ডিপ্রেশন শব্দটাই একদিন অনেক ডিপ্রেশনে ভোগবে..

একটা মানুষ একটু সুখের আশায় ছুটে বেড়ায় এই শহর থেকে অন্য শহরে। কেউ কেউ আবার দেশ পেরিয়ে ছুটছে অন্য কোন দেশে। তৈরি হয় নতুন ঠিকানা। শুরু হয় নতুন যুদ্ধ। কে যুদ্ধে জয়ী হলো আর কে পরাজয় বরণ করলো তার উপর নির্ভর করে কে কতদিন সুখী হয়ে বাঁচবে। এই শহরের সবচেয়ে প্রাচীন আর ভয়ানক রোগের নাম ডিপ্রেশন। রাতের আঁধারে এই একটা রোগ একে একে সবাইকে আক্রমণ করে। চোখের নিচের কালো দাগগুলো দেখলেই বুঝা সম্ভব মানুষগুলো শেষ কবে রাতের বেলা একটু আরাম আর আয়েশ করে ঘুমিয়েছে ঠিক নেই। ডিপ্রেশন থেকে বেরিয়ে আসার জন্যও প্রয়োজন ছোটখাটো যুদ্ধের। আবার বের হতে না পারলে নিশ্চিত মৃত্যু।

যুদ্ধ, যুদ্ধ আর যুদ্ধ…

বাঁচতে হলে যুদ্ধ করতে হবে আবার মরতে গেলেও যুদ্ধের বিকল্প নেই। জীবনটাই একটা যুদ্ধ। ভোর বেলা যখন নতুন একটা মানুষ এই সুন্দর পৃথিবীর আলো দেখেছিলো তখন জানতো না বড় হয়ে ডিপ্রেশন নামক রোগের সাথে পরিচিত হতে হবে। একটা ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর কাছে জীবনের অর্থ জানতে চাইলে উত্তরে বলেছিলো যদি হাসপাতালের বেডে শুয়ে থেকে মৃত্যুপথযাত্রী মানুষটা আর একটা দিন বেশি বাঁচতে পারে তবে আরেকটা দিন প্রিয় মানুষদের দেখতে পারবে। চোখটা হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে গেলেই শেষ। এত দিনের কষ্ট, এত মায়া, এত ভালোবাসা সব হারিয়ে যাবে চিরতরে।

খবরের কাগজ কিংবা নিউজ চ্যানেলের সামনে বসলে প্রায় প্রতিদিনই খবর আসবে মৃত্যুর। তবে রিপোর্টার মৃত্যুর সংবাদের পেছনে লুকিয়ে থাকা মৃত মানুষটার শেষ ইচ্ছে কিংবা বাকি পরে থাকা স্বপ্নের ব্যাপারটা জানতে পারে না। একজন ডাক্তার একটা রোগীকে বাঁচানোর চেষ্টা করে গেলেও তার মনের রোগটা সারাতে পারেন না।

প্রায় প্রতিদিন পৃথিবীর হাজার হাজার, লক্ষ লক্ষ মানুষ ছুটে একজন মোটিভেশনাল স্পিকারের খুঁজে। ডিপ্রেশন থেকে বেরিয়ে আসার রাস্তাটা শেষ পর্যন্ত সবাই আর খুঁজে পায় না। কারণ একজন মোটিভেশনাল স্পিকারও সবাইকে মোটিভেশন দিয়ে রাতের বেলা নিজেই ডিপ্রেশনে ভোগে।

এই অট্টালিকায় ঘেরা প্রতিটা শহরে ডিপ্রেশন ছড়িয়ে পড়েছে। ছোঁয়াচে রোগের মত একজন থেকে অন্যজনের শরীরে চলে গেছে। একজন বেরিয়ে আসলেও নতুন করে আরো দুজন আক্রান্ত হয়।

ডিপ্রেশন, ডিপ্রেশন আর ডিপ্রেশন….

ডিপ্রেশন শব্দটাই একদিন অনেক ডিপ্রেশনে ভোগবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *