কথিত ইসলামী পন্ডিতরাই সারাক্ষন প্রমান করে যাচ্ছে মুহাম্মদ হলো ভন্ড নবী

মুসলমানরা যদি একটু ঠান্ডা মাথায় যৌক্তিকভাবে চিন্তা করত, তাহলে বুঝতে পারত , তাদের কথিত ইসলামী পন্ডিতরাই আসলে ইসলাম যে একটা ভূয়া ধর্ম সেটাই প্রবল ভাবে প্রমান করে যাচ্ছে প্রতি নিয়ত। তারা যে একবার তৌরাতে , একবার ইঞ্জিলে , একবার হিন্দুদের ভবিষ্য পুরানে , একবার কল্কি পুরানে মুহাম্মদের নাম আবিস্কার করছে, তারা কি একবারও ভেবে দেখেছে যে , এতে করে চুড়ান্ত ও যৌক্তিকভাবেই মুহাম্মদ একজন প্রকৃতই ভন্ড ও প্রতারক হিসাবে প্রমানিত হচ্ছে ?

মুসলমানরা যদি একটু ঠান্ডা মাথায় যৌক্তিকভাবে চিন্তা করত, তাহলে বুঝতে পারত , তাদের কথিত ইসলামী পন্ডিতরাই আসলে ইসলাম যে একটা ভূয়া ধর্ম সেটাই প্রবল ভাবে প্রমান করে যাচ্ছে প্রতি নিয়ত। তারা যে একবার তৌরাতে , একবার ইঞ্জিলে , একবার হিন্দুদের ভবিষ্য পুরানে , একবার কল্কি পুরানে মুহাম্মদের নাম আবিস্কার করছে, তারা কি একবারও ভেবে দেখেছে যে , এতে করে মুহাম্মদ একজন প্রকৃতই ভন্ড ও প্রতারক হিসাবে প্রমানিত হচ্ছে ?

কথিত ইসলামী পন্ডিতরা দাবী করছে হিন্দুদের ভবিষ্য পুরানে যে কথিত ত্রিপুরাসুর , সেই পুনর্জন্ম লাভ করে যে পুরুষে পরিনত হয়েছে সেই হলো মুহাম্মদ। দেখুন , অসুর কিন্তু সর্বদাই নেতিবাচক অর্থে ব্যবহৃত হয়। ভবিষ্য পুরানে পরিস্কার ভাবে বর্ণিত আছে , সেই ত্রিপুরাসুর একটা পৈশাচিক ধর্ম প্রবর্তন করেছে। পৈশাচিক ধর্ম যে খুবই খারাপ ও বর্বর ধর্ম তা তার নাম থেকেই বোঝা যাচ্ছে। তার মানে মুহাম্মদ প্রবর্তিত ইসলাম একটা পৈশাচিক ধর্ম আর সেটাই ইসলামী পন্তিতরা প্রকারান্তরে স্বীকার করছে ও প্রমান করে চলেছে প্রানপনে।

এবার আসুন , সেই একই কথিত ইসলামী পন্ডিতরা আবার দাবী করছে হিন্দুদের কল্কি পুরানের কল্কি হলো মুহাম্মদ। এবার মজাটা দেখুন। ভবিষ্য পুরানের ত্রিপুরাসুর এবং কল্কি তো এক ব্যাক্তি না। তারা দুইজন ভিন্ন ব্যাক্তি আর তাদের ক্রিয়া কলাপ সব কিছুই ভিন্ন। কল্কি হলো হিন্দুদের ঈশ্বরের অবতার। কল্কি অবতারের কাজ হলো দুনিয়া যখন অধর্মে ভরে যাবে , তখন সে অবতীর্ন হয়ে অধর্মকে ধ্বংস করে যারা ধার্মিক তাদেরকে রক্ষা করবে। যেখানে ত্রিপুরাসুর রূপী পুরুষের কাজ হলো অধর্ম প্রতিষ্ঠা করা , সেখানে কল্কি অবতারের কাজ হলো সেই অধর্মকে ধ্বংস করা। তারা দুই ব্যাক্তিত্ব , এবং তাদের কাজও বিপরীত। সেভাবেই কল্কি পুরানে লেখা। আর সেটা আজকে লেখা না , হাজার বছর আগেই লেখা। যখন ইসলামেরই পত্তন ঘটেনি। এই যদি হয় বাস্তব ঘটনা , তাহলে মুহাম্মদ একই সাথে কিভাবে সেই দুই পুরুষ ত্রিপুরাসুর ও কল্কি হয় ?

এবার আসুন , তৌরাত কিতাবে কথিত মুহাম্মদ সম্পর্কে। তৌরাত কিতাবের দ্বিতীয় বিবরনীতে ঈশ্বর মূসাকে বলছে –

দ্বিতীয় বিবরনী-১৮:১৫ প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের জন্য একজন ভাববাদী পাঠাবেন| তোমাদের নিজের লোকদের মধ্য থেকেই এই ভাববাদী আসবে| সে আমারই মতো হবে| তোমরা অবশ্যই এই ভাববাদীর কথা শুনবে|
দ্বিতীয় বিবরনী-১৮:১৮ আমি তাদের কাছে তোমার মতোই একজন ভাববাদী পাঠাব| এই ভাববাদী তাদের লোকদের মধ্যেই একজন হবে| সে যে কথা অবশ্যই বলবে সেটা আমি তাকে বলে দেব| আমি যা আদেশ করি তার সমস্ত কিছু সে লোকদের বলবে|

তার লোকদের মধ্য থেকে একজন নবী বানাবে। মূসার লোকরা হলো বনি ইসরাইল বা ইহুদি। এরাই হলো মূসার উম্মত এবং এরা সবাই যখন মিশর থেকে সাগর পার হয়ে সিনাই অঞ্চলে একত্রিত হয় , তখনই ঈশ্বর মূসাকে এই কথা বলে। তার মানে ইহুদিদের থেকে সেই নবী আসবে। মুহাম্মদ কি ইহুদি বংশে জন্মেছিল ? না জন্মে নাই। ঠিক এই কারনেই ইহুদি ও খৃষ্টানরা মুহাম্মদকে কোনভাবেই নবী মানে না, মানতে পারে না । বরং তৌরাতে কথিত সেই নবীর সম্পর্কে বাকী যেসব কথা বলা হয়েছে , প্রেক্ষাপট সহ সেসব বিচার করলে মুহাম্মদ হবে ১০০% ভন্ড নবী। অথচ কথিত ইসলামী পন্ডিতরা তাকেই বানাচ্ছে মুহাম্মদ। তার মানে তারা মুহাম্মদকে ভন্ড নবী বানাচ্ছে।

এবার আসা যাক ইঞ্জিল কিতাবে। ইঞ্জিল কিতাবে যোহনের কিতাবে বলা হয়েছে যীশু গমনের পর ঈশ্বরেরই এক রূপ পবিত্র আত্মা সকল মানুষের হৃদয়ে বিরাজ করে সবাইকে দিক নির্দেশনা দেবে। এটা কোন ভাবেই কোন রক্ত মাংশের মানুষ না। সেটা পরিস্কার বোঝা যাচ্ছে নিচের বাক্যে —

যোহন- ১৪: ১৬ আমি পিতার কাছে চাইব, আর তিনি তোমাদের আর একজন সাহায্যকারীদেবেন, য়েন তিনি চিরকাল তোমাদের সঙ্গে থাকেন।
১৭ তিনি সত্যের আত্মা,যাঁকে এই জগত সংসার মেনে নিতে পারে না, কারণ জগত তাঁকে দেখে না বা তাঁকে জানে না। তোমরা তাঁকে জান, কারণ তিনি তোমাদের সঙ্গে সঙ্গেই থাকেন, আর তিনি তোমাদের মধ্যেই থাকবেন।

উক্ত বাক্যগুলো ভাল করে মনযোগ দিয়ে পড়লে বোঝাচ্ছে , এখানে যীশু মুলত: সেই পবিত্র আত্মা বলতে তার নিজকেই বুঝাচ্ছেন। কারন তিনি বলছেন – জগত তাকে চেনে না, কিন্তু তোমরা তাকে চেন , অর্থাৎ তিনি তো তখন তার অনুসারীদের সাথেই ছিলেন , তাই তারা তাকে চেনে। এর দ্বারা যীশু বলছেন , মানব রূপী যীশু আমি জগত ছেড়ে চলে যাচ্ছি , কিন্তু আমি আবারও তোমাদের কাছে ফিরে আসব পবিত্র আত্মা হয়ে। তোমাদের সাথে অবস্থান করব চিরকাল। এর দ্বারা তিনি এটাই বুঝাচ্ছেন যে , ঈশ্বর পিতা , যীশু ও পবিত্র আত্মা এরা পৃথক কেউ নয় , এরা একই পরম ঈশ্বরের তিনটা রূপ। এখন সেই পবিত্র আত্মা যদি মুহাম্মদ হয় , তাহলে ঘটনা কি দাড়াল ? মুহাম্মদ কি পবিত্র আত্মা হয়ে সবার সাথে আছে ? কোন মুসলমান সেটা বিশ্বাস করে ? ইসলামের বিধান অনুযায়ী , মুহাম্মদ এখন মদিনায় কবরে শুয়ে আছে , শেষ বিচারের দিন সে পুনরায় জীবিত হবে , তার সকল উম্মতের সাথে এমন কি তারও বিচার করা হবে। কোরান ও হাদিসে বর্ণিত আছে , মুহাম্মদ নিজেও আসলে জানে না সেই শেষ বিচারে তার কপালে কি আছে। বিশ্বাস হচ্ছে না? তাহলে দেখুন –

সুরা আহকাফ- ৪৬:৯:বলুন, আমি তো কোন নতুন রসূল নই। আমি জানি না, আমার ও তোমাদের সাথে কি ব্যবহার করা হবে। আমি কেবল তারই অনুসরণ করি, যা আমার প্রতি ওহী করা হয়। আমি স্পষ্ট সতর্ক কারী বৈ নই।

এবার আমরা হিন্দুদের ভবিষ্য পুরান , কল্কি পুরান ও বাইবেলের এসব সমন্বিত করি। ভবিষ্য পুরানের কথিত ত্রিপুরাসুর রূপী মুহাম্মদ কি ইহুদি বা বনী ইসরাইল বা আরও ব্যপক অর্থে ইব্রাহিমের বংশধর ? কল্কি অবতারও কি ইব্রাহিমের বংশধর ? তাহলে গোটা বিষয়টা কি দাড়াল ? তা ছাড়া গসপেলের সেই পবিত্র আত্মার সাথে এবার কল্কি পুরান , ত্রিপুরাসুর এবং তৌরাতের কথিত নবীকে কিভাবে সমন্বিত করবেন ? কিভাবেই তারা সবাই একই সাথে মুহাম্মদ হবে ?

সবচাইতে বিস্ময়কর যে ঘটনাটা এইসব কথিত ইসলামী পন্ডিতরা করছে তা হলো – তারা প্রকারান্তরে অন্য সব ধর্মকেই সত্য হিসাবে স্বীকার করে নিচ্ছে , কারন সেইসব ধর্মের কিতাবকে তারা দলিল হিসাবে স্বীকার করছে , কিন্তু সেইসব ধর্মের দায় নেই মুহাম্মদ বা কোরান বা ইসলামকে স্বীকার করার। অর্থাৎ অন্য ধর্মগুলো সত্য হোক বা অসত্য হোক, তাদের গ্রন্থের ভিত্তিতে মুহাম্মদ একজন শয়তান বা পিশাচ বা ভূয়া নবী- সেটাই কথিত ইসলামী পন্তিতরা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রমান করে চলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *