এসব নাস্তিকতা-টতা আর কদিন ? রক্তের জোর কমলেই তো কেল্লা ফতে !

আমার এক বিজ্ঞ আস্তিক যুক্তিবাদী বন্ধু , নাম বলব না । তিনি লেখায় এবং কথায় যথেষ্ট বিজ্ঞ । বিভিন্ন মহলে তার ব্যাপক নাম আছে । তার ধর্ম গ্রন্থে তিনি বিজ্ঞানেরও বিজ্ঞান দেখতে পান । এক সন্ধায় এলাকার চায়ের দোকানে চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে আমাকে হঠাৎ বলে বসলেন – ‘রক্তের জোর থাকলে সব কিছুকে নাকচ করার দুঃসাহস আসে । রক্তের জোর কমলেই দুঃসাহসের জায়গায় ভাটা পড়ে । আগমন ঘটে ভীতির । আর তখনই নাকি আত্মা, পরমাত্মা ঈশ্বরের অস্তিত অনুধাবন করা যায় ‘ ।

এই একই সুরের কথা বহু পন্ডিত ব্যক্তির মুখে শুনি – এখন রক্তের জোর বেশি তাই ঈশ্বর মানেন না । রক্তের জোর কমলেই জোর কমলেই দেখতে পাবেন ! কত নাস্তিক দেখলাম ! বুড়ো বয়সে ঠিকই আস্তিক হয়েছে !

হতেই পারে , এমন ঘটনা ঘটনা বার বার ঘটতেই পারে । কিন্তু তাতে আল্লা ভগবান গড এদের অস্তিত তো আদৌ প্রমানিত হয় না । বরং একথাই প্রামণ হয় যে , বার্ধক্যের দূর্বলতায় , মৃত্যুর ভয়ের ফলেই আসে ঈশ্বর জাতীয় কল্পনা । অর্থাৎ ঈশ্বর শুধুই ভয় জনিত কাল্পনা ।

আবার বিপরীত ও তো দেখি , ঈশ্বরে বিশ্বাসী কতজন মস্ত ধর্মিক হয়েও , জীবনের হিংসভাগ সময় ধর্মের ছায়া তলে কাটিয়েও পরবর্তীতে নাস্তিক হয়েছে । এক্ষেত্রে কি যুক্তি দেবেন ? এরা কি খামখেয়ালি পনা করে নাস্তিক হয়েছে ?

না এরা কেউ শুধু শুধু নাস্তিকতার তোকমা গায়ে জড়ায় নাই । নাস্তিকতা কোন অন্ধবিশ্বাস নয় , নয় কোন ধর্মীয় অলীক প্রথার মত গত বাধা প্রথার সমষ্টি । তারা নাস্তিকদের লেখা পড়েছে , বিজ্ঞানের যৌক্তিক প্রশ্ন গুলো পড়েছে , বুঝেছে , ভেবেছে , বিশ্লেষণ করেছে আর নতুন করে ধর্মের মাঝে তার উত্তর তন্ন তন্ন করে খুজেছে । যতই গভীরে গেছে ততই চোখে পড়েছে ভন্ডামি আর ধোকাবাজীতে ভরপুর ব্যবসা আর স্বার্থ । তারপর আর কি হয়ে গেছে নাস্তিক । বেছে নিয়েছে যুক্তিবাদ ও মানবতাবাদের পথ ।

আস্তিকদের উদ্দেশ্যে তাই উচ্চ সরে বলতে ইচ্ছে হয় – ” এই সব আস্তিকদের জোর আর কত দিন ? চেতনায় যুক্তির ছোয়া লাগলেই তো খেল খতম ” ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *