যারা ষড়যন্ত্রকারী তারা সব সময় ই ষড়যন্ত্র করে চলে।

আমি যেখানে থাকি-সেখানকার একটি দোকানে প্রায় প্রতিদিনই এক অল্প বয়সি হুজুর এসে বসেন।সুমিষ্ট কন্ঠের অধিকারী দেখতে অনেকটাই সুন্দর সাথে আস্থাশীল ব্যাক্তিত্বের সমন্বয়ে আকর্ষনীয় এক যুবক।এখনো তিনি ছাত্র-পড়াশোনা আরবী লাইন এ।

দোকানদার ভদ্রলোক জামায়াত এর রাজনীতির আদর্শের অনুসারী।সঙ্গত কারনেই সেখানে মাঝে মধ্যেই অনেক জামায়াত অনুসারীদের আসা যাওয়া হয়।তাদের বেশীরভাগই অর্ধশিক্ষিত-অশিক্ষিত।নিয়মিত নামাজ পড়া এবং ইসলামী জীবনাচরন তাদের মধ্যে বেশ লক্ষ্য করা যায়।ঐ সমস্ত ধর্মভীরু মানূষদের কিভাবে ধর্মিও অনুভুতি কাজে লাগিয়ে বিপথে চালনা করা হয় আজ আমি সে কথায় বলব!!


আমি যেখানে থাকি-সেখানকার একটি দোকানে প্রায় প্রতিদিনই এক অল্প বয়সি হুজুর এসে বসেন।সুমিষ্ট কন্ঠের অধিকারী দেখতে অনেকটাই সুন্দর সাথে আস্থাশীল ব্যাক্তিত্বের সমন্বয়ে আকর্ষনীয় এক যুবক।এখনো তিনি ছাত্র-পড়াশোনা আরবী লাইন এ।

দোকানদার ভদ্রলোক জামায়াত এর রাজনীতির আদর্শের অনুসারী।সঙ্গত কারনেই সেখানে মাঝে মধ্যেই অনেক জামায়াত অনুসারীদের আসা যাওয়া হয়।তাদের বেশীরভাগই অর্ধশিক্ষিত-অশিক্ষিত।নিয়মিত নামাজ পড়া এবং ইসলামী জীবনাচরন তাদের মধ্যে বেশ লক্ষ্য করা যায়।ঐ সমস্ত ধর্মভীরু মানূষদের কিভাবে ধর্মিও অনুভুতি কাজে লাগিয়ে বিপথে চালনা করা হয় আজ আমি সে কথায় বলব!!

হুজুর বিভিন্ন মডেলের কয়েকটা মোবাইল ব্যাবহার করেন।আছে একটা অত্যাধুনিক আই ফোন এবং ল্যাপটপ।তিনি ইন্টারনেট ব্যাবহার করেন-ফেসবুক এবং ব্লগ এ নিয়মিত বিচরন করেন।ইন্টারনেটের কল্যানে বিভিন্ন প্রকার ইসলামী ছবি-আরবীতে আল্লাহ ও নবীজীর লেখা নাম-বিভিন্ন দোয়া আয়াত তিনি তার ল্যাপটপ ও মোবাইল এ সংরক্ষন করে রাখেন এবং ঐ দোকানে যে সমস্ত মুসল্লীগন আসেন তাদেরকে প্রদর্শন করেন।সাথে সাথে হুজুর তার নিজের মত করে বিভিন্ন ছবি গান ভিডিও দেখিয়ে সেগুলো কোথায় কিভাবে ব্যাবহার হয়েছে সে সমস্ত ঘটনা বর্ননা করেন।জিহাদ কি কেনো জিহাদ করা উচিৎ জিহাদ না করলে মুসলীম হিসাবে পরিচয় দেয়া যায় না-ইত্যাদি ইত্যাদি বুঝিয়ে তিনি বাহবা কুড়ান।

মাঝে মধ্যেই দেখা যায় বিভিন্ন ধরনের ভিডিও গেম চালিয়ে হুজুর সেগুলোকে ইরাক এর মার্কিন বিরোধী যুদ্ধ কিংবা আফগানিস্থানের মার্কিন বিরোধী যুদ্ধ বলে চালিয়ে দেন এবং মুসলীম মুজাহিদরা কিভাবে যুদ্ধ করছে তা বয়ান করেন-অর্ধশিক্ষিত অশিক্ষিত মুসল্লীরা হুজুরের বয়ান সত্যি ভেবে সহজেই সেগুলোকে বিশ্বাস করে এবং মারহাবা আলহামদুলিল্লাহ বলে ইসলামীত্বের জানান দেন।

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতি নিয়ে সেখানে প্রচুর গবেষনা চলে।চলে আওয়ামী বিরোধী আলোচনাএবং নিকট অতিতে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তের ঘটে যাওয়া জামায়াত শিবিরের আন্দোলন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে বিশেষ করে পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে হামলার ভিডিও চিত্র দেখিয়ে সেগুলোকে আওয়ামীলিগের হামলা বলে প্রচার করা এবং পুলিশী একশানকে ইসলাম এর বিরুদ্ধে সরকারের হামলা বলে চালিয়ে দিয়ে সরকারকে নাস্তিক ও ইসলাম বিরোধী বলে প্রমান করা।হুজুর নিজেকে হেফাজতে ইসলামের সমর্থক বলে পরিচয় দেন-তার ভাষ্য হেফাজত কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নয়-তারা আন্দোলন করছে ইসলাম রক্ষার জন্য।জামায়াত আর হেফাজত এক নয় বরং হেফাজত এ ইসলাম জামায়াত এর রাজনীতির বিরুদ্ধে কিন্তু কখনোই জামাত শিবিরের বিরুদ্ধে কোনো কথা বলতে শোনা যায় না।শুধু বলেন-হেফাজতের আমির আল্লামা শফি হুজুর জামায়াত বিরোধী!!

এমন শুধু একজন হুজুর নয়।সমস্ত বাংলাদেশে এ ধরনের হাজার হাজার হুজুরেরা সমাজের সাধারন ধর্মপ্রান সহজ সরল মানূষের সঙ্গে মিশে কৌশলে প্রতিনিয়ত তাদের সাংগঠনিক কাজ করে চলেছে।সত্য মিথ্যা মিলিয়ে ধর্মের দোহাই দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করে সরকার বিরোধী জনমত গড়ে তুলছে।হেফাজতের একটা প্রচেষ্টা ব্যার্থ হয়েছে বলে এমন ভাবার অবকাশ নেই যে তারা আর কখনোই ভিন্ন পথে ভিন্ন রুপে আবির্ভুত হবে না।মনে রাখা দরকার-যারা ষড়যন্ত্রকারী তারা সব সময় ই ষড়যন্ত্র করে চলে।তাই সরকারের পাশাপাশি সকলকেই সতর্ক থাকতে হবে হেফাজতের নাম ভাঙ্গিয়ে জামায়ত শিবিরের কর্মিরা যেনো নতুন কোনো ষড়যন্ত্র করে আমাদের এই শান্তিপ্রিয় দেশটাকে অশান্ত করে তুলতে না পারে।

১৪ thoughts on “যারা ষড়যন্ত্রকারী তারা সব সময় ই ষড়যন্ত্র করে চলে।

  1. এসব হুজুররা ধর্ম প্রচারনা না
    এসব হুজুররা ধর্ম প্রচারনা না করে ধর্মান্ধতা তৈরীতে সিদ্ধ হস্ত.. এদের উৎখাত করতে সকলের ঐকান্তিক চেষ্টা চালাতে হবে। নইলে ধর্মান্ধতা তৈরী করা বন্ধ হবে না….

    1. যে হুজুর নিজেই ধর্মান্ধ সে
      যে হুজুর নিজেই ধর্মান্ধ সে কিভাবে সত্য ধর্ম প্রচার করবে?তা ছাড়া ধর্মের দোহাই দিয়ে যে হুজুর প্রযুক্তির সহযোগীতা নিয়ে মানূষকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করছে অপকৌশলে রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষার্থে—তাদের উৎখাত করা ছাড়া সমাজকে কলুষমুক্ত করা যাবে না।@আপনাকে ধন্যবাদ>>মুকুল

  2. মিথ্যা জিনিসটা জামাত-শিবিরের
    মিথ্যা জিনিসটা জামাত-শিবিরের অস্থি-মজ্জায় ঢুকে গেছে। কারন তাদের আব্বাহুজুর মউদুদি ফতওয়া দিয়ে এটা হালাল করে দিয়ে গেছে। ধর্মের নাম নিয়ে যা ইচ্ছে তাই করা তাই এরা হালাল মনে করে। সমস্যা হচ্ছে গ্রামে গঞ্জের অশিক্ষিত এমনকি অনেক শিক্ষিত মানুষও এদের দ্বারা বিভ্রান্ত হচ্ছে।

    1. হ্যাঁ-ঠিকই বলেছেন,অনেক
      হ্যাঁ-ঠিকই বলেছেন,অনেক শিক্ষিত মানুষও ঐ সমস্ত হুজুরদের দ্বারা বিভ্রান্ত হচ্ছেন!! আসলে আমরা তাদেরকে শিক্ষিত বল্লেও মুলত তারা পুথিগত শিক্ষায় শিক্ষিত যাদেরকে বিদ্বান বলা যার কিন্তু প্রকৃত আদর্শগত শিক্ষায় শিক্ষিত বলা চলে না।লেখাপড়া জানে-ধর্মিও পুস্তকাদি যা পড়ে তার অধিকাংশই জামায়াতি আদর্শে লেখা আর তাই মওদুদি তত্বকেই তারা প্রকৃত ধর্মিও উপাত্ত বলে মনে করে।কারন জামায়াতের আদর্শের বাইরে ইসলামের মুল যে ভাষ্য তার প্রচার খুব বেশী আমাদের দেশে নেই।মওদুদী মতবাদ বাংলাদেশে এতোবেশী ডাল পালা ছড়িয়েছে যে-সেটাকেই ইসলামের একমাত্র পথ বলে অনেকেই মনে করেন এবং বিশ্বাস করেন।প্রতিষ্ঠিত এই জামায়াতি মতবাদ কে ভ্রান্ত প্রমান করে সঠিক ইসলামিক মতবাদ প্রতিষ্ঠিত করবার দ্বায়িত্ব যে আলেম সমাজের-সেই আলেমরাই এখন রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করবার জন্য সত্যকে গোপন করে জোড়াতালি দিয়ে জগাখিচুড়ি মার্কা ফতোয়া ব্যাবসায় জড়িয়ে পড়েছে এবং একে অপরের প্রতি কাঁদাছোড়াছুড়িতে ব্যাস্ত রয়েছেন।সেই সাথে আমাদের সমাজের দুর্বলতা হুজুরদের প্রতি অন্ধবিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে উনারা ইচ্ছামত মনগড়া বয়ান দিয়ে সকলকে বিভ্রান্ত করে চলেছেন।অনেকে এই প্রতারনার বিষয়টা বুঝতে পারলেও ধর্ম এবং ধর্মিও নেতা বলে নীরবে এড়িয়ে যান-ফলে মিথ্যার অন্তরালে সত্য সব সময় চাপা পড়েই থাকে!!

  3. শান্তিপ্রিয় বলেছেন, শান্তি
    শান্তিপ্রিয় বলেছেন, শান্তি বিরাজমান তো বলেননি, নতুন করে আর কি অশান্ত করে তুলবে?

    1. এ দেশের সাধারন খেটে খাওয়া
      এ দেশের সাধারন খেটে খাওয়া মানূষগুলো সবসময়ই শান্তিপ্রিয়।ধর্ম তাদের কাছে এতোটাই স্পর্শকাতর অনুভুতি যে ধর্মের সামান্য অবজ্ঞা কিংবা ধর্মিও নেতা হুজুরদের বিরুদ্ধে সামান্য কটুকথাও তারা সহ্য করতে পারে না।আর এই সহজ সরল মানূষের ধর্মিও অনুভুতিকে কাজে লাগিয়েই এ দেশের হুজুরেরা সমাজে অশান্তির আগুন জ্বালিয়ে চলেছে।এখনো পর্যন্ত যা কিছু ঘটেছে সেটাকেই চুড়ান্ত অশান্তি বলে মনে করার কোনো কারন নেই-আগামীতে হয়ত এর চাইতেও অনেক বেশী আগ্রাসী ভুমিকায় অবতীর্ন হবে জামায়াত শিবিরের কার্যক্রম।তাই সময় থাকতেই বাংলার ধর্মপ্রান ও শান্তিপ্রিয় মানূষগুলোকে সঠিক তথ্য উপাত্ত জানবার ও জানাবার ব্যাবস্থা করতে হবে।মানূষের জ্ঞান চক্ষু যখন সত্যের আলোয় আলোকিত হবে তখন অজ্ঞানতার অন্ধকার এমনিতেই দূর হয়ে যাবে।@ধন্যবাদ আপনাকে

  4. আমাদের মূল সমস্যাটা হচ্ছে,
    আমাদের মূল সমস্যাটা হচ্ছে, আমাদের বিশাল অশিক্ষিত-অর্ধশিক্ষিত জনগোষ্ঠী।
    এই সমস্যাটা থেকে বেরিয়ে আসতে পারলেই, এ দেশে জামাত শিবির টিকতে পারবে না…

    1. সহমত!! বিশাল এই অর্ধশিক্ষিত
      সহমত!! বিশাল এই অর্ধশিক্ষিত অশিক্ষিত জনগোষ্ঠীকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করবার দ্বায়িত্ব এই সমাজকেই নিতে হবে।তা না হলে ধর্মের নামে কুসংস্কারের অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে পুরো সমাজকেই গ্রাস করে নেবে ধর্মব্যাবসায়ী হুজুরেরা!!তাই শুদ্ধি অভিযান শুরু করতে হবে এখনি!

  5. ওনারা দেশটা বসবাসের
    ওনারা দেশটা বসবাসের অনুপুযুক্ত করে দিবেন এটা নিশ্চিত। অনেক বলেন, ভাই ছেড়ে দেন… কিন্তু এই চর্চা যতদিন চলবে ততদিন আর দেশের কিছু আগাচ্ছে না এটা নিশ্চিত।

    1. যারা বলেন ছেড়ে দেন-তারা আসলে
      যারা বলেন ছেড়ে দেন-তারা আসলে বর্নচোরা।বাইরে আধুনিক সমাজের মানূষ হিসাবে পরিচয় দিলেও ভিতরে ভিতরে তারা মওদুদিবাদি জামায়াতের ভক্ত বা সদস্য অথবা সমর্থক! ঐ জাতীয় মানুষেরাই সবচে ক্ষতিকর আমাদের উদার গনতান্ত্রিক ধারার সমাজ ব্যাবস্থার জন্য।তাদের বক্তব্য অনেকটা এ রকম–আমি জামায়াত শিবির পছন্দ করি না,কিন্তু শিবিরের ছেলেরা শিক্ষিত ভদ্র তাদের আদব কায়দা দেখে শ্রদ্ধা করতে ইচ্ছা করে।অমুক হুজুর কি সুন্দর কথা বলেন-শুনে মনে হয় তার মুখে মধু ঝরছে!!!!বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একমাত্র জামাতের সদস্যরাই গনতন্ত্র মেনে চলে।—এখন ভেবে দেখুন তো এই সমস্ত কথা যে ব্যাক্তি বলেন তিনি কোন আদর্শ অনুসরন করেন? তাই যে ব্যাক্তি বলবে ভাই ছেড়ে দেন—বুঝে নিবেন সেও ঐ সমস্ত ওয়াজি হুজুরদের মতই ভিন্ন রুপি ভন্ড !!!

  6. ষড় থেকে যন্ত্র আলাদা করে এই
    ষড় থেকে যন্ত্র আলাদা করে এই যন্ত্র দিয়ে উনাদের মুলমন্ত্রে আঘাত করা উচিত……………

  7. কথা হচ্ছে এটা একটা virus ,যার
    কথা হচ্ছে এটা একটা virus ,যার মূল টার্গেট সাধারণ মানুষ,যাদের বেশিরভাগের ব্লগ বা FB এর সাথে connection নাই। প্রশ্ন হলো, এই যে Virus টা ছড়াচ্ছে, তার প্রতিকার হিসেবে আমরা কি পদক্ষেপ নিচ্ছি??

    1. প্রশ্ন হলো, এই যে Virus টা
      প্রশ্ন হলো, এই যে Virus টা ছড়াচ্ছে, তার প্রতিকার হিসেবে আমরা কি পদক্ষেপ নিচ্ছি?? – আসলেই তাই!!!আমরা অনেকেই সমস্যাটা বুঝি কিন্তু কেওই প্রতিকারের জন্য কোন কিছুই করতে চাই না।অন্য কেও করে দেবে ভেবে আমরা কোন এক অজানা শক্তির পথ চেয়ে নীরব দর্শকের ভুমিকায় অভিনয় করে চলেছি।অবস্থাটা এমন-রাতে বৌ বাচ্চা নিয়ে আরামের ঘুম দেব-সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখব সব কিছু ঠিক ঠাক হয়ে গেছে।ঝড়ের পরে পরিবেশটা যেমন শান্ত হয়ে যায় তেমনি ভাবে সমাজের সমস্ত জঞ্জাল পরিষ্কার হয়ে গেছে।আর এই ভেবে নিজের দায় অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে দ্বায়িত্ববান সচেতন মানূষ হিসাবে গর্ব করে চলি।একবারও ভেবে দেখিনা স্বপ্ন আর বাস্তবতা এক নয়-মোল্লাতন্ত্র রুপি ভাইরাস আমাদের সমাজটাকে এমন ভাবেই গ্রাস করে চলেছে যে-আমাদের আগামী প্রজন্ম সেখানে বিশুদ্ধভাবে নিঃশ্বাস ও নিতে পারবে না।তাই-এই ভাইরাস মুক্ত করবার দ্বায়িত্ব আপনার আমার সবার!!!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *