ধর্মের শৃঙ্খলে নারী

অধিকাংশ মুসলমানই খুব গর্বের সাথে একটা মিথ্যাচার করে যে ইসলাম ধর্মই নাকি প্রথম নারীকে সম্পত্তির অধিকার দিয়েছে , নারীর সম্মান প্রতিষ্ঠা করেছে । কিন্তু সত্যটা হল , ইসলাম ধর্মের আবির্ভাবের দেড় হাজার বছর আগেই পৃথিবীতে অনেক জায়গায়ই নারীর অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত হয় ।

প্রাচীন মিশরীয় এবং সমসাময়িক ইহুদি গোত্রে নারীরা সম্পত্তির উত্তরাধিকার হতে পারতো । অর্থ , জমিজমা , দাসদাসী , বিবাহবিচ্ছেদ সহ সকল ক্ষেত্রে নারীদের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠিত হয় ইসলাম আবির্ভাবের দেড় হাজার বছর পূর্বে । এমনকি সে সময়ই নারীরা আদালতে অভিযোগ করতে পারতো এবং সাক্ষ্য দিতে পারতো । পুত্র সন্তানের অনুপস্থিতিতে সম্পূর্ণ সম্পত্তির মালিক হত কন্যা । ভাই এবং বোন পিতার সমস্ত সম্পত্তির সমান ভাগ পেত ।



অধিকাংশ মুসলমানই খুব গর্বের সাথে একটা মিথ্যাচার করে যে ইসলাম ধর্মই নাকি প্রথম নারীকে সম্পত্তির অধিকার দিয়েছে , নারীর সম্মান প্রতিষ্ঠা করেছে । কিন্তু সত্যটা হল , ইসলাম ধর্মের আবির্ভাবের দেড় হাজার বছর আগেই পৃথিবীতে অনেক জায়গায়ই নারীর অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত হয় ।

প্রাচীন মিশরীয় এবং সমসাময়িক ইহুদি গোত্রে নারীরা সম্পত্তির উত্তরাধিকার হতে পারতো । অর্থ , জমিজমা , দাসদাসী , বিবাহবিচ্ছেদ সহ সকল ক্ষেত্রে নারীদের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠিত হয় ইসলাম আবির্ভাবের দেড় হাজার বছর পূর্বে । এমনকি সে সময়ই নারীরা আদালতে অভিযোগ করতে পারতো এবং সাক্ষ্য দিতে পারতো । পুত্র সন্তানের অনুপস্থিতিতে সম্পূর্ণ সম্পত্তির মালিক হত কন্যা । ভাই এবং বোন পিতার সমস্ত সম্পত্তির সমান ভাগ পেত ।
ইসলাম আবির্ভাবের পাঁচশত বছর আগেই রোমান সাম্রাজ্যে ধর্ষণকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয় । ধর্ষনের শাস্তি মৃত্যুদন্ড ঘোষিত হয় ।

খৃষ্টান ধর্ম প্রথম নারীর অধিকার খর্ব করে । নারীকে শয়তানের চর হিসেবে গন্য করে । যে নারীকে একসময় পবিত্র বলে গন্য করা হত , খৃষ্টান ধর্ম তাদের ডাইনী অপবাদ দিয়ে পুরিয়ে মারে । যিশুর মৃত্যুর একশত বছরের মধ্যেই পুরো ইউরোপ জুড়ে নারীদের শৃঙ্খলিত করা শুরু হয় । তারই ধারাবাহিকতায় একে একে ধ্বংস হয়ে যায় নারীর গৌরবোজ্জল ইতিহাস । পবিত্র দেবী থেকে নারী নেমে যায় যৌনদাসী আর সন্তান উত্‍পাদনের মেশিনের পর্যায়ে । একই পর্যায়ে থেকে অবতীর্ন হয় ইসলামিক আইন । ইসলামে নারীর অবস্থান আলোচনা করলে দেখা যায় :

ক . পুরুষের অংশ নারীর দ্বিগুন । পুত্র ওয়ারীস সম্পত্তির তিন ভাগের দুই ভাগ এবং কন্যা ওয়ারীস সম্পত্তির তিনভাগের এক ভাগ পাবে ।
এর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে যে পুরুষের কাঁধে যেহেতু সাংসারিক সমস্ত খরচ এবং স্ত্রী ও মাতা পিতার ভরন পোষণের দায় থাকে তাই তার অংশ দ্বিগুন । কিন্তু বর্তমানে যেহেতু মেয়েরাও সাংসারিক খরচ চালাচ্ছে , স্বামীর অবর্তমানে পরিবারের প্রয়োজনে চাকুরী করছে , মাতা পিতার ভরন পোষণের ভার গ্রহণ করছে , তখনই ইসলামের এই ”পুরুষ নারীর দ্বিগুন” নীতির ভ্রান্ততা বোঝা যায় ।

খ . ইসলামে সাক্ষী হিসেবে নারীকে স্বীকার করা হয় না । শরীয়তের দৃষ্টিতে সাক্ষ্য বিভিন্ন প্রকার । এক প্রকার সাক্ষ্য হচ্ছে যিনা সংক্রান্ত । এই অভিযোগ প্রমানে চারজন পুরুষ সাক্ষ্য প্রয়োজন । হুদূদ কিসাসের ক্ষেত্রে দুইজন পুরুষের সাক্ষ্য প্রয়োজন । যিনা এবং হুদূদ কিসাসের ক্ষেত্রে কোনো মহিলার সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য না । সন্তান প্রসব এবং কুমারীত্ব প্রমাণের ক্ষেত্রে দুইজন মহিলা এবং অপরাপর বিষয়ে দুজন পুরুষ বা একজন পুরুষ এবং দুজন মহিলার সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য ।

এই হল নারীকে ইসলাম প্রদত্ত সম্মান । ধর্ষিত হওয়ার পর প্রমান সাক্ষ্য হতে হবে চারজন পুরুষ ! না হলে সেই মেয়ে ব্যাভিচারের দোষে দোষী সাব্যস্ত হবে ।

গ . পুরুষ এবং মহিলার দিয়াত (হত্যার ক্ষতিপূরণ ) এর মাঝে পার্থক্য আছে । কোনো পুরুষকে ভুলবশত খুন করে ফেললে ক্ষতিপূরন দিতে হয় একশত উট বা তার সম অর্থমূল্যের স্বর্ণ বা রৌপ্য ।
কিন্তু হত্যাকৃত ব্যাক্তি মহিলা হলে তার দিয়াত হবে পুরুষের অর্ধেক । { হিদায়া ৪র্থ ,শামী ১০ম এবং আলমগিরী ৬ষ্ঠ খন্ড}

ঘ . একজন পুরুষের একই সাথে সর্বোচ্চ চারজন স্ত্রী এবং অসংখ্য উপস্ত্রী ও দাসী থাকতে পারে । একজন নারীর ক্ষেত্রে তা নাই ।

অনেকে আমাকে বলে , আমার বৌ যদি আরেকজন স্বামী চায় আমি কি করবো ।
আমার উত্তর , আমি আরেকজন স্ত্রী চাইলে সে যা করতো আমিও তাই করবো ।

সন্তানের পিতা যে একজনের বেশি হওয়া কোনোভাবেই সম্ভব না , তা চৌদ্দশ বছর আগে না জানলেও এখন সবাই জানে ।

বেগম রোকেয়ার থেকে ধার করে বলি , এরকম তো হয় না যে ছেলে সন্তান মায়ের পেটে দশমাস থাকলে মেয়ে সন্তান পাঁচমাস থাকবে । ছেলের জন্য মায়ের বুকে যতটুকু দুধ আসবে মেয়ের জন্য তো তার অর্ধেক আসে না ।

একটা প্রশ্ন দিয়ে শেষ করি , যদি তত্‍কালীন সমাজে মেয়েদের কোনো সম্মানই না থাকত , তাদের জন্মের সাথে সাথে হত্যা করা হত , তাহলে খাদিজা এত সম্পদশালী হয়েছিল ক্যামনে ? কিউরিয়াস মাইন্ড ওয়ান্ট টু নো ।

৭ thoughts on “ধর্মের শৃঙ্খলে নারী

  1. ভাল লিখেছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ
    ভাল লিখেছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ জিনিস। তবে যেসব হাদিসের ভিত্তিতে ওই শারিয়া আইনগুলো দেয়া হয়েছিল তার রেফারেন্স দিলে লিখাটা আরো শক্তিশালি হত। যেমন এর অনেকগুলো এসেছে মুসলিম এবং তিরীমিজি হাদিস থেকে। আর হ্যা, এটা নিশ্চিত যে, এখনকার সময়ে এটা অসাম্যই। ধন্যবাদ আপনাকে। পরবর্তিতে রেফারেন্স লিখতে ভুল করবেন না। 😀

    1. “শিশুকে মাতা বলপূর্বক ঘুম
      “শিশুকে মাতা বলপূর্বক ঘুম পাড়াইতে বসিলে, ঘুম না পাওয়ায় শিশু যখন মাথা তুলিয়া ইতস্ততঃ দেখে তখনই মাতা বলেন, ঘুমা শিগগির ঘুমা! ঐ দেখ জুজু! ঘুম না পাইলেও শিশু অন্তত চোখ বুজিয়া পড়িয়া থাকে। সেই রুপ আমরা যখন উন্নত মস্তকে অতীত ও বর্তমানের প্রতি দৃষ্টিপাত করি, অমনই সমাজ বলে, ঘুমাও ঘুমাও ঐ দেখ নরক! মনে বিশ্বাস না হইলেও অন্তত আমরা মুখে কিছু না বলিয়া নীরব থাকি।”– বেগম রোকেয়া!
      শিশুরা একদিন ঠিক জেগে উঠবেই…

  2. তুমি নেই বলে বঞ্চিত সভ্যতার
    তুমি নেই বলে বঞ্চিত সভ্যতার ‘মা’ নারী,
    তুমি নেই বলে কিশোরী মায়ের হাতে পরে শাড়ি…

    বেগম রোকেয়া আরও বলেছেনঃ
    “আমাদিগকে অন্ধকারে রাখিবার জন্যেই পুরুষগণ ঐ ধর্মগ্রন্থগুলোকে ঈশ্বরের আদেশপত্র বলিয়া প্রকাশ করেছেন”

    এতে কোন সন্দেহ নাই কৃষিসভ্যতার পর থেকে যে নারীরা ক্রমেই বন্ধী হতে লাগল তাঁর ব্যক্তিস্বত্বা আর স্বকীয়তা ভুলন্ডিত করে ততার জন্যে ধর্মগুলোই একমাত্র দায়ী…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *