নারীবাদ কথাটাকে আমি ঘৃণা করি

নারীবাদ কথাটাকে আমি ঘৃণা করি । নারী পুরুষতো তাও ভালো, কিন্তু যারা নারী নয়, পুরুষ নয়, তাদের জীবনটা কেমন কাটে? ভালোই, কি বলেন? ট্রেনে ট্রেনে ঘোরে খালি আর টাকা চায় ।
আসলে আমাদের সমাজে কেউ লাঞ্ছিতই নয়, নাতো হিন্দুদের শূদ্র, নাতো নারী । কারো বাড়িতে নিমন্ত্রণ খেতে যাইনা অনেকদিন, জাতপাতের জন্য । বেশ কয়েক বছর আগে পাড়াতো কাকার ছেলের অন্নপ্রাশন, বেশ ঘটা করে করলেন । গেছি খেতে, মা’র জল লাগবে, তাই পিসিকে বললেন, “জল আন” । তিনি আনলেন না, সভার বাইরে দাঁড়িয়ে রইলেন, জল এনে দিল বড়োজাতের এক ছেলে । টাকা ছাড়া আর সব আয়োজন করলেন সেই সব শূদ্ররা যারা ব্রাহ্মণ বাড়িতে গিয়ে কুকুরের সম্মানও পাননা ।
নিজের অপমানটুকুর প্রতিবাদ করতে শেখেনি কেউ, বরং অন্য একজনকে কীভাবে ছোট করা যায় সেটাই শিক্ষা নেন ।
যে নারীরা পুরুষের কাছে নির্যাতিত, সেই নারীই মুখ ভ্যাংচায় তৃতীয় লিঙ্গের একজন মানুষকে দেখে ।
এমতাবস্থায় যা একান্ত প্রয়োজন, সেটা হচ্ছে মানুষকে মানুষ হওয়ার শিক্ষা দেওয়া ।
ভারতে ইসলামের যে হাল, বাংলাদেশে হিন্দুদের সেই হাল ।

প্রতিস্থাপনই পরিবর্তনের একমাত্র পথ । এই কথাটা যতদিন না মুক্তমনা মানুষরা বুঝছেন না, ততদিন ভালো কিছু হওয়া সম্ভব নয় । ইশ্বর আছেন এর বিপক্ষে একশোটা যুক্তি খাড়া করার চেয়ে ইশ্বর নেই এর পক্ষে একটা যুক্তি খাড়া করা অনেক ভালো ।

আমি এমন অনেক আস্তিক কে জানি, যারা সিঁদুর মাখেননা, পুজো করেননা, তথাকথিত ধর্মের কিচ্ছু মানেননা । কিন্তু আস্তিক । যে সমাজ আমরা চাইছি সেটা একদল মূল্যবোধহীন অসভ্য নাস্তিকদের সমাজ নয় । যারা ইসলামকে দুচে । বরং আমরা চাই একটা আধুনিক মানুষের সমাজ, ইশ্বর বিশ্বাস যেখানে কোনও ক্ষতির কারণ নয় । আস্তিক এবং নাস্তিক উভয়েই যাতে একই সমাজে সুখে বেঁচে থাকতে পারে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *