কাজরি

কাজরির বাবা বদলী হয়ে ঢাকা এসে বাড়ি ভাড়া করলেন শাহবাগ এলাকায়, যাতে ইডেন কলেজে ক্লাস করতে সুবিধা হয় মেয়ে কাজরির। সিঁড়ি দিয়ে নামতে উঠতে প্রায়ই দেখা হয় বাড়িওয়ালার ছেলে মুনিরের সাথে কাজরির। দেখা হলে মুনির মুচকি হাসে, হাত নাড়ে এবং ধারাক্রমে একদিন নাম জানতে চায় কাজরির। কাজরিকে শাহবাগ মোড়ে ছবির হাঁটের কাছে ফুসকা খেতে দেখে দাঁড়ায় মুনির একদিন। হেসে বলে- “কি একা একা ফুসকা খাবেন? আমায় খাওয়াবেন না”? এবং ফুসকার হাত ধরে এরপর কাজরি মুনির ঘনিষ্ঠ হয় ক্রমাগত। এ ঘনিষ্ঠতা নিবিড়তর হয় ৩-৪ মাসের মাথায়। বাবা-মায়ের অনুপস্থিতে মুনিরের ফ্লাটে যায় কাজরি। প্রেম সুখ বাতাসে উড়তে থাকে দুজনে খালি ফ্লাটে সুযোগ বুঝে প্রায়ই।
:
চাকুরিজীবি বাবা ভাল ক্যাডার কর্মকর্তা ঠিক করে মাস্টার্স শেষপর্বে পড়ুয়া কাজরির জন্যে। ছেলের মা-বাবা ইডেনে ইংরেজি পড়ুয়া সুন্দরি কাজরিকে দেখে পছন্দ করে এক নজরেই। মুনিরের কাছে কাজরি তুলে ধরে তার পারিবারিক বিয়ে আয়াজনের কথা। কিন্তু বেকার মুনির কাজরিকে বিয়ের কথা বলে পাত্তা পায়না ব্যবসায়ি বাবার কাছে। বরং মেয়ে লেলিয়ে দিয়ে তার ছেলের কাছে মেয়ে বিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্রের অপরাধে পরের মাসে বাড়ি ছাড়ার নোটিস দেয় বাড়িওয়ালা। সব জানার পর চুপষে থাকে মুনির পুরণো বালিশের মতই বাবার ভয়ে।
:
আজিমপুরে নতুন বাসা বদল করে বাবা কন্যা কাজরির বিয়ে দেয় ক্যাডার কর্মকর্তা কামরুলের সাথে। সুষ্ঠুভাবে বিয়ের পর স্বামীর ফ্লাট সেগুনবাগিচায় উঠে কাজরি স্বামীর সংসারে। কামরুল অল্পতেই ভালবেসে ফেলে কাজরিকে। এবং ভালবাসার বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে বলে, “বিয়ের পরও যে কত সুন্দর প্রেম হতে পারে, তা দেখাবো আমি তোমাকে”। কাজরীও বিয়ের পূর্ববর্তী প্রেমিক মুনিরকে ভুলে মনেপ্রাণে মন দেয় স্বামীতে আর তার সংসারে।
:
একদিন মোবাইল করে মুনির। বিয়ে না করতে পারার জন্যে সরি বলে সে। দেখা করতে চায় কাজরির সাথে। কিন্তু সম্মতি দেয়না কাজরি। বলে স্বামীর বাড়ি আসা ঠিক হবেনা তোমার। আমাদের আগের সম্পর্ক শেষ এখন। নতুন জীবন শুরু করেছি আমি আমার স্বামীর সাথে। কামরুল খুব ভালবাসে আমায়, আমিও বাসি তাকে। তাই ডিসটার্ব করোনা আমায় প্লিজ! তোমার পছন্দমত একটা বিয়ে করে নাও তুমি”। পরদিন আবার ফোন করে বাসায় ঠিকানা চায় মুনির। কিন্তু ভয়ে ঠিকানা না দিয়েই ফোন কেটে দেয় কাজরি।
:
দুদিন পর এক দুপুরে কলিং বেলের শব্দ শুনে দরজা খুলে দেখে মুনির দাঁড়িয়ে দরজায়। নিষেধ করার পরও ঘরে ঢোকে মুনির। পুরণো প্রেমের কথা তুলে আদর করতে চায় তাকে। কাজরি মিনতি করে বলো-“ওসব ভুলে যাও মুনির। আমি আর কোন সম্পর্ক রাখতে চাইনা তোমার সাথে”। গলা নামিয়ে কথা চিবিয়ে মুনির বলে-“আমি রাখতে চাই ‘ফিজিক্যাল রিলেশন’ তোমার সাথে। তুমি আমার। কথা না শুনলে তোমার স্বামীকে বলে দেব বিয়ের আগে কতবার শুয়েছো তুমি আমার সাথে। সব ভিডিও করা আছে মোবাইলে”। মিনতির পরও মুনির খালি ঘরে কাজরিকে ছাড়েনা তার ভোগাকাঙ্খা থেকে। ভয়ে চুপ থাকে কাজরি। ২/১ দিন পর পরই নিয়মিত আসতে থাকে মুনির। কাজরির ইচ্ছের বিরুদ্ধে ব্লাকমেইল করতে থাকে তাকে মোবা্ইল ভিডিও দেখানোর কথা বলে।
:
আত্মগ্লানিতে দলিত কাজরি একদিন স্বামীকে খুলে বলে তার পূর্বপ্রেম ও তাকে ব্লাকমেইল করার কথা। মানবিক স্বামী সব শুনে আর পাত্তা না দিতে বলে কাজরিকে। অভয় দিয়ে বলে-“তোমাকে অনেক ভালবাসি আমি। তাই মুনির ফুনির কেউ ছিনিয়ে নিতে পারবে না তোমায় আমার ভালবাসা থেকে”। আর বিয়ের আগে আমিও অনেক কিছু করেছি। কিন্তু বিয়ের পর আমরা দুজনেই দুজনের পরিপুরক, তাই সব ভুলে যাও তুমি”। স্বামীর কথায় মন ভরে যায় কাজরির। প্রতিজ্ঞা করে আর কখনো দেখা করবে না মুনিরের সাথে।
:
পরিদিন মুনির আবার ফোন করলে কাজরি ষ্পষ্ট জানিয়ে দেয়- “আর কখনো যেন তাকে ফোন না করে মুনির। তার যা খুশী তাই করুক তাতে ভয় পায়না কাজরি। এবার স্বর নামায় মুনির, মিনতি করে বলে- “কাজরি শুধু কাল একবার দেখা করতে চাই তোমার সাথে, একটা জরুরি পরামর্শ নেব। আর কখনো দেখা করবো না বা ডিসটার্ব করবো না তোমাকে। প্লিজ এ সুযোগটা দাও কাজরি”! পুরণো প্রেমিকের কথায় মন গলে যায় কাজরির। বলে-“প্রমিজ করছো তো এটাই শেষ দেখা? আর কখনো দেখা করতে চাইবে না”? প্রমিজ করে মুনির!
:
পরদিন মুনির দুপুরে কাজরির ফ্লাটে আসে মুনির সাথে তার এক বন্ধু জয়নাল। পরম বিশ্বাসে মুনির আর জয়নালের জন্যে চা বানিয়ে আনে কাজরি। কিন্তু মুনির আর জয়নাল আকস্মিক ঝাপটে ধরে কাজরিকে। দুজনে আটকে প্রথমে মুনির ও পরে জয়নাল ধর্ষণ করে কাজরিকে তারই ঘরে। এবং ধর্ষণ শেষে জিঘাংসায় হত্যা করে কাজরিকে বালিশ চাপা দিয়ে। কাজরির নিথর দেহ বিছানায় রেখে পালিয়ে যায় পুরণো প্রেমিক মুনির জয়নাল!
:
একটু সুন্দর স্বামী আর সংসার পেয়েও ভুল প্রেমে নিমজ্জিত কাজরি নির্মমভাবে খুন হয় তারই বিশ্বাসে আক্রান্ত প্রেমিক দ্বারা। এক সুন্দরি হাস্যোজ্জ্বল শেষপর্বের মেয়ের লাশ পড়ে থাকে খালি একাকি গুমোট ঘরে। মৃত লাশঘরে দুপুরের ঘন বেদনারা ঘুরে বেড়ায় কাজরির সাথে। বিকেলের ঝাপসা রোদে কাজরির বেদনা দিনরাতের ছায়ায় ম্লান হয় এক দমবন্ধকরা বুনো বাতাসে। স্বপ্ন অশরীরী কাজরির আত্মা প্রতারিত প্রেমে দুখাতুর নক্ষত্র হয়ে উড়ে বেড়ায় কাজরির চারদিকে।

১ thought on “কাজরি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *