সমকালীন রাজনীতি : ভাবনার বিকল্প

প্রায় প্রতিটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রেই দ্বীদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা চলমান। অসম্ভাব্যিভাবে এই দুই ধারার একটি উদার গণতান্ত্রীক এবং অপরটি রক্ষানশীল হয়ে থাকে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ গণতান্ত্রিক ভাবে ক্রীয়াশীল রাষ্ট্র সমূহের মতই বাংলাদেশও একই ধারা চলমান। জনগনের ভোটের ভিত্তিতে বাংলাদেশে এই প্রধান দুই দল হলো আওয়ামীলীগ ও বি.এন.পি।


প্রায় প্রতিটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রেই দ্বীদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা চলমান। অসম্ভাব্যিভাবে এই দুই ধারার একটি উদার গণতান্ত্রীক এবং অপরটি রক্ষানশীল হয়ে থাকে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ গণতান্ত্রিক ভাবে ক্রীয়াশীল রাষ্ট্র সমূহের মতই বাংলাদেশও একই ধারা চলমান। জনগনের ভোটের ভিত্তিতে বাংলাদেশে এই প্রধান দুই দল হলো আওয়ামীলীগ ও বি.এন.পি।

সূদীর্ঘকালের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, মুক্তিযুদ্ধসহ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্ব, উদার গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক দলীয় পরিবেশ ইত্যাদির কারণে এদেশে উদারপন্থি গণতন্ত্রকামীদের মূলদল আওয়ামীলীগ। একইভাবে উদারপন্থীদের বিপরীতে কট্টরপন্থী, রক্ষণশীল- অনুদার এবং মূলতঃ আওয়ামী বিরোধীদের প্রথম পছন্দ বিএনপি। গণতান্ত্রিক ভাবাদর্শ এবং প্রগতীশীল বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এদেশে ক্রিয়াশীল থাকলেও ভোটের রাজনীতিতে মুক্তিযুদ্ধপক্ষের মূল পছন্দ আওয়ামীলীগ। একইভাবে ধর্মের এবং আওয়ামী বিরোধীতার ভিত্তিতে নানান দল থাকলেও মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের ইমেজ সমৃদ্ধ বিএনপিই মূল নিয়ামক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়।

বর্তমানে বাংলাদেশের শাসন ক্ষমতায় আওয়ামীলীগ নেতৃত্বধীন মহাজোট। শুধুমাত্র ক্ষমতা কেন্দ্রিক এই জোট সৈরাচার এরশাদকে সাদা করলেও মুক্তিকামী আপামর জনসাধারণকে আহত করেছে নানান ডিজিটাল পদ্ধতিতে। অপদার্থ, অদক্ষ্য, অযোগ্যদের মাথার উপর বসিয়ে দিয়ে যে অপশাসনের সূচনা করা হয়েছিলো ২০০৯ সালে তা একখন অস্তাচলের পথে। নখদন্তহীন বিরোধীদল এবং মোসাহেবী মেরুদন্ডহীন জোট নেতাদের কল্যানে আওয়ামীলীগ অসহিঞ্জু হয়েছে যখন তখন। স্বাধীনতার ৪০ বছরে যত ইস্যু হয়নি বিগত ৪ (চার) বছরে তা হওয়া সত্বে কার্যত বিরোধীতার সম্মুক্ষিন না হলেও যত্র তত্র ফ্রন্ট খুলে অসম যুদ্ধ চালিয়ে সমাজের অধিকাংশ স্তরের মানুষকে বিপদগ্রস্থ করে মেয়াদের অধিকাংশ সময় পার করলেও শেষ সময়ে এসে দলটি কার্যত কঠিন এক সময়ের ভিতর দিয়ে যাচ্ছে। এর কারণ শুধুমাত্র যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে চলমান পক্রিয়া। কিন্তু পরিতাপের বিষয় এই অবস্থাও কিন্তু ক্ষমতাসীনদের কর্তৃক সৃষ্ট।

নির্বাচনী ঈশতেহারে যুদ্ধাপরাধের বিচার বিষয়টি অন্তভূক্ত থাকলেও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শতভাগ আন্তরিকতা, সদিচ্ছা ও পরিকল্পনা নিয়ে এই প্রক্রিয়াটি শুরু করা হয়নি। অদক্ষ অযোগ্য ব্যক্তিদের দিয়ে মানব ইতিহাসের জঘন্যতম অপরাধের তদন্তানুষ্ঠান করানো, অযথা সময় ক্ষেপন, আইনী কাঠামো-প্রায়োগিক দূর্বলতা অনুধাবন না করা, সমর্থক শুভানুদ্যয়ীদের কোনরূপ অনুরোধ উপদেশ তোয়াক্কা না করা, দূর্বন প্রসিকিউশনে টিম গঠন করা, সরকার দলীয় মন্ত্রী এমপিদের বিষয়টি নিয়ে হাস্যরস অপরাধের গভীরভাবে উপলদ্ধি করানোর পরিবর্ততে বিমুখ করেছে অব্যাহত ভাবে।

ইচ্ছা বা অনিচ্ছাকৃত এই তালপাকানো হলেও একথাও সত্য ইতিহাসের জঘন্য এই অপরাধের বিচার শুধুমাত্র আওয়ামীলীগই শুরু করেছে যা এখনো অব্যাহত আছে এবং একথাও সত্য এই বিচার কার্য্য সুসম্পন্ন করতে হলে শাসনক্ষমতার আওয়ামীলীগ থাকার কোন বিকল্প আমাদের সামনে নেই। সম্ভাব্য ক্ষমতাগামী অপর দল বিএনপি বিচার বিরোধীতাকারীদের সাথেই জোটবদ্ধ আছেন। সে জোট ভাঙ্গলে বিএনপি কে যোগ্যতম বিকল্প হিসেবে বেছে নেবার যে সুযোগ ছিলো বর্তমানে তার কতটুকু অবশিষ্ট আছে তা অনুধাবন করতে কারোই কষ্ট হবার কথা নয়। বিএনপি যুদ্ধাপরাধীদের সাথে জোটবদ্ধ থাকায় বিচার প্রার্থী জনগনের সামনে আওয়ামীলীগ ছাড়া আর কোন বিকল্পই রইল না। অর্থাৎ হাজারো দোষে দুষ্ট আওয়ামীলীগই বিচারপ্রার্থী এই অংশের অনিচ্ছাকৃত একমাত্র পছন্দ হয়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে অন্য কোন বিকল্প ভাবনার সুযোগহীনতা অপরাজনীতিকে উৎসাহিত করবে চরমভাবে একথা যেমন সত্য ঠিক তেমনি এই অংশের ক্ষমতা হারানো প্রতিক্রিয়াশীলদের ক্ষমতায়িত করার সাথে সাথে বিচারহীনতার সংস্কৃতির পূণর্জীবন ঘটবে। হায়েনাদের ঐক্যবদ্ধ একমুখী আক্রমনে কোনমতে জীবন বাচালেও শেকড় উপড়ে ফেলা হবে উদারীকরণের। ধর্মান্ধতার কালো থাবা মুক্তচিন্তাকে র্টুটি চেপে ধরবে পাকিস্তান আফগানিস্তান, ইরান বা মিশরের প্রেতাতœা হয়ে।

কাঙ্খিত কক্ষপথে না চলার হেতুত এদেশ অন্ধ হয়েছে অনেক ভাবে। এদেশের আলো হওয়ায় বেড়ে উঠা জারজেরা প্রকাশ্যে গৃহযুদ্ধের হুমকী দিলেও প্রগতিশীলদের অনৈক্য এই অংশের হেফাজত করে। শাসনক্ষমতায় আওয়ামীলীগ সুশাসক না হলেও এই দলটির কোন সত্যিকার বিকল্প গড়ে না উঠা পর্যন্ত এই দলকেই অব্যাহত ভাবে সমর্থন দিতে হবে ভবিষ্যত প্রজান্মের জন্য। আওয়ামীলীগের উপর রাগ করে জামাত শিবিরকে ক্ষমতার বসানো কতোটা যুক্তিযুক্ত আপন মনে একটু ভাবুন মহোদয়গণ।

আওয়ামী অপশাসনের যাবতীয় হিসাব নিকাশ কড়ায় গন্ডায় বুঝে নেওয়ার জন্য অর্থ সামাজিক রাজনৈতিক অবস্থা চলমান থাকা অত্যাবশ্যকীয়। ভারতীয় লাভ লোকসান চিন্তা না করে ৭১ এ মুক্তিকামী জনগন স্বাধীনতা চেয়েছে একমনে যার ধারাবাহিকতায় ভারতীয় লাভের বিপরীতে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। তিব্বত, কাশ্মির-ফিলিস্তিন যার জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষায় আছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে আওয়ামী লাভ লোকসান বিচার করার চেয়ে উদার পন্থীদের ক্ষমতায় থাকাটাকে জোর দিতে হবে ঐক্যবদ্ধ ভাবে। এর ধারাবাহিকতায় বিচারহীনতা দূর হবে, দূরে হবে আওয়ামী সুবিধাবাদীরা। রাগ করে শেখ হাসিনাকে চেয়ার থেকে সরালে সে চেয়ারে খালেদা জিয়া গোলাম আজম সাইদীকে নিয়েই বসবেন।

তাই নিজেদের ভিতর ঐক্য জোরদার করে তা দিয়ে প্রতিক্রয়াশীল বিরোধীশক্তিকে পরাজিত করতে হবে। নিজেরা নিজেরা লড়বার সময় অনেক পাওয়া যাবে। আগে অস্তিত্ব রক্ষা করতে হবে, রক্ষা করতে হবে মুক্তচিন্তার বাংলাদেশকে কারণ কোন ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর অবাদ বিচরণ; সন্ত্রাস বা তান্ডবের অভয়ারন্য হবার জন্য জন্ম হয়নি এদেশের।

৪ thoughts on “সমকালীন রাজনীতি : ভাবনার বিকল্প

  1. ভালো লেখা । তবে
    সূদীর্ঘকালের

    ভালো লেখা । তবে

    সূদীর্ঘকালের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, মুক্তিযুদ্ধসহ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্ব, উদার গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক দলীয় পরিবেশ ইত্যাদির কারণে এদেশে উদারপন্থি গণতন্ত্রকামীদের মূলদল আওয়ামীলীগ।

    উদার গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক দলীয় পরিবেশ কি বর্তমানে আছে ?
    যুক্তির খাতিরে মেনে নিলেও আসলে সত্যিকারের বিকল্প আঃ লীগ না । মেহনতি মানুষের মিলিত স্বপ্নের দল আঃ লীগ না । আপনার আঃ লীগ প্রীতির কারণে বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে গেছেন । আমারাও চাই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার তবে সেই মূলা ঝুলিয়ে দেশের বারোটা বাজানো দেখতে চাই না ।
    আমার বক্তব্য স্পষ্ট, প্রকৃত বাম বিকল্প পারে দেশের মানুষের মুক্তি আনতে । আজ হলোনা বলে কাল হবেনা এরকম ভাবার কোন কারণ নাই ।

  2. মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
    এই

    মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
    এই পারা আপনার এবং আপনাদের জন্য…
    ‘আওয়ামী অপশাসনের যাবতীয় হিসাব নিকাশ কড়ায় গন্ডায় বুঝে নেওয়ার জন্য অর্থ সামাজিক রাজনৈতিক অবস্থা চলমান থাকা অত্যাবশ্যকীয়। ভারতীয় লাভ লোকসান চিন্তা না করে ৭১ এ মুক্তিকামী জনগন স্বাধীনতা চেয়েছে একমনে যার ধারাবাহিকতায় ভারতীয় লাভের বিপরীতে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। তিব্বত, কাশ্মির-ফিলিস্তিন যার জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষায় আছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে আওয়ামী লাভ লোকসান বিচার করার চেয়ে উদার পন্থীদের ক্ষমতায় থাকাটাকে জোর দিতে হবে ঐক্যবদ্ধ ভাবে। এর ধারাবাহিকতায় বিচারহীনতা দূর হবে, দূরে হবে আওয়ামী সুবিধাবাদীরা। রাগ করে শেখ হাসিনাকে চেয়ার থেকে সরালে সে চেয়ারে খালেদা জিয়া গোলাম আজম সাইদীকে নিয়েই বসবেন। ‘

Leave a Reply to ব্রহ্ম পুত্র Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *