নাগরিক সাংবাদিকতা আমাদের নপুংসক বানাচ্ছেনা তো?

মাদকাসক্তদের এক পুনর্বাসন কেন্দ্রে একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসক রোগীদের মানসিক স্থিতিশীলতার ক্লাস নিচ্ছেন। তিনি এলকোহল কনজামশনের ক্ষতি উপলব্ধি করানোর জন্য রোগীদেরকে একটি প্রাকটিক্যাল উদাহরণ দিলেন। কাঁচের গ্লাসে আধগ্লাস কড়া এলকোহল ঢাললেন। তারপর একটি কেঁচো এনে গ্লাসের ভেতর ছেড়ে দিলেন। কিছুক্ষণ পর কেঁচোটি টুকরা টুকরা হয়ে গলে যেতে লাগলো। ‍চিকিৎসক রোগীদের দিকে তাকিয়ে মুখে তৃপ্তির মৃদু হাসি তুলে বললেন “দ্যট্স অল আই ওয়ান্ট টু মেইক ইউ আন্ডারস্ট্যান্ড” রোগীদের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন “ এই এক্সপেরিমেন্ট থেকে তোমরা কি শিখলে? এক মদখোর দাঁড়িয়ে বললো “শিখলাম যে, মদ খেলে কখনো পেটে কেঁচো হবে না”।

সাংবাদিকতার প্রিন্পিপলস এবং এথিক্স্ এ বলা আছে কিনা জানিনা, তবে আপাতদৃষ্টিতে দেখে মনে হয় সাংবাদিকরা কখনোই পার্ট অব নিউজ হবেন না। কোনোভাবেই নিজেকে ঘটনার সাথে জড়ানো যাবেনা। ঘটনার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দেখে যাও। লিখে নাও। আধুনিককালের সাংবাদিকতায় স্টিল পিকচার নাও অথবা ভিডিও রেকর্ড করো। তোমার দায়িত্ব এ পর্যন্তই।

এখন সিটিজেন জার্নালিজম বা জার্নালিজম বিওন্ড ব্যাকগ্রাউন্ড/বাউন্ডারির যুগ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলি তড়িৎ খবর ছড়ানোর জন্য টিভি, রেডিও এবং পত্রিকার বাউন্ডারিকে ছাড়িয়ে গেছে। আর সাংবাদিক পরিচিতির ব্যাকগ্রাউন্ড না থাকলেও আপনি সংবাদকর্মীর কাজ করতে পারছেন।

এ কারণে যেটি হয়েছে তা হলো সংবাদ প্রচারে জনসচেতনতা বৃদ্ধি না হয়ে বরং সাংবাদিকতার অনুসরণ হচ্ছে। বেশি। একারণে এখন নিষ্ঠুর, বর্বর, পৈশাচিক অপরাধ দেখে মানুষ প্রতিকারের জন্য এগিয়ে না এসে সাংবাদিকতা শুরু করে দিয়েছে। একটা শিশুকে পিটানো হচ্ছে আর চারপাশে অসংখ্য মানুষ ভিডিও রেকর্ড করছে। কেউ কেউ লাইভে দেখাচ্ছে।
অর্থাৎ আমরা সবাই এখন সাংবাদিক হয়ে গেছি। হাজারটা ঘটনার দুয়েকটি এই সিটিজেন জার্নালিজমের ফায়দা পাচ্ছে। দেশের সর্বোচ্চ আদালত থেকে রুল জারি হয়, দ্রুত বিচারও হয়, শাস্তিও হয়।
তবে এতে ক্রাইম যে কমছে তা কিন্তু নয়।
শিশু রাজন প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যার পর দেশে আরো কয়েকটি শিশুহত্যার ঘটনা ঘটেছিল। পায়ুপথে বাতাস প্রবাহিত করে জঘন্যভাবে হত্যা করা হয়েছে পরপর কয়েকটি শিশুকে। ভারতে পাবলিক বাসে গ্যাং রেপের পর একই কায়দায় এদেশেও কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। সুতরাং প্রচারে সচেতনতা না বাড়লেও অপরাধ বাড়ছে। কারণ অপরাধীরা জানতে পারে এভাবেও করা যায়, এখনো কাউকে শাস্তি পেতে হয়নি।

৩ thoughts on “নাগরিক সাংবাদিকতা আমাদের নপুংসক বানাচ্ছেনা তো?

  1. পোস্ট রিলেটেড একটা ছবি সাথে
    পোস্ট রিলেটেড একটা ছবি সাথে এড করে দিতে পারেন তাতে করে আপনার লেখার ভিউয়ার্স বাড়বে। এখানে ছবি এড করার নিয়মাবলী দেওয়া আছে।
    https://www.istishon.com/?q=node/10

  2. পোস্ট রিলেটেড একটা ছবি সাথে
    পোস্ট রিলেটেড একটা ছবি সাথে এড করে দিতে পারেন তাতে করে আপনার লেখার ভিউয়ার্স বাড়বে। এখানে ছবি এড করার নিয়মাবলী দেওয়া আছে।
    https://www.istishon.com/?q=node/10

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *