তোমরা ধ্বংস হয়ে যাও—

জনসংখ্যার ভারে জর্জরিত বাংলাদেশের অধিকাংশ মানূষই পরিশ্রমি।তারা নিজেরাই নিজেদের ভাগ্যনিয়ন্তা।এ দেশের বিত্তবান ধনিক শ্রেনীর উচু তলার মানুষের সংখ্যা এখনো হাতে গোনা বললে খুব বেশী ভুল বলা হয় বলে মনে হয় না।সবচেয়ে সুখের কথা এই যে বাংলাদেশের নিম্নবিত্ত মধ্যবিত্ত মানুষেরা কখনোই পরমুখাপেক্ষি নয়।কেও এসে তাদের অভাবের সংসারে সামান্য সহযোগীতার হাট বাড়িয়ে দেবে সে আশাও তারা করেনা।শুধু চায়-দেশে স্বাভাবিক শান্ত পরিবেশ বিরাজ করুক।সারাদিনের পরিশ্রমে উপার্জিত অর্থে স্ত্রী সন্তান নিয়ে দুবেলা পেট ভরে খেয়ে পরে যেনো নিশ্চিন্তে রাতে ঘুমাতে পারে সেটাই থাকে একমাত্র চাওয়া।কিন্তু আমাদের দেশের রাজনীতিবিদেরা সেই ন্যুনতম চাওয়াটুকুও পূরনে ব্যার্থ।নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করবার জন্য তারা একের পর এক জনবিরোধী কর্মকান্ডে লিপ্ত থেকে দেশের খেটে খাওয়া নিরন্ন মানূষের মুখের খাবার টুকুও জোগাড় করতে দিতে নারাজ।হরতাল অবরোধ জ্বালাও পোড়াও ইত্যাদি করে ক্ষমতার মসনদে আহরন ই যেনো এ দেশের রাজনীতির একমাত্র উদ্দেশ্য।দেশের মানুষের ভালো মন্দ দেখার দায় যেনো তাদের নেই বরং তাদেরকে ক্ষমতায় পাঠানোর দায় রয়েছে জনগনের! মিছিলে বোমাবাজি গুলি হবে-মরবে এ দেশের সাধারন মানূষ।নেতারা বক্তৃতা বিবৃতি দেবেন নেতাদের ছেলে মেয়েরা বিদেশে লেখাপড়া করবে তারপর একদিন দেশে ফিরে আসবে আর তারাও পরবর্তিতে নেতা হবে।কৃষকের সন্তান স্কুল কলেজে যাবে-হরতাল হবে মিছিল হবে,বোমা ফুটবে-সেই বোমার আঘাতে আহত হয়ে হাসপাতালে যাবে আর কৃষকের জমি বিক্রী করে চিকিৎসা করাবে এর পর সেই ছেলে আরেকজন কৃষক হবে-ভুমিহীন!নেতার সর্দি হলে চিকিৎসা করাতে আমেরিকা যাবেন-ফিরে এলে বিমান বন্দরে ফুলের মালা নিয়ে স্বাগতম জানাবে দেশের জনতা।অথচ-চিকিৎসা খাতে প্রতি বাজেটে সর্বোচ্চ বরাদ্দ!!হাসপাতালে গেলে এ দেশের সাধারন জনগন ওষুধ তো দূরে থাক একটা ইঞ্জেকশনের সিরিঞ্জ ও পায় না। বিনা চিকিৎসায় ধুঁকে ধূঁকে মরছে বাংলার কৃষক মজুর দেশের মালিক আমজনতা।গর্ভবতী মা মারা যাচ্ছে সাথে গর্ভের সন্তানও দেখতে পারছে না পৃথিবীর আলো-তাদের অপরাধ কি-তারা বাংলাদেশের ভোটার,যাদের ভোটে নেতারা এম পি হয় মন্ত্রী হয় প্রধানমন্ত্রী হয় এবং রাষ্ট্রপতিও হয়।ভোটের পরে সেই নেতারা এ দেশেরই কৃষক মজুরের ঘামের বিনিময়ে অর্জিত টাকায় বিদেশে যান স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য।দেশে এতো হাসপাতাল এতো ডাক্তার তার পরও কেনো নেতাদের চিকিৎসা এ দেশে হয় না? উনারা কি অন্য কোনো গ্রহের বাসিন্দা?যে দেশের সরকার সামান্য চিকিৎসার সুযোগ সমৃদ্ধ একটা আধুনিক হাসপাতাল গড়তে পারে না-দেশের জনগনের চিকিৎসার সুব্যাবস্থা করতে পারে না সে দেশের নেতারা কোন লজ্জায় বিদেশে যায় নিজেদের চিকিৎসা করাতে?

হাজার হাজার নিরন্ন নারী শিশু বৃদ্ধ রাতের আশ্রয় হিসাবে বেছে নেয় ফুটপাত-রেলষ্টেশন-পার্ক অথবা খোলা আকশের নিচে।পেটের ক্ষুধা মেটাবার জন্য ডাষ্টবিনের পঁচা দুর্গন্ধযুক্ত খাবার খেয়ে কাক আর কুকুরের প্রতিযোগী হয়ে ওঠে যে দেশের জনতা সেই দেশের নেতা এম পি মন্ত্রীরা চড়ে বেড়াই কোটি টাকা দামের বিদেশী গাড়ী!ফুটপাতে শুয়ে থাকা মানব সন্তানের গায়ে ধূলো উড়িয়ে স্বদম্ভে ছুটে চলে নেতার গাড়ির বহর।পাশেই সাজানো মঞ্চে নেতা ভাষন দেন- এ দেশ থেকে ক্ষুধা দারিদ্র বিমোচন করবেন!! অথচ চলার পথে একবার ও ফিরে দেখেন না কত প্রান ঝরে গেছে মিশে গেছে বাংলার ধুলি কনায় ক্ষুধা আর দারিদ্রের করাল থাবার কষাঘাতে।ধিক ঐ সমস্ত নেতা আর উচুতলার বিলাসী ধনীক শ্রেনীর মুখোশধারী এলিট ভদ্রলোকেদের।যে দেশের রাজপথে অভুক্ত বিবস্ত্র হয়ে অবহেলায় পড়ে থাকে সৃষ্টির সেরা আদম সন্তান সে দেশে তোমাদের মত নেতা আর ধনবান ধনীদের কোন প্রয়োজন নেই!!!সোনার বাংলার সোনার মানূষের মাঝে তোমরা বড়ই বেমানান-তোমরা আমাদের সমাজের কলংক চিহ্ন আর তোমাদের অপকর্মের অভিশাপে অভিশপ্ত বাংলার পবিত্র মাটি!!বাংলাদেশের মানূষের কোনো কিছুর অভাব নেই কোনো সমস্যাও নেই-একমাত্র সমস্যা এ দেশের রাজনীতি আর রাজনৈতিক নেতারা।যারা দুর্নীতি করে এ দেশের সাধারন মানূষের ন্যায্য অধিকারটুকুও গ্রাস করে নিয়েছে।তাই এ দেশের জনগন নিরন্তর তোমাদের অভিশাপ দিচ্ছে তোমরা ধ্বংস হয়ে যাও—–

১ thought on “তোমরা ধ্বংস হয়ে যাও—

  1. এই অভিশাপের কি মূল্য
    এই অভিশাপের কি মূল্য আছে??
    যার মূল চলে গেছে ভূ-পৃষ্ঠের কেন্দ্রে তাকে কি অভিশাপ দিয়ে উপ্রে ফেলা যাবে????

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *