শব্দব্যাবসা

বাংলাদেশ ব্যবসার দেশ এবং এ দেশে সকলেই ব্যবসায়ী। বাংলাদেশে যে সবকিছু নিয়ে ব্যবসা হয় তা নতুন কিছু না। কিন্তু নতুন যে ব্যাপারটা লক্ষ্য করলাম তা হল বাংলাদেশে সব ব্যবসার মূলে কাজ করে শব্দব্যবসা। ধর্ম, রাজনীতি, অর্থনীতি বা যে কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা, সমালোচনা, সভা, বিক্ষোভ, আন্দোলন বা ব্যবসা করার ক্ষেত্রে আমরা যৌক্তিক কারণ হিসেবে ‘গণতন্ত্র’, ‘স্বাধীনতা’, ‘অধিকার’, ‘মুক্তচিন্তা’ ও অন্যান্য শব্দ দেখিয়ে থাকি। কিন্তু এসব কারণ দর্শাতে গিয়ে যে এ শব্দগুলোকে নিয়েই ব্যবসা শুরু করে দেই তা আর লক্ষ্য করা হয় না।

বাংলাদেশ ব্যবসার দেশ এবং এ দেশে সকলেই ব্যবসায়ী। বাংলাদেশে যে সবকিছু নিয়ে ব্যবসা হয় তা নতুন কিছু না। কিন্তু নতুন যে ব্যাপারটা লক্ষ্য করলাম তা হল বাংলাদেশে সব ব্যবসার মূলে কাজ করে শব্দব্যবসা। ধর্ম, রাজনীতি, অর্থনীতি বা যে কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা, সমালোচনা, সভা, বিক্ষোভ, আন্দোলন বা ব্যবসা করার ক্ষেত্রে আমরা যৌক্তিক কারণ হিসেবে ‘গণতন্ত্র’, ‘স্বাধীনতা’, ‘অধিকার’, ‘মুক্তচিন্তা’ ও অন্যান্য শব্দ দেখিয়ে থাকি। কিন্তু এসব কারণ দর্শাতে গিয়ে যে এ শব্দগুলোকে নিয়েই ব্যবসা শুরু করে দেই তা আর লক্ষ্য করা হয় না।
গণতন্ত্র বলতে আমরা জনগণের শাসন, জনগণের স্বাধীনতা, জনগণের উন্নয়ণের তন্ত্র বুঝি। কিন্তু গণতান্ত্রিক অধিকার বলে হেফাজতে ইসলাম যখন মতিঝিলের মত ব্যবসায়িক কেন্দ্রস্থলে সমাবেশ বসিয়ে অন্যান্য জনগণের অধিকার হরণ করে সেটা কি গণতন্ত্র? তাদের বই পোড়ানো, মসজিদে আগুনের কথা আর নাই তুললাম, এগুলো নিয়ে আগেও অনেক কথা হয়েছে। আবার আন্দোলনের ভাষা হিসেবে যে জ্বালাও পোড়াও করে আমজনতার ক্ষতি করা হয় সেটা কি গণতন্ত্র? না, তা গণতন্ত্র না। গণতন্ত্র মানে অবশ্যই জনগণের শাসন। জনগণের এক অংশের শাসন আর অন্য অংশের অধপতন তা গণতন্ত্র না। এক অংশ নিজের ইচ্ছাস্বাধীন কাজ করবে আর অন্য অংশ ক্ষতিগ্রস্থ হবে তা গণতন্ত্র না। এটা গণতন্ত্রের অপব্যবহার।
স্বাধীনতা’ শব্দটির ব্যবহারও প্রায় এমনই। ‘বাকস্বাধীনতা’ বলে আমরা অন্যের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করি, উস্কানি দেই বা গুজব রটাই। ‘সভা সমাবেশের স্বাধীনতা’ বলে ব্যস্ত নগরীর মাঝপথে বসে পরি। ‘চিন্তার স্বাধীনতা’ বলে বিকৃত-কুৎসিত চিন্তার সাথে যুক্ত হই। কিন্তু এগুলো যে অন্যের স্বাধীনতাকে খর্ব করে, অন্যের অসুবিধার সৃষ্টি করে সে কথা আমরা মনে রাখি না। এটা স্বাধীনতা নয়। বরং এটি স্বেচ্ছাচারীতা। স্বাধীনতা মানে একপক্ষের মুক্ত গতি নয় বরং প্রত্যেকের অবাধ বিচরণ।
অধিকার’ , মুক্তচিন্তা’ শব্দ দু’টির ক্ষেত্রেও যে একই রকম ঘটে সেটা নিশ্চয়ই আপনারা বুঝতে পারছেন। একই রকম উদাহরণ আর একই তাৎপর্য বলে ব্যাখ্যা করছি না। কিন্তু যে বিষয়টির প্রতি আলোকপাত করছিলাম তা হচ্ছে মৌলিক এ শব্দগুলোর অপব্যবহার। বিকৃত অর্থ করে এ শব্দগুলোকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করার প্রবণতা প্রত্যেকক্ষেত্রেই দেখা যায়। এমনকি এ ব্যাপারগুলো নিয়ে আমরা সচেতনও না। অনেকেই এখন এ শব্দগুলোর মূল অর্থ ভুলে অপপ্রচারে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। এরকমটা মোটেও কাম্য না। আমরা আশা করি মানুষ সত্যের প্রতি আগ্রহী হবে। মিথ্যার সাথে তাল মিলিয়ে অন্যায়ের পথে এগিয়ে যাবে না। ব্যক্তিগত মুনাফার লোভে দেশ নিয়ে ব্যবসা করবে না। বরং দেশের উন্নতির জন্য অন্যায় ব্যবসা বন্ধ করবে।

৪ thoughts on “শব্দব্যাবসা

  1. দেশে এখন সবচেয়ে বড় ও লাভজনক
    দেশে এখন সবচেয়ে বড় ও লাভজনক ব্যবসা হচ্ছে ধর্ম ব্যবসা। শুধু মুনাফা, লসের কোন বালাই নাই।

    1. ভুল বলেননি। তবে আমার মনে হয়
      ভুল বলেননি। তবে আমার মনে হয় আমরা ধর্ম সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা রাখলে এই ব্যবসার সুযোগ থাকবে না।

Leave a Reply to মাশিয়াত খান Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *