একটি চিঠি ও একজন মা।

(বৃদ্ধাশ্রম থেকে ছেলেকে লেখা মায়ের চিঠি।)

জানিস খোকা! যেদিন তোর জন্ম হল সেদিন অনেক ঝড় ছিল। তোর বাবা সাইকেলে চড়ে কাদামাটিতে আছাড় খেয়ে মিষ্টি কিনে এনেছিল। কি যে খুশি হয়েছিল লোকটা! তোর বড় চাচী তো কোনক্রমেই তোর বাবাকে আতুড় ঘরে ঢুকতে দেবে না। তোর বাবাও ছাড়বে না। অবশেষে তোর চাচীকে শাড়ি কিনে দিতে চেয়ে আতুর ঘরে ঢুকেছিল। তুই তো এতটুকুন ছিলি। ঘরে ঢুকেই তোর বাবার সেকি কান্না। আনন্দের কান্না। সাথে আমিও কেদেছিলাম। অনেকক্ষণ। এরপর আর কোনদিন তোর বাবাকে কাদতে দেখিনি।


(বৃদ্ধাশ্রম থেকে ছেলেকে লেখা মায়ের চিঠি।)

জানিস খোকা! যেদিন তোর জন্ম হল সেদিন অনেক ঝড় ছিল। তোর বাবা সাইকেলে চড়ে কাদামাটিতে আছাড় খেয়ে মিষ্টি কিনে এনেছিল। কি যে খুশি হয়েছিল লোকটা! তোর বড় চাচী তো কোনক্রমেই তোর বাবাকে আতুড় ঘরে ঢুকতে দেবে না। তোর বাবাও ছাড়বে না। অবশেষে তোর চাচীকে শাড়ি কিনে দিতে চেয়ে আতুর ঘরে ঢুকেছিল। তুই তো এতটুকুন ছিলি। ঘরে ঢুকেই তোর বাবার সেকি কান্না। আনন্দের কান্না। সাথে আমিও কেদেছিলাম। অনেকক্ষণ। এরপর আর কোনদিন তোর বাবাকে কাদতে দেখিনি।

তোর বাবা কি বলতো জানিস খোকা? বলতো আমরা যখন বুড়ো হবো; তোর এতোগুলো ছেলে মেয়ে থাকবে, ছাদে আমাদের একটা ঘর থাকবে, সেখানে পিচ্চিগুলোকে সাথে নিয়ে হুটোপুটি খাবে। আমি তখন খুব হাসতাম। বলতাম, তোর যেগুলো ছেলে হবে সেগুলো আমার দলে আর যতগুলো মেয়ে হবে তোর বাবার দলে। তোর বাবা বলতো তার টিম জিতবে আমি বলতাম আমার টিম জিতবে। আমরা যে কতগুলো গেম বানিয়ে রেখেছিলাম তুই যদি জানতে পারতি! এখন তোর ছেলে মেয়ে, ছাদের একটা ঘর, সব আছে। শুধু তোর বাবা আর আমি নেই।

ওই বাড়িতে নাকি আমাদের থাকার একটু জায়গা হয় না। বৌমা আর তুই চাকুরি করিস, আমাদের ঠিকঠাকমতো দেখাশোনা করতে পারিস না, দাদাভাই দিদাভাই দুইজন পড়াশোনা বাদ দিয়ে আমাদের সাথে সারাদিন থাকে, বাসাটায় জায়গা কম, কত যে অযুহাত দিলি তুই। তুই কি মনে করেছিলি আমরা বুঝতে পারি নাই? সব বুঝেছিলাম। আমি তো অনেক কেদেছি সেদিন। তোর বাবাও খুবই কষ্ট পেয়েছিল। তবুও কাউকে বুঝতে দেয়নি। আমাকে অনেক বুঝিয়েছিল। খোকা জানিস, ওই বাড়িটা বানাতে তোর বাবা কতো কষ্ট করেছিল? আমি কতো স্বপ্ন দেখতাম বাড়িটা নিয়ে? তুই তো জানবি না। অনেক ছোট ছিলি তুই।

খোকা! শেষপর্যন্ত আমি সব মেনে নিয়েছিলাম। তোকে অনেক বার বলেছিলাম আমাদেরকে কনজুগাল ওল্ডহোমে রাখিস। তুই রাখতে পারিসনি। তোর নাকি খরচে কুলোবে না। তোর বাবাকে একটাতে রেখেছিস। আমাকে অন্যটাতে। তোর বাবা বিয়ের পর আমাকে রেখে একদিনও অন্য কোথাও থাকতো না। একদিন কি হয়েছিল জানিস। তোর বাবা আমার সাথে রাগ করে বন্ধুর বাড়িতে গিয়ে নাকি থাকবে। তোর বয়স তখন আড়াই বছর। আমি তো জানি আমাকে ছাড়া সে থাকতে পারবে না। ভাত রেধে বসেছিলাম। রাত ১২টার দিকে তোর বাবা এসে হাজির। একসঙ্গে ভাত খেয়ে অনেক গল্প করেছিলাম। জানি না, তোর বাবা ওই ওল্ডহোমে কেমন আছে? খুব কষ্ট হয় লোকটার জন্যে।

খোকা শোন, প্রতিমাসে সময় নষ্ট করে আমার কাছে তোকে আর আসতে হবে না। আমাকে তোর বাবার কাছে রেখে আয়। নাহলে, ইউথানাশিয়া না মার্সি কিলিং নামে যে ইঞ্জেকশন দেয়, সেইটা আমাকে দিয়ে দিস প্লিজ। আর একা একা বাচতে ইচ্ছে করে না।

পুনশ্চঃ চিঠিটা কল্পিত। ভালো করে লিখতেও পারিনি। তবে, আমি অনুভব করতে পারছিলাম একজন মায়ের কি রকম লাগতে পারে। খুব কাদতে ইচ্ছে করেছে আমার। এর আগে কখনো কোন কিছু লিখতে গিয়ে এরকম কষ্ট হয়নি।

৮ thoughts on “একটি চিঠি ও একজন মা।

  1. ভাই আর কত বিষয় আনবেন যাতে
    ভাই আর কত বিষয় আনবেন যাতে আমরা অনবরত কাঁদতে পারি…
    এইভাবে না লিখলেই কি হত না!!
    কাঁদানোর জন্যে ধন্যবাদ…… :ভাঙামন: :ভাঙামন: :ভাঙামন: :ভাঙামন: :ভাঙামন: :ভাঙামন: :ভাঙামন: :ভাঙামন: :ভাঙামন: :ভাঙামন: :ভাঙামন: :ভাঙামন:

  2. আমরা ধীরে ধীরে নিউক্লিয়ার
    আমরা ধীরে ধীরে নিউক্লিয়ার ফ্যামিলির পথে অনেকখানি এগিয়ে গেছি পশ্চিমা অনুকরণে। এরই ফলস্বরুপ বৃদ্ধাশ্রমের উদ্ভব। সবই প্রগতির সিম্বল। কি করবেন বলেন? কেঁদে লাভ কি?

  3. সৃষ্টিকর্তার কাছে আমি কৃতজ্ঞ
    সৃষ্টিকর্তার কাছে আমি কৃতজ্ঞ যে, আমার জন্ম এবং বেড়ে উঠা যৌথ পরিবারে। আমি ভেবে পাইনা কি পরিমাণ পাষাণ্ড হলে কোন মানুষ তার মা-বাবার সঙ্গে এতো কঠোর হতে পারে!!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *