কার্যকরী শিখন কৌশলঃপর্ব-৩

অন্যকে শেখালে নিজের শেখাটা আরো মজবুত হয়-এ কথা সবাই জানে।কিন্তু অন্যকে শেখানোর সাথে নিজের শেখার এই সম্পর্ক কেন?
সচেতন ভাবে কাউকে কিছু শেখাতে গেলে প্রথমত আমাদের উদ্দেশ্য থাকে খুব সহজে যেন সে বিষয়টা বুঝতে পারে।আর এ জন্য কোন কিছুকে সরলীকরণ করার দরকার পড়ে,নিজের বুদ্ধির প্রয়োগও করতে হয় নিপুণভাবে।
হয়তো এই জন্য আলবার্ট আইনস্টাইন বলেছিলেন(যদিও উৎস নির্দিষ্ট নয়):
“যদি কোন কিছুকে সহজে ব্যাখ্যা করতে না পারো, তাহলে তুমি তা যথেষ্টভাবে বুঝতে পারো নি।”
এই ব্যপারটিকে বিপরীত চিন্তনের মাধ্যমে আমরা এই বলতে পারি-
“তুমি যদি কোন কিছুকে ভালোভাবে বুঝতে চাও,তাহলে তাকে সরলভাবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করো।”
কিন্তু কিভাবে তা(সরলভাবে ব্যাখ্যা করা) সম্ভব?-আর এটাই আমাদের মৌলিক প্রশ্ন।
তাহলে আর দেরি না করে নিজে ঠিক করে ফেলুন কোন বিষয়ে আপনি এই মূহুর্তে শিখতে চান। (……)

ঠিক করেছেন?
হ্যা,এবার একে একে এগিয়ে চলুনঃ
১.যেহেতু সম্ভবত এই মূহুর্তে আপনার কাছ থেকে উক্ত বিষয়ে(আপনি যে বিষয় ঠিক করেছেন) কিছু শেখার মত কেউ নেই(ধরে নিলাম) সেহেতু নোটবই বা খাতা কলমের মাধ্যমেই সেই “সরলভাবে ব্যাখ্যা করা”র কাজটি করতে হবে।
সাদা পেজের উপরিভাগে উক্ত বিষয়টি বড় করে লিখে ফেলুন।

২.আপনার এবার কাজ হবে উক্ত বিষয়ে আপনি যা যা জানেন তাই সুন্দর করে সহজবোধ্য ভাষায় লিখে ফেলা।কিন্তু আপনি কি কি জানেন উক্ত বিষয়ে?
হ্যা,বিষয়টির উপর নানা দিক দিয়ে একটি একটি প্রশ্ন তুলুন আর উত্তর লিখুন। তবে এক সাথে অনেক প্রশ্ন না করে একটি একটি প্রশ্ন করা আর উত্তর লেখাই ভালো। প্রশ্নগুলোকে প্রয়োজনে আরো বড় করে নিজের করে ফেলুন,নিজের ভাষায় নিয়ে আসুন।উত্তরগুলোও হবে একেবারে আপনার নিজেস্ব কৌশলে, নিজেস্ব চিন্তা-চেতনা থেকে আর নিজের ভাষাতেই।কোন কিছুর (বই বা অন্য কোন তথ্য সূত্রের) সাহায্য নিয়ে লেখা যাবে না।
এখানে একটি প্রশ্ন আসতে পারে, যে বিষয়ে আগে থেকে কিছুই জানি না তা নিয়ে কি লিখবো?হ্যা,এক্ষেত্রে, বিষয়টি পুরোপুরি ভালোভাবে স্টাডি করে নিতে হবে।

৩. এবার আপনি বই খুলবেন। দেখবেন,কোথায় কোথায় কি কি বাদ পড়ে গেছে।কি কি অজানা আছে সেগুলো চিহ্নিত করুন। রবি ঠাকুরের ভাষায়-
” … জানার মাঝে অজানারে করেছি সন্ধান…”
এবার এই অজানার আহবানে জানার জন্য আরো আরো স্টাডি শুরু করতে হবে।সহজভাবে ব্যাখ্যা করার তাগিদ যেন থাকেই থাকে।

৪.আবার সব কিছু সুন্দর করে,সাজিয়ে গুছিয়ে,বাহুল্য বর্জন করে, সহজ সরলে ভাষার গাঁথুনিতে লিখে ফেলুন। এমন ভাবে লিখুন যেন সহজে বোধগম্য হয়। দুর্বোধ্যতা যেন আর যেন না থাকে।
আপনি এবার উক্ত বিষয়ে মাস্টার স্টুডেন্ট হয়ে ওঠবেন।
আর এই টেকনিকটা কিন্তু বিখ্যাত একজন পদার্থবিজ্ঞানীর দ্বারা আমরা জেনেছি।তিনি,রিচার্ড ফিলিপস ফাইনম্যান(১৯১৮-১৯৮৮)।আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের নানা বিষয়ে গবেষনা করেছেন তিনি। নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন পদার্থবিজ্ঞানে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *