নতুন একটি ধর্ম

আপনাদের ছাগল চরানো এতিম বালকটিকে আমি কিন্তু ছোট বেলা থেকেই মারাত্মক রকমের পছন্দ করতাম। আমি মনেপ্রানে তাকে ভালোবাসতাম। এখনো বাসি। আমি তাকে যতদূর সম্ভব, জানার, বোঝার এবং অন্ধভাবে অনুসরণ করার চেষ্টা করেছি, সারা জীবন ধরে। আমি এখনো তাকে জানার চেষ্টা করছি এবং যতই জানছি, ততই মুগ্ধ হচ্ছি। আমি তাকে, তার জীবনযাপন আর কর্মপদ্ধতিককে, আরো বেশী করে আঁকড়ে ধরার চেষ্টা করছি। নানান প্রতিকূল পরিস্থিতি, দুর্ভাগ্যজনক অবস্থা এবং মানুষজন আগের চেয়ে অনেক চালাক চতুর এবং সন্দেহপ্রবন হওয়া সত্বেও, আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আমি তার দেখানো পথ ধরেই অনতিবিলম্বে আনকোরা নতুন যুগোপযোগী এবং আরো ভাল একটি ধর্ম চালু করে ফেলতে পারবো।

এবিষয়ে হজরত আলীর একটি বানী আছেঃ তোমাদের অনুসরনের জন্য সবচেয়ে উৎকৃষ্ট দৃষ্টান্ত হচ্ছে আমাদের সেই ছাগল চরানো এতিম বালকটি।

শিশুকাল থেকেই আমার পিতা ছাগল না হলেও প্রচুরসংখ্যক গরু পুষতেন এবং সেগুলি শহরময় ঘুরে বেড়াতো এবং প্রতিদিনই দুএকটা করে গরু বাসায় ফীরতো না। শুরু হত গোরুখোঁজা! আক্ষরিক অর্থে গরু খুঁজতে খুঁজতে হারানো জিনিশ খুজে পাওয়ার নানান ধরনের দোয়া পড়তে পড়তে কাজ হচ্ছেনা দেখে বুঝলাম, এইসব দোয়াটোয়া সব ভুয়া! এই দোয়া, কালাম, তাবিজ, পানিপড়া, নামাজ, রোজা, মিলাদ, সবকিছুই ভুয়া মনে হওয়া শুরু হল। কিভাবে, কার মাধ্যমে এই নামাজ, কালাম, দোয়া দরূদ, ইত্যাদির প্রবর্তন হল, সেটা খুঁজতে গিয়ে এসব আজগুবি প্রথার আবিষ্কারক হিসেবে সেই ছাগল চরানো বালকটি সম্পর্কে উৎসাহী হয়ে তার জীবন ইতিহাস, কর্মপদ্ধতি ইত্যাদি সম্পর্কে শুধু পড়তেই না, রীতিমত গবেষণায় ঝাঁপিয়ে পড়লাম। তাই সেই কিশোর বয়স থেকেই, আমি চুপচাপ গরু খুঁজতাম, আর ভাবতাম, এতো ঝামেলা সৃষ্টিকারী আর সময় অপব্যায়কারী উপাসনার নামে স্রষ্টাকে তেলবাজি কমিয়ে, সহজে অলসভাবে ফলো করা যায়, কিন্তু সবাই মিলে মিশে শান্তিতে থাকা যায়, এরকম একটা ধর্ম বানিয়ে ফেলতে হবে। আমাদের ছাগল চরানো বালকটি কিন্তু এভাবেই নিজের পৈত্রিক ধর্ম পছন্দ না হওয়ায় চারপাশের হাস্যকর ধর্মগুলিকে বাদ দিয়ে নতুন একটা ধর্ম প্রবর্তনের চিন্তাভাবনা শুরু করেছিলেন কৈশোর পেরুনোর পর থেকেই। তার মধ্যেও সেই কইশোর পেরুনোর পর থেকেই আমার মতই শান্ত, চুপচাপ, ভাবুক প্রকৃতির একধরনের উদাসী মনোভাব দেখা যেত বলেই জানা যায়।

আমার কিছুটা সুবিধা ছিল, ককারন আমাকে তার মত অতোটা অভাব অনটনের মধ্যে বড় না হতে হয়নি। সাধারন শিক্ষাব্যাবস্থার মধ্য দিয়ে একাডেমিক পড়ালেখার দিক দিয়ে আমি তার তুলনায় অনেক বেশী এবং পর্যাপ্ত পড়ালেখা করার সুযোগ পেয়ে সর্বোচ্চ ডিগ্রী অর্জন করে ফেলেছি ইতিমধ্যেই। তার পরও, পর্যাপ্ত জ্ঞান অর্জনের মত যথেষ্ট বইপত্র কিনে পড়ার মত টাকা পয়সা আমার হাতে থাকতোনা সেই কইশোর বা তারুণ্যে এসেও। আরব দেশে প্রবাদ চালু আছে, জ্ঞান অর্জনের জন্যে প্রয়োজনে চীন দেশ পর্যন্ত যেতে বলা হয়েছে। আমি তাই জ্ঞান অর্জনের উপায় হিসাবে বই চুরি করার বিদ্যা রপ্ত করে ময়মনসিংহ শহর থেকে যতটুকু সম্ভব বই চুরি করতে করতে একসময় বই চুরির উন্মুক্ত ক্ষেত্র হিসেবে ঢাকা শহর পর্যন্ত চলে যেতাম। কাজেই, সেই ছাগল চরানো বালকটির চেয়ে এই একটা দিক দিয়ে কিছুটা এডভান্টেজ পেয়ে গেলাম। বিভিন্ন বৃত্তি, ষ্টার মার্ক্স, ইত্যাদি পাওয়ার পর শহরের সেরা ছাত্র হিসাবে ইন্টারমিডিয়েট পাশ করে একপর্যায়ে পোষ্ট গ্রাজুয়েশন করে পড়ালেখার ব্যাপারটা মোটামুটি চুড়ান্ত একটা অবস্থায় উন্নীত করলাম।

তারপর, সেই ছাগলচরানো বালকটির জীবনের একটা পর্যায় বিস্তারিত পড়ে দেখলাম, তাকে জীবনে প্রচুর যুদ্ধ বিগ্রহ, আক্রমন, প্রতি আক্রমণ, অবরোধ ইত্যাদি করতে হয়েছে। কাজেই আমিও সুযোগ পেয়ে জীবনের একটা সময়ে এয়ার ফোর্সের পাইলট হওয়ার ট্রেনিং নিয়ে ফেললাম। কারনটা হচ্ছে, আজকের যুগে তো আর ঘোড়ায় চড়ে তীর-ধনুক, ঢাল-তলোয়ার কিংবা বর্শা-বল্লম দিয়ে যুদ্ধ হবেনা। এখন যুদ্ধ হবে বিমান দিয়ে। আমি তাই এয়ার ফোর্সের যুদ্ধবিমান চালানোর ট্রেনিং সমাপ্ত করে, বর্তমানে বাংলাদেশ এয়ারফোর্স হেড কোয়ার্টারে বসা বেশ কয়েকজন উইং কমান্ডারের উইং ছাড়া কমান্ডার।

বিমান চালানোর পাশাপাশি মাশিন গান, কামান, রকেট লঞ্চার, ইত্যাদি চালাতে এবং মিজাইল থেকে শুরু করে পারমানবিক বোমা পর্যন্ত মারতে শেখার পর হাতে কিছুটা সময় পেয়ে, ব্যাবসা বানিজ্য, হিসাব নিকাশের উপর পড়ালেখা সেরে হিসাববিজ্ঞানের উপর একটা স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করলাম। এর পাশাপাশি রুজিরোজগারের জন্য, ভাড়ায় খাটার উদ্দেশ্যে চার্টার্ড একাউন্ট্যান্সির উপর একটা কোর্স করে ফেললাম। মূল উদ্দেশ্য ছিল একটাই, ব্যবসা বানিজ্য ভালো করে শেখা। কারন, আমাদের নবীজী ব্যবসা বানিজ্য করতেন। তিনি কোরানের মাধ্যমে বলে গেছেন, “আল্লাহতালা সুদকে হারাম করেছেন, আর ব্যাবসাকে করেছেন হালাল।”

এদিকে, এরই মধ্যে বেশ কয়েকবার প্রেমে পড়লাম, প্রত্যেক বারই প্রত্যাখ্যাত এবং ব্যার্থ হলাম। কারন, আমার মত বাড়ি-গাড়ী ছাড়া মধ্যবিত্ত ভাবুক টাইপের ছেলের সাথে কে প্রেম করতে চাইবে? এরকম বয়সে আমাদের ছাগল চরানো বালকটিও শুনেছি ছাগল চরানোর পাশাপাশি আশেপাশের সুন্দরী শিশু, কিশোরী, তরুণী, যুবতি এমনকি মধ্য বয়ষ্কা অনেকের প্রেমে পড়তো। কিন্তু তার ভাবুক প্রকৃতি আর অকর্মা ভাদাইম্যা টাইপের গা ছেড়ে দেয়া ভাবভঙ্গি, আচার আচরন আর গরিবি হালতের কারনে প্রতিবারই তাকে প্রত্যাখ্যাত হত। এই নিয়ে হতাশাগ্রস্থ দিন পার করতে করতে এক সময় সে প্রেমের চিন্তা বাদ দিয়ে নিজের গরিবি হালত দূর করার জন্য চল্লিশোর্ধ এক সদ্য বিধবা ধনী নারীর মনযোগ আকর্ষণে সক্ষম হন, আর সেইসাথে তার জীবনের গতিপথ পালটে যায়।

তিনি ব্যাবসার কাজে সিরিয়া গিয়ে বিভিন্ন ধর্মগুরুর সাথে আধ্যাত্মিক, মারফতি এবং তরিকতি পাদ্রি, রাব্বাই, সাধু, সন্যাসীর সান্নিধ্যে আশার সিযোগ পান এবং এদের বিভিন্ন ধরমে প্রচলিত গুলগপ্প, আজগুবি রূপকথা আর সৃষ্টিতত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত হলেন। বিভিন্ন ধর্মের আচার অনুষ্ঠানগুলি সম্পর্কিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জন করলেন এবং ইহুদীদের আধ্যাত্মিক সাধনার পদ্ধতি “কাব্বালা” করা শিখে ফেললেন। অত:পর, ব্যাবসা বানিজ্যের মত পরিশ্রমের কাজে মন না বসায় তার বিবির পরামর্শ অনুযায়ী হেরা নামের এক পাহাড়ের গুহায় বসে ধ্যান করতে শুরু করলেন।

আর এদিকে আমি সেই পঁচিশ বছর বয়স পর্যন্ত প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হতে হতে একসময় হাল ছেড়ে দিয়ে, খুঁজতে শুরু করলাম, মোটামুটি ধনাঢ্য, চল্লিশোর্ধ বয়স্ক কোন মহিলা বিধবা হচ্ছেন কিনা, আর তারপর তার জেনারেল ম্যানেজারের চাকরিটা পাওয়া যায় কিনা। কারন এটা ছাড়া আমার দিন আনি দিন খাই, এরকম অবস্থা কাটানোর উপায় নাই। কিন্তু, এই একটা জায়গায় এসে আমি চুড়ান্ত রকমের ব্যার্থ হলাম। উপযুক্ত বয়ষ্কা, ধনী বিধবা খুঁজতে খুঁজতে বয়স ত্রিশ পার হওয়ার পরও তেমন কাউকে খুঁজে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি বাদ দিয়ে, বাধ্য হয়ে বিয়ে করতে হল আমার চেয়ে বয়সে কয়েক বছরের ছোট এক তরুণীকে। আর তাতেই, আমার ধরম আবিষ্কার আর তার প্রচার প্রচারণার কাজটা আমার জন্য আরো অনেক চ্যালেঞ্জিং হয়ে গেল।

ছাগল চরানো বালকটি শিশুকাল থেকেই একধরনের মানসিক সমস্যায় ভুগত। নিজের অভাব অভিযোগ আর হীনমন্যতা লুকানোর জন্য স্রষ্টার প্রতি অভিমানবশতঃ একধরনের হেলুসিনেশন, প্যারানয়া এবং সিজোফ্রেনিয়ায় ভুগত। বিয়ের পর থেকে তার এই মানসিক সমস্যা আরো প্রকট আকার ধারন করে। তিনি স্বাভাবিক জীবনযাপনে অক্ষম হয়ে পড়ায় একাকি এক পাহাড়ের গুহায় বসে ধ্যান করতে শুরু করলেন। ধ্যান করতে করতে একদিন তার ভুত দেখা জাতীয় আশ্চর্য এক অভিজ্ঞতা অর্জন করলেন। তিনি হ্যালুসিনেশনের শিকার হলেন। জিব্রাইল নামের এক আলোর তৈরী ফেরেশতা বা ভুত তাকে বুকের সাথে শক্ত করে চেপে ধরায় তার দম বন্ধ হয়ে আসার উপক্রম হল। তারপর, জিব্রাইল যখন তাকে বললেন, পড়, তখন তিনি কাঁদোকাঁদো গলায় তার শিক্ষাদীক্ষার অভাবের কথা জানানোয় সেই ফেরেশতা তাকে আরো জোরে চেপে ধরে আল্লাহ নামের শক্তিশালী এক জিনিশের নামে লেখাপড়া করতে বলে উধাও হয়ে গেল। ছাগল চরানো সেই তরুনটি তখন ভয়ে অজ্ঞান হয়ে গেলেন। জ্ঞান ফেরার পর ভয়ে এক দৌড়ে বিবির কাছে এসে সব খুলে বলার পর, তার বিবি তাকে বলেছিল, এটাই সেই সিগনাল! তুমি এখন নবী হয়ে গেছ। ঘোষনা দিয়ে দিতে পার।

আর অন্যদিকে, আমি বউয়ের বাধার মুখে বাসা ছেড়ে কোন পাহাড়ি গুহায় যেতে না পেরে বেকার সময়ে একটা ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে, ঘর অন্ধকার করে, ধ্যান, মেডিটেশন, মুরাকাবা, কাব্বালা, রাজযোগ, হু’পুনুপুনু, ইএফটি, এনএলপি ইত্যাদি করতে করতে একসময় মেরাজের কাছাকাছি, আলোকায়নের মত প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা অর্জনের পর সেকথা আমার বউকে বিস্তারিত খুলে বলার পর সে ধরে নিল আমার মাথায় সমস্যা আছে। আমাকে পাগলের ডাক্তার দেখাতে বলল। বউয়ের এধরনের অসহযোগিতার পরও আমি অবশ্য খুব একটা দমে যাইনি।

সেই ক্ষতি আমি পুষিয়ে নিয়েছি, ইন্টারনেটভিত্তিক বিভিন্ন উৎস থেকে বিভিন্ন ধর্মের ধাপ্পাবাজির দিকগুলি খুঁজে বের করে, সেই ছাগল চরানো এতিম বালকের যুবক বয়সের দৃষ্টান্ত অনুসরন করে, সব ধরনের ধর্মের লোকদেরকে মূর্খ, গাধা, ছাগল, ইত্যাদি বলতে শুরু করেছি। তিনি যেমন তার পৈত্রিক ইহুদী নাসারাদের ধর্ম ত্যাগ করে সেই ইহুদী নাসারাদের উপরেই সবচেয়ে বেশী বিষোদগার করে গেছেন, আমিও তেমন আমার পৈত্রিক ধর্ম ইসলামকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে যতরকমভাবে পারি, সেই ধর্মটি নিয়ে প্রচুর কটুক্তি করে দিনরাত একে পঁচাচ্ছি।এপর্যায়ে, অর্থাৎ নবীন ধর্ম উদ্ভাবন আর প্রচারের সময় সেই ছাগলচরানো তরুনটি যেমন কিছু ভাদাইম্যা এবং আকাইম্যা কিন্তু বিশ্বস্ত চ্যালা চামুণ্ডা বা সাহাবী জুটিয়ে ফেলেছিলেন, আমার উদ্ভাবিত নবীন ধর্মটি প্রচার প্রচারনা করতে গিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে আমার বেশ কিছু মুরীদও জুটে গেছে।

তিনি যেরকম একটা ঐশী পুস্তক উপরওয়ালার কাছ থেকে বছরের পর বছর ধরে ডাউনলোড করেছিলেন, আমিও তেমনি পৃথিবীর অনেক বড় বড় শিক্ষিত লোকদের সাথে সলাপরামর্শ করে একটা আরো ভাল পুস্তক লিখেছি। সেটাকে অইশী বা আসমানি কিছু দাবী করলেও এটা যে ঐশী গ্রন্থ নয়, তা প্রমান করা অসম্ভব। তার পরও, বিশ্বাস করা বা না করাতে কিচ্ছু যায় আসে না। এই পুস্তকটিকে হালনাগাদ করার জন্য পরিশিষ্ট, সংযোজন, বিয়োজন প্রক্রিয়া চলমান থাকবে। সেইসাথে আগের পবিত্র বইগুলিতে বর্নীত কল্পকাহিনী আর রূপকথার বদলে আমার পুস্তকে থাকবে মানব সভ্যতার বিবর্তন আর উত্তরোত্তর উন্নতির প্রকৃত সত্য ইতিহাস। এই পুস্তকের ইতিহাস বিষয়ক বিবরণীতে ইতিপূর্বে ধর্মের নামে করা প্রত্যেকটি ধান্দাবাজি আর সংশ্লিষ্ট ধান্দাবাজের প্রকৃত সত্য জীবন ইতিহাসও তুলে ধরা হবে।

আপনারা ভালোই জানেন, বোঝেন, যে আপনাদের পুরাতন বইগুলি আজকের যুগে আর প্রয়োগযোগ্য নেই। এসব বইগুলিতে লেখা পৌরানিক কিচ্ছাকাহিনীগুলি বাদ দিতেই হবে, কারন, এর প্রত্যেকটা কাহিনীই মিথ্যা বা মীথ। আজকালকার শিশুরাও বোঝে, এগুলি স্রেফ কল্পকাহিনী। এসব বইতে একই কথা ঘুরিয়ে পেচিয়ে শত শত বার বলা হয়েছে, সেসব ডুপ্লিকেসিগুলিও বাদ দেন। নিয়মনীতি, আচার আচরন আর সততার প্রশ্নে, প্রত্যেকটি দেশের নিজস্ব আইন কানুন এবং সংবিধান আছে। কাজেই নীতি শিক্ষা দেয়ার নামে পবিত্র বইগুলিতে উল্লিখিত কাল্পনিক পারলৌকিক শাস্তির ভয় দেখানো বাদ দিয়ে, খারাপ লোকের শাস্তি দুনিয়াতেই দিয়ে দেয়ার নিয়ম চালু করেন। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত করে দুনিয়ার ঝুটঝামেলা আর পাপের শাস্তি দুনিয়াতেই খতম করেন। পরকালে শাস্তি হবে কি না হবে সেটার ভয়ে মানুষকে ভীত না করে, অত্যন্ত আজগুবি এবং রসাত্মক বেহেস্তের লোভের ধাপ্পাবাজি বন্ধ করে এসব বিষয়গুলি সেই তথাকথিত পবিত্র গ্রন্থগুলি ঝাড়াবাছা করে বাদ দেয়ার পর সেগুলিতে কিছু অর্থহীন বিজাতীয় ভাষার অক্ষর ছাড়া আর কিছুই বাকি থাকবেনা, নিশ্চিত।

এদিকে দুনিয়ায় আপনাদের একেকটি দল অন্য দলগুলির পুস্তক গুলিকে কোনকালেই সঠিক বা ভালো বলে মেনে নিতে পারবেন প্রত্যেকেই তাদের বইয়ের বাইরে যেতে নারাজ। কাজেই একমাত্র উপায় হচ্ছে সেই বইগুলির প্রত্যেকটিকে টয়লেট পেপার হিসেবে ব্যাবহার করে অথবা শীতের দিনে আগুন পোহানোর কাজে এগুলির সদ্ব্যবহার করতে শুরু করেন। যেসব মানুষকে আপনার চৌদ্দ পুরুষের কেউ কোনদিন দেখেনি, তাদের সম্পর্কে ব্যাক্তিগতভাবে কোন কিছুই না জেনে অসত্য, মিথ্যা, ভুয়া, অর্থহীন কিছু বিষয়কে অন্ধভাবে মেনে নিয়ে সেই সাক্ষ্য দিয়ে সত্যকে আর কতোদিন আড়াল করবেন? সেই ছাগল চরানো লোকটি আসলে কত বড় মহামানব ছিলেন, সেটা প্রচার করতে গিয়ে আজগুবি কিছু অবিশ্বাস্য মিথ্যা আর অপপ্রচার করে, সত্য আর সঠিক তথ্যকে আর কতদিন উপেক্ষা করবেন? তাদের গা থেকে ভন্ডামীর চাদরটা খুলে দেখেন, তিনিও আমাদের সবার মতই দোষেগুনে মেশানো অতি সাধারন একজন ভাগ্যবান চালাকচতুর ধান্দাবাজ, লুটেরা, খুনী, ধর্ষক, লম্পট এবং গনহত্যাকারী মানুষ, যিনি আল্লাহ্‌ নামের এক কাল্পনিক সত্বার বানী হিসেবে প্রচার করে তার যাবতীয় অমানবিক আচার আচরনের অনুমোদন করিয়ে গেছেন। আপনারাই আসলে আপনাদের স্রষ্টার নামের পাশে তার নাম টাঙিয়ে রেখে শিরক করছেন, কুফরী করছেন। মসজিদে মসজিদে বা বাড়িঘরে খুঁজে দেখেন, আল্লাহ আর মুহাম্মদ – এই দুইজনের নাম পাশাপাশি ঝুলিয়ে কাকে ছেড়ে কার পুজা, উপাসনা, প্রসংশা আর কার নামে দোয়া দরূদ বেশী পাঠ করছেন। হিসাব করে বুঝে দেখেন, কারা সবচেয়ে বড় কাফের, মিথ্যাবাদী, সত্য গোপনকারী, গোপনীয়তাপ্রিয় এবং উদ্ভট একটা ধর্ম পালন করছেন, যার না আছে ছাল, না আছে চামড়া।

সত্য কথা শুনলে আপনাদের কাটা ঘায়ে লবনের ছিটা পড়ে, মাথায় আগুন ধরে, ব্রেইনে শর্ট সার্কিট হয়। আর তাকে অক্ষরে অক্ষরে ফলো করে, তার মতই নতুন একটা ধর্ম দাঁড় করাতে চাইলে আজকে আমাকে “নাস্তিক” সাব্যস্ত করবেন।

তাহলে, সেই চৌদ্দশো বছর আগের যুগে পুরাতন সবকটি ধর্মকে অস্বীকার করে, নতুন একটা কমেডি টাইপের ধর্মের প্রবর্তক আমাদের নবীজীও কিন্তু একই অর্থে, জন্মগতভাবে একজন ইহুদী হওয়ার পরও পরবর্তীতে নাস্তিক হয়ে গিয়েছিলেন, কারন তিনি প্রচলিত সবকটি ঈশ্বরের সবাইকে নাকচ করে গিয়েছিলেন। সেইসাথে তার আবিষ্কৃত নতুন ঈশ্বরের নতুন একটা নাম রাখলেন – “আল্লাহ্‌”। সেইসাথে তার নানান ধরনের রূপ আর চারিত্রিক গুণাবলীর বিবরন দিতে শুরু করলেন।

এসব করে তার মত মূর্খ এতিম ছাগল চরানো বালক যদি নানান ধরনের জালিয়াতি, ধাপ্পাবাজি, ধান্দাবাজি এবং যথেচ্ছ যৌনাচার করেও একজন মহামানবে রূপান্তরিত হতে পারেন, সেই একই কাজগুলি কম্পিউটার, ইন্টারনেট, ইত্যাদি প্রযুক্তি ব্যাবহার করে, আরো দক্ষতার সাথে, সুস্থ মস্তিষ্কে সম্পন্ন করার পর আমাকেও কেন তার চেয়ে বড় মহামানব হিসেবে মেনে নেয়া হবেনা? তার চেয়ে আপনি বা আমি কম কিসে?

কাজেই সকল দিক বিবেচনা করে আমি আমার নতুন একটি ধর্ম নিয়ে উপস্থিত হতে চাচ্ছি। এবিষয়ে আমি ইতিপূর্বে অনেকবার অনেক সামাজিক এবং গনমাধ্যমে অনেকবারি বলেছি। আপনারা সেটাকে রম্য রচনা মনে করে প্রচুর হাসাহাসি করেছেন, আবার অনেকে ক্ষোভ উষ্মা, রাগ, অভিমানের পাশাপাশি অনেকভাবেই প্রচুর বৃদ্ধাঙ্গুলিও প্রদর্শন করেছেন। কিন্তু এবার আমাকে আগের চেয়ে আরো সিরিয়াস এবং এগ্রেসিভ মুডে এই ধর্মের প্রচারে নামতে হচ্ছে।

এই ধর্মটি সম্পর্কে সংক্ষেপে কিছুটা বলে রাখি। এই ধর্মে স্রষ্টা অতি অবশ্যই একজন আছেন। তার নাম ওম্নি। উনি এমনি এমনি কিছু করেন না। যুক্তি বুদ্ধি জ্ঞানের বাইরে কিছু বলেন না। যা কিছু বলেন, প্রমান সাপেক্ষেই বলেন এবং করে দেখান। তার একটা বড় নিদর্শন হচ্ছে, এই যে আমি ওম্নির বানী প্রচার করছি, কিন্তু অন্য কোন ঈশ্বরই এটা থামাতে পারছেনা এবং একারনে ইন্টারনেট, ব্লগ বা ফেসবুক ভেঙ্গে পড়ছেনা। আমার স্রষ্টা অম্নি ইতিপূর্বের সমস্ত কঠিন তরল এবং বায়বীয় স্রষ্টাকে লবণ ছাড়াই কাঁচা গিলে খেয়ে ফেলেছেন। সেজন্যেই আমার অম্নি যে সর্বশক্তিমান, তার সবচেয়ে বড় প্রমান, হাজার ডাকলেও আপনাদের ঈশ্বরদের কেউই কোন সাড়া শব্দ করবেনা। ১০০% গ্যারান্টিড।

এই ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ বা পত্রের বিষয়ে আগেই বলেছি। একে পবিত্র পৃষ্ঠা, ডাইনোসরের বিষ্টা, ইংরেজীতে Holy Sheet বা Holy Shit, যা ইচ্ছা বলেন, কোন অসুবিধা নাই। তাতে এই পুস্তকের কোন অবমাননা হবেনা। অন্যান্য পুস্তক, তাদের স্রষ্টা বা প্রচারকদেরকে যেমন অল্পতেই অবমাননা করা যায়, এই পুস্তক, তার স্রষ্টা বা মহামানবদেরকে কিন্তু আপনারা কোনভাবেই অবমাননা করতে পারবেন না। একারনেই আরো একবার পরিষ্কারভাবে প্রমানিত হল, এটি একটি ঐশী পুস্তক। এই পুস্তকের মধ্যে তেমন একটা দুর্বোধ্যতা, হেঁয়ালীপূর্ন বা দব্যারথবোধক কোন বানী বা আয়াত নেই। কথাবার্তা খুব সামান্য। মুল বানী মাত্র তিনটা। এটি পড়ার শুরুতে বা শেষে কারো নাম স্মরন করা অথবা বাড়তি কোন আনুষ্ঠানিকতার কোন প্রয়োজন নেই। শারীরিক, পোষাক আশাক বা পারিপার্শ্বিক পবিত্রতা, ওজু বা গোসলের আবশ্যকতা নাই। কাজেই আমরা সরাসরি এই পবিত্র পুস্তক বা পৃষ্ঠায় চলে যাইঃ

বানী-১ঃ এই পবিত্র পত্র দ্বারা ইতিপূর্বের সকল পবিত্র গ্রন্থকে বাতিল ঘোষণা করা হল।

বানী-২ঃ এই পবিত্র পত্রের পর ভবিষ্যতে আর কোন পবিত্র গ্রন্থ বা পত্র আসবে না, তার নিশ্চিত করা হল।

বানী-৩ঃ কেউ যদি এই পবিত্র পত্রের বানী হিসাবে, এই তিনটির বাইরে চতুর্থ কোন বানী প্রচারের চেষ্টা করে, তাহলে তাকে অবিলম্বে বিপরীত লিঙ্গের, দাগী আসামী এবং যৌন রোগাক্রান্ত, যৌনকর্মী পরিপূর্ণ কারাগারে আ-মৃত্যু বন্দী করে রাখা হবে।

এই পবিত্র পৃষ্ঠার রেফারেন্স হিসেবে ইতিপূর্বের পুস্তকগুলির বাতিল ঘোষনার্থে কিছু পরিশিষ্ট উল্লেখ করা আছে, পবিত্র ওম্নিভার্সেস গ্রন্থে। এই গ্রন্থটি নিন্মরূপ।

১। পড়। যতই পড়িবে, ততই তোমার মন, মস্তিষ্ক এবং চেতনা শানিত হইবে, আলোকিত হইবে এবং আমার সহিত তোমার দূরত্ব কমিতে থাকিবে। আমি এই পুস্তকে তাহাই তোমাদিগকে জানাইব, যাহা তোমাদের মধ্যে বিভেদ আর বিষমের দেয়ালকে চূর্ণ বিচূর্ণ করিয়া তোমাদিগকে আরও ঐক্যবদ্ধ করিবে। তোমাদের ঐক্যবদ্ধতাই তোমাদিগকে আমার নিকটে লইয়া আসিবে। আর তখনই তোমরা আমাকেও তোমাদের মধ্যেই আবিষ্কার করিবে। তোমাদের আত্মজ্ঞ্যান পূর্ণতা পাইবে। আত্মজ্ঞ্যানের পূর্ণতা অর্জন করাই মানবজীবনের প্রধান উদ্দেস্য। মানুষ প্রথমে নিজেকে জানার চেষ্টা করিবে, এবং জানিবে, তোমাদের মধ্যে কোন ভেদাভেদ নাই, তোমরা মনুষ্য জাতির সবাই সমান, তোমরা ঐক্য বদ্ধ হইবে, এবং জানিবে, তোমাদের স্রষ্টাও তোমাদের মতোই, অতি সাধারন একজন, সেদিন তোমাদের নিজ নিজ স্রষ্টার অনুসন্ধান শেষ হইবে। যেদিন জানিতে পারিবে তোমাতে আর আমাতে কোন ভেদাভেদ নাই, তুমিই আমি, আমিই তুমি, সেইদিন তোমাদের আত্মজ্ঞ্যান হইবে, তোমরা আলোকিত হইবে।

২। মানবজাতির জন্মের সূচনালগ্ন হইতেই, তাহাদের মস্তিষ্ক ভাবনা- চিন্তার উপযোগী হওয়ার পর হইতেই, তোমরা নানান ভাবে আমার সন্ধান করিতে শুরু করিয়াছিলে। আমার স্বরূপ কল্পনা করিতে চেষ্টা শুরু কর। কেহ কেহ ধারণা করিয়া লও যেন আমি এক সফেদ শ্মশ্রুমণ্ডিত অতিশিপর বৃদ্ধ, সপ্ত-আসমানের ঊর্ধ্ববর্তি কোন স্থানে একটি সিংহাসনে বসিয়া তোমাদের উপর কড়া নজরদারি বজায় রাখিতেছি এবং তোমাদের প্রতিটি ভালো- মন্দ কাজের হিসাব কষিতেছি । তোমাদের বিশ্বাস, আমি পরম করুনাময়, অসিম দয়ালু এবং তোমাদিগকে অত্যন্ত ভালবাসি। আবার সেই আমার সম্পর্কেই আবার তোমরা মনে কর, আমি তোমাদিগকে একটির পর একটি কষ্টকর পরীক্ষায় ফেলিয়া দিতেছি। আমি একজন অত্যন্ত কঠোর পরীক্ষক এবং সময়বিশেষে একজন অতি পরাক্রারমশালী এবং রাগী একটি স্বত্বা, তোমাদের সামান্য ত্রুটি – বিচ্যুতি হইলেই কাউকে কাউকে পৃথিবীতেই কঠিন শাস্তি দেই এবং তাহাদিগক মৃত্যুর পরবর্তি আরেকটি জীবনেও তোমাদিগকে আবার পুনর্জাগরিত করিয়া জ্বলন্ত আগুনে নিক্ষেপ করিব, কিংবা সর্প এবং বিচ্ছু পরিপূর্ণ একটি খাঁচায় বন্দি করিয়া রাখিব? বস্তুত পক্ষে আমার সম্পর্কে তোমাদের এই বিভ্রান্তি আমাকে প্রতিনিয়তঃ ব্যাথিত এবং দুঃখ ভারাক্রান্ত করে, কোন কোন ক্ষেত্রে বিক্ষুব্ধও করে। তবে নিশ্চিত জানিয়া রাখো, তোমাদের উপর আমি কখনোই বিক্ষুব্ধ হইনা।

৩। আমি বিক্ষুব্ধ হই তাহাদের উপর, যাহারা ইতিপূর্বে আমার বার্তা বহনের দায়িত্ব পালন করিতেছে বলিয়া দাবি করিয়া তাহারা তাহাদের বানীগুলোকে আমার বানী হিসাবে প্রাচার করিয়াছে। তাহাদের ভাষাও ছিল অনুন্নত, হেঁয়ালিপূর্ণ, এবং এসব বানী তাহারা তোমাদের ভাষায় পরিপূর্ণভাবে বুঝাইয়া দিয়া আসিতে পারে নাই। এতে অবশ্য তাহাদের খুব বেশী দোষ দেওয়াও যায় না। কারন সেই সব যুগে মানুষের ভাষা তেমন উন্নত ছিলনা । তাহাদের সেইসব বানীকে তোমাদের বোধের উপযোগী করিবার উদ্দেশ্যে তাহারা নানান ধরনের উদ্ভট ঘটনা এবং কল্পকাহিনীর উদাহরন সংযোজন করিয়া আমার প্রেরিত পবিত্র গ্রন্থ হিসাবে প্রচার করিতে গিয়া তাহারা ধর্ম বা শান্তি অনায়নের নামে যুদ্ধ বিগ্রহ, প্রাণহানি আর সম্পদ ধ্বংস করিয়াছে। গ্রন্থগুলি সংকলন, ভাষান্তর কিংবা আধুনিকিকরনের নামে ঐগুলিকে আরও দুর্বোধ্য এবং বিতর্কিত করিয়া তুলিয়াছে মাত্র। আর প্রতিটি পুস্তকই তৎকালীন এবং পরবর্তী শাসকগোষ্ঠীর দ্বারা পরিবর্তিত, পরিমার্জিত, রূপান্তরিত এবং কলুষিত হইয়া শাসক গোষ্ঠীর শোষণ আর নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ারে পরিণত হইয়াছে। বস্তুত পক্ষে সেসকল পুস্তক যেযুগে যেসকল জাতির জন্য প্রয়োজন ছিল, তাহাদের উপরই অবতীর্ণ হইত বলিয়া অনেকেই সেই নতুন পুস্তকের প্রচারনা চালাইত। যুগের পরিক্রমা এবং স্থানভেদে তাহারা হালনাগাদ বানী সম্বলিত নতুন নতুন কিতাব প্রদান করিয়াছে। যাহারা, ইতিপূর্বে আমার বার্তা তোমাদের নিকট উপস্থাপন করিয়াছিল বলিয়া দাবি করিয়াছিলান, তাহাদের প্রত্যেকেই যদিওবা তাহারা তাহাদের নিজেদের কথাগুলিই বলিতেন, তাহারাও তোমাদের মতই মানুষ মাত্র, ক্ষেত্রবিশেষে হয়তোবা কেউ অন্যদের তুলনায় কিছুটা বেশী বুদ্ধিমান, উচ্চমাত্রার নেতৃত্ব গুণসম্পন্ন, উন্নত বাচনভঙ্গির অধিকারী, দক্ষ জাদুকর কিংবা কিছুটা সৌভাগ্যবানও ছিলেন। কিন্তু তোমরাই তাদের মৃত্যুর পর প্রমান ব্যাতিরেকে তাদের সম্পর্কে নানান ধরনের উদ্ভট রুপকথা কিংবা কল্পকাহিনী তৈরি করিয়া তাহাদিগকে অলৌকিক ক্ষমতাবান হিসাবে প্রচার করিয়া বস্তুতপক্ষে আমার অস্তিত্ব, আমার স্বরূপ, আমার বানী, আমার প্রেরিত মহাপুরুষ ইত্যাদি লইয়া নিজেদের মধ্যে বিভেদ, মতভেদ বিতর্ক আর রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ বিগ্রহের সৃষ্টি করিয়াছ।
৪। আমার প্রেরিত বার্তাবাহক হিসাবে সর্বশেষ যিনি দাবি করেছিলেন, সেই মুহাম্মদ, আমার সর্বশেষ কিছু ঐশী বানী লাভ করিয়াছিলেন বলিয়া দাবি করিয়াছিলেন। সেই বানীগুলি তাঁর অসাধারন কাব্য প্রতিভা আর মনের সকল মাধুরী মিশাইয়া তাহার বন্ধুবান্ধবগণের মধ্যে আবৃতি করিতেন। তা লেখা হইত গাছের পাতা, বাকল, চামড়া, কাপড় কিংবা মোটা কাগজে। তিনিও নিজে সর্বদা সবাইকে বলিতেন, তিনিও অন্য সবার মতো একজন সাধারন মানুষ মাত্র। বহুবার তুচ্ছতাচ্ছিল্য, উপহাশ কিংবা অনুরোধ করার পরও তিনি অলৌকিক কোন কিছুই প্রদর্শন করেন নাই। তিনি তাঁর ক্ষুরধার বুদ্ধি, কৌশল, চাতুর্য এবং কিছুটা ভাগ্যগুনে, আরব অঞ্চলের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে পৌঁছাইয়া গিয়াছিলেন। তাহার অলৌকিকত্বের প্রমান হিসাবে ‘কুরআন’ নামক যে পুস্তকটি বিশ্বব্যাপী ছড়াইয়া পড়িয়াছে, তাহাতে আমার বানীগুলি সামান্যই স্থান পাইয়াছে। আর বেশীরভাগ অংশই তাহার কৌতূহলী, খেয়ালি, ভাবুক মনের কাব্যিক বহিঃপ্রকাশ মাত্র। আর জীবিত অবস্থায় সে তাহার মুখনিঃসৃত যেকোনো অদ্ভুত কিংবা উদ্ভট বিষয়েও তাঁর নিজের মতামতকে আমার ঐশী বানী হিসাবে চালাইয়া দিতো। এবিষয়ে তাঁর প্রিয়তমা স্ত্রী আয়েশা তাকে মস্করা করিয়া বলিয়াছিলেন, “আপনার স্রষ্টার তো আর কোন কাজ নেই, আপনার ছোট খাটো বিষয়েও দরকার পড়লেই ওহী নাজিল করিতে তাহার বিন্দুমাত্রও সময় লাগে না!” তাহার অসাবধানতায় তাহার প্রতি ওহী নাজিল হইয়াছিল বলিয়া উল্লিখিত একটি বানী ছিল, “যদি কেহ তাহার নিজের মনগড়া কথা বা বানী আমার ওহী হিসাবে চালাইয়া দিতে চায়, তাহা হইলে তাহার মৃত্যু হইবে তাহার হৃৎপিণ্ডের রক্তনালী বন্ধ হইয়া।” নিয়তির কি পরিহাস, এক ইহুদি মহিলার বাড়িতে দাওয়াত খাইবার সময় বিষমিশ্রিত ছাগলের মাংশ খাইয়া তার বিষক্রিয়ায় কয়েক ম্যাস শয্যাশায়ী থাকার পর মৃত্যুর পূর্বে তিনি মাঝে মধ্যে বলতেন, তাঁর হৃৎপিণ্ডের রক্তনালী যেন বন্ধ হইয়া আসিতেছে। তিনি মৃত্যুর পূর্বে সেই কোরআন সংকলনের কোন ব্যাবস্থা করিয়া যাইতে পারেন নাই, কিংবা এর সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে কোন পরামর্শও দিয়া যান নাই। তাহার মৃত্যুর পর কে হইবেন তাঁর পরবর্তী আরব জাহানের নেতা, তাহাও বলিয়া যাইতে পারেন নাই। অতঃপর, আরও প্রায় দুইশত বছর পর নিজেদের মধ্যে খেলাফতি লইয়া অনেক মতভেদ, বিবাদ, যুদ্ধ এবং হানাহানির পর, ইমাম উসমান তাঁর শাসনামলে কুরআন সংকলনের উদ্যোগ গ্রহন করেন। তিনি তাঁর বিবেচনা ও পছন্দ অনুযায়ী সাজাইয়া গুছাইয়া, কাটছাঁট করিয়া যে গ্রন্থখানা দাঁড় করাইলেন, তা কোনক্রমেই সার্বিকভাবে আমার প্রেরিত ওহী নয় । আমি যদি তোমাদের জন্য কোন নীতিমালা, পুরনাঙ্গ জীবন বিধান, অথবা ঐশী গ্রন্থ প্রেরন করি, তখন তাতে কোন দুর্বোধ্যতা বা হেঁয়ালি থাকার কথা নয়। যাহা বলার, আমি তাহা স্পষ্ট ভাষায় মানুষের নিকট পৌঁছাইয়া দেওয়ার ক্ষমতা রাখিতাম।

৫। কাজেই আজ অতীব প্রয়োজন পড়িয়াছে এবং সুযোগ হইয়াছে বর্তমান বিশ্বের আধুনিকতা ও গতিশীলতার সহিত মানানসই এবং আধুনিক জীবন যাপনের জটিলতা থেকে মুক্তির পথ প্রদর্শনের উপযোগী একটি যুগোপযোগী বিশ্বজনীন পবিত্র পুস্তকের যা মানুষে মানুষে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করে গোটা মানব জাতিকে ঐক্যবদ্ধ্ করিবে । আমার স্বরূপ আর অস্তিত্বের প্রকারভেদ তোমাদের মধ্যে যে বিভেদ সৃষ্টি হইয়াছে, তাহার জন্যেও তোমাদের আরও আগেই আরও পুস্তক ও বানী পাঠানোর চিন্তা করেছিলাম। কিন্তু মুহাম্মদের কিছু বানীর কারনে, বিভ্রান্ত- বিবেকবোধহীন কিছু মানুষের উগ্রপন্থী এবং ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ পর্যালোচনা করিয়া বর্তমান পৃথিবীতে আমার বার্তাবাহক হইতে কাউকে রাজী করানো যাইতেছিল না। মুহাম্মদ ঘোষণা করিয়া গিয়াছিলেন, তিনিই শেষ বার্তা বাহক, তাহার পর আর কোন বার্তা বাহক আসিবেন না, আর কোন প্রকার ঐশী বানী আসিবে না। কিন্তু ইহা কি অত্যন্ত হাস্যকর বিষয় নহে যে আমি পৃথিবীর পরিবর্তনের সাথে সাথে মানানসই দিক নির্দেশনা বা ঐশী বানী না পাঠাইয়া আমি নিষ্কর্মা দর্শকের ভুমিকা লইয়া পড়িয়া থাকিব?

৬। মুহাম্মদ অবশ্য একটি রাখিয়া গিয়াছিল। ঈশা নামের তাহার পূর্ববর্তী একজন ঐশী বার্তাবাহককে যখন সেই অঞ্চলের শাসনকর্তার সৈন্যরা ক্রুশ বিদ্ধ করিতে লইয়া যাইতেছিল, তখন আমি নাকি তাকে সশরীরে ঊর্ধ্বাকাশে তুলিয়া লইয়া গিয়াছিলাম । তখন সৈন্যের দল ঈশার সহিত সাদৃশ্যপূর্ণ আরেক নিরপরাধ ব্যাক্তিকে ক্রুশ বিদ্ধ করে হত্যা করে । মুহাম্মদ বলিয়া গিয়াছিল, কিয়ামত বা পৃথিবীর ধ্বংস হইবার আগে ঈশা নবী পুনরায় পৃথিবীতে আগমন করিবেন। তিনি আসিবেন মুসলিম জাহানের নেতা ইমাম মাহদিকে সহযোদ্ধা হিসাবে সহায়তা করার জন্য, যিনি পৃথিবীতে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত করিবেন। মুহাম্মদের ভবিষ্যৎবানীকে সন্মান করতঃ আমি পৃথিবীর এক ছোট্ট দেশ বাংলাদেশে ইমাম মাহদি আর ঈশাকে চল্লিশ বছর পূর্বে পৃথিবীতে প্রেরন করিয়াছিলাম । তাহারা এখন তাহাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব অত্যন্ত সুচারুরূপে পালন করিয়া যাইতেছে। তাহারা প্রয়োজনে যথোপযুক্ত সময়ে সশরীরে জনসন্মুখে আবির্ভূত হইবেন ।

৭। আমার সম্পর্কে তোমাদের কৌতূহলের শেষ নাই। আমার বিষয়ে তোমাদের কল্পনাপ্রবনতা আমাকে মুগ্ধ, বিস্মিত এবং আবেগাকুল করে। আমি কে, কি প্রক্রিতির, তাহা সমর্পকএ তোমাদের কল্পনাবিলাসেরও অন্ত নাই। যে যাহা বলে বলুক, ভাবে ভাবুক, যে নামেই দাকে ডাকুক, তাহাতে আমার কিছুই যায় আসে না। তোমরা আমার যত গুণগান, প্রশংসা এবং যে ভাবে খুশি আমার ইবাদত বন্দেগীর মাধ্যমে তৈলমর্দন কর না কেন, তাতে আমার কোনপ্রকার ক্ষতিবৃদ্ধি হয় না, বরং ওইসকল অর্থহীন কাজকর্মে যে সময়ের অপচয় কর, আমার প্রার্থনা করার জন্যে প্রার্থনালয় নির্মান করিয়া যে পরিমান অর্থের অপব্যায় কর, সেই অর্থ-সম্পদ দ্বারা শিক্ষালয়, গ্রন্থাগার এবং জ্ঞান চর্চাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করিলে তোমরা জ্ঞান-বিজ্ঞানে আরো অগ্রসর হইতে পারিতে।

৮। তোমরা মনে কর, আমি অতীত, বর্তমান এমনকি ভবিষ্যতেও যাহা ঘটিবে আমি সবকিছু সম্পর্কেই সম্যক অবগত রহিয়াছি এবং কেহ কেহ বল, সবই আমার পুর্বনির্ধারিত। আবার তোমরাই আমার নিকট নানান প্রকৃতির চাহিদা, আবদার এবং সমস্যার সমাধান প্রার্থনা কর। তোমাদের তবে কেন মনে হয় যে আমি তোমাদের প্রার্থনার ভিত্তিতে আমার সেই পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনার পরিবর্তন করিয়া তোমাদের জন্য নতুন কিছু নির্ধারণ করিব?

৯। তোমরা বল, তোমাদের স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি আছে। তোমরা তোমাদের ইচ্ছা মোতাবেক যা খুশী করিতে পার। আবার সেই তোমরাই তবে কি করিয়া বল, আসমান জমিনের সবকিছুই আমার নিয়ন্ত্রণাধীন? আমার হুকুম ছাড়া নাকি গাছের একটি পাতাও নড়ে না। সেইক্ষেত্রে আমার নিয়ন্ত্রণাধীন তোমাদের কোন কৃতকর্মের জন্যে কোন যুক্তিতে তোমাদিগকে ইহকালে কিংবা মৃত্যুর পর শাস্তিভোগ করিতে হইবে, বলিতে পার কি? বস্তুতপক্ষে, তোমরা আমাকে কোনদিনই সম্পুর্ন রুপে দেখিতে, শুনিতে এবং অনুধাবন করিতে পারিবে না। কাজেই, আমার সম্পর্কে না জানিয়া, না বুঝিয়া কোনরুপ গুন বা দোষ আরোপ করিওনা।

১০। সৃষ্টির শুরু কোথা হইতে, কিভাবে, তাহা লইয়া তোমাদের চিন্তার শেষ নাই। তোমরা বল, সবকিছুই আমার সৃষ্ট। কিন্তু তোমরা কেন প্রশ্ন করোনা, তোমাদের স্রষ্টাকে কে সৃষ্টি করিল? সৃষ্টির আদিতে যখন কিছুই ছিলোনা, তখনো নাকি আমি ছিলাম একাই। সেই আমিই বা কোথা হইতে আসিলাম? আর কি কারনেই বা একসময় খেলা ভঙ্গ করিয়া সবকিছু ধ্বংস করিয়া আবার একলা হইয়া যাইব?
ধর্ম আর ঈশ্মাবর লইয়া তোমাদের এই হিংসাত্মক কার্যকলাপ দেখিয়া, এতো অসাম্য আর ভেদাভেদ দেখিয়া বিন্দুমাত্রও ক্ষমতা থাকিলে এক মুহূর্তেই আমি সব সমসস্যার সমাধান করিয়া দিতে পারিতাম। কিন্তু আমার সেই ক্ষমতা নাই। সেই অক্ষমতা প্রকাশ করতঃ রাগে দুঃখে অক্ষমতার ক্ষোভে আমি অদ্য ৩১ শে ডিসেম্বর ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দ রোজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত ১১ঃ৫৯ মিনিটে সম্পূর্ণ সেচ্ছায়, সজ্ঞানে, কড়ি কাষ্ঠে ওড়না দিয়া ফাঁসি লটকাইয়া আত্মহনন করিলাম। পহেলা জানুয়ারি, ২০০০ সালের সূচনালগ্ন হইতে মানব জাতি আমাকে ছাড়াই চলিতে পারিবে, যেইরুপ চলিয়া আসিতেছে লক্ষাধিক বছর ধরিয়া আমার কোনপ্রকার হস্তক্ষেপ ব্যাতিরেকেই। সমগ্র মানবজাতি, সকল জীব, আর বিশ্ব-ভ্রম্মান্ডের সকল সৃষ্টির জন্য রইল আমার শুভকামনা।

এই ঐতিহাসিক বিবরণী বা অম্নিভার্সেস ছাড়াও প্রাত্যাহিক জীবনযাত্রার সুবিধার্থে কিছু নিয়ম কানুন তো থাকবে। তবে তার সংখ্যাও কোনভাবেই একশোর বেশী হবেনা, সেরকমই ঠিক করা আছে। সময়, অবস্থা, পরিবেশভেদে কিছু কিছু আপডেট বা ব্যাতিক্রমও মেনে নেয়া যাবে। কিন্তু কোন বিষয়েই অতিরিক্ত কড়াকড়ি নাই। যাইভহোক, আমরা তাহলে সেই নিয়মকানুনগুলোর দিকে মনোযোগ দেইঃ

১। ব্যাক্তি স্বাধীনতাঃ শারীরিকভাবে কাউকে আঘাত করা ছাড়া, প্রত্যেকটি মানুষ তার নিজ খেয়াল খুশিমত যা খুশি করতে, বলতে এবং লিখতে পারবে।

২। খাদ্যঃ প্রত্যেক ব্যাক্তি তার খেয়াল খুশি এবং পছন্দ অনুযায়ী যা খুশি, যত খুশি খাদ্য গ্রহণ করতে পারবে, তবে কারো কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে নয়। আর বিশেষ কিছু খাদ্য, পানীয় ইত্যাদি গ্রহণের পর কিছু জটিল পাটিগণিত সঠিকভাবে করতে না পারা পর্যন্ত কোন প্রকার যানবাহন চালানো নিষেধ। আর প্রাণী হত্যা করে খাওয়ার আগে সেই প্রাণীটির লিখিত অনুমতি নিতে হবে। টিপসই হলে চলবে না।

৩। বস্ত্রঃ প্রত্যেক ব্যাক্তি সময়, আবহাওয়া, পারিপার্শ্বিক পরিবেশ বিচার করে, অথবা অগ্রাহ্য করে যে কোন ধরণের পোশাক-আশাক পরতে পারবে। ইচ্ছা করলে, স্বল্প পোষাকে অথবা বিনা পোশাকেও যে কোন জায়গায় যেতে পারবে, শুধু তার নিজের ঠাণ্ডা বা গরম না লাগলেই হল। অন্য কেউ শারীরিক বা মানসিক ভাবে উত্তপ্ত, উত্তেজিত অথবা শীতল বোধ করলে সেটা তার সমস্যা, এবং সেক্ষেত্রে, সেই ব্যাক্তি কাঁথা বা কম্বল পেঁচিয়ে, অথবা টিনের সানগ্লাস পরে বাইরে চলাচল করতে পারে।

৪। বাসস্থানঃ প্রত্যেক ব্যাক্তির বাসস্থান হিসাবে সর্বোচ্চ একশো বর্গ ফুট (১০ ফুট বাই ১০ ফুট) জায়গা বরাদ্দ থাকবে। অতিরিক্ত জায়গা অন্য কারো নামে বরাদ্দ করা হবে। কেউ ইচ্ছা করলে অন্য কারো সাথে জায়গা শেয়ার করতে পারে, এবং শান্তিপূর্ণ ভাবে সহাবস্থান করলে কিছু বোনাস জায়গাও বরাদ্দ করা যেতে পারে।

৫। চিকিৎসাঃ সকল চিকিৎসা ফ্রি। অর্থের বিনিময়ে শুধু বডি ম্যাসেজ করা যেতে পারে।

৬। শিক্ষাঃ স্কুলে শুধুমাত্র ন্যায় নীতি শিখানো হবে। বিশিষ্ট ধর্মীয় ব্যাক্তিত্তরা আসলে কত বড় বড় ভণ্ড ছিলেন, তাও ইতিহাস শিক্ষার অংশ হতে হবে।

৭। অর্থনীতিঃ কাগজের টাকা শুধু বাদাম বিক্রি করার ঠোংগা কিংবা শীতকালে আগুন পোহানোর কাজে ব্যাবহার করা যাবে। টয়লেট পেপার হিসাবেও ব্যাবহার করা যেতে পারে, যদিও টয়লেট টিস্যু এক্ষেত্রে বেশী কার্যকরী। সোনা রুপা প্লাটিনাম হীরা মুক্তা – এসব কোন কাজের জিনিস না। তার চেয়ে লোহা, এলুমিনিয়াম, কাচের গ্লাস-প্লেটের দাম বেশী থাকবে।

৮। যোগাযোগঃ প্রত্যেক মানুষের স্মার্টনেস লেভেল অনুযায়ী পরিপূরক হিসাবে উপযুক্ত স্মার্ট ফোন থাকবে। বেশী বোকা মানুষদেরকে ট্যাব বা ল্যাপটপ দেয়া যেতে পারে।

৯। উপাসনাঃ শুধুমাত্র উদ্ভিদ বা বৃক্ষের উপাসনা করা যাবে। কাউকে অন্য কোন দৃশ্যমান বা অদৃশ্য কিছুর উপাসনা করতে দেখা গেলে অবিলম্বে নিকটস্থ মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করে দিতে হবে।

১০। যাতায়াতঃ জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন ছাড়া কোনপ্রকার ব্যাক্তিগত যানবাহন ব্যাবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে বাইসাইকেল ব্যাক্তিগত যানবাহন হিসাবে গণ্য হবে না।

১১। রাজনীতিঃ কোন ব্যাক্তি নিজেকে রাজনীতিবিদ অথবা কোন প্রকার রাজনৈতিক মতাদর্শের অনুসারী হিসাবে ঘোষণা বা আত্মপ্রকাশ করার সাথে সাথে তাকে জেলখানা অথবা মানসিক হাসপাতালে অন্তরীন করে রাখতে হবে, ততদিন পর্যন্ত, যতদিন না সে “রাজনীতি” বানান করতে ভুলে যায়।

১২। ভিসা/ পাসপোর্টঃ কোন প্রকার দেশীয় বা আন্তর্জাতিক সীমানা থাকবে না। পাসপোর্ট / ভিসার প্রশ্নই আসে না। সেইসাথে যেহেতু কোন আন্তর্জাতিক সীমা রেখা থাকবে না, কাজেই, কোন প্রকার সশস্ত্র বাহিনীরও প্রয়োজন পড়বে না। বাঁশের লাঠি ব্যাতিত সকল অস্ত্রশস্ত্র প্রশান্ত মহাসাগরের মারিয়ানা ট্রেঞ্চের কাছে ডুবিয়ে দেয়া হবে। সাদা কালো ভেদাভেদ দূর করার জন্যে সাদাদেরকে আফ্রিকা কিংবা গরম কোন অঞ্চলে আর কালোদেরকে ফিনল্যান্ড, গ্রীনল্যান্ড বা সাইবেরিয়া জাতীয় জায়গায় বাধ্যতামূলক স্থানান্তর করা যেতে পারে।

১৩। নিরাপত্তা বাহিনীঃ যেহেতু কারো কোন ব্যাক্তিগত সম্পত্তি থাকবে না, চুরি যাওয়ার প্রশ্নই আসে না। কাজেই চোর না থাকলে পুলিশ থাকারও কোন প্রশ্নই আসে না। তাছাড়া, রাজনীতিবিদ না থাকলে চুরি দুর্নীতি ইত্যাদি শব্দ ডিকশনারি থেকে উঠে যাবে, পুলিশ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রয়োজনই থাকার কথা না।

১৪। আইন প্রণয়নঃ প্রত্যেক অঞ্চলের ১৫ বছর বয়সের কম বয়সী প্রতিনিধিদের একটি কমিটি আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক আইন কানুন তৈরি এবং আপডেট করবে। এর বেশী বয়সীদেরকে নিয়মিত স্কুলে গিয়ে প্রণীত আইন সমূহ মুখস্ত করে প্রচারে লিপ্ত থাকতে হবে। বয়স্ক কোন ব্যাক্তি ত্যানা পেঁচাতে চাইলে তাকে ত্যানা পেঁচিয়ে ভরা বাজারে সাত চক্কর দেয়ানো হবে, মিনিমাম শাস্তি হিসাবে।

১৫। মাদক দ্রব্যঃ কোন বিধিনিষেধের দরকার নাই। স্টক থাকা পর্যন্ত যে যত চায় পেটভরে খাক। যারা মরতে চায়, মরে যাক। নানান কায়দা কানুন করে তাদেরকে জোর করে বাঁচিয়ে রাখার তেমন কোন ফলপ্রসূ উপায়/ব্যাবস্থা কোনদিনই কার্যকর করা সম্ভব না।

১৬। ফেইজবুকঃ সাত বিলিয়ন মানুষের সবার ফেইজবুক একাউন্ট থাকবে। সবাই সবার ফ্রেন্ড থাকবে। কেউ কাউকে আনফ্রেন্ড / ব্লক করলে দুইজনকেই একত্রে আন্দামানে পাঠিয়ে দেয়া হবে, যতদিন মিটমাট / ফয়সালা না করতে পারে নিজেদের মধ্যে, তত দিনের জন্যে।

আরো কিছু নিয়ম চিন্তা ভাবনার পর্যায়ে আছে। আপাতত এই ষোল টাই, দেখেন, কার্যকর ঘোষণা করার আগে কোন প্রকার পরিমার্জনা, সংস্কার করতে হবে কিনা। আপনার মন্তব্য গুরুত্তের সাথে বিবেচনা, এবং পুনরবিবেচলা করা হবে।

বলে রাখা ভালো, আমি এই ধর্মের কোন প্রকার উচ্চপদস্থ মহামানব নই। আমি এই ধর্মের একজন অতিসাধারণ দলিল রক্ষক এবং প্রচারক। মুল বার্তাবাহক হিসাবে, অম্নি স্বয়ং, মানব সম্প্রদায়ের ইতিহাসে প্রথমবারে মত একজন সুদর্শনা নারীকে মনোনীত করেছেন। তিনি মহিলা ঈশা নবী হিসেবে চল্লিশ বছর বয়সে এসে তার দায়িত্ব গ্রহণে রাজী হয়ে এই ধর্মের প্রচার ও প্রসারে তার সাধ্যমত অবদান রাখতে রাজী হয়েছেন। তিনি বর্তমানে লন্ডনে হিজরতে আছেন। বাংলা এবং ইংরেজি পড়তে এবং লিখতে পারেন। তিনি দিনের বেশীরভাগ সময় গভীর ধ্যানে লিপ্ত থাকেন এবং কিছু কিছু বানী আমার কাছে সর্বাধুনিক পদ্ধতিতে, ব্ল্যাক এন্ড হোয়াইট, ইমেইল, ফেইজবুক ম্যাসেঞ্জার ইত্যাদির মাধ্যমে পৌছে দেন। এর মধ্যে কোন রকমের হ্যাঙ্কি প্যাঙ্কি নাই। ইতিপূর্বে বেশ কয়েকজন মহামানব এই ধর্মের বানী প্রচার করে গেছেন এবং সুখে শান্তিতে জীবনযাপন করে যথাসময়ে দেহত্যাগ করেছেন। তারপরও, তাদের শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী, মৃত্যুর পরও, তাদেরকে ঐশী বার্তাবাহক হিসাবে বিবেচনা না করে সাধারণ মানুষ হিসাবেই গণ্য করার অনুরোধ জানিয়ে গেছেন। বর্তমানেও কিছু জীবিত এবং নিজ নিজ ক্ষেত্রে স্বনামধন্য ব্যাক্তিগনও ঐশী বানী প্রাপ্ত হন, কিন্তু সেই বানীসমূহকে স্বনামে সংগীত, সাহিত্য, ইত্যাদি হিসাবে প্রচার করছেন। এটা আমাদের ধর্মে কোন অপরাধ নয়। কারন এটা তাদের ব্যাক্তিগত কর্মপদ্ধতি এবং কলাকৌশল। কারন, বর্তমান জামানায় কেউ যদি নিজেকে ঐশী বার্তাবাহক হিসেবে দাবী করে বসে, তখন তাদেরকে কিছু উগ্র মেজাজের ব্রেইন ওয়াশড অমানুষ কি পরিমাণ হেনস্তা করতে পারে, তা নিশ্চয়ই আপনারা অনুধাবন করতে পারছেন।

যাইহোক, আমাদের ধর্মের মূল বানীসম্বলিত পবিত্র পত্র এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট আনুষঙ্গিক দলিলপত্রের বর্ণনা, ব্যাখ্যা, তফসির, শানে নজুল ইত্যাদির জন্যে নিন্মলিখিত পয়গম্বরদের বানী ও রচনা বলী ব্যাবহার করা যেতে পারে।

১। হজরত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
২। হজরত হুমায়ুন আহমেদ
৩। হজরত সুনীল গংগোপাধ্যায়
৪। হজরত সঞ্জিব চট্টোপাধ্যায়
৫। হজরত জন লেনন
৬। হজরত ষ্টিফেন হকিং
৭। হজরত আইনষ্টাইন
৮। হজরত শেখ মুজিব
৯। হজরত জিয়াউর রহমান
১০। হজরত ….. আরো অনেকেই।

এই ধর্মের মূল নীতি অনুযায়ী যদিও জীবিত কাউকে নবী বা রসুল ঘোষণা করা যায় না, তথাপি, একজন প্রকৃত মহিলা নবী এবং রসুল এই ধর্মের বানী, তফসির, হাদিস, ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণের স্বার্থে অত্যন্ত মারাত্মক বিপদের ঝুঁকি নিয়েও সর্বশেষ জীবিত নবী এবং রসুল হিসাবে আত্মপ্রকাশে রাজী হয়েছেন। আপনারা জানেন, ইতিপূর্বে সকল বড় বড় প্রতিষ্ঠিত ধর্মে কোন প্রকার নারীকে নবী বা রসুলের দায়িত্ব এবং মর্যাদা দেয়া হয় নাই। বরং মাত্রাতিরিক্ত বেশী বা অতি ক্ষীণ যৌন ক্ষমতার অধিকারী কিছু পুরুষ তাদের বিভ্রান্ত যৌন ক্ষমতার মতই বিভ্রান্তিকর বানী প্রচার করে গেছেন, যার ফলশ্রুতিতে নানান ধরনের ফিতনা ফ্যাসাদে দুনিয়াময় শান্তির পরিবর্তে অশান্তির দুর্বিপাকে পড়ে প্রচুর যুদ্ধ বিগ্রহ ঘটে গেছে। তাই আমাদেরকে কাজ করতে হচ্ছে গোপনে, সাবধানতার সাথে।

এই ধর্মের অনুসারীদের একটি ফেইজবুক গ্রুপ আছে। আপনার চিন্তা চেতনা ধ্যান ধারনার সাথে মিল খুঁজে পেলে আপনিও এই গ্রুপে যোগ দিতে পারেন। গ্রুপের নামঃ “Omniverse” (https://www.facebook.com/groups/1483297795279645/%29। রিকোয়েস্ট পাঠান, আমরা আপনার আচার আচরণ দেখে বুঝে মেম্বার করে নিব। কিন্তু কোন বেয়াদপি করলে, কল্পনারও বাইরে, এমন কিছু জটিল শাস্তি দেয়া হবে। কারন এই গ্রুপে বিশ্বের প্রায় ১৪৩ টি দেশের সদস্য আছে। এরা প্রত্যেকেই বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী।

আপাততঃ এই পর্যন্তই।

(আপডেট, সম্পাদনা, পরিমার্জনা, ইত্যাদির কাজ ধীরে সুস্থে চলিতেছে। আমাদের ধর্ম মতে, আমরা কোনকিছুতেই তাড়া হুড়া করিনা। বরং, যতদূর সম্ভব, আলস্যের সাথে কাজকর্ম করি। টেনশন বা তাড়াহুড়া করে পৃথিবীতে কোন কালেই ভালো কিছু করা যায়নি। আমাদের কোন তাড়া নেই।)

#এস্কিউ

২ thoughts on “নতুন একটি ধর্ম

  1. আমারে এই ধর্মের অনুসারি হইতে
    আমারে এই ধর্মের অনুসারি হইতে হইলে কি করতে হইবো, তাড়াতাড়ি জানান। তয়, তাফসিরের জন্য যাদের নাম কইছেন, তাদের কাউরে কাউরে আমার পছন্দ না- তাইলে কি হইবো তাও জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *