ঈশ্বর বন্দনা এক ঘুম পাড়ানি গান (০১)

ঈশ্বরে বিশ্বাসীরা তাদের কথিত অলীক ঐশ্বরিক চরিত্রের বন্দনা বা গুণগানে সর্বদা পঞ্চমূখ থাকে । যেমন – ঈশ্বর সর্ব শক্তিশালী, ঈশ্বর পরম করূণাময়, দয়াবান, সর্বদ্রষ্টা ইত্যাদি ইত্যাদি । মোট কথা সকল গুণগান আর প্রশংসাই একমাত্র তার । তিনি ছাড়া আর কেউ যোগ্য নন । যেমন ধরুন একটু ব্যাখা করে বলি একজন ছাত্র পরীক্ষায় খুবই ভালো রেজাল্ট করল অথবা একজন লোক গুরুতর অবস্থা থেকে চিকিৎসার মাধ্যমে আরগ্য লাভ করল । এক্ষেত্রে ঈশ্বরবাদীরা বলবে – ঈশ্বরের অশেষ কৃপায় ছাত্র খুব ভালো রেজাল্ট করেছে ,অার অসুস্থ ব্যক্তির ক্ষেত্রে বলবে – ঈশ্বর দয়াময় তার করুণায় এই যাত্রায় বেচে গেল ।
কিন্তু যদি, ছাত্র টি ফেল করল আর ভুল চিকিৎসায় অসুস্থ ব্যক্তি মারা যায় । তবে একই ঈশ্বরবাদীরাই বলবে – বেটা হতছাড়া পড়ালেখা না করে ফেল করছে অথবা বেটা ভূয়া ডাক্তার ওর জন্যই রোগী মরছে ।
এর মানে কি দাড়াল ? ঈশ্বরই সকল প্রশংসার রেজিস্ট্রি কৃত মালিক । দোষের সত্বাধিকারী তা হল বাকিরা ।
যাক সে কথা তা নিয়ে আমার মাথা ব্যাথা নাই । তবে আমার একটা প্রশ্ন আছে প্রশ্ন হল – ছাত্র যদি ঈশ্বরের কৃপাতেই পাশ করে আর তার দয়াতেই যদি রোগী বাঁচে তবে, ফেল করলে ছাত্র বা রোগী মরলে ডাক্তার দোষী হবে ? এক্ষেত্রে ঈশ্বরের কৃপা বা দয়ার অভাব দোষী নয় কেন ?
এমন প্রশ্নের উত্তরে যা পেয়েছি তা এখানে ভাষায় প্রকাশ করার সাধ্য আমার নেই । তা এই ঈশ্বরবাদীরাই ভাল পারেন ।

যাক ওসব এখন আলোচনায় ফিরি – ঈশ্বর বন্দনা বা ঈশ্বরের গুণগান। ঈশ্বরবাদীদের ভাষ্য মতে, পৃথিবীর সব বৃক্ষ যদি কলম হয় আর সকল সমু্দ্রের পানি যদি কালি হয় হয় তবে ও নাকি ঈশ্বর বন্দনা শেষ হবে না । এক্ষেত্রে আমি তাদের সাথে একমত কারণ,যারা সকল কিছুতে তাদের কথিত অলীক ঐশ্বরিক চরিত্র বা ঈশ্বর কে খুজে পান তাদের দ্বারা ইহা অসম্বব কিছু নয় ।
কিন্তু তাদের কাছে ঈশ্বরের বন্দনা যাই হোক আমার কাছে তা- নিতান্ত ছেলে ভোলানো ললিপপ বা ঘুম পারানি গান ছাড়া আর কিছ নয় । এখন প্রশ্ন হল আমি এমন টা কেন বললাম ! আমার এমন বলার কারণ টা এই ঈশ্বরের প্রচলিত বন্দনা বা গুনগানের যৌক্তিকতা বিশ্লেষন করলেই বোঝা যাবে । চলুন তবে শুরু করি –

[ ঈশ্বর অন্তর্যামী ]

ঈশ্বর বিশ্বাসীদের বৃহত্তর অংশই মনে করেন- ঈশ্বর অন্তর্যামী । তিনি প্রত্যেকের মনের কথাই জানেন । সুতরাং প্রতিটি ভক্তের মনের হদিশ যে তার অজানা নয় তা স্পষ্ট । কিন্তু যেটা অস্পষ্ট ধোঁয়াশা তা হল, কিন্তু তারপরও কেন ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা ! এমনকি মসজিদে, মন্দিরে, গীর্জায়, মঠে, পূজো প্যান্ডেলে মাইক লাগিয়ে, শংখ ঢোল ঘন্টি বাজিয়ে প্রার্থনা ! এসব কি অপ্রয়োজনীয় ও মূল্যহীন নয়?

ঈশ্বর যদি প্রত্যেকের মনের কথা সরাসরি জানতেই পারেন, তাহলে কেন অষ্টপ্রহর ঢাক-ঢোল সহযোগে ‘দাও-দাও’ সংকীর্তন ?
যদি সোচ্চার প্রার্থনার প্রয়োজনকে মেনে নিতে হয়, তবে বলতেই হয় – ঈশ্বর অন্তর্যামী নন ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *