিল, তখন এই টিউবয়েলে হাত-মুখ ধুতে অাসত। ফাতেমা সেই মেয়টা যাকে লোকটা স্বপ্নে দেখেছিল আর চোখের সামনে রেখেছিল সাত বছরের অধিক সময় ধরে।

* ও, সেই মেয়েটা সামনে অাসছে। লোকটা মুখ তুলতেই দেখে নিস্তব্ধ মুখমন্ডলে মেয়েটা কয়েক গজ সামনে। লোকটা আবার তাকায়, কিন্ত মেয়েটি অদৃশ্য হয়ে গেল। সে একটা গলির মধ্যে ঢুকে পরেছে, দু’পাশ্বেই বেড়া, সম্ভবত নিজের হাটার গতিটাও একেবারে কমিয়ে নিয়েছে। সে হাটছিল আর পিছন ফিরে দেখবার চেষ্টা করছে, ডান দিক থেকে, বা দিক থেকে অাবার ডান দিক থেকে। লোকটি গলির মাথা পার হচ্ছিল এবং প্রশ্ন করে ফেলে: তোমার নাম কি?
‘সোনা’
ঐ দিকে কোথায় যাচ্ছো?
‘ঘরে’
তোমরা এখানে থাকো না কি টুরিস্ট?
‘না, এটা অামাদের বাড়ি’

ঠিক দু’দিন পরে একটি দোকানের সমনে আসতেই দোকানদার সালাম জানায়, মেয়েটি মাঝে দাড়ানো ছিল, পিছন ফিরতেই দোকানদার বলে ‘সালাম ভাইর মে’।
অামি নাম জেনে ছিলাম, কিন্তু কে জানি না।
মেয়েটি উচ্ছ্বাসিত মুখে বলে ‘অামি ফোর ক্লাসে পড়ি’। সে হাত জাগায় আর বলে ‘ঐটা আমাদের ঘর, এইটা অামাদের স্কুল’। লোকটির মনে পরে এটা কলিমদের বাড়ির কাছের ঠিক সেই জায়গা যেখানে ৫ বছর অাগে স্বপ্না নামের একটি মেয়ের সাথে সে কথা বলেছিল।

একের প্রতি অপরের গভীর টান থাকা সত্বেও ফাতেমাদের বাড়ির লোকদের ইচ্ছেতে আর প্রতিবেশীদের কিছু বিরূপ অাচরণে লোকটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ফাতেমাদের ঘর ছেড়ে অালাদা কোন ঘর ভাড়া করবে। ‘সাগরেত’ নামের একজন পরিচিত মানুষ কথা প্রসঙ্গে বলে তার একটা ঘর অাছে ভাড়া দেবার মত। লোকটি ততক্ষনাৎ ভাড়া নেয় এবং চাবি নিয়ে রাখে। একটা সুন্দর বাড়ি, একই চালের নিচে উত্তর মুখী পাশাপাশি তিনটি ঘর আর দক্ষিণ মুখী তার বড় ঘরের সাথে একটি রুমসহ মোট চারটি ছোট ঘর ভাড়া দেয়। মাঝে একটা ছোট উঠোন। পার বাধানো একটা পুকুর, ফল গাছ, ফুলগাছ। লোকটি একরাত পার করে, সারিবদ্ধ ঘরগুলোর পশ্চিম পাশের ঘরে। পাশে যারা থাকেন তাদের চেহারা জানা ছিল না।

* ফাতেমা বাড়িতে একা ছিল। সন্তানদের রেখে মা কোথায় যেন গেছে। পথে তাকে দেখতে পায়, অাকুতি করে,‘বাড়ি আসেন না কেন? অাপনাকে অাজকেই অাসতে হবে, অামি মেন্দী রেখে দিয়েছি’। সে হাতের অাঙ্গুলগুলো দেখিয়ে বলে ‘অামি আর মেন্দী দিবো না, অাপনি না অাসা পর্যন্ত। বলেন অাজকে অাসবেন, ঠিক করে বলেন, আসবেন’। সে স্কুলের পথে হাটছিল আর পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলির উপর ভর দিয়ে কাধে কাধ মিলাতে লম্বা হচ্ছিল। লোকটি কয়েকদিন অাগে মেয়েটিকে বলেছিল, পুরানো রং শেষ না হওয়া পর্যন্ত নতুন মেহেদী দিবে কেন? সম্ভবত তার দাদী তাকে কথাটির কোন অর্থ বুঝায়। মহাসড়কে পৌছে, সে রাস্তায় লাথি মারতে থাকে আর তাদের বাড়ি যাবার বিষয়াটা নিশ্চিত করতে বলে। লোকটি অবশেষে সাড়া দেয়, ‘অাচ্ছা ঠিক অাছে। তোমার অাজ স্কুলে যেতে হবে না, চল এখনি তোমার বাড়ি যাই।’ তার চেহারায় অালোর ঝলকানি, হাটা বন্ধ করে হঠাৎ করে আর দেয়ালে পিঠ হেলিয়ে দেয়। লোকটি তার ধর্ম অনুভুতি ও নীতির স্বার্থে বড়জোর হাত বাড়ায় কিন্তু স্পর্শ করা, ধরা বা মাখামাখি এড়িয়ে চলে যতক্ষণ না কেউ তাকে অাগে স্পর্শ করে; সে এমন কোন দৃষ্টান্ত রাখেনা যাতে অন্যরা অপব্যবহারের জন্য তা অনুসরণ করে। লোকটি পিছনে তাকায়, মেয়েটি শরম পাচ্ছে এবং শেষমেশ সহপাঠীদের পিছু ধরে স্কুলে যেতে। লোকটি চায়ের দোকানে চা খেতে চলে যায়। কিছু বখাটে ছেলে তাকে ঘিরে ধরে এবং এক পর্যায় তাকে অাঘাত করতে শুরু করে। কিছু পরে সে তার স্বপ্নের মেয়েটির বাড়ি যায়। সে স্কুল থেকে দ্রুত বাড়ি ফেরে, যদিও আরো চার ঘন্টা পরে তার আসার কথা ছিল। তার বাবাও এরমধ্যে বাড়ি আসে। সে লোকটিকে বাসায় থাকতে বলে চলে যায়। লোকটি সারা রাত চেয়ারে বসে বসে পার করে। সম্ভবত সে নিদ্রাহীন, দাদা-দাদির সাথে উপরের ঘরে। কাছে অাসার নিশ্পাপ অনুভুতির পরিবর্তে সকাল থেকেই কেমন যেন একটা পক্ক অনুভুতি যা কয়েকদিন পর্যন্ত থাকে। সে লোকটির সামনে আসতে এড়িয়ে চলে, এবং উত্তর দিতে চায় না, তার কোন কাজিন বা অন্যকেহ খুব ভোরে উপরের ঘর থেকে বের হয়ে গিয়েছিল কিনা। মেন্দির প্যাকেটটা আর ভাঙ্গা হয়না।

এই মুহুর্তে লোকটা একেবারেই বোবা। গুন গুন অাওয়াজে ঘুম ভাঙ্গে, সুন্দর মেয়ে দু’টি জনালার কাছে দাড়ানো, একজনের বয়স ১৬, অন্যজন ১১ হবে হয়ত। কে বেশি সুন্দর, বেশি দৃষ্টি কাড়ে, বেশি হাঁসিখুশি? তাদের চেহারায় পার্থক্য অাছে কিন্তু, কিন্তু গুনে বিচক্ষণতা অার স্বর্গীয় অাবেদন। লোকটি একেবারে চুপ। সে তার নতুন ঘরে ঘুমাচ্ছিল। চোখ মেলেই মেয়ে দু’টিকে দেখতে পায়, অার জনতে চায়, তোমরা দু’জনে কি হও।
‘আমরা দু’জন বোন’
বিস্মিত! তোমাদের বাড়ি কোথায়?
‘অামরা পড়াশুনার সুবিধার জন্য পাশের ঘরে থাকি। প্রায় ১০০ গজ দূরে, পরের বাড়িটা অামাদের, কিন্তু অাব্বু-অাম্মু অার অামরা এখন অাপনার পাশের ঘরে থাকে।’
লোকটি বলে, অামি কখনো ভাবিনি যে তোমরা একজন অারেক জনের বোন।
দাড়িয়ে অাছো কেন? ভিতরে অাসো।
ছোট মেয়েটি মিশুক ভাঙ্গিতে হাসিহাসি কন্ঠে, ‘অাপনি কি এখন বাইরে বের হবেন?’ আর বড় মিশুক মেয়েটি জানালার পাশে মুখ অাড়াল করে।

কোথায়?

‘অামি বলি, আপনি কি অাজকে ঘর ছেড়ে যাবেন?’
না, অামি তো অনেকদিন থাকবো।
‘অাপনি কি বিরক্ত হবেন না। অামরা খুব দুষ্ট, হৈচৈ করি, সবসময় চিৎকার, নাচ-গান, হাসা-হাসি…..’
ঠিক অাছে। দেখি তোমরা কত বেশি পারো…..
‘কয়েকদিন থাকলেই বুঝবেন’।
বড়জন এবার বকবক শরু করে অার বকবকুম থমিয়ে দেয়।

ছোটজন ঠিকমত কর্কে অাঘাত করতে পারে না, কিন্তু বড়জন ভালই খেলতে পারে। সে এবং লোকটি ব্যাডমিন্টন খেলার ভালো সাথি হয়ে যায়, দু’জনের মধ্যে কোন নেট নেই, কর্কে অাঘাত করতে করতে কাছে চলে অাসে, ছোটজন আর তার বন্ধুরা হাততালি দেয়। ভাড়াটের একজন পান্নু মাঝির মেয়ে। সবগুলো পরিবারই বেশ ভালো, একটি ছাড়া। ঘরে বাইরে অানন্দোচ্ছাস। তার একটা ল্যাপটপ অাছে। সে খুলতে আর বন্ধ করতে জানে কিন্তু গান-বাজনা চালাতে!, সে লোকটির কাছে আসে অারো জানতে। তার মেয়ে বন্ধুদেরও নিয়ে অাসে। কলিমের বোন তাদের একজন। যদিও লোকটির সম্পর্কে তাদের কৌতূহল আছে, কিন্তু মেয়েরা, তাদের বাবা-মা এবং বাড়িআলা আর প্রতিবেশীরা বেশ ভাল, আন্তরিক আর সহযোগী। লোকটি স্থানীয় নয় কিন্তু তারা জানতো যে অাইল বা Lawful Intelligent Aisle নামে একটা ধর্মীয় পথের প্রদর্শক।

* সপ্নের সেই কাঙ্ক্ষিত উড়তি মেয়েটি পথে অপেক্ষা করছে। লোকটি টিউবয়েলে যাচ্ছিল পানি অানতে। তার স্বপ্নের মেয়েটির বরংবারের অাবদার ‘অামাকে দশ টাকা দেন’। লোকটিও একই ভাবে উত্তর দেয়, আর জানতে চায়, কেউ কি তোমাকে আমার কাছে অাসতে নিষেধ করেছে?
সে বলে, ‘আমি কখনো আপনার ঐ ঘরে যাবো না। আমি তিনবার আপনাকে খোঁজ করেছি। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছি যাতে এখানেই আপনাকে পাই।’
তুমি আগে বলনি কেন? তুমি ঐ দিন আমার সাথে যেতে পারতে, যখন ডেকেছিলাম। ঐ দিন অাকাশে রোদ ছিল অথচ তুমি বৃষ্টি নামিয়েছিলে। আমি তোমাকে আমার সাথে আসতে বলেছিলাম। তুমি আসনি, কিন্তু তুমি অন্য কোথাও গিয়েছিলে। আমি তোমাকে বলেছিলাম আমি শুধু তোমার জন্য, তবে আমি কখনোই মেনে নিবো না যদি তুমি অন্য কোথাও গিয়ে দুষ্টামি করো। যাহোক তুমি ঘরের চাবি রাখো আর তোমার আব্বু-আম্মুকে আসতে বলো, যখন মন চায় তখন তাদের বলে এসো। লোকটি হাসে আর বলে দশ টাকার কথা আর বলবা না। গতকাল তোমাকে একটা বড় নোট দিয়েছিলাম যাতে তুমি দশটাকার জন্য আমাকে আবার বিরক্ত না করো। আমি ভালোকরে জানি, তোমার দশটাকার কোন দরকারই নাই। টাকার উদ্দেশ্যে আমাকে সামনে পাবার প্রার্থনা করনা। মেয়েটি নিস্তেজ হয়েগেল, আর লোকটি সাথে সাথে বলে, তবে তুমি আমাকে দেখতে পাবার জন্য প্রার্থনা করতে পারো, টাকা পাবার জন্য নয়। এবং এটা জেনে রাখো যে আমাকে পাইতে অন্যের কাছে প্রার্থনা করতে হবে না, অামাকেই বলতে পারো, আমি তো তোমার কাছেই অাছি। আমি যদি চলে যাই, আর তুমি যদি অন্য কোথাও যাও, তবে অাল্লাহ ভাগ্যে কি রাখতে পারেন। লজ্জা পাওয়ার থেকে, কিছু গোপন করার থেকে বা খারাপ কোন কিছুর থেকে এটা অনেক ভালো যে তুমি অামাকে স্পষ্ট বলে সাহায্য করো যাতে আমি তোমাকে সাহায্য করতে পারি। অামার পকেট এখন খালি, এখন দেরী না করে স্কুলে যাও।

সাগরের গর্জন শোনা যাচ্ছে। লোকটি দুপুরের খাবার খেয়ে চা খেতে দোকানে যাচ্ছে, মেয়েটি স্কুল থেকে বাড়ি ফিরছে। সে রাস্তা পার হয়ে ঠিক মুখোমুখি দাড়িয়ে। ‘স্যার সিংগারা, প্লিজ কেনেন’। লোকটি পরীক্ষার কথা জানতে চায় আর বলে, ঘরে চল, ভাত খাবে। কিন্তু সে বারবার সিংগারা সিংগারা বলছে, ‘না স্যার, মা বকবে, সিঙগারা কেনো’।
তোমার মা বাড়ি ফিরেছে?
‘না’।
তাহলে?
‘লোকরা মায়ের কাছে বলে দিবে’।
বলাটা খারাপ কিছু না। যাহোক তোমাদের বাসায় দুপুরে রান্না করেছে কে?
‘কেউ করে নি। তাই অাপনাকে বলছি কেনেন’।
মিথ্যা বলোনা। অাচ্ছা আমার সাথে বাসায় চল অথবা চল রেষ্টুরেন্টে অামার সাথে খাবে।
‘না, স্যার অাপনি সিংগারা কেনেন’।
সে দরজা পর্যন্ত অাসে কিন্তু ভিতরে ঢুকে না। বলে, লজ্জা পায়। মসজিদের একজন নামাজী যেকিনা প্রাইমারী স্কুলে বাচ্চাদের পড়ায়, কাছেই বসা ছিলেন। সিংগারা হাতে দিতে বাড়ির দিকে হাটা শুরু করে। লোকটি চা খেয়ে ফেরবার সময় দেখে মেয়েটি অাবারো পথে দাড়িয়ে অাছে। মেয়েটি ভুলে যায়, কি যেন বলবার জন্য ঠিক করে রেখেছিলো। ‘স্যার, কি যেন, ধুত! অাপনি অামাদের বাসায় অাসেননা কেন? দশটাকা দেন।’
সে হেসে উঠে, তুমিকি ভুলে গেছো তোমাকে কি বলেছিলাম? তুমি অামাকে স্যার বল কেন? অামি তোমার শিক্ষক না।
‘তাহলে কি বলবো?’
স্যার বলতে পারো মান্যগণ্য করার জন্য। কিন্তু মনে রেখো, আমি তোমার শিক্ষক না। তুমি খুব খারাপ শিক্ষার্থী, অামার সন্দেহ তুমি পাস করতে ব্যর্থ হবে। যাহোক, তুমি কি জানো, অামি এই গ্রামে কেন থাকি? তোমার জন্য। তুমি অামার মালিক। কিন্তু কোথাও গিয়ে খারাপ কিছু করলে আমি কিন্তু পক্ষে থাকবনা। আমার অাশা তুমি ভালো থাকো আর আমাকে তোমার ইচ্ছায় যেমন ইচ্ছা তেমন চালাও। তুমি অামাকে মারতে পারো, পিটাতে পারো কিন্তু দশটাকার কথা বলবা না।

হতাশার দিনগুলো অানন্দের ভুবনে এলো। নির্ভেজাল হাসি, উত্তেজনা, ভালবাসার মত দ্বিধাহীন সজীবতা। তারা তাদের ফাইনাল পরীক্ষা শেষ করেছে এবং দিনগুলো উপভোগ করছে। ছোট মেয়েটি খুব সকালে কুয়াশার মধ্যে ঘুম থেকে উঠে আর সময় গুনতে শুরু করে কখন কিভাবে গল্পগুজব আর খেলাধুলা শুরু করবে। এবং বড়জন শুরু করে ল্যাপটপ নিয়ে। এলার্ম বাজার মতই গুঞ্জনে লোকটির ঘুম ভাঙ্গে। কিন্তু, কয়েকদিনের মধ্যেই বড়জনকে কলিমদের বাড়ি প্রাইভেট পড়তে যেতে বলে। আর কলিমের বোন লোকটির কাছে অাসতে শুরু করে। অাজ বাড়িতে কেউ নাই। বড়জন প্রাইভেট পড়তে গেছে। ওদের বাবা-মা অফিসে। লোকটি নিজের জন্য রান্না করছে। ছোটজন বিষন্ন! এসে হেলান দিয়ে দাড়ায়।
তোমার হাসি কোথায় গেল?
সে চুপ করে থাকে। সে তেমন ভাবেই দাড়িয়ে অাছে, যেমন করে কেউ আবেদন পত্র দিয়ে অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকে।
তোমার মন খারাপ কেন? কি হয়েছে?
সে চলে যাবার জন্য সোজা হয়ে দাড়ায়।
চলে যাচ্ছো কেন? কিছু বলবে?
একটু থামে আর বলে ‘আগামী কাল অামরা নানু বাড়ি যাবো।’
এটা তো ভাল কথা, তুমি বেড়াতে যাচ্ছো, কিন্তু তোমার মন খারাপ কেন?
সে কিছু না বলে হাটতে থাকে।
যেও না, দাড়াও। তুমি জানো কিভাবে নুডলস্ তৈরি করে?
‘না, স্বপ্না পারে….’
অাচ্ছা, তাহলে এখানে আসো আর শিখে নেও।
সে না থেমে, চলে যায়।

স্বপ্ন না খেয়ে থাকার পন করেছে। লোকটা অাজ তার কোন কথা শুনতে পাচ্ছে না। সোনা’ কয়েকদিন পরে নানু বাড়ি থেকে ফিরে অাসে। তারা কেউই লোকটির ঘরে অাসছে না। তারা লোকটিকে এড়িয়ে চলছে। লোকটি ঘর থেকে বের হতেই তারা উঠোন ছেড়ে নিজেদের ঘরে চলে যায়। বাতাসে কানাঘুষা চলছে, কিছু একটা ঘটেছে স্বপ্না যখন পড়তে গিয়েছিল। কেউ দরজা বন্ধ করেছিল আর প্রতিবেশীরা চিৎকার শুনেছিল। পরে কলিমের বাড়ির লোকরা দোষী ব্যক্তিকে মারধর করে। এবং তারপর থেকে স্বপ্না আর সেখানে যাচ্ছেনা। এখন ঘরের বাইরে যেতে তার নিষেধ রয়েছে, স্কুলে এবং পড়তে যাওয়াও বন্ধ। সে বাসায় একা। লোকটি তাকে ডাকে, কি ঘটেছিল জানার জন্য। মেয়েটি মন খুলে পুরো অাস্থা রেখে বলে। দু’জনের মধ্যে একটু দরদ সৃষ্টি হয়। সে তার অনশন ভাঙ্গে এবং দ্রুত অাবার স্বভাবী হাসিখুসিতে মেতে উঠে।
সে তার ল্যাপটপ নিয়ে ভিতরে অাসে, গান বাজছে…চুমো একেছি একটা…..। সে লোকটার পাশে বিছানায় বসে। অগোছালো অাবেদনময়ী দাতগুলো। কিন্তু তার হাসি ভ্রু কুটিতে পরিনত হয়, যখনই তার ছোটবোন তার পিছু নিয়ে উকি দেয়। তার ভঙ্গিমা বলছিল সে যেন চলে যায়। সে লোকটার পিসির সাথে গান বিনিময় করছে। লোকটা তার কাছে বাল্য বিয়ে সম্পর্কে তার দৃষ্টিভঙ্গি জানতে চায়।
তুমি কি বাল্য বিয়ের পক্ষে?
‘অবশ্যই না’।
একটা দীঘ শ্বাস নিয়ে লোকটা জিজ্ঞাস করে, তুমি কি অসততা পছন্দ কর?
‘অবশ্যই না’।
তুমি তো মুসলমান, তুমি কি তোমার ধর্মের অাচার অস্বীকার করো?
‘অবশ্যই না’।
তাহলে, তোমার ধর্মে তো গোপন সম্পর্ক হচ্ছে পাপের কাজ। তুমি কি যেকোন ব্যক্তির সাথে গোপন সম্পর্ক থেকে নিজেকে বিরত রাখতে পেরেছ?
সে কিছুটা সময় নিয়ে বলে, ‘অবশ্যই আমি এড়িয়ে চলতে পারি’।
তোমার কি সেরকম কোন পাপ নাই? তুমি কি প্রতিজ্ঞা বদ্ধ থাকতে পারবে, বিয়ে না করা পর্যন্ত, আর অাঠার বছরের আগে বিয়ে না করতে? অামি তোমার দৃষ্টিভঙ্গি জানার জন্য প্রশ্ন করলাম, তুমি উত্তর দিতে বাধ্য না। যদি মন চায়, তুমি অমার সাথে খোলামেলা বলতে পার।
‘অামি অন্য অনেক মেয়েদের মত না, আমি সততা নিয়ে কথা বলি’।
এটা কি বিশ্বাসযোগ্য? পুরুষের প্রতি তোমার অাকর্ষণ নাই? তুমি কি মে মানুষ না?
সে কিছু বলছে না কিন্তু তার শরীর গানের সাথে তাল মিলাচ্ছে যেন সে ভালো নৃত্যশিল্পী।
তোমার কি পছন্দের কেউ নেই যাকে তোমার বিয়ে করতে ইচ্ছে করে?
‘না’।
তুমি কি নাচ শিখো?
‘হ্যা, অামি স্কুলের অনুষ্ঠানে ড্যান্স করি’।
লোকটি ভাবে কিন্তু নিজেকে বুঝাতে পারে না, কিভাবে সম্ভব হতে পারে তা পরখ না করা, এবং সামনের দিনগুলো কিভাবে কাটাবে? অাসলেই কি নিষ্পাপ? নাকি অসততাসহ দ্বিগুণ পাপী?

একই স্থানে লোকটিকে অাবার অাক্রমণ করা হয়। পান্নু মাঝির ছেলে তাকে পিছন দিয়ে অাঘাত করে যখন লোকটি একজন কাউন্সিলরের সাথে কথা বলছিল। কয়েকজন দাগী লোক তাকে এখনি এই গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে বলে। লোকটি তার দৃষ্টিভঙ্গি জানায় আর বলে, আমাকে মারা উচিত নাকি পুরুষ্কার দেয়া উচিত? কে অাছে, যে দেশের অাইন মানে এবং ধর্ম মানে? সতীত্ব অাছে সেরকম একজনকে অামি বিয়ে করতে চাই। এটা কি পাপ?
কাউন্সিলর বলেন, ‘অবশ্যই না’।
মনে করুন, সামাজিক ভাবে বিয়ে না করে আমি কারো সাথে মিলিত হতে চাই না। কিন্তু বিয়ের জন্য একটা মেয়েকে অবশ্যই নূন্যতম অাঠার বছর হতে হয়। অাপনাদের কি অাঠার বছর বা তার বেশি বয়সের একটি মেয়েও অাছে যার সতীত্ব খোয়া যায়নি, অাপনারা ধার্মিক? যদি না থাকে তাহলে বলতে হয় অাপনারা সত্য ধর্ম পালনে ব্যর্থ। হয় আপনাদের ধর্ম ভুল অথবা অাপনারা ধর্ম পালনে ভুল। বৃক্ষ তো ফলে পরিচিতি পায়। কাজেই, অাপনারা অনৈতিক ভাবে অথবা অবৈধ ভাবে সতীত্ব হারানে নারীদের পিতা কিংবা ভাই, এভাবেই অাপনারা অাপনার নবীকে ব্যর্থদের নবীতে পরিণত করছেন।

কাউন্সিলর বলেন, ‘তাতে অাপনার কি সমস্যা?’
লোকটি বলে, ‘সবার অধিকার অাছে যেকোন সমাজে বিয়ে করার। অামি ভুক্তভোগী, কারন তারা অনৈতিক ভাবে, অবৈধ ভাবে সতীত্ব হারাচ্ছে আপনাদের ধর্মের অনুসারীদের দ্বারা। অাপনারা দোষীদের চিহ্নিত করে কিছু একটা সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। শিশুরা নিরাপত্তার জন্য কার কাছে যাবে? পান্নু মাঝির ছেলে রুবেল, হঠাৎ করে লোকটিকে মারতে শুরু করে, ‘তুই এখন এই গ্রাম ছেড়ে যাবি’। এই ছেলেটি কয়েকদিন অাগেও লোকটিকে ‘স্যার’ বলতো, যদিও সে তাদেরকে কোন স্কুলে বা প্রাইভেটে পড়াতনা। লোকটি কাউন্সিলরের দিকে তাকায়, সে হাত জাগিয়ে ছেলেটিকে নিবৃত করার চেষ্টা করে। পথচারীরা জড় হয়। লোকটি বলে, জোড় দেখাবেন না, অাপনাদের কোন অভিযোগ থাকলে লিখিত ভাবে জানান। সঠিক ধর্ম পালনে অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব হত। যারা সঠিকভাবে ধর্ম আর রাষ্ট্রের আইন মানে এবং অাপনাদের সচেতন করেছে, তাদের পুরুষ্কৃত করা উচিত। আমার প্রাপ্য অাপনাদের মাথায় পাপের বোঝা হয়ে থাকছে, যারা হেয় করেছেন। কিছু অপরাধী, ধর্ম ব্যবসায়ী ও কুৎসা রটনাকারী আমার বিয়ের পথে বাধা সৃষ্টি করছে, কিন্তু তারা দেহের চাহিদা বন্ধ করতে পারেনা। দায় মুক্তির জন্য অবশ্যই অামাকে প্রাপ্য দিতে হবে। আমাকে সমর্থন করা উচিত এই সমস্যা সমাধানের জন্য। এলাকা ছেড়ে যেতে অামার উপর জোড় খাটচ্ছেন কেন?
এটা একটা বাসষ্টান্ড। জড় হওয়া মানুষরা না, গোপন শত্রু ৭/৮জন সন্ত্রাসী অাঘাত করতে উদ্ধত হয়। উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তা নিরাপত্তা দেবার চেষ্টা না করে, সন্ত্রাসীদের কথায় কন্ঠ মিলায়।
অাপনি কি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অক্ষম?
‘হ্যা’।
এটা কি অপনার ব্যক্তিগত মত না কি পুলিশের মত?
‘পুলিশ অাপনাকে নিরাপত্তা দিবে না’।
আপনার অফিসকে জানান।
‘এটা আমার দায়িত্ব, অাপনি এখনি গ্রাম ছেড়ে যান’।
আমি এখানে ৫বছরের অধিক সময় যাবৎ থাকি। পুলিশ সবার জন্য, সব ধর্মের। যদি কারো অভিযোগ থাকে, মামলা করতে বলেন। কিন্তু, মনে রাখবেন যারা অামার উপর হামলা করছে তাদের বিরুদ্ধে আপনার ব্যবস্থা নেয়া উচিত। আপনি দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সক্ষম না হলে আমার পথ ছাড়ুন।
লোকটি ঘরে যাবার উদ্দেশ্যে হাটতে শুরু করে। মানুষগুলো বন্ধুসুলভ। কিছু দূর হাটার পরে, পুলিশটি কাছে এসে বলে, ‘আমি কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি। আপনাকে থানায় যেতে পরামর্শ দিয়েছে’।
লোকটি বলে, এখন না, এখন ঘরে যাব, তারপর ঘটনার জন্য থানায় ডাইরী করতে অাসছি।
লোকটি ঘরে অাসে। স্বপ্না পড়ছে। সোনা’ উঠনে।
পুলিশটি পিছনে পিছনে এসে বলে, ‘মানুষজন ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে, তারা হামলা করতে পারে, ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিতে পারে। অাপনাকে এখানে থাকতে দেয়া যাবে না। আপনার থানায় যাওয়া উচিত’।
এটা জনরোষ না, এটা কিছু গোপন শত্রুর(ধর্ম ব্যবসায়ী/রাজনৈতিক ব্যক্তিদের) ষড়যন্ত্র। দোষীদদের বিষয়ে অাপনার অাইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

মে দু’টোর সতেজ চেহারায় ভয়ের ছাপ।
লোকটি বলে, জেনে রাখুন, আমি সকল ধর্মের জন্য একটা সঠিক ধর্মীয় মাপকাঠির প্রণেতা এবং অামি থিওক্রেসি অনুসরণ করি। যাহোক, চলুন থানায় যাই।
গুটি কয়েক(দু’জন) কুৎসা রটোনাকারী আর সাংবাদিক তাদের সাথে। লোকটিকে নিরাপত্তা হেফাজতের নামে একরাত থানায় অাটকে রাখা হয়। পরেরদিন অাবার ফিরে অাসে। সেখানে মানুষ গুলো একই রকম বন্ধুসূলভ ছিল যেমনটা এখানে সাধারণ মানুষ সবাই বন্ধুসূলভ, সহযোগী এবং সহনশীল, গুটিকয় দুষ্কৃতকারী আর ইসলামিক টেরর ও স্টুপিড ছাড়া।

লোকটি ঘরে ফিরে এল, পোশাক পাল্টানোর প্রস্তুতি, পিছনে কেউ ঢুকেছে। ঢুকে দরজা চেপে দিচ্ছে। কোন শব্দ নেই, ঠান্ডা মেজাজে ৫ বছর অাগে যেমনটা ছিল। লোকটি হতভম্ব। কিন্তু নিরবতা ভেঙ্গে যায় যখনি একটা শিশুকে উঠান থেকে টেনে কেউ দরজা ঠেলে ঘরে ঢুকিয়ে দেয় – সম্ভবত পান্নু মাঝির মেয়ে। নিরবতা ভেঙ্গে যায়, আর তা মনকে অন্যত্র নিয়ে যায়, যেন শেষটা থামিয়ে রাখে। the icing on the cake awaits.

মূল লেখা: No more delay to change

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *