!!!!! জান বাঁচানি ফরজ !!!!!

ঈদের নামাজ পড়ছে সবাই । আমি ঈদগাহের পাশের রাস্তায় একটা চায়ের দোকানে বসে একটা সিগারেট এর ধোয়া গ্রহন করছি । চা খেতেও ইচ্ছা করছিল কিন্তু তা হয়ে ওঠেনি কারণ দোকানদার নামাজ পড়তে গেছে ঈদের নামাজ । দোকানদার অবশ্য অনেক আগে থেকে পরিচিত । তাই বলে গেছে – ভাইজান আপনে তো নামাজ পড়বেন না তাই একটু বসে সিগারেট খান । আমি একটু নামাজ পইড়া আসি ।
আমি বললাম – যাও পড়ে আস ।
সিগারেট একটা শেষ করে আর একটা ধরিয়েছি এমন সময় নামাজ শেষ হল । সাথে সাথে পিপড়ার মত দল বেধে আল্লার মুমিনবান্দারা হুরোহুরি শুরু করে দিল । দোকানদার এল বলল – ভাইজান চা দেই?
আমি বললাম – জলদি দাও ।
এমন সময় ছোট বেলার এক বন্ধুর সাথে দেখা । বন্ধু ঈদ মোবারক কইয়া জড়াইয়া ধরল । আমিও কইলাম -মোবারক ।
হঠাৎ কি মনে কইরা বন্ধু আমারে ছাইড়া দিয়া আমার পা থেকে মাথা পর্যন্ত খানিক চুলচেরা গবেষণা করল । তারপর বলল – তুই নামাজ পড়স নাই ।
আমি একটু অবাক হলাম নামাজ পড়সি কি না তা জানার জন্যে কি গবেষনা করতে হয় ! তারপর নিজেকে দেখে বুঝলাম কেন এই গবেষণা । কারণ টা হল আমি চে গুয়েভারের ছবি অঙ্কিত একটা টির্শাট পড়ে আছি । এমন পোশাকে নামাজ হয় না ।
আমি বললাম – না পড়ি নি । আর আমি যে নামাজ পড়ি না তা হয়ত তুমি ভুলে গেছ বন্ধু ।
বন্ধু যেন পুরোনো স্মৃতি ফিরে পেল এমন ভাব করে বলল – ও হ্যা আমি তো ভুলে গেছিলাম তুই তো বেটা একটা আস্ত কাফের । তোর সাথে কথা কওন ও পাপ ।
আমি কইলাম – তাই !
বন্ধু বলল – হ । তোগো লাইগা উত্তম ব্যবহার হইল জিহাদ ।
আমি কইলাম – হ তাই তো করতাছ । ধর্ষণ , চাপাতিবাজি , বোমা , বন্ধুকবাজি , ফতোয়া বাজি , আর কত কত উপায়ে তাই তো । উত্তম কর্ম ।
বন্ধু একটু রেগে গিয়ে – ফালতু কথা কইস না বেটা । তোর লগে কথা কওন ও হারাম । তোর লগে কতা কইলে আমিও কাফের হইয়া যামু । সর যা তোর কামে যা ।
আমি কইলাম – বন্ধু আমার সাথে কথা বলা পাপ বুঝলাম , কিন্তু কথা কইলে তুমিও কাফের হইয়া যাইবা এইডা কি হাছা ?
বন্ধু কইল- শত ভাগ সত্য । তোগো লগে কথা কইলে ঈমান দূর্বল হইয়া যাবে । কাফের হইয়া যামু । তাই তোগো বর্জন কইরা চলতে বলা হইছে ।
আমি হাইসা কইলাম – তাইলে বন্ধু তুমি চিন্তা কইরো না তুমি অলরেডি কাফের হইয়া গেছ ।
বন্ধু রাগ ধরে না রাখতে পেরে একটা গালি দিয়ে কইল – তোরে কইছে কেমনে ? আমিতো নিয়মত ধর্ম কর্ম করি ।
আমি কইলাম – বন্ধু আমি তো নাস্তেক কাফের , আমার সাথে কথা বললেও কাফের হইয়া যায় । আর এই আমি তো গত বছর‌ বাইক এক্সিডেন্ট তোমারে রক্ত দিছি । তোমার শরীরে আমার রক্ত তাইলে তুমিও আমার মত কাফের । কি ঠিক কি না ?
বন্ধু এইবার থতমত হইয়া কইল – আরে ধূর এই সময় তো আমার জান বাচানি নিয়া কথা । বলা আছে , জান বাচানি ফরজ ।
আমি আর হাসি ধরে রাখতে পারলাম না । চায়ের দোকানের বিল মিটিয়ে হাসতে হাসতে জপতে জপতে বাড়ি ফিরলাম ” জান বাঁচানি ফরজ ” ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *