আমি মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান

শুরুটা হয়েছিল অনেক আগে। তখন কম্যুনিজম এর বাল গজাতে শুরু হয়েছিল। এর মধ্যেই প্রেমে পড়ি প্রীতিলতার। দূরদর্শনের মত প্রেম কতই বা টেকে? কথা দিয়েছিলাম, চট্টগ্রাম এসেই দেখা করবো। যখন এলাম, শুনলাম সে নাকি আত্মহত্যা করেছে। ঝামেলায় জড়ালাম না। কম্যুনিজম এর বাল ছেঁটে ফেললাম। আমি মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। সুযোগ পেলেই কত কি করা যাবে! যাই হোক, আমার মন ভঙ্গের সাথে সাথে লর্ড মাউন্টবাটেন ও বঙ্গভঙ্গ করে দিলেন। কি আর করা, থেকে গেলাম পাকিস্তানে। অনেকেই বলল ভারত চলে যেতে। কিন্তু গেলাম না। কারণ পাকিস্তানের মত রাজনৈতিক অস্থিরতার দেশে মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হিসেবে অনেকেই ফায়দা লুটা শুরু করেছে। আমিও করলাম। কিন্তু শুরু হল ভাষা আন্দোলন। আমি অবশ্য উর্দু, বাংলা দুটোই পারতাম। আন্দোলন যেদিকে গেল, আমিও সেইদিকেই গেলাম। হয়ে গেল বাংলা রাষ্ট্রভাষা।

রাজনীতির শুরুটা বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে। বঙ্গবন্ধু তখন টপ লেভেলের নেতা। আমিও হয়ে গেলাম তার ভক্ত। চারিদিকে তখন স্বাধীনতার ডাক। উত্তেজনার জোয়ার বইছিল আমার মধ্যেও। ৭ই মার্চের ভাষণের মধ্যে আমিও হাতে লাঠি হাতে বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়েছিলাম। ২৬ তারিখ যুদ্ধ লেগে গেল। পালিয়ে গেলাম ভারতে। আরামেই ছিলাম ইন্দিরা গান্ধীর আশ্রয়ে। যুদ্ধ শেষে যখন বাংলাদেশ হল, ফিরে এলাম আবার। মুক্তিযোদ্ধা সনদপত্র জোগাড় করলাম একটা। ধান্দাও শুরু করলাম ভালই। কিন্তু অনেকেই তখন বলছিল, ভারতে নাকি আমরা অনেক আরামেই থেকেছি। আমাদেরকে ভারত চলে যাবার জন্য উৎসাহ দেওয়া হত। আমি তখন ঘোষণা দিলাম, ভারতে আমাদের কে বন্দী করে রাখা হয়েছিল, আমাদেরকে কোন খাবার দাবার দেওয়া হয় নাই, আমরা ভিক্ষা করে দিনাতিপাত করেছিলাম। ভালই দৃষ্টি আকর্ষণ করলাম। আমলে নিল সবাই। যাই হোক, ঘটনা পাল্টে গেল ১৯৭৫ সালে। বঙ্গবন্ধুকে যখন খুন করা হল, তখন অনেক ভয় পেলাম। পালিয়ে গিয়েছিলাম পাকিস্তানে। রাজনৈতিক আশ্রয়ে যখন ছিলাম, তখন শুনলাম মেজর জিয়া দেশের রাষ্ট্রপতি। জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি গোলাম আযম সহ আদর্শ দেশপ্রেমিক দের যখন দেশে ফিরিয়ে আনা শুরু করলেন, তখন আমিও তাদের সাথে একই প্লেনে করে “ও আমার দেশের মাটি, তোমার পরে ঠেকাই মাথা” গাইতে গাইতে ফিরলাম। জিয়ার কাছেই শিখলাম কিভাবে খাল কেটে কুমির আনতে হয়। হঠাৎ জিয়াকেও মেরে ফেলা হল। আমি অভিভাবক শূন্য হয়ে গেলাম। কি করবো কিছুই ভেবে পাচ্ছিলাম না। একদিন জিয়ার সুযোগ্য পত্নি খালেদা ডেকে নিলেন তার শাড়ির আঁচলের তলায়। অনেক দিন আদর সোহাগেই ছিলাম। কিন্তু বাঁধ সাধল ব্যাটা ফালু। তিনি আলুর ব্যবসা করে অনেক ধনের মালিক হয়ে আমার বাড়া ভাতে ছাই মেরে দিলেন। খালেদার দৃষ্টি পাওয়াই তখন ভার। কি করা, মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান তো! কিছু তো করে খেতে হবে। গোলাম আযমের ছাত্র হয়ে তার কাছেই শিখলাম কিভাবে দেশ কে বেঁচে খাওয়া যায়। কিন্তু কপালে বেশিদিন তাও জুটল না। একদিন শুনলাম আমার গুরু নাকি রাজাকার, আল বদর ছিলেন। কিছুতেই মানতে পারলাম না। গুরুদের শাস্তি হইলে তো আমার ব্যবসা বন্ধ। কিছুতেই উপায় বের করতে পারলাম না। হঠাৎ হেফাজত এসে গেল। পেয়ে গেলাম মন্ত্রী হবার সুযোগ, আমাকে আর পায় কে!! দেশে আস্তিক নাস্তিক যুদ্ধ লাগিয়ে দিলে আমার তো পোয়াবারো। আর কি জানি কয় বলগার না ফল্গার, অইগুলারে ধরতে পারলে তো সোনায় সাকা সাইদি। এইখানেও বাধ সাধল হাসিনা আপা। মহিলা এমন খারাপ, রাত্রেবেলা পিটাইতে পিটাইতে আমার মন্ত্রী হবার শখটা ধুলায় উড়াইয়া দিলো!! কি আর করা! কিছুই করতে পারলাম না। তবে ব্যাপার না, মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান ছিলাম তো! ঠিকই সুযোগ বের করে নেব……
অবশেষে বুঝতে পারলাম।

১০ thoughts on “আমি মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান

  1. মধ্যবিত্তরে এভাবে বাঁশ না
    মধ্যবিত্তরে এভাবে বাঁশ না দিলেও পারতেন! ব্যটা তো মধ্যবিত্তই। :মাথানষ্ট:

  2. এই লেখাটার ভেতর দিয়ে যে
    এই লেখাটার ভেতর দিয়ে যে চরিত্রটা হেটে আসল, সেটার নাম হতে পারে “”ধান্দাবাজ সময়”” (লেখক হয়ত অন্য কাউকে বা কিছুকে ভেবে লিখেছেন) আর অধিক মজা পেয়েছি এই লাইনটা পড়ে “” জিয়ার কাছেই
    শিখলাম কিভাবে খাল কেটে কুমির আনতে হয়।””

  3. তয় মধ্যবিত্তরে এম্নে না
    :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে:

    তয় মধ্যবিত্তরে এম্নে না পঁচাইলেও পারতেন…

  4. আপ্নে কে ভাই?
    কপালে দুঃখ আছে

    আপ্নে কে ভাই?
    কপালে দুঃখ আছে আপনার!!
    তবে বলেছেন অনবদ্য……
    :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে:

  5. চমৎকার বলতে পারছি না কারন
    চমৎকার বলতে পারছি না কারন আমিও মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে কিন্তু যা বলেছেন যুক্তি দিয়ে বলেছেন তবে সামনে থেকে পিঠে একটা বস্তা জাতীয় কিছু বেঁধে রাখবেন !! বলা তো যায়না আবার কখন মধ্যবিত্তদের খপ্পরে পরে ক্ষুদিরাম হয়ে যাবেন ………… 😀

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *