ধর্ষণকারির সপক্ষে যুক্তি দেবেন না, জাতীয়তাবাদ আওড়াবেন না, এরা তার যোগ্য নয়!

ধার্মিক মানুষের প্রতি আমার কোনো আক্রোশ নেই। আমি যে সংশয়বাদী /নাস্তিক, তা নিয়ে কোনো শ্লাঘা নেই।
আমি জানি মুসোলিনি থেকে নেপোলিয়ান- বহু স্বৈরাচারীই ছিলেন নাস্তিক।

কিন্তু আজ কোনো নাস্তিকের দ্বারা বর্বরতা সংঘটিত হলে যদি এই যুক্তি উঠে আসে যে- তার কর্মফলের ভয় নেই, ঈশ্বরভীতি নেই, তার ঈশ্বর নেই, তাই বিবেকও নেই, তাই সে নিষ্ঠুর হতেই পারে- তবে আমি আমার দর্শন ও ইডিয়লজির সপক্ষে পথে নামব। আমার উপর দায় পড়বে, নাস্তিক্য মানেই ক্ষতিকর নয়-এটা প্রমাণ করার। নিজের প্রতিবাদ, প্রতিরোধ, আচরণের মাধ্যমে।

আবার বলি, ধার্মিক মানুষের প্রতি আমার কোনো আক্রোশ নেই। সংখ্যাগুরু হিন্দুদের প্রতিও না,যতক্ষণ না তাঁরা স্পষ্টভাবে ও সক্রিয়ভাবে সাম্প্রদায়িক, অত্যাচারী, পিতৃতান্ত্রিক। আক্রোশ নেই বলেই বলছি, আজ নিজের ধর্মের মুখরক্ষা করতে আপনাদের পথে নামার প্রয়োজন ছিল সবচেয়ে বেশি।

আমরা যারা সন্দেহ/নিরীশ্বরবাদী, তারা মূলত ধর্মের মন্দ দিকগুলি নিয়ে কারবার করি। যেমন ধরুন, আমরা মানি -ধর্মমাত্রেই নারীকে সমানাধিকার দেয়নি। আমরা মানি, ধর্ম বর্ণে-বর্ণে জাতিতে-জাতিতে বিভেদের আঁতুড়। আমরা বিরুদ্ধ যুক্তিগুলোও জানি। কিন্তু রাজনৈতিক ভাবে বলিনা।

কিন্তু প্রতিযুক্তি শুনেছি। শুনেছি ধর্ম আসলে আপনার মনুষ্যত্ব, মানবিকতাকে ধারণ করে রাখে। শুনেছি ‘ধর্ম’, অর্থাৎ ‘প্রপাটিজ’, আচরণীয় বিধি, গুণাবলী।

তাহলে আপনার, তার,ওর ধর্ম-যতই বিভেদপন্থী হোক-তা কি শিশুহত্যা, শিশুধর্ষণ সমর্থন করেছিল? ধর্ষকের সমর্থনে একটিও কথা বলার আগে ভাবুন। অন্যান্য ধর্ষণের রেফারেন্স টানার আগে ভাবুন। হ্যাঁ,সেগুলিও ধর্ষণ। এটিও ধর্ষণ। ঘৃণা করুন সেই তিলক কাটা অবসরপ্রাপ্ত “ধার্মিক হিন্দু”-কে, ঘৃণা করুন সেই তিলক কাটা পুলিশ অফিসারদের, ঘৃণা করুন সেই স্বঘোষিত “হিন্দু” আইনজীবীদের। এদের সপক্ষে যুক্তি দেবেন না, জাতীয়তাবাদ আওড়াবেন না, সম্প্রদায়ীকতার পক্ষ টানবেন না।

এরা তার যোগ্য নয়।

আপনারা পারবেন, কোনো হোয়াটাবাউট্রি, কোনো “কিন্তু” ছাড়াই পারবেন। কারণ শুনেছি আসিফা কেসের আইনজীবীও একজন পণ্ডিত, ধর্মপরিচয়ে। কারণ যে অফিসারের হস্তক্ষেপে শেষপর্যন্ত চার্জশিট নেওয়া গেল, তিনিও তাই।

আপনাকে বিশ্বাস করি, আপনি খুনি নন। ধর্ষক নন। আপনার ধর্ম একটি ডিসকোর্স এবং তা ত্রুটিপূর্ণ আমার চোখে। আমার ডিসকোর্সও আপনার চোখে ত্রুটিপূর্ণ হতে পারে। কিন্তু আপনার ইডিওলজি আপনাকে অমানুষ হতে শেখায়নি সম্ভবত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *